আমার প্রিয় পোস্ট

তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে।

শিরোনামহীন আবজাব

১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১২:৩৯

শেয়ারঃ
0 0 0

যতো ঝামেলা এড়িয়ে চলা যায় ততো মঙ্গল। তবে পাবলিক ঝামেলা থেকে মু্ক্তি দিতে চায় না। দেশ থেকে এসেছি অনেকদিন হলো। তারপরও এই সমস্যা সেই সমস্যা নিয়েই থাকতে হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই উপদেশ আর কথা শোনাতেই সীমাবদ্ধ। সপ্তাহান্তে দুইদিন ফোনালাপেই শেষ।

এই ব্লগে অনেকেরই চিকিতসার জন্য আবেদন আসে। দেশের মানুষগুলো বিশেষ করে যুবসমাজ যে এখনো এতো নির্দয় হয়নি সেটা বারবার প্রমান করেছে। এতো এতো কষ্টের মাঝেও লোকজন বিভিন্ন উদ্যেগ নিচ্ছে ভেবে নিজেকে বেশ দুরের মনে হয়। এইসব ব্যাপারে সরকারী অথবা বেসরকারী কোন উদ্যেগই দেখা যায় না। দেশ থেকে বাইরে চিকিতসার যে খরচ যাতায়াত আর থাকা-খাওয়ার খরচ প্রায় অর্ধেক। দেশে চিকিতসার ব্যবস্হা হলে অনেক অনেক সাশ্রয় হতো। সরকারী অথবা বেসরকারীভাবে কেন হচ্ছে না বুঝি না। ব্যবসায়ি সম্প্রদায়ই কি ব্যবসার কথা চিন্তা করেও একটু এগিয়ে আসতে পারে না??

ইউরোপের অনেক দেশে বিভিন্ন কারনে যেতে হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় বিভিন্ন প্রয়োজনে থাকতেও হয়েছে। চিকিতসার ব্যবস্হা বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। সবকিছু থেকে জার্মানির ব্যবস্হা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। যদিও বিভিন্ন সময় মন খারাপ হয় এতো এতো টাকা মাস শেষে কেটে নিয়ে যায় (মাসিক ৭০০ ইউরো। বেতনের উপর ইন্স্যুরেন্সের টাকা নির্ভরশীল। ছাত্রাবস্হায় মাত্র ৫৫ ইউরো) । তারপরও সান্তনা যে যখনই ডাক্তার প্রয়োজন সাথে সাথে পাওয়া যায়। যেকোন ডাক্তারের কাছে এপোয়েন্টমেন্ট চাওয়া অথবা পাওয়া যায়। শহরের ভেতরে ইমারজেন্সি কল করলে ১০মিনিটের ভেতরে আসতেই হবে। গাড়ি না আসতে পারলে অথবা রোগীর অবস্হা খারাপ হলে হেলিকপ্টার আসবে। রাস্তায়
সাইরেন শুনলে সামনের গাড়ি যে যেভাবে পারে সাইড দিতে বাধ্য। চিকিতসা খরচ যাই হোক না কেন ইনস্যুরেন্স অবশ্যই কাভার করবে। এখানে সবার ইন্স্যুরেন্স থাকতেই হবে। খাও অথবা না খাও ঐটা পরের চিন্তা হেলথ ইন্স্যুরেন্স আগে। এইসব ব্যবস্হা যদিও আমাদের দেশে অসম্ভব। কিন্তু মিনিমাম টাকা দিয়েও তো সুবিধাটুকু দেওয়া যেতে পারে।

নিজে বার রকমের মানুষের সাথে থেকে সবকিছুতেই বিভিন্ন স্বাধ পেতে চাই। বছরদুয়েক আগে বাংলা নাটক দেখেছিলাম। তারপর অনেক লম্বা বিরতি। হঠাত করে চ্যানেল আইয়ের গানরাজ দেখতে বসলাম। যতোক্ষন বাসায় সারাক্ষন পিচ্চিদের গান শোনা। হঠাত করে একদিন টিভিতে জার্মানির পরবর্তি সুপার মডেল দেখতে গিয়ে একটা গান বুঝতে পারিনি। ছোটবোনকে জিঞ্জেস করলে বল্লো ঐটা নাকি ব্রিটনী'র। এই সময় উনি একটু বিল্লা মারলো। কি আর করার বাংলা থেকে ডাইরেক্ট ইংরেজি গানে কয়েক সপ্তাহ। তারপর আউল-ফাউল লিঙ্ক ঘুরে হিন্দি গানে। ওল্ড গোল্ড, সারেগামা চল্লো কয়েক সপ্তাহ।

