somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যায় দিন ভালো, আসে দিন :(

২৫ শে জুন, ২০০৯ রাত ২:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এতোদিন কিসব আকাম করেছি তার হিসেব করতে গিয়েই ঝামেলা শুরু। ডিভাইস ডেভোলপমেন্ট শেষ। টেষ্টিং চলতেছে। গায়ে হাওয়া লাগিয়ে টেষ্ট করতেছি। মোটামুটি অন্য ডিভাইসের টেষ্টের মতোই। মনে মনে ভয়ে ছিলাম ২/৩টা ফাংশন নিয়ে। যেগুলো আমি ব্যাপকভাবে ডরাই। কিন্তু ঘাটে এসে নৌকা ফুটো অবস্হা। ARC(Auto Reclosour Control) (এই ব্যাটা সবকিছুতেই বাম হাত ঢুকাই দেয়। খারাপ অভ্যাস। খুবই ক্রিটিক্যাল ফাংশন)& MP (Motor Protection) & CBF (Circuit Breaker Failure Protection)। উনারাই গত কয়েকটা দিনের আরাম মাটি করেছেন। আগামীতে ও করবেন আশা করি:(

বাংলাদেশ থেকে কয়েক সপ্তাহ দেশী আম কাঠাল আসে। দামও সেই রকম। তবে আমার আব্বাজান দামের তোয়াক্কা করেন না। নিজেও কিছু বলি না। মন যা চায় তা করার অধিকার সবারই আছে। দেশের বাড়িতে ৩০/৩৫টা কাঠাল গাছ ছিলো। কাঠালের মৌসুমে ফকিরও কাঠাল খেতো না। আমাদের কাজ ছিলো ফকিরকে কাঠাল সেধে দেওয়া আর উনারা খাওয়ার পর কাঠালের বীজগুলো ফেরত নিয়ে আসা। কিন্তু মাঝে মাঝে উনারাও খেতে চাইতেন না। কাঠা্লের মৌসুমে আমাদের একটু কষ্টই হতো। কারন তখন সকাল-বিকাল ডিক্লেয়ার দেওয়া হতো ভাত রান্না হবে না। কাঠাল খেয়ে থাকতে হবে। কিন্তু সবাই ভাত খেতো। তবে আমাদের অনেক বড়ো বাড়িতে আম গাছের অভাব ছিলো। অন্য বাড়ির ঠিলায় ঝড়-বৃষ্টিতে আমাদের পাওয়া যেতো। ছিলো অনেক অনেক পেয়ারা গাছ। অনেক রঙের পেয়ারা। পেয়ারা খেয়ে পেট ভরে যেতো। পেয়ারাগুলো ছিলো খুবই মিষ্টি। জীবনে প্রথম কলেজে গিয়ে দেখলাম লোকজন লবন দিয়ে পেয়ারা খায়। প্রথম প্রথম হাসবো নাকি কাদবো বুঝলাম না। পরে পেয়ারা টেস্ট করে দেখলাম ঐসব পেয়ারা একদম পাইন্স্যা। ঐটাকে নাকি কাজি পেয়ারা বলে। মনে মনে ভাবলাম আরও কতো কিছু দেখতে হবে। স্কুলে যখন শহরবাসি হলাম দেখলাম লোকজন টাকা দিয়ে বাঁশ কিনে। প্রথমে একটু চমকালাম। কারন আমাদের বাঁশ ঝাড় কয়েকটা। প্রতি বর্ষার সময় কয়েকশ বাঁশ বিক্রি হতো। আত্মীয় পরিচিত যার যখন দরকার নিয়ে যেতো। অবশ্য এলাকার সবার বাড়িতেই বাঁশঝাড় ফলফসল ছিলো।

গতসপ্তাহে বাবা একটি কাঠাল নিয়ে আসলেন। ছোটবোন দেখে মোটামুটি উত্তেজিত। কাঠাল ভেঙ্গে দেখা গেলো কোষগুলো এখনো পরিপক্ষ হয়নি। মা দেখলাম একটু মনোক্ষুন্ন হলেন বাবার উপর। কারন জিঞ্জেস করতে বল্লেন এতো করে বল্লাম কাঠালের দানা পুরো যদি হয় তাহলে কাঠাল কিনতে (নানাবাড়ি আমাদের থেকেও বেশী কাঠাল। সুতরাং মা ভালো জানবেন)। উনি দুই/তিনটা মুখে দিয়ে বল্লেন গলা চুলকায়। কি আর করার পুরোটা মোটামুটি বিনে। কেউই খাইনি। আমার অবশ্য খাওয়ার শখ খুব একটা নেই। তবে দু:খ হলো ছোটবোনকে দেশে নিয়ে আমাদের ফেলে আসা দিনগুলোর দুরন্তপনা দেখানো যাবে না। আমাদের কাঠাল গাছগুলোর কাঠাল আমরা দেখেই বলে ফেলতে পারতাম কোনটা কোন গাছের। এক একটা গাছের পিকিউলিয়ার নাম ছিলো। গাছ পছন্দ হলে দুএকটা কোষ খাওয়া হতো না হলে বীজ রেখে বাকীগুলো গরুর খাবার। সকালে মক্তব শেষে রুটিন ছিলো মোটামুটি সবগুলো গাছের কাঠাল চেক করা। আর পাকা দেখে দেখে গাছ থেকে নামানো। পাকা কাঠাল গাছ থেকে নামানোও বেশ কষ্টের। আমার ছোটভাই ছিলো এইসবে ওস্তাদ। আমাদের কোন কাজের লোক ছিলো না। তাই কাজগুলো আমাদেরই করতে হতো। আর এখন ২৫/৩০ ইউরো দিয়ে কিনতে হচ্ছে :(

