গতসপ্তাহেই ম্যানেজার ছুটির জন্য সবুজ বাতি জ্বালাইছে। ছুটি আছে সর্বোমোট ৬ সপ্তাহ। আমি ভয়ে ভয়ে টানা ৫সপ্তাহের আবেদন করেছি। ম্যানেজার রাজি। বস শুনে টাশকি খাইছে। এইটা নাকি এই কামলা জীবনের শেষ লম্বা ছুটি। কেউ একসাথে ৩ সপ্তাহের বেশী ছুটি নিতে পারে না। সেখানে আমি ৫ সপ্তাহ
এতো লম্বা ছুটি তো আর এখানে বসে কাটানো যায় না। দেশে যাবার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু টিকেট অপ্রতুল। আর যা আছে দাম শুনলে চান্দি গরম। কোন একসময় বাংলাদেশ বিমান এখান থেকে যাত্রী নিয়ে যেতো। কষ্ট হলেও যেতাম। অনেকদিন থেকে সার্ভিস বন্ধ। তবে টিকেটের চেষ্টায় এখনো আছি। মনে মনে একটু ভয়ও আছে। বছর হয়নি দেশ থেকে ঘুরে আসছি। পাবলিক বলবে ব্যাটার মনে হয় খেয়ে কাম নাই। বছর ঘুরতেই ফেরত আসছে।
দেশে যাবার ব্যাপার এখনো বাসায় বলিনি। আগামী সপ্তাহে হয়তো বলবো। শপিং করার ঝামেলা নেই। সুপারমার্কেটে গিয়ে একবস্তা চকলেট কিনে হাটা দিবো। দেশে নাকি সব জিনিসই পাওয়া যায়। কষ্ট করে নিয়ে যাবার কোন দরকার নাই(না নেওয়ার একটা তরিকা
গ্রামের অসুস্হ মামী ডায়াবেটিস, হৃদপৃন্ড সমস্যা, কিডনি সমস্যা নিয়ে হসপিটালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিতসা কেমন চলছে জানার জন্য ফোন করেছিলাম। বলে গত কয়েকদিন থেকে ডাক্তার নেই। যদিও ছোট মামা ঐ মেডিক্যালের প্রফেসর। মামাকে ফোন দিয়ে জানা গেলো আজকে নাকি সিলেটে উপদেষ্টা পরিষদের মিটিং। হসপিটালে ডাক্তার সংকট। সব স্পেশালিষ্ট ডা: নাকি উপদেষ্টাকে সঙ্গ দিতে গেছেন। এমনিতেই এই তত্বাবধায়কের উপর মেজার খারাপ। পেপার পড়া, খবর দেখা মোটামুটি বাদই দিয়েছি। ওদের কান্ডকারখানা দেখে নিজের হার্টের উপর চাপ ফেলে লাভ নাই। ভাব দেখাতে গিয়ে দেশে বারোটা। সুধির ভাইয়েরা
দুর্নীতি দমনের ধোয়া তুলে লাখ লাখ টাকা খরচ করে, স্কুলের বাচ্ছাদের ঘন্টার পর ঘন্টা বৃষ্টিতে দাড় করিয়ে রোড শো করা হচ্চে। সচেতনতায় যদি এতোই কাজ হতো তাহলে আইন কেন? মানুষের দুমুটো খাবারের নিশ্চয়তা দিতে পারো না। আবার সচেতন হতে বলো। মাঝে মাঝে চিন্তা করি এই জার্মানদের নিয়ে। এতো শৃঙ্খলা এদের মধ্যে। এইটা কি শুধু সচেতনার জন্য। অবশ্যই না। সবাই আইনকে ,আইনের প্রয়োগকে ভয় করে। যাকে বলে সুযোগের অভাবে ভালো মানুষ। একদিনের জন্য যদি আইনটা একটু শিতিল করা হয়। পুরো জার্মানি তছনছ হয়ে যাবে।
ফোন করে ডাক্তার মামীকে দিলাম বকা। মামী বলে ঘটনা কি? বল্লাম তোমাদের ডাক্তার গুলে পানি খাওয়ালেও অসুখ কমবে না। রাত ১২টায় খাও ভাত। তাও আবার গলা পর্যন্ত। তারপর সাথে সাথে ঘুম। দুপুর ৪টায় আবার ভাত। দিনদিন কি রকম মোটা হচ্ছো এক একজন। কয়েকদিন পর তো বাসার ছোট-বড়ো সবার ডায়াবেটিজ ধরা পড়বে। কথা শুনে মামী দিলো হেসে। আমাকে জিঞ্জেস করে তুমি রাতের খাবার কয়টায় খাও? বল্লাম সন্ধ্যে ৭টা। শুনে মনে হলো টাশকি খাইছে। বলে রাতে ক্ষিদে লাগে না? বল্লাম লাগে। তবে ক্ষিদে লাগলেই যে খেতে হবে সেইটা কে বল্লো। আর বেশি ক্ষিদে লাগলে কোন ফল যেমন-আপেল অথবা কলা খেয়ে নিলেই হলো।
গ্রামের বাড়ির আত্মীয়দেরও একই অবস্হা। গনহারে ডায়াবেটিজ। একটু সুখের মুখ দেখলেই হলো।পেট ভরে খেয়ে দেও ঘুম। আহ কি শান্তি। কয়েকদিন পর দৌড় শুরু।
মামাতো ভাই দেশ থেকে ঘুরে আসার পর মনে হলো ওর ওজন আরও বাড়ছে। জিঞ্জেস করলে বলে সবাই খাওয়ার জন্য এতো পিড়াপিড়ি করে। বল্লাম তুমি হালা একটা আবুল। কেউ সাধলো আর তুমিও খাইলা। এখন ওজন কমাইতে যাও ঠেলাটা বুঝবা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


