আমার প্রিয় পোস্ট
- সামুর সব রেসিপি পোস্ট
[আপডেট * ~ ৫ ~ *] - বাবুনি সুপ্তি
- সহজেই মুছে ফেলুন উইন্ডোজের যেকোন ভার্শনের ভুলে যাওয়া এ্যাকাউন্ট পাসওয়ার্ড (ভেঙে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে) - নাফিস ইফতেখার
- আমার প্রিয় কিছু ইন্ডিয়ান ইংরিজি এবং হিন্দি মুভির তালিকা - নির্ঝর নৈঃশব্দ্য-২
- ওই ছোটোলোকের পোলাটা কিন্তু বীরপ্রতীক ছিল - অমি রহমান পিয়াল
- মুভি রিভিউ :: অশ্রুর বাঁধ ভেঙে দেয়া ১৩ টি সিনেমা - মেহরাব শাহরিয়ার
- যেসব সিনেমাখোররা অ্যানিমেশন মুভি দেখেন না তাঁদের জন্য একটি প্রেসক্রিপশন - অপরিচিত_আবির
- উবুন্টুতে গ্রাফিক্যালি সবকিছু : টিউটোরিয়াল । এরপর খালি বলে দেখেন উবুন্টু কঠিন , খবর আছে!!! - ইন্ঞ্জিনিয়ার
- আর্চিস গ্যালারী পেরিয়ে... - আনোয়ার সাদাত শিমুল
- জায়নিস্টদের অবিসংবাদিত নেতা এবং ইসরায়েলের প্রথম রাষ্ঠ্রপতি ডঃ চ্যাইম ওয়াজম্যানের সাথে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা বিষয়ে কথোপকথন। - নরাধম
- আমার প্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ আ ক খ - অপ্সরা
- আপনার শোনা বাংলা বেস্ট রোমান্টিক গান কোনটা ?(রিপোষ্ট) - নিঃসঙ্গ
- ছাওয়াল ও জওয়াব ৪ : বক্রপথে শয়তানের কুমন্ত্রণা - বিপ্লব০০৭
- চিটির রান্নাঘর থেকে ঐতিহাসিক রেসিপি- রসমালাই - চিটি (হামিদা রহমান)
- অগুনিত মেহেরের গল্প। - সৌম্য
- ইউটিউবে আপনারা কি মাস্টারপিস সিনেমাগুলো দেখেন? - ফাহমিদুল হক
- জ্ঞানপিপাসুদের জন্য কিছু ফ্রি ই-বুক সাইট - রাকিব
- নেট থেকে মোবাইলে ফ্রি sms - সীমানা পেরিয়ে
- লাল গাড়ি আর লাল বালিকার গল্প - নিধিরাম সর্দার
- সব বাবারা দেখতে এক রকম! - মানবী
যাপিত জীবন
০৬ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:০৭
অফিসের কাজ সাধারনত বাসায় নিয়ে যাই না। অফিস শেষের মোটামুটি রুটিন হচ্ছে টিভি দেখা। শুয়ে বসে কার্টুন চ্যানেল, ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল, অথবা টেকনোলজি। অবশ্য লেপটপ সবসবমই কাছাকাছি থাকে। গতকালও একই রুটিন। চ্যানেল ঘুরাতে হঠাত বাংলাদেশের ডায়লগ শুনে একটু থামলাম। টিভি টেক্সে দেখলাম ছবির নাম Eisenfresser। ট্রান্সলেট করলে দাড়ায় লোহাখোর। নামটা শুনেছিলাম। আমাদের সাধারন খেটে খাওয়া মানুষের অবস্হান যে কোথায় না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। এতো এতো কষ্টের পরিশ্রমের টাকা পায় না ওরা। অন্যদিকে হাতে তসবি, মাথায় টুপি, সুভ্র সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবী পরে মালিকের লম্বা লম্বা কথা শুনে মনে হয়েছিলো শুয়রের বাচ্চাটাকে যদি এক ঘন্টার জন্য সাধারন শ্রমিকদের সাথে কাজ করানো যেতো। স্হানীয় কন্ট্রাকট্ররগুলো আরো বড়ো হারামির বাচ্চা। এতো এনাজি মনে হয় সৃষ্ট্রিকর্তা ওদের দিয়ে দিয়েছিলেন। তা না হলে মোটা চালের ভাত খেয়ে এতো কঠিন কাজ করে কিভাবে?