গতকাল রাতে ডাইনিং রুম দিয়ে আসার সময় বাউল আব্দুল করিমের একটা গানের একটি কলি শুনতে পেলাম। সাথে সাথে বাবা চ্যানেল বদল করে ফেল্লেন। বছর তিনেক থেকে ড্রয়িংরুমের টিভিতে বাংলা স্যাটালাইট চ্যানেল যুক্ত আছে। ঐ টিভি শুধু মা-বাবার জন্য। আমি ঐটা কিভাবে অপারেট করে জানি না। মাঝে মাঝে আসা যাওয়াতেই যা দেখা হয়।

বাউলের গানের কলি মাথায় সারা রাত ঘুরতেছিলো। বাউলের গানগুলো যদিও অনেকবার শুনেছি। অফিসে যাওয়ার পথে গাড়িতেও মনেমনে গাইতেছিলাম। অফিসে বেশ ঝামেলার জন্য খুব একটা মনে পড়েনি। আসার সময়ই একই অবস্হা। কিন্তু আমার গাড়ির সিডি প্লেয়ার নষ্ট সেইটা আমার বোন আবিষ্কার করেছে। বাসায় আর একটা সিডি প্লেয়ার আছে। কিন্তু লাগাতে ইচ্ছে হয় না। যদিও মাঝে মাঝে গান শুনে ড্রাইভ করতে ইচ্ছে করে। এইসব ব্যাপার আমার ছোটবোন আমার থেকে অনেক বেশী বুঝে। উনি গাড়িতে উঠলেই কোনটা ঠিক আর কোনটা নষ্ট আমার থেকে ভালোই বুঝে। আজ থেকে আবার বাউল গানের ভক্ত।

এই গাড়ির হর্নও গতপরশু পর্যন্ত জানতাম না। এখানে হর্ন দেওয়ার প্রয়োজন পড়েনি এতোদিন। গতদিন ভাইয়ার সাথে ড্রাইভ করতেছিলাম। সামনে একটা গাড়ি অনেক্ষন ধরে দাড়িয়ে ছিলো। আমার একটু তাড়া ছিলো। ভাইয়া বল্লো হর্ন দে (বেয়াদবি করলে হর্ন দিতে হয়)। আমি বল্লাম হর্ন কোথায় সেইটা তো জানি না। ভাইয়া কি বলবে বুঝতে পারলো না। শুধু হেসে বল্লো তোমার হর্ন স্টিয়ারিংয়ের কাছেই (উনি আমার গাড়ি মাত্র একদিন ড্রাইভ করেছেন)। ততোক্ষনে সামনের গাড়ি এগিয়ে গিয়েছে। হর্ন দিতে হয়নি:|

বাসায় অথবা অফিসে অনেককিছু থেকে ইচ্ছে করেই এগিয়ে চলি। গতসপ্তাহে একটু ঠান্ডা পড়েছিলো। ফুলহাতা শার্ট খুজতে গিয়ে অস্হির। কোনটাই মনমতো হচ্ছিলো না। তাই আর পরা হয়নি। সপ্তাহান্তে ভাইয়া এসেছিলেন। চান্সে শার্টের কথা বলে ফেল্লাম। উনি বল্লেন কিনে দিবেন (আমার জ্যাকেট, শার্ট, পেন্ট পর্যন্ত মাঝে মাঝে উনি কিনে ;))। বেচে গেলাম। ছোটভাইকে দিয়ে জুতো কেনালাম।
অফিসে পিসি তে একটি সমস্যা হচ্ছিলো। আইটি সেক্টরে ফোন করলাম। ওরা আমার একাউন্ট দেখে বলে তুমি কি এই অফিসে নতুন? বল্লাম গত তিনবছরের উপরে এই অফিসে। শুনে মনে হলো না সে লজ্জা পায় নাই। উল্টো বলে তোমার মেইল একাউন্টে মাত্র কয়েকশো মেগাবাইটের মেইল। এখনো তো গিগা তে যায়নি। অথচ অন্যদের সার্ভারে সাইজের জন্য ঝগড়া করতে হয়। মনেমনে বলি এখনো চুপচাপ আছি। আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ তারপর আমিও ঝগড়া করবো। ম্যানেজার আমাকে বাইরের কিছু প্রজেক্টে এসাইন করেছে। কাজের চাপে মরিতে চাইনা এই সুন্দর ভুবনে:((:((:((:((

