আমার প্রিয় পোস্ট
- বেনগাজি,লিবিয়া থেকে বলছি। ২য়বার - িট.িমম
- করপোরেট বেনিয়াদের হাