somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সপ্তাহনামচা ;)

২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাসার সবাই মোটামুটি ছুটির আমেজে। স্কুল ছুটি হলে বাচ্চাদের সাথে বুড়োরাও ঘুরতে বের হয়ে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় ভাবী কয়েকদিনের জন্য ইংল্যান্ডে গেছেন। ভাইয়া ছুটি পায়নি তাই যাওয়া হয়নি। এদিকে ছোটবোনকে নিয়ে ভাইয়া আর আমি যখন ভেনিস যাবো তখন ভাবী ছুটি পায়নি। ভাবী যতোদিন ছিলেন না ততোদিন ভাইয়া আমাদের সাথে। যদিও উনার বাসা মাত্র ১৫মিনিট দুরত্বে (গাড়ি দিয়ে গেলে)। রাতে উনি আমাদের সাথেই ঘুমাবেন। বল্লাম আমার বিছানা ডাবল। চলো আমরা একসাথে ঘুমাই।
ছোটবেলায় কখনো ভাইয়ার সাথে ঘুমায়েছি বলে মনে পড়ে না। আমি আর ছোটভাই একসাথে ঘুমাতাম। মারামারি থেকে শুরু করে সব আকামই করতাম একসাথে। ভাইয়ার কাছে ঘেষতাম কম। উনাকে মোটামুটি ভয় পেতাম। তবে ছোটভাই আমাকে ভয় পেতো না :(। ঘুম থেকে উঠে শুরু হতো আমাদের মারামারি। মাঝে মাঝে ঘুমানোর সময়ও কিছু হাতাহাতি হতো। তারপর আম্মার মার খেয়ে দু'জন ঘুমাতাম।

ভাইয়া আমার রুমে আসলে এখনো একটু ভয়ে থাকি। সবকিছু উনার মতো পরিপাটি করে রাখি না বিধায় অনেক সময় কথা বলেন। আমিও এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দেই;)। বাসায় আসলেই আমার টাকার হিসেব নেওয়া শুরু করেন। মাসের শেষে বেতন দিয়ে কোথায় কি করতেছি, ছোটবোনের সাথে ঝগড়া করতেছি কি না, ঠিকমতো জগিং করি কিনা, ডাক্তারের সাথে গত একবছরে কেনো চেকআপা করিনি.. এইরকম হাজারো কথা। যদিও আমার কাজের সময় উনাকে ফোন করে কান ঝালাপালা করে দেই। আর উনি আমার কাজগুলো নিজের মনে করে করেন। উনি যেরকম আমার কাজগুলো করেন আমি মনেহয় উনার জন্য এইরকম করবো।
ছোটবোন কয়েকদিন থেকে কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেছিলো উনার বান্ধবিদের নাকি আমাদের বাসায় দুই দিন ব্যাপি থাকার আয়োজন করবেন। আমি বল্লাম অসুবিধা কিছু নাই। বাসায় অনেক জায়গা আছে। তারপরও আমাকে নাকি বাসা থেকে যেতে হবে। জিজ্ঞেস করলাম কেন? বল্লেন আমি থাকলে নাকি উনারা ঠিকমতো চিল্লাফাল্লা করতে পারেন না। উনারা সারারাত জেগে আড্ডা দিবেন, জোরে কথা বলবেন, গান শুনবেন। আমি থাকলে নাকি এইসব করা যাবেনা। কি মুশকিলের কথা।
ভাইয়া বল্লো, চল আমার বাসায়। কি আর করার দুইদিনের জন্য ভাইয়ার বাসায়। উনি আমার জন্য সুপারমার্কেট থেকে সকালের নাস্তার জন্য বিভিন্ন জিনিস কেটাকাটা শুরু করলেন। আমি একটু ঝাড়ি দিয়ে বল্লাম সকালে আমি সাধারনত কিছু খেতে পারি না। তুমি যদি খাও তাহলে কিনো। রাতে ফল, আইসক্রিম খাওয়ার জন্য অনেক্ষন পিড়াপিড়ি করলেন (মনে হলো আমি মেহমান :P)। আমি সাধারনত দিনে একটা আইসক্রিম খাই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খেতে হলো। নামায পড়ে দুজন অনেক্ষন ব্লা ব্লা করে ঘুম দিলাম। রাতে আমি ঘুমালে উনি অনেকবারই এসে দেখে গেলেন ঠিকমতো ঘুমাইতেছি নাকি। আমার ঘুম খুব পাতলা। তাই সবকিছুই টের পেলাম। সকালে নাস্তার জন্য অনেক কিছুই রেডি করলেন। আমি দুই পিছ ব্রেড পানি দিয়ে গলহধরক করে উনাকে অফিসের কাছাকাছি নামিয়ে আমার অফিসে গাড়ি ছুটালাম।

