মার্কেটিং ডিপার্টমেন্টে শুধুমাত্র একটা কন্ট্রোল ডিভাইস নিজের তত্বাবধানে ছিলো। ঐটাতেই মোটামুটি দেড় বছরের মতো কাজ করেছি। বিভিন্ন রকমের পাওয়ার সাপ্লাই থেকে শুরু করে টেস্ট ইকুপমেন্টগুলো নিজের দখলে।
ডিপার্টমেন্ট পরিবর্তনের পর মনে হলো আমি কুয়ো থেকে ডাইরেক্ট সমু্দ্রে আছাড় খাইলাম। এতো এতো কাজ বুঝে নিতে প্রচুর কষ্ট। অনেকগুলো প্রটেকশন ডিভাইস আমার তত্বাবধানে চলে আসলো। যেগুলোর নাম পর্যন্ত পুর্বে শুনিনি। একটা ডিভাইসে কাজ করতে করতে দেখা গেলো আরেকটি হাজির। মাঝে মাঝে ইংল্যান্ড থেকে ডিভাইস এলে আমাকেই টেষ্ট করতে হয়।
ডিপার্টমেন্টে এসেই যে নতুন ডিভাইসে কাজ করতে হয়েছিলো সেটা ছিলো কম্পেট প্রটেকশন ডিভাইস এবং বর্তমানে আপডেটেড ভার্সন রিলিজ । পরবর্তিতে মডুলার ডিভাইসে কাজ শুরু করলাম। অন্যান্য ডিভাইসের মতো পাওয়ার সাপ্লাই ১০ নাম্বার স্লটে দিয়ে সুইচ অন করার সাথে সাথে বুম। মানে সর্ট সার্কিট এবং পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ। দুই রুমে কোন ইলেকট্রিসিটি নেই। সেক্রেটারীকে ডাকতে গিয়ে দেখলাম শুধু একজন এসেছেন। তাও উনি বোবা (কথা বলতে জানে না। জন্ম থেকেই বোবা)। কি আর করা। নিজে থেকেই ফোন করে সুইচ রুম থেকে আবার পাওয়ার সাপ্লাই পাওয়া গেলো।
কয়েকদিন আগে একই মডুলার ডিভাইস এসেছে ইংল্যান্ড থেকে কিছু সার্টিফিকেট ভেরিফিকেশনের জন্য। আমিও মনের সুখে একটাতে পাওয়ার সাপ্লাই দেওয়ার সাথে সাথে বুম (সর্ট-সার্কিট)। মেজাজ গেলো পুরো গরম হয়ে। অন্য কয়েকটি ডিভাইসের ফাংশন ডেভোলপ করে টেষ্ট মডুউল রান করতেছিলো। সেক্রেটারী শুনলাম চিল্লাইতেছে। বল্লাম ঘটনা আমিই ঘটাইছি। তুমি ফোন করে সুইচ অন করতে বলো। কলিগকে জিজ্ঞেস করলাম ঘটনা তো এইরকম হওয়ার কথা না। পাওয়ার সাপ্লাই বোর্ডের নাম্বার চেক করে দেখলাম ঐটা ২৪ ভোল্টের পাওয়ার স্লট। যে ম্যানেজার ঐটার অর্ডার দিয়েছিলো উনাকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম উনি কি ২৪ ভোল্টের কার্ড অর্ডার দিয়েছিলেন। উনি ফাইল চেক করে সরি বল্লেন। অবশ্য দোষটা আমার নিজেরই। এইসব জায়গায় সব কিছু ডকুমেন্ট পড়ে তারপর কানেক্ট করতে হয়। অনেকগুলো স্লট আছে যেগুলোতে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সংখ্যক কার্ড (এনালগ, আর.টি.ডি) সংযুক্ত করা যাবে। এখন সবগুলো ডিভাইসের কার্ড রেপ্লেইস করতে হবে। হার্ডওয়্যার ইন্জিনিয়ার বেটাও ছুটিতে গেছে
গত সপ্তাহে ছিলো নতুন প্রসেসরের উপর ট্রেনিং। সব এক্সপার্টদের ট্রেনিংয়ে আমি পুরো ভুয়া। আলোচনা দেখে মনে হলো আসলেই আমার কলিগরা এক একটা এক্সপার্ট। অবশ্য হওয়ারও কথা। এই কোম্পানিতে একেকজনের কাজের সময়কাল ১৫/২০ বছর। ট্রেনিংয়ে বসে সবাই কতো রকমের খানাপিনা করে শুধু আমি রমযানের জন্য মুখ তালা দিয়ে বসে আছি। মাঝেমাঝে ঝিমাই। অবশ্য আমার মতো অনেকেই ঝিমাইতে দেখলাম। আমি ম্যানেজারের পাশে বসেছিলাম বলে খুব কষ্টে ঘুম তাড়ালাম। পুরো সপ্তাহটা কষ্টের গেলো। সেমিনার, ট্রেনিং এইসব পুরো ভুয়া কাজ। শুধু ঘুম পায়। বিকেলে পার্টিও ছিলো কিন্তু রোযার জন্য যেতে পারিনি