নটকলের গাছ ছিলো কম। তবে পাশাপাশি বাড়িতে চুরি করতাম বেশী। ফুফুর বাড়িতে ছিলো খুব বেশী। উনারা বস্তা ভরে পাটিয়ে দিতেন। তবে নটকলের বীচি খেয়ে পেট ব্যথা ছিলো সাধারন ব্যাপার। নটকলের রস দিয়ে খুবই মজার একটা আচার বানানো হতো। এখন প্রায় দুর্লভ। কতো বছর হলো নটকলের সাথে দেখা হয় না :(

স্পেন থেকে কমলা আসে। সিজনে খাওয়া হয় প্রচুর। আমাদের কমলা ছিলো মোটামুটি। তবে মামা বাড়ি বিরাট কমলার বাগান। গতবছর দেশ থেকে বন্ধু ফোন করে জানালো আমাদের এলাকা দিয়ে পুরো ফ্যামেলি নিয়ে কোথায় জানি যাচ্ছে। উনার ইচ্ছে হলো পরিবারের সবাইকে কমলা গাছ দেখানো। বল্লাম এখন তো কমলার সিজন। কপাল ভালো থাকলে ইচ্ছেমতো খেতে পারবি। মামাতো ভাইকে ফোন দিতে বল্লাম। পরে উনি জানালো ইচ্ছেমতো কমলা পেড়ে খেয়েছেন।

শীতের সময় টিয়ে পাখি একটা কাঠাযুক্ত ফল খেতো। স্হানীয় নাম বিটখুটে। এলাকার কিছু বিচ্চু ছেলে ঐগুলো কাঠা ছাড়িয়ে আমাদের কাছে বিক্রি করতো। এক টাকায় ১৬টা পাওয়া যেতো। কাঠা ছাড়ানো খুবই কষ্টের কাজ ছিলো। আর গাছলো টিলায় হতো। আমাদের এই গাছ ছিলো না। তখন এক টাকা বিরাট ব্যাপার। বাড়ি থেকে কোন টাকা হাতে দেওয়া হতো না। টাকা পেলে নাকি নষ্ট হয়ে যাবো। যা খেতে মন চায় শুধু বাসায় এসে বললেই হতো। ময়না পাখি এসে অন্য একটি ফল খেতো। ঐটা আমাদের বাড়িতে ছিলো প্রচুর। কিন্তু ঐফল মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত না। টেষ্ট করে দেখেছি। অভ্যাস খারাপ। যা পাই হালকা টেষ্ট করে নেই। চান্সে যদি খাওয়া যায় তাহলে আর কে কাকে পায়। একটা বাদাম ছিলো। নাম মনে নেই (মনে হয় কাঠবাদাম)। ঐ বাদামের ফুল হতো খুব সুন্দর এবং সুগন্ধি। বাদামটা হাত দিয়ে ছিড়তে গেলে রস লেগে হাত চুলকাতো। কিন্তু ঐসবে পাত্তা দিলে কি চলে? ফল থেকে বাদাম বিচ্যুত করে গরম পানিতে সিদ্ধ করে তারপর খাও। লতা জাতীয় গাছে একধরনের আলু (ফল) হতো। ঐটাও গলা চুলকায়। কিন্তু আমরা পুড়িয়ে পেট পুজো করতাম। এইসব আউল ফাউল জিনিস বাড়ির বাইরে করতে হতো। বাসায় জানলে কপালে মাইর। আরো কতো আজাইররা কাজ কারবার হতো। আরেকটা ফল ছিলো স্হানীয় নাম বিটখুটে। গাছে সাধারনত সেইরকম কাঠা হতো। খেতে মিষ্টি। কে শুনে কার কথা। সবই ডাইজেষ্টেড ;)। তবে এইসব খেয়ে পেঠ ব্যথার কথা বল্লে উল্টো মাইরের ভয় থাকতো :(

এখানেও অনেক ফল রাস্তার ধারে গাছ ভর্তি। আপেল, স্ট্রবেরী, ব্রামবল, চেরী, নাম না জানা ফল, বাদাম অহরহ পাওয়া যায়। অফিসের পাশে গাড়ি পার্কিয়ের জায়গায় একটা চেরী গাছে খুব বেশী ফল এসেছে। কিন্তু কেউই খাচ্ছে না। দেখে খুবই কষ্ট হলো। সেই দু:খে আজ দুপুরে একগাদা খেয়ে এলাম। যদিও বাসায় অনেকগুলো দেখেছি টেবিলে ফ্রিজে রাখা । কিন্তু খাবার সময় কোথায়। ঘরে আসলে ভাত ছাড়া কিছু খেতে মন চায় না। আর বাইরে গেলে শুধু খাই খাই অভ্যাস।

অফিসে কে কোন উপলক্ষে খাওয়ায় বুঝা মুশকিল। জিঞ্জেস করার দরকার কি। খাইতে পারলেই হলো :)। তবে পাবলিক খুব একটা খাইতে পারে না।

ভাঙ্গা মোবাইলে ছবি

মাইন নদী





বৃষ্টি আসতেছে। অফিস থেকে তোলা ছবি






চেরী ফল। ভালো করে দেখতে চাইলে গুগলে সার্চ দেন।







যারা খাইতে মন চায়, দাড়িয়ে আওয়াজ দেন।


৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×