গাড়ি চালাতে মজা পাই। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় একটু বেশী রাফ চালানো হয়ে যাচ্ছে। ভাইয়া পাশে থাকলে শুধু ভুল ধরে আর কম স্পীডে চালাতে বলে। উনাকে পাশে রেখে গাড়ি চালানোর মজা নাই।
শুক্রবারের জুমার নামায আগে পড়তে যেতাম নিয়মিত। শুক্রবার অলিখিত অর্ধদিবস ছিলো আমার জন্য। ডিপার্টমেন্ট পরিবর্তন করার পর আর সেইরকম যাওয়া হয় না। গত সপ্তাহে ম্যানেজারকে বল্লাম আমি ঘন্টাখানেকের জন্য বাইরে যাবো (একটু ভাব নিলাম। যদিও লাঞ্চের সময় কখনো দুইঘন্টা অফিসে থাকি না)। ম্যানেজার বল্লো তুমি তো লাঞ্চের সময় যেখানে খুশি যেতে পারো। বল্লাম লাঞ্চের সময় তো অফিসিয়ালি ১১:৩০ থেকে ১৩:৪৫ পর্যন্ত। ম্যানেজার বল্লো ঐটা কোন ব্যাপার না। তোমার সুবিধামতো তুমি নিয়ে নিয়ো। সেই থেকে শুরু। আজ একটু তাড়াহুড়ো করে গাড়ি বের করতে গিয়ে একটু হলে নতুন একটি মার্সিটিজের সাথে লাগিয়ে দিয়েছিলাম। পেছন থেকে আর একটা গাড়ি আসতেছিলো। ঐ ব্যাটা হর্ন দিলো। হাত তুলে স্যরি বল্লাম। দোষটা আমারই ছিলো। নামায থেকে আসার সময় অফিসের কাছাকাছি দেখলাম বেশ বড়ো একটা এক্সিডেন্ট। একটা VW জিপ একটা নতুন BMW কে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। গাড়ির ডেমেজ দেখে মনে হলো বেশ জোরেই মেরেছে। BMW এর পেছন মোটামুটি শেষ। মনে মনে চিন্তা করতেছিলাম VW জিপের মালিককে যে কতো হাজার ইউরো ঘুনতে হবে। বেচারা। এইসব দেশে গাড়ির দাম থেকে তেল, ইন্সুরেন্সের ঠেলাটা বেশী। গাড়ির দামের উপর ধাক্কার হিসেব করে পকেট কাটা হবে। এখন থেকে আমাকেও ধীরে গাড়ি চালাতে হবে। ধাক্কা দিলে টাকা দেওয়ার ক্ষেমতা কম /:)
নতুন গাড়ি কিনবো কিনবো করে কেনা হচ্ছে না। এতো দামী গাড়ি কিনে ফতুর হইতে ইচ্ছুক না। যদিও ভাইয়া রোজরোজ ধাক্কায়। ভালো চাকরী করলে নাকি ভালো গাড়ি কিনতে হয়। ব্যাংক থেকে লোন করে গাড়ি কিনার শখ আমার কোন কালেই ছিলো না। উপোস থাকতে রাজি আছি। তারপরও বাকিতে নাই (দেশেও মাঝে মাঝে টাকার যোগান না থাকলে বিস্কুট খেয়েই কাটিয়ে দিতাম। বাকির খাতায় নাম কখনো লিখাইনি)। আমি বলি তুমি অর্ধেক দিলে কিনতে রাজি। উনি শুধু টয়োটা চয়েজ করে। আমি অবশ্য কিছু চয়েজ করিনি। ফ্রি পাইলে চয়েজ করবো কেনো ;)। দুটো টয়েটা (একটা কম্বি, অন্যটা জিপ) চয়েজ করে রাখা হয়েছে। জিপটার তেল খাওয়ার পরিমান দেখেই আমি পেছন ফিরে দৌড়।

আগামী পরশু পার্টি। আসল কাজের দায়িত্ব আমার। মাংস কেনাকাটা করা, গ্রীলের জন্য প্রস্তুত করা, এবং পার্টির দিন সমস্ত গ্রীলের দায়িত্ব আমার। এখন থেকেই ধোয়া খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি:((:((
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জুলাই, ২০০৯ রাত ৯:২২
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শরৎ বন্দনা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৯


শরৎ এলেই আকাশ জুড়ে সাদা মেঘের ভেলা
দিনমণি আর মেঘমালার লুকোচুরি খেলা।

রুম ঝুমঝুম নূপুর পায়ে ছুটছে নদীর ঢেউ
ভাটিয়ালি গাইছে গান অচিন সুরে কেউ।

বিলে ঝিলে শাপলা পদ্ম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×