আমার চিন্তা অন্য জায়গায়। ট্রেনিং শুরু করার আগে কলিগদের জিজ্ঞেস করেছিলাম- কাকারা এই প্রজেক্টে কে কে থাকবে? সবাই আমার দিকে আঙ্গুল তুলে
গতদিনের দেশের খবর দেখে খুবই দু:খ পেলাম। অবশ্য এখন দু:খ পাওয়া কমে গেছে। আমরা এতো পেটুক। কোন ভালো আমাদের সহ্য হয় না। কোন ধৈর্য্য নেই আমাদের। দেশ স্বাধীনের পর তার স্হপতিকে মেরে ফেল্লাম। পরবর্তিতে যারাই ভালো কাজ করেছে তাদের সরিয়ে দিয়েছি। মাঠির উপরে তো কোন কিছুই অবশিষ্ট নেই। এইবার মাঠির নীচে থেকেও খাওয়া শুরু। নিজে খাইতে না পারি অন্যকে দিয়েও খাওয়াবো। তারপরও কোন কিছুই রাখবো না। পৃথিবীর চলে একদিকে আর আমরা অন্যদিকে। আমার খুব কাছে থেকে দেখা দুটো দেশ ইংল্যন্ড এবং জার্মানি। দুটো দেশেই বৃষ্টির পানি জমিয়ে সারা বছর ব্যবহার করা হয়। ইংল্যান্ডে তো পানির বিল নাই বল্লেই চলে। জার্মানিতে আমাদের প্রচুর পানির বিল দিতে হয়। এমনকি ইলেকট্রিসিটির থেকেও পানির দাম বেশী। এক শহরের পানি অন্য শহর থেকে আসে। তারপরও কোথাও পানির সমস্যা নেই। ঠান্ডা-গরম সবই পাওয়া যায়। বিভিন্ন সময়ে খরা হলেও মাটির নিচের পানি উত্তোলনের কথা কেউ বলে না ।অথচ নদীমাতৃক আমাদের দেশের নদীগুলো বিষাক্ত করে নীচ থেকে তুলে খেয়ে ফেলতেছি। সাধারন টিউবওয়েলে হচ্ছে না তো সবার বাসায় ডিপ টিউবওয়েল লাগিয়ে পানি খাচ্ছি।
গতমাসে দেখলাম বাসায় বছর শেষে অতিরিক্ত ৮০০ইউরো ইলেকট্রিক + গরম পানি বিল এসেছে। মাথা মোটামুটি খারাপ। কাকে কি বলবো কিছু বুঝলাম না। এমনিতে মাসে ২২০ ইউরো করে দেই। তারপরও অতিরিক্ত অনেক বিল?? হিসেব মিলাতে পারলাম না। চান্সে ছোটবোনকে একটু ঝাড়ি দিলাম অতিরিক্ত পানি ব্যবহারের জন্য (মা-বাবাকে তো দেওয়া যায় না)।
কয়েকদিন আগে বসের সাথে বর্তমানের এনার্জির দামের ব্যাপারে আলাপ হচ্ছিলো। আমি অভিযোগ করতেছিলাম সরকার শুধু শুধু দাম বাড়াচ্ছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম অনেক কম। বস বল্লো দাম না বাড়ালে লোকজন অযথা বিদ্যুত/গ্যাস ব্যবহার করবে। একসময় হয়তো তোমার পকেট ভর্তি ইউরো থাকবে কিন্তু ব্যবহারের জন্য বিদ্যুত বা গ্যাস নেই।
পৃথিবীর প্রতিটি দেশ নিজের মজুদ সবসময় ঠিক রেখে বাইরের দেশ থেকে কৌশলে মিনারেল রিসোর্স (বিদ্যুত/গ্যাস/পানি) নিয়ে আসে। আর আমরা সেধে মানুষকে দিয়ে দিচ্ছি।
খুব বেশী দুরে নয়। বাংলাদেশের কিছু লোকজনের হয়তো টাকা হবে কিন্তু কেনার জন্য বিদ্যুত/গ্যাস/পানি মিলবে না।
এখনি সময় এইসব দেশ বিরোধী সরকারী সিদ্ধান্তগুলো বিরুদ্ধে আন্দোলন করার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


