ছোটবেলায় কখনো ভাইয়ার সাথে ঘুমায়েছি বলে মনে পড়ে না। আমি আর ছোটভাই একসাথে ঘুমাতাম। মারামারি থেকে শুরু করে সব আকামই করতাম একসাথে। ভাইয়ার কাছে ঘেষতাম কম। উনাকে মোটামুটি ভয় পেতাম। তবে ছোটভাই আমাকে ভয় পেতো না
ভাইয়া আমার রুমে আসলে এখনো একটু ভয়ে থাকি। সবকিছু উনার মতো পরিপাটি করে রাখি না বিধায় অনেক সময় কথা বলেন। আমিও এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্য কান দিয়ে বের করে দেই
ছোটবোন কয়েকদিন থেকে কানের কাছে ঘ্যানর ঘ্যানর করতেছিলো উনার বান্ধবিদের নাকি আমাদের বাসায় দুই দিন ব্যাপি থাকার আয়োজন করবেন। আমি বল্লাম অসুবিধা কিছু নাই। বাসায় অনেক জায়গা আছে। তারপরও আমাকে নাকি বাসা থেকে যেতে হবে। জিজ্ঞেস করলাম কেন? বল্লেন আমি থাকলে নাকি উনারা ঠিকমতো চিল্লাফাল্লা করতে পারেন না। উনারা সারারাত জেগে আড্ডা দিবেন, জোরে কথা বলবেন, গান শুনবেন। আমি থাকলে নাকি এইসব করা যাবেনা। কি মুশকিলের কথা।
ভাইয়া বল্লো, চল আমার বাসায়। কি আর করার দুইদিনের জন্য ভাইয়ার বাসায়। উনি আমার জন্য সুপারমার্কেট থেকে সকালের নাস্তার জন্য বিভিন্ন জিনিস কেটাকাটা শুরু করলেন। আমি একটু ঝাড়ি দিয়ে বল্লাম সকালে আমি সাধারনত কিছু খেতে পারি না। তুমি যদি খাও তাহলে কিনো। রাতে ফল, আইসক্রিম খাওয়ার জন্য অনেক্ষন পিড়াপিড়ি করলেন (মনে হলো আমি মেহমান
গাড়ি চালাতে মজা পাই। কিন্তু মাঝে মাঝে মনে হয় একটু বেশী রাফ চালানো হয়ে যাচ্ছে। ভাইয়া পাশে থাকলে শুধু ভুল ধরে আর কম স্পীডে চালাতে বলে। উনাকে পাশে রেখে গাড়ি চালানোর মজা নাই।
শুক্রবারের জুমার নামায আগে পড়তে যেতাম নিয়মিত। শুক্রবার অলিখিত অর্ধদিবস ছিলো আমার জন্য। ডিপার্টমেন্ট পরিবর্তন করার পর আর সেইরকম যাওয়া হয় না। গত সপ্তাহে ম্যানেজারকে বল্লাম আমি ঘন্টাখানেকের জন্য বাইরে যাবো (একটু ভাব নিলাম। যদিও লাঞ্চের সময় কখনো দুইঘন্টা অফিসে থাকি না)। ম্যানেজার বল্লো তুমি তো লাঞ্চের সময় যেখানে খুশি যেতে পারো। বল্লাম লাঞ্চের সময় তো অফিসিয়ালি ১১:৩০ থেকে ১৩:৪৫ পর্যন্ত। ম্যানেজার বল্লো ঐটা কোন ব্যাপার না। তোমার সুবিধামতো তুমি নিয়ে নিয়ো। সেই থেকে শুরু। আজ একটু তাড়াহুড়ো করে গাড়ি বের করতে গিয়ে একটু হলে নতুন একটি মার্সিটিজের সাথে লাগিয়ে দিয়েছিলাম। পেছন থেকে আর একটা গাড়ি আসতেছিলো। ঐ ব্যাটা হর্ন দিলো। হাত তুলে স্যরি বল্লাম। দোষটা আমারই ছিলো। নামায থেকে আসার সময় অফিসের কাছাকাছি দেখলাম বেশ বড়ো একটা এক্সিডেন্ট। একটা VW জিপ একটা নতুন BMW কে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছে। গাড়ির ডেমেজ দেখে মনে হলো বেশ জোরেই মেরেছে। BMW এর পেছন মোটামুটি শেষ। মনে মনে চিন্তা করতেছিলাম VW জিপের মালিককে যে কতো হাজার ইউরো ঘুনতে হবে। বেচারা। এইসব দেশে গাড়ির দাম থেকে তেল, ইন্সুরেন্সের ঠেলাটা বেশী। গাড়ির দামের উপর ধাক্কার হিসেব করে পকেট কাটা হবে। এখন থেকে আমাকেও ধীরে গাড়ি চালাতে হবে। ধাক্কা দিলে টাকা দেওয়ার ক্ষেমতা কম
নতুন গাড়ি কিনবো কিনবো করে কেনা হচ্ছে না। এতো দামী গাড়ি কিনে ফতুর হইতে ইচ্ছুক না। যদিও ভাইয়া রোজরোজ ধাক্কায়। ভালো চাকরী করলে নাকি ভালো গাড়ি কিনতে হয়। ব্যাংক থেকে লোন করে গাড়ি কিনার শখ আমার কোন কালেই ছিলো না। উপোস থাকতে রাজি আছি। তারপরও বাকিতে নাই (দেশেও মাঝে মাঝে টাকার যোগান না থাকলে বিস্কুট খেয়েই কাটিয়ে দিতাম। বাকির খাতায় নাম কখনো লিখাইনি)। আমি বলি তুমি অর্ধেক দিলে কিনতে রাজি। উনি শুধু টয়োটা চয়েজ করে। আমি অবশ্য কিছু চয়েজ করিনি। ফ্রি পাইলে চয়েজ করবো কেনো
আগামী পরশু পার্টি। আসল কাজের দায়িত্ব আমার। মাংস কেনাকাটা করা, গ্রীলের জন্য প্রস্তুত করা, এবং পার্টির দিন সমস্ত গ্রীলের দায়িত্ব আমার। এখন থেকেই ধোয়া খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


