somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এই বেশ ভালো আছি

০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ রাত ৮:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসায় লোকজনের অসুখ কমই হয়। হয়ত ডাক্তার দেখানোর পিড়াপিড়িতে রোগ নিজেই লজ্জা পায়। সবাই মাঝে মাঝে যা ও একটু ডাক্তার পাড়া দিয়ে যায় আমি তা থেকে ৫০০ হাত দুরে থাকি। শুধুমাত্র অফিস কামাই দিতেই মাঝে মাঝে ডাক্তার পাড়ায় যাই;)। আগামিতে তিনদিনের জন্য অসুস্হ হতে হবে। একটু ফ্রান্সে বেড়াতে যেতে হবে বন্ধুর সাথে (ডাক্তার দীর্ঘজীবি হোক)। মাঝে মাঝে যদিও সর্দি-কাশি, ঠান্ডা লাগে এগুলো অটোমেটিক চলে যায়।

গত ৫/৬ বছর থেকেই কাশি লেগেই আছে। বর্তমানে সেটা বদভ্যেসে পরিনত হয়েছে। বাসার সবাই মোটামুটি আমার কাশিতে অভ্যস্হ। কিন্তু মাঝে মাঝে অফিস, লাইব্রেরী, নামাযে অভ্যাসটা মাথাঝাড়া দিয়ে উঠে। বাসার সবার দৌড়ানি খেয়ে কয়েক ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিফল মনোরথে ফিরে এসেছি। কয়েকশ রকমের পরীক্ষা করেও উনারা রোগ নির্নয় করতে পারেন নাই। সিগারেট খাওয়ার অভ্যেস কম। খাইতে শুরু করলে টানা কয়েকমাস। তারপর আবার বন্ধ।

মাসে মাসে বেতন থেকে হেলথ ইন্সোরেন্সের জন্য প্রায় ৭০০ইউরো গেচাং করে কেটে নিয়ে যায়। চুক্কেও দেখি না:((। তারপরও কেনো যেনো হিংসা হয় না। এদিক থেকে আমার বড় ভাইজান মাসাআল্লাহ। কোন কারন ছাড়াই অথবা সামান্য অযুহাতেই প্রতি মাসে মিনিমান ২/৩ বার ডাক্তারে যাবেই। । ডাক্তার থেকে বেড়িয়ে এসে আমার জন্য ডাক্তারের আমন্ত্রন পত্র নিয়ে আসে। ডাক্তার নাকি উনাকে জিঞ্জেস করে তোমার ফ্যামেলির ভাই বেরাদারদের দেখি না কেন? উনাদের আসতে বলবেন। উনিও মনের দু:খে দাওয়াত দেয়। কারন জানে আমি ঐ মুখো হবো না। গত ৩/৪ বছর দাতের ডাক্তারের কাছে যাইনি। তিন বছর আগে একবার ৫০ ইউরো দিয়ে একটা দাত ফিলিং করিয়েছিলাম। ডাক্তার পাচ বছরের লিখে গেরান্টি সিল চাপ্পড় মেরে দিয়েছিলো। এর পরের বছর ইংল্যান্ড থেকে শুধু দাতের যন্ত্রনায় এখানে এসে ট্রিটমেন্ট করে গিয়েছিলাম। ওখানে সস্তার তিন অবস্হার মতো ডাক্তারের সেবা। সবাই ফ্রিতে খাইতে চায়। ওদের সরকারও ফ্রি পেরাসিটামল দিয়ে যায়। যতোখুশি খাও অবস্হা। পেটব্যথা থেকে ক্যান্সার পর্যন্ত মনে হয় পেরাসিটামল।

মা গত দু'দিন থেকে ঠান্ডা লাগাইছেন। ঠান্ডা মাঝে মাঝে উনাকে বেশ ভোগায়। আমি ভয়ে ছিলাম উনার কাশির জন্য। সারারাত উনি নিজেও ঘুমুতে পারেন না। আর বাসার সবাইকে মোটামুটি জেগে থাকতে হয়। ভয়টা গতরাতেই সত্য হলো। আমার বিখ্যাত কাশির জন্য আম্মা নিজেই হরেক রকমের কাশির চকলেট কিনে আমার ড্রয়ার ভর্তি করে রাখেন। আমিও অযাচিত সময়ে কাশি থেকে বাচতে ২/৪ টা চকলেট পকেটে রাখি। চকলেট মোটামুটি শেষ। রমযান শেষে আর সুপারমার্কেটের দিকে যাওয়া হয় নাই। মায়ের অসুস্হতার জন্য কিসের ঘুম। ভোর ৫টায় উঠে দেখি আমার রুমের দরজা খোলা। ভাবলাম মা মনে হয় খুলেছিলেন। জিঞ্জেস করলাম কাশের সিরাপ জাতীয় কিছু খেয়েছেন নাকি? বল্লেন-হ্যা। গতদুই দিন নাকি বমিও হয়েছে। ডাক্তারে যাওয়ার উপদেশ দিলাম না। উল্টো ঝাড়ি খাব ভেবে। বল্লাম কাশের চকলেট খেয়েছো। বলে- না। ঐগুলো তো শেষ। পকেট হাতড়ে একটা পেলাম। চিন্তা করে দেখলাম অফিসের ড্রয়ারে অনেকগুলো রাখা আছে। এখন একটা খেতে বলে ফজরের নামাযের জন্য রেডি হচ্ছিলাম। ভাবসাব দেখে মনে হলো কাশি কমেছে। উনিও হয়ত ঘুমিয়ে পড়েছেন। নামায পড়ে এক চুলোতে চায়ের পানি অন্য চুলোয় পরোটা ভাজতে দিলাম। একটি ডিম চ্যাটকা ভাজি করে কোনমতে গলহধরক করেই সবকিছু ধুয়ে রেখে অফিসমুখো দৌড়। কার্ড পান্চ করতে করতে সাড়ে আট ঘটিকা।

