বাংলাদেশ থেকে কয়েক সপ্তাহ দেশী আম কাঠাল আসে। দামও সেই রকম। তবে আমার আব্বাজান দামের তোয়াক্কা করেন না। নিজেও কিছু বলি না। মন যা চায় তা করার অধিকার সবারই আছে। দেশের বাড়িতে ৩০/৩৫টা কাঠাল গাছ ছিলো। কাঠালের মৌসুমে ফকিরও কাঠাল খেতো না। আমাদের কাজ ছিলো ফকিরকে কাঠাল সেধে দেওয়া আর উনারা খাওয়ার পর কাঠালের বীজগুলো ফেরত নিয়ে আসা। কিন্তু মাঝে মাঝে উনারাও খেতে চাইতেন না। কাঠা্লের মৌসুমে আমাদের একটু কষ্টই হতো। কারন তখন সকাল-বিকাল ডিক্লেয়ার দেওয়া হতো ভাত রান্না হবে না। কাঠাল খেয়ে থাকতে হবে। কিন্তু সবাই ভাত খেতো। তবে আমাদের অনেক বড়ো বাড়িতে আম গাছের অভাব ছিলো। অন্য বাড়ির ঠিলায় ঝড়-বৃষ্টিতে আমাদের পাওয়া যেতো। ছিলো অনেক অনেক পেয়ারা গাছ। অনেক রঙের পেয়ারা। পেয়ারা খেয়ে পেট ভরে যেতো। পেয়ারাগুলো ছিলো খুবই মিষ্টি। জীবনে প্রথম কলেজে গিয়ে দেখলাম লোকজন লবন দিয়ে পেয়ারা খায়। প্রথম প্রথম হাসবো নাকি কাদবো বুঝলাম না। পরে পেয়ারা টেস্ট করে দেখলাম ঐসব পেয়ারা একদম পাইন্স্যা। ঐটাকে নাকি কাজি পেয়ারা বলে। মনে মনে ভাবলাম আরও কতো কিছু দেখতে হবে। স্কুলে যখন শহরবাসি হলাম দেখলাম লোকজন টাকা দিয়ে বাঁশ কিনে। প্রথমে একটু চমকালাম। কারন আমাদের বাঁশ ঝাড় কয়েকটা। প্রতি বর্ষার সময় কয়েকশ বাঁশ বিক্রি হতো। আত্মীয় পরিচিত যার যখন দরকার নিয়ে যেতো। অবশ্য এলাকার সবার বাড়িতেই বাঁশঝাড় ফলফসল ছিলো।
গতসপ্তাহে বাবা একটি কাঠাল নিয়ে আসলেন। ছোটবোন দেখে মোটামুটি উত্তেজিত। কাঠাল ভেঙ্গে দেখা গেলো কোষগুলো এখনো পরিপক্ষ হয়নি। মা দেখলাম একটু মনোক্ষুন্ন হলেন বাবার উপর। কারন জিঞ্জেস করতে বল্লেন এতো করে বল্লাম কাঠালের দানা পুরো যদি হয় তাহলে কাঠাল কিনতে (নানাবাড়ি আমাদের থেকেও বেশী কাঠাল। সুতরাং মা ভালো জানবেন)। উনি দুই/তিনটা মুখে দিয়ে বল্লেন গলা চুলকায়। কি আর করার পুরোটা মোটামুটি বিনে। কেউই খাইনি। আমার অবশ্য খাওয়ার শখ খুব একটা নেই। তবে দু:খ হলো ছোটবোনকে দেশে নিয়ে আমাদের ফেলে আসা দিনগুলোর দুরন্তপনা দেখানো যাবে না। আমাদের কাঠাল গাছগুলোর কাঠাল আমরা দেখেই বলে ফেলতে পারতাম কোনটা কোন গাছের। এক একটা গাছের পিকিউলিয়ার নাম ছিলো। গাছ পছন্দ হলে দুএকটা কোষ খাওয়া হতো না হলে বীজ রেখে বাকীগুলো গরুর খাবার। সকালে মক্তব শেষে রুটিন ছিলো মোটামুটি সবগুলো গাছের কাঠাল চেক করা। আর পাকা দেখে দেখে গাছ থেকে নামানো। পাকা কাঠাল গাছ থেকে নামানোও বেশ কষ্টের। আমার ছোটভাই ছিলো এইসবে ওস্তাদ। আমাদের কোন কাজের লোক ছিলো না। তাই কাজগুলো আমাদেরই করতে হতো। আর এখন ২৫/৩০ ইউরো দিয়ে কিনতে হচ্ছে
নটকলের গাছ ছিলো কম। তবে পাশাপাশি বাড়িতে চুরি করতাম বেশী। ফুফুর বাড়িতে ছিলো খুব বেশী। উনারা বস্তা ভরে পাটিয়ে দিতেন। তবে নটকলের বীচি খেয়ে পেট ব্যথা ছিলো সাধারন ব্যাপার। নটকলের রস দিয়ে খুবই মজার একটা আচার বানানো হতো। এখন প্রায় দুর্লভ। কতো বছর হলো নটকলের সাথে দেখা হয় না