 

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৩৪ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই জুন, ২০০৯ রাত ১:৪৮
রাজ মো, আশরাফুল হক বারামদী বলেছেন: তবুও জীবন যাচ্ছে কেটে জীবনের নিয়মে।
১৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:১৪

লেখক বলেছেন: হুমম

২. ১৬ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১১:৩২
ঝড়ো হাওয়া বলেছেন: চলমান জীবনের স্বচ্ছ প্রতিচ্ছবি।
বেশ ভালো হয়েছে @ ফ্রু ভাই
১৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:১৫

লেখক বলেছেন: আপনি আছেন তাহলে। আপনার ব্লগ ঘুরে আসি মাঝে মাঝে। সেই যে এক্সরে করেছেন তারপর আর কোন খবর নাই। ভাবলাম ছুরির তলায় গেছেন নাকি?

৩. ১৬ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৪:৪৮
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: বিবিসির একখান ডকুতে দেখছিলাম সেইখানে তথ্য অনুযায়ী ফকিরনী দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা নাকি কিউবায়। সেইখানে প্রেসিডেন্ট নাকি যেই চিকিৎসা পায় একটা ফোকরা পুলাপানও নাকি সেইটা পায়। যত হাই এন্ড টেকনোলজী বাইর হোক না কেন সরকার সাথে সাথে ওটা সবার জন্য ফ্যসিলিটেড করে। আর উন্নত বিশ্বে যুক্তরাস্ট্রে টাকা থাকলে পাংখা কিন্তু না থাকলে নাকি বাংলাদেশ ফেল। তবে উন্নত বিশ্বে ফ্রান্সের ব্যাপারে একটা কথা আছে। বলা হয় পৃথিবীর যে কেউ যদি ফ্রান্সের মেডিকেল সাইন আলা জায়গায় যেকোনো অবস্হায় (এমনকি যমে মানুষে টানাটানির টাইমে) পৌছাইতে পারলে সার্ভাইভাল রেট নাকি বাড়তে বাধ্য। সেইখানে নাকি একজন ইলিগ্যাল ইমিগ্রান্ট পেলেও নাকি চিকিৎসা সবচেয়ে বেস্ট!

আর জার্মানীতে শুনছি হেলথ ইন্সু থাকলে নাম মাত্র মূল্যে চিকিৎসা পাওন যায়। আমি দেইখা মনে করলাম যুদ্ধ কইরা বাইচা রইছি এই দেশে;)
১৭ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১:২০

লেখক বলেছেন: কিউবার চিকিৎসা পদ্ধতি আমিও বিবিসিতে দেখেছিলাম।

ফ্রান্সের ব্যাপার এতো ভালো জানি না। আমার দুইজন কলিগ আছে ফ্রান্সের। ওদের থেকে খুব ভালো কিছু শুনিনি। তবে ইংল্যান্ডে থাকতে দেখেছি ওখান থেকে মাঝেমাঝে প্লেন বোঝাই করে ফ্রান্সে রোগি নিয়ে চিকিৎসা করানো হতো। ইংল্যান্ডে স্পেশালিষ্ট ডাক্তারের সাক্ষাত পেতে অনেক দেরী হয়। আর অপারেশনের কাজ হলে তো সারছে। কয়েকমাস বছরের জন্য অপেক্ষা।
আমরা এখানে টাকা পে করি বেশী। তাই ডাক্তারও মোটামুটি পাওয়া যায় ইচ্ছমতো।

৪. ২৩ শে জুন, ২০০৯ সন্ধ্যা ৭:১২
উদাসী স্বপ্ন বলেছেন: বস, আপনের কি হইছে? নয়া লেখা কি ধর্মঘটে গেছে?

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯২৮৮ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
ব্লা...ব্লা...ব্লা
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