বাসায় লোকজনের অসুখ কমই হয়। হয়ত ডাক্তার দেখানোর পিড়াপিড়িতে রোগ নিজেই লজ্জা পায়। সবাই মাঝে মাঝে যা ও একটু ডাক্তার পাড়া দিয়ে যায় আমি তা থেকে ৫০০ হাত দুরে থাকি। শুধুমাত্র অফিস কামাই দিতেই মাঝে মাঝে ডাক্তার পাড়ায় যাই
গত ৫/৬ বছর থেকেই কাশি লেগেই আছে। বর্তমানে সেটা বদভ্যেসে পরিনত হয়েছে। বাসার সবাই মোটামুটি আমার কাশিতে অভ্যস্হ। কিন্তু মাঝে মাঝে অফিস, লাইব্রেরী, নামাযে অভ্যাসটা মাথাঝাড়া দিয়ে উঠে। বাসার সবার দৌড়ানি খেয়ে কয়েক ডাক্তারের কাছে গিয়ে বিফল মনোরথে ফিরে এসেছি। কয়েকশ রকমের পরীক্ষা করেও উনারা রোগ নির্নয় করতে পারেন নাই। সিগারেট খাওয়ার অভ্যেস কম। খাইতে শুরু করলে টানা কয়েকমাস। তারপর আবার বন্ধ।
মাসে মাসে বেতন থেকে হেলথ ইন্সোরেন্সের জন্য প্রায় ৭০০ইউরো গেচাং করে কেটে নিয়ে যায়। চুক্কেও দেখি না
মা গত দু'দিন থেকে ঠান্ডা লাগাইছেন। ঠান্ডা মাঝে মাঝে উনাকে বেশ ভোগায়। আমি ভয়ে ছিলাম উনার কাশির জন্য। সারারাত উনি নিজেও ঘুমুতে পারেন না। আর বাসার সবাইকে মোটামুটি জেগে থাকতে হয়। ভয়টা গতরাতেই সত্য হলো। আমার বিখ্যাত কাশির জন্য আম্মা নিজেই হরেক রকমের কাশির চকলেট কিনে আমার ড্রয়ার ভর্তি করে রাখেন। আমিও অযাচিত সময়ে কাশি থেকে বাচতে ২/৪ টা চকলেট পকেটে রাখি। চকলেট মোটামুটি শেষ। রমযান শেষে আর সুপারমার্কেটের দিকে যাওয়া হয় নাই। মায়ের অসুস্হতার জন্য কিসের ঘুম। ভোর ৫টায় উঠে দেখি আমার রুমের দরজা খোলা। ভাবলাম মা মনে হয় খুলেছিলেন। জিঞ্জেস করলাম কাশের সিরাপ জাতীয় কিছু খেয়েছেন নাকি? বল্লেন-হ্যা। গতদুই দিন নাকি বমিও হয়েছে। ডাক্তারে যাওয়ার উপদেশ দিলাম না। উল্টো ঝাড়ি খাব ভেবে। বল্লাম কাশের চকলেট খেয়েছো। বলে- না। ঐগুলো তো শেষ। পকেট হাতড়ে একটা পেলাম। চিন্তা করে দেখলাম অফিসের ড্রয়ারে অনেকগুলো রাখা আছে। এখন একটা খেতে বলে ফজরের নামাযের জন্য রেডি হচ্ছিলাম। ভাবসাব দেখে মনে হলো কাশি কমেছে। উনিও হয়ত ঘুমিয়ে পড়েছেন। নামায পড়ে এক চুলোতে চায়ের পানি অন্য চুলোয় পরোটা ভাজতে দিলাম। একটি ডিম চ্যাটকা ভাজি করে কোনমতে গলহধরক করেই সবকিছু ধুয়ে রেখে অফিসমুখো দৌড়। কার্ড পান্চ করতে করতে সাড়ে আট ঘটিকা।