স্পেন থেকে কমলা আসে। সিজনে খাওয়া হয় প্রচুর। আমাদের কমলা ছিলো মোটামুটি। তবে মামা বাড়ি বিরাট কমলার বাগান। গতবছর দেশ থেকে বন্ধু ফোন করে জানালো আমাদের এলাকা দিয়ে পুরো ফ্যামেলি নিয়ে কোথায় জানি যাচ্ছে। উনার ইচ্ছে হলো পরিবারের সবাইকে কমলা গাছ দেখানো। বল্লাম এখন তো কমলার সিজন। কপাল ভালো থাকলে ইচ্ছেমতো খেতে পারবি। মামাতো ভাইকে ফোন দিতে বল্লাম। পরে উনি জানালো ইচ্ছেমতো কমলা পেড়ে খেয়েছেন।
শীতের সময় টিয়ে পাখি একটা কাঠাযুক্ত ফল খেতো। স্হানীয় নাম বিটখুটে। এলাকার কিছু বিচ্চু ছেলে ঐগুলো কাঠা ছাড়িয়ে আমাদের কাছে বিক্রি করতো। এক টাকায় ১৬টা পাওয়া যেতো। কাঠা ছাড়ানো খুবই কষ্টের কাজ ছিলো। আর গাছলো টিলায় হতো। আমাদের এই গাছ ছিলো না। তখন এক টাকা বিরাট ব্যাপার। বাড়ি থেকে কোন টাকা হাতে দেওয়া হতো না। টাকা পেলে নাকি নষ্ট হয়ে যাবো। যা খেতে মন চায় শুধু বাসায় এসে বললেই হতো। ময়না পাখি এসে অন্য একটি ফল খেতো। ঐটা আমাদের বাড়িতে ছিলো প্রচুর। কিন্তু ঐফল মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত না। টেষ্ট করে দেখেছি। অভ্যাস খারাপ। যা পাই হালকা টেষ্ট করে নেই। চান্সে যদি খাওয়া যায় তাহলে আর কে কাকে পায়। একটা বাদাম ছিলো। নাম মনে নেই (মনে হয় কাঠবাদাম)। ঐ বাদামের ফুল হতো খুব সুন্দর এবং সুগন্ধি। বাদামটা হাত দিয়ে ছিড়তে গেলে রস লেগে হাত চুলকাতো। কিন্তু ঐসবে পাত্তা দিলে কি চলে? ফল থেকে বাদাম বিচ্যুত করে গরম পানিতে সিদ্ধ করে তারপর খাও। লতা জাতীয় গাছে একধরনের আলু (ফল) হতো। ঐটাও গলা চুলকায়। কিন্তু আমরা পুড়িয়ে পেট পুজো করতাম। এইসব আউল ফাউল জিনিস বাড়ির বাইরে করতে হতো। বাসায় জানলে কপালে মাইর। আরো কতো আজাইররা কাজ কারবার হতো। আরেকটা ফল ছিলো স্হানীয় নাম বিটখুটে। গাছে সাধারনত সেইরকম কাঠা হতো। খেতে মিষ্টি। কে শুনে কার কথা। সবই ডাইজেষ্টেড
এখানেও অনেক ফল রাস্তার ধারে গাছ ভর্তি। আপেল, স্ট্রবেরী, ব্রামবল, চেরী, নাম না জানা ফল, বাদাম অহরহ পাওয়া যায়। অফিসের পাশে গাড়ি পার্কিয়ের জায়গায় একটা চেরী গাছে খুব বেশী ফল এসেছে। কিন্তু কেউই খাচ্ছে না। দেখে খুবই কষ্ট হলো। সেই দু:খে আজ দুপুরে একগাদা খেয়ে এলাম। যদিও বাসায় অনেকগুলো দেখেছি টেবিলে ফ্রিজে রাখা । কিন্তু খাবার সময় কোথায়। ঘরে আসলে ভাত ছাড়া কিছু খেতে মন চায় না। আর বাইরে গেলে শুধু খাই খাই অভ্যাস।
অফিসে কে কোন উপলক্ষে খাওয়ায় বুঝা মুশকিল। জিঞ্জেস করার দরকার কি। খাইতে পারলেই হলো
ভাঙ্গা মোবাইলে ছবি
মাইন নদী
বৃষ্টি আসতেছে। অফিস থেকে তোলা ছবি
চেরী ফল। ভালো করে দেখতে চাইলে গুগলে সার্চ দেন।
যারা খাইতে মন চায়, দাড়িয়ে আওয়াজ দেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