অফিসে এসে কিছু দরকারি মেইল পাঠালাম। পরনের সুয়েটারটা কেন যেনো আজকে হঠাত করে টাইট লাগতেছিলো। কিছু কাজের চাপ ছিলো।কলিগ ব্যাটা এইটা সুদির ভাই। একটু ফাজিল টাইপ। গত ৩০/৩৫ বছর থেকে একই কোম্পানিতে কাজ করতেছে। আমার মাত্র বছর দুয়েক হচ্ছে। ব্যাটা জানে অনেক কিছুই। কিন্তু কোন একটু প্রবলেম হলেই সাথে সাথে ফোন করে চিল্লাফাল্লা। হয়তো সেটিং ফাইলে কোন একটি প‌্যারামিটার দেওয়ার দরকার। উনি না দিয়েই বলবেন ঐটা কাজ করতেছে না। প্রথম প্রথম কয়েকটি প্রবলেম দেখে আমিও এখন গা করি না। যতোখুশি চিল্লাইতে থাক। সকাল থেকে একটা প্রবলেম নিয়ে সারাদিন শেষ। কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সাবস্টেশনের সুইচ গিয়ার / সার্কিট ব্রেকারের ইনফরমেশন যাচ্ছেনা। ঐদিকে ট্রান্সফরমার টেপ চেন্জারও ঠিকমতো পজিশন ইন্ডিকেট করছে না। পজেক্ট প্রায় শেষের দিকে। এখন এই সমস্যা। বল্লাম ঠিক আছে। তুমি ডাটাবেসে প্রবলমে এন্ট্রি করে রাখো। পরে বসের সাথে আলাপ করে দেখা যাবে। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো কনফিগারেশনেই ভুল করে বসে আছেX(। এখন আবার সরি কয়।
ঘন্টা দুয়েক পর কফি নিতে গিয়ে সুয়েটারের কথা মাথায় এলো। আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখি সুয়েটার উল্টো করে পরেছি। ভাগ্য ভালো আসার সময় সুয়েটারের উপর জ্যাকেট ছিলো তাই কেউ দেখেনি ;)। নিজে নিজেই সরমিন্দা। মোটামুটি গিফটের উপরেই জীবন পার করে দিচ্ছি। গতমাসে জন্মদিন উপলক্ষে কিছু শীতের কাপড় গিফট পেয়েছি। শীত চলে যাবে। জুতোটা এখনো ছোটভাইয়ের গাড়িতে। ঐটাও ওর উপর দিয়েই চালিয়ে নিলাম।
প্রথম যখন আসি তখন ইউনি থেকে বাডি (আমার বাঙালি ছিলো) বিরাট লিষ্টি ধরিয়ে দিয়েছিলো। সুই-সুতো থেকে শুরু করে সবকিছু। ভাইয়া ফোন করে লিষ্টের কথা বল্লাম । ভাইয়া বলে শুধু পেছনে একটা ব্যাগ নিয়ে হাটা দাও। তুমি এখানে নিজের বাড়িতে আসতেছো। আমিও তাই করলাম। এখন পর্যন্ত নিজের মনে করে সবাইকে দিয়ে শপিং করিয়ে নিচ্ছি। অবশ্য ঐ শপিং পাড়ায় আমার বিরাট এলার্জি। ডাক্তার যাইতে মানা করছে :P

দুপুরে বোন ফোন করে বলে তুমার রুমের দরজা খোলা পাইছো? বল্লাম হ্যা। বলে আমি খুলে রেখেছিলাম। কেন জিঞ্জেস করলে বলে আমি ঘুমাইছি নাকি দেখতে আসছে। গতরাতে টিভিতে ভুতের ছবি দেখছে। তাই মনে হয় ঘুমায় নাই। উনাকে যতোই বলি ঐসব পচা জিনিস না দেখতে উনি ততো বেশি দেখেন। তাই এখন কিছু বলি না। অবশ্য আমার রুমের দরজা খোলা রাখার জন্য শাস্তিসরূপ ইন্টারনেট অথবা টিভি দেখা কয়েকদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। শাস্তি দিতে ব্যাপক মজাB-)

আপাতত অফিসে বিমা, অস্পরার ই.এস.পি.এন থেকে গান শুনা হচ্ছে। টেবিলের উপর পা তুলে গান শুনার মজাই আলাদা :P
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫১



আজকাল আমার মনে হয় -
আমাকে কেউ পছন্দ করে না,
কারো কাছে গেলে, সে বিরক্ত হয়।
পোশাক অগোছালো, এলোমেলো চুল,
চোখের দৃষ্টি কেমন ঘোলাটে!
বীরত্ব দেখানোর কিছু নেই।
চতুর পুরুষ স্ত্রীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে ৯টি বছরঃ একজন লিলিপুটিয়ান থেকে সত্যিকার ব্লগার হয়ে উঠার গল্প

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

আজ আমার ৩য় বইয়ের জন্য চুক্তি করতে প্রকাশক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। প্রকাশনা সংস্থা 'উত্তরণ'-এর মাসুদ ভাইয়ের বাংলাবাজারের অফিসে ঘণ্টাখানেক ছিলাম। তাঁর সাথে কথা বলতে বলতেই আমার মনে একটি বোধোদয় আসে! আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×