অফিসে এসে কিছু দরকারি মেইল পাঠালাম। পরনের সুয়েটারটা কেন যেনো আজকে হঠাত করে টাইট লাগতেছিলো। কিছু কাজের চাপ ছিলো।কলিগ ব্যাটা এইটা সুদির ভাই। একটু ফাজিল টাইপ। গত ৩০/৩৫ বছর থেকে একই কোম্পানিতে কাজ করতেছে। আমার মাত্র বছর দুয়েক হচ্ছে। ব্যাটা জানে অনেক কিছুই। কিন্তু কোন একটু প্রবলেম হলেই সাথে সাথে ফোন করে চিল্লাফাল্লা। হয়তো সেটিং ফাইলে কোন একটি প্যারামিটার দেওয়ার দরকার। উনি না দিয়েই বলবেন ঐটা কাজ করতেছে না। প্রথম প্রথম কয়েকটি প্রবলেম দেখে আমিও এখন গা করি না। যতোখুশি চিল্লাইতে থাক। সকাল থেকে একটা প্রবলেম নিয়ে সারাদিন শেষ। কন্ট্রোল সেন্টার থেকে সাবস্টেশনের সুইচ গিয়ার / সার্কিট ব্রেকারের ইনফরমেশন যাচ্ছেনা। ঐদিকে ট্রান্সফরমার টেপ চেন্জারও ঠিকমতো পজিশন ইন্ডিকেট করছে না। পজেক্ট প্রায় শেষের দিকে। এখন এই সমস্যা। বল্লাম ঠিক আছে। তুমি ডাটাবেসে প্রবলমে এন্ট্রি করে রাখো। পরে বসের সাথে আলাপ করে দেখা যাবে। শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো কনফিগারেশনেই ভুল করে বসে আছে
ঘন্টা দুয়েক পর কফি নিতে গিয়ে সুয়েটারের কথা মাথায় এলো। আয়নার সামনে দাড়িয়ে দেখি সুয়েটার উল্টো করে পরেছি। ভাগ্য ভালো আসার সময় সুয়েটারের উপর জ্যাকেট ছিলো তাই কেউ দেখেনি
প্রথম যখন আসি তখন ইউনি থেকে বাডি (আমার বাঙালি ছিলো) বিরাট লিষ্টি ধরিয়ে দিয়েছিলো। সুই-সুতো থেকে শুরু করে সবকিছু। ভাইয়া ফোন করে লিষ্টের কথা বল্লাম । ভাইয়া বলে শুধু পেছনে একটা ব্যাগ নিয়ে হাটা দাও। তুমি এখানে নিজের বাড়িতে আসতেছো। আমিও তাই করলাম। এখন পর্যন্ত নিজের মনে করে সবাইকে দিয়ে শপিং করিয়ে নিচ্ছি। অবশ্য ঐ শপিং পাড়ায় আমার বিরাট এলার্জি। ডাক্তার যাইতে মানা করছে
দুপুরে বোন ফোন করে বলে তুমার রুমের দরজা খোলা পাইছো? বল্লাম হ্যা। বলে আমি খুলে রেখেছিলাম। কেন জিঞ্জেস করলে বলে আমি ঘুমাইছি নাকি দেখতে আসছে। গতরাতে টিভিতে ভুতের ছবি দেখছে। তাই মনে হয় ঘুমায় নাই। উনাকে যতোই বলি ঐসব পচা জিনিস না দেখতে উনি ততো বেশি দেখেন। তাই এখন কিছু বলি না। অবশ্য আমার রুমের দরজা খোলা রাখার জন্য শাস্তিসরূপ ইন্টারনেট অথবা টিভি দেখা কয়েকদিনের জন্য বন্ধ থাকবে। শাস্তি দিতে ব্যাপক মজা
আপাতত অফিসে বিমা, অস্পরার ই.এস.পি.এন থেকে গান শুনা হচ্ছে। টেবিলের উপর পা তুলে গান শুনার মজাই আলাদা

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

