somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অর্ধ পারফেক্ট ভখেনএন্ডে

০৬ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম প্রথম কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে হোস্টেল জীবনটা ব্যাপক উপভোগ্য হয়ে যায় আমার কাছে। যতো রকমের বাদরামী সব ওখানেই সম্ভব। তবে মাঝে মাঝে কষ্টও হতো।সবাই ছুটি হলেই অথবা স্কুল পালিয়ে মা-বাবার কাছে দৌড় দিতো। আমার সে সুযোগ ছিলো না। স্কুলের হোস্টেলে যখন ছিলাম তখন থেকেই রান্নার হাতেখড়ি। সব দোষ মামীর। উনি আমাদের বাসায় রেখে নাইওরী যেতেন। আমরাও যা দিয়ে যা রান্না করা সম্ভব সবই করতাম। মামাও মজা মজা করে খেতো। প্রথম প্রথম এতো বিটকাল রান্না হতো নিজেরাও খেতে পারতাম না। সকালের নাস্তার দায়িত্ব ছিলো মামাতো ভাইয়ের হাতে। আমি বড়ো রান্নাগুলো করতাম। এই রান্না শেখাটাই কাল হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশ-বিদেশ সব জায়গায় রান্না করতে হচ্ছে নিজেকে/:)

অনেক যুগ পর মা-বাবার সাথে থাকি তবুও সকালের নাস্তাটা আমাকেই বানাতে হচ্ছে এখন। এতোদিন ছোটবোনের স্কুল ছিলো প্লাস আমার কাজ। মা সেই সাতসকালে উঠে নাস্তা বানিয়ে সবাইকে বিদায় দিয়ে আবার ঘুম। দিন অনেক লম্বা হওয়ার রাত বেশ ছোট হয়ে গিয়েছে। ঘুম ঘুম চোখে অফিস রওয়ানা। ছোটবোনের স্কুল বন্ধ তাই সবাই মজা করে ঘুমায়। শুধু আমাকে সময় করে কাজে যেতে হয়। মা কে ঘুম থেকে উঠাতে মন চায় না। নিজে চা বানিয়ে মা-বাবার জন্য রেখে অফিসে দৌড়। দিন শেষে সন্ধ্যায় নিড়ে ফেরা।

একবার ভাইয়া বেশ গর্ব করে বলতেছে উনি উনার জীবনে এখনো সকালের নাস্তা বানিয়ে খায় নাই। শুনে তো আমি পুরো টাশকি। মনে মনে চিন্তা করে দেখলাম আসলেই সত্যি। ছোট ভাই, বড় ভাই, ওরা বেশ সুখেই আছে। যতোক্ষন মায়ের সাথে ছিলো তখন তো মায়ের চিন্তা। পরে বিয়ের পর বউয়ের চিন্তা। আমার হালায় শান্তি নাই। মনে মনে মামীকেও একটু বকা দিলাম। রান্না না শিখলে হয়তো আজ আমাকে এতো কষ্ট করতে হতো না।/:)

বাসায় থাকলে অনেক রকম ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। আজকে এই দাওয়াত, কাল ঐ পার্টিতে যেতে হবে, পরশু ওদের দাওয়াত দিতে হবে ইত্যাদি। সপ্তাহের ছুটির দিনগুলি এইসব করেই পার। সোমবার থেকে আবার অফিসে কাজের ঢলা। ছুটির দিনগুলো নিজের মতো করে কিছুই করা হয় না। এথচ হোস্টেল জীবনটা কতো মজার ছিলো। যা খুশি, যেভাবে খুশি এনজয় করা যেতো। যদিও খাবার বা অন্যান্য অনেক আনুসাঙ্গিক ঝামেলা ছিলো। তারপরও ঐ জীবনটাই মজার।

গতদিন সারাদিনব্যাপি কুটুম্বগ্রুপ বাসায়। ক্লোজআপ হাসি মুখে ঝুলিয়ে দুপুর থেকে রাত ১০টা অবধি উনাদের সঙ্গ দিতে হয়েছে। শনিবারটায় স্পেশাল দুপুর ঘুমটা দেওয়া সম্ভব হলো না:|। কোন একসময় মায়ের পিটুনি খেয়ে ধুপুরে ঘুমুতে হতো। দুপুরের ঘুমের হাত থেকে বাচার জন্য কতো বাহানা এখন ভাবলে হাসি পায়:)। অথচ এখন দুপুরে লাঞ্চের পর জ্বর দিয়ে ঘুম আসে। অফিসে ব্লাক কফি ভরসা। অবশ্য যেখানে কাজের ঠেলায় টয়লেট বন্ধ সেখানে ঘুম আসার চান্স পায় না।

আজকে আবার গ্রিল পার্টি। সবাই চলে গেছে। আমি পড়াশোনার কথা বলে থেকে গিয়েছে। তবে এরকম অনুষ্টানে অনুপস্হিত বেশি থাকলেও সমস্যা। সবাই বলে আমি নাকি সামাজিক জীব না। বন্ধুদের সাথে আড্ডা হলে তো কথাই নেই। দিন-রাত আড্ডা দেওয়া সম্ভবB-)

বাসা খালি হওয়ার পর আমি Jagjit আর chitra singh গান হাই ভলিউম দিয়ে ফ্রিজ খুলে সকালের নাস্তার সন্ধান করতে লাগলাম। সাদা ভাত, পোলাও; গরু ভোনা, রোষ্ট, মিষ্টি, মাছ ভোনা, মোরকা ভোনা, ধেড়স ভাঝি, সাতকরা(সিলেট স্পেশাল। কিন্তু আমার গলা দিয়ে নামে না) দিয়ে রুই মাছ, ছোট মাছের টক। মাথা ঘুরতে লাগলো এতো খাবার দেখে। মনে হয় সকালে ভাত খাই না কয়েক বছর হলো। দিনে শেষ খাবারটা সাধারনত সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যেই শেষ করে ফেলি। আজকে ভাত খাওয়ারই সিন্ধান্ত নিলাম। দুপুর ১২টায় সকালের নাস্তা পোলাও, গরু ভোনা,সালাদ,সাদা ভাত, মাছের টক। খাবার পর বুঝলাম আগের মতো এখন আর টানতে পারি না;)

দেশে কোন একসময় এই দুইজনের গান এতো শুনেছি যে ঠোটস্হ হয়ে গেছে অনেকগুলো গান। কতো হাজারো স্মৃতি বন্ধুদের সাথে এসব গান নিয়ে। ইস, আবারো যদি সেইসব দিনে ফিরে যাওয়া যেতো। এসব গান শুনলে দেশে যাতে শুধু মন চায়। হয়ত সর্ট নোটিশে চলেও যাবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই জুলাই, ২০০৮ বিকাল ৫:২৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×