উফ, কি যে কষ্টের জীবন। এইসব শ্রমিকদের দেখার কেউ নেই![]()
জার্মান টিভিতে কখনো বাংলা শব্দ শুনলে ছোটবোন দৌড়ে আসে। মাঝে মাঝে নিজেও ডেকে নিয়ে আসি। গতকাল আর ডাকতে সাহস হলো না। এই দেশে জন্ম হওয়া কাউকে এইসব দেখালে দেশের জন্য মায়ার পরিবর্তে হয়তো ঘৃনা জন্মাবে। নিজেই দেখে লজ্জা পাচ্ছি।
হয়ত পরিবেশের সাথে মন-মানষিকতা পরিবর্তিত হচ্ছে। কয়েকমাস আগে দেশ থেকে দোস্ত বেড়াতে আসছে। আমার কিছু কাজে সে তার ড্রাইভারকে ফোন করে বিভিন্ন আদেশ দিচ্ছে। পাশেই বসে ওদের কথা শুনছিলাম। ফোন শেষ হওয়ার আগে ইশারায় বল্লাম ড্রাইভারকে জিঞ্জসে করতে ও ভালো আছে নাকি? ওর ফ্যামেলির লোকজন ভালো আছে নাকি? দোস্ত মুছকি হেসে জিঞ্জেস করলো। ফোন রেখে বল্লো, ড্রাইভারকে এইসব জিঞ্জসে করতে হয় না কি? দিলাম একটা ঝাড়ি। এই হচ্ছে চাকর মনিব সম্পর্ক। হয়তো দেশে গেলে আমিও এইরকম হয়ে যাবো।
আমাদের (মুসলমানদের) দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ (মদ, শুয়র, রক্ত) জিনিস খেয়ে ইউরোপিয়ানরা যেরকম সমাজ ব্যবস্হা তৈরী করেছে তাতে আমাদের মুসলমানদের প্রতিটি দেশে হানাহানি, শ্রমিকের বেতন না দেওয়া, আইন-শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তার অবস্হা দেখে মনে হয় না কোন কিতাবে (কুরআন, হাদিসে) শ্রমিকদের ব্যাপারে আল্লাহ অথবা রসুল কিছু বলেছেন। গতবছর দেশ থেকে আসার সময় ওমরা করতে গিয়ে বাংলাদেশিদের অবস্হা স্বচক্ষে দেখে সৌদিদের প্রতি বিতৃষ্ণা লুকোতে পারিনি। এতো এতো খারাপ অবস্হায় মানুষ বসবাস করে। আর ওরাই ইসলামের নামে বড়ো বড়ো কথা বলে। মানুষে মানুষে ভাই ভাই সম্পর্ক(!!)। শালা, সবকয়টিকে শুয়রের খোয়াড়ে রেখে দেওয়া উচিত।
অফিসে কি কাজ করলাম না করলাম মাসের ২৭/২৮ তারিখ বেতন ঠিকই এসে যাচ্ছে। আইনের শাসন, মানবতা, শ্রমিকের প্রতি সহমর্মিতা সবই ওদের কাছে। গতমাসে ম্যানেজার এসে বল্লো, আমার একশ ঘন্টা অতিরিক্ত কাজ হয়ে গেছে। এখনি যদি এই অবস্হা হয় তাহলে বছর শেষে দুইশ ঘন্টা হয়ে যাবে। তাই আমি যেনো দেরী করে অফিসে এসে তাড়াতাড়ি চলে যাই। অথবা কয়েকদিন অনুপস্হিত থাকি। তাতে আমার ঘন্টা কমে যাবে। কয়েকদিন ১০ঘন্টার বেশি কাজ করেছিলাম বলে ওয়ার্নিং দিয়ে গেছে। সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৮টা পর্যন্ত কাজের সময়। আমি একদিন ৮:৩০ পর্যন্ত ছিলাম। সেইজন্য আরেক ওয়ার্নিং। নিজে ফাও কিছু অযুহাত তুলে বল্লাম কাজ শেষ হচ্ছিলো তাই এই অবস্হা। উনি বল্লো একদিনে কাজ শেষ করতে হবে এইরকম কথা কোথাও নেই। এই বছর দেশে যাওয়ার প্লান এখনো করিনি। একদিনও ছুটি নেওয়া হয়নি। তাই নিয়ে ম্যানেজার টেনশনে আছে। কয়েকদিনই আমাকে ছুটি ফাইনাল করার জন্য বলেছে। আমি শুধু রমযানের এক মাস ছুটি ফাইনাল করেছি কিন্তু আরো প্রায় ১৫/২০ দিন ছুটি থেকে যায়। ইচ্ছে করেই নেই না। এই হলো মোটামুটি কামলা জীবন। জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিকদের সাথে আমার শ্রমের + মালিকের পার্থক্য।
জাহাজ ভাঙ্গা মানুষের কষ্ট দখে মনে হলো-মুসলমান তো দুরের কথা; শুয়োর, মদ খাওয়া মানুষগুলোর মতো মানুষ হতে আমাদের এখনো কয়েকশ বছর লাগবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:২৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
লোহাখোর। হবে ।
লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ঠিক করে দিয়েছি।
লেখাজোকা শামীম বলেছেন:
মুসলমান তো দুরের কথা, শুয়োর, মদ খাওয়া মানুষগুলো মতো মানুষ হতেই আমাদের এখনো কয়েকশ বছর লাগবে। সহমত।
আমরা খালি কিতাবী কথা বলি। আসলে যে আমরা অমানুষ এ কথা বুঝি না।
ভাবারূ বলেছেন:
"ফোন রেখে বল্লো, ড্রাইভারকে এইসব জিঞ্জসে করতে হয় না কি? দিলাম একটা ঝাড়ি। এই হচ্ছে চাকর মনিব সম্পর্ক। হয়তো দেশে গেলে আমিও এইরকম হয়ে যাবো।"- ঘটনা সত্য
মানুষের অন্ধবিশ্বাস, সমাজব্যাবস্থা, চিন্তা করার প্রক্রিয়া, এগুলোতে পরিবর্তন আনা বড়ই কঠিন..!
অপ্সরা বলেছেন:
কেমন আছো ??
লেখক বলেছেন: প্রাকটিক্যালি খুবই ভালো। থিওরিট্যাকেলি ভালো না। আজ অফিস ফাকি দিয়েছি। কয়েকটা হাচ্চি, কাশি দিয়ে অফিসে ফোন করে বল্লাম অসুস্হ ( অফিসের খাতায় অসুস্হ)। আহ, কি শান্তি ![]()
আপনি কেমন আছেন??
আসলে জাতি হিসেবে আমরা ধর্ম কে নিজেদের প্রয়োজনেই লেলিয়ে দি। কারো ভাল-র কথা আমরা চিন্তা করতে পারিনা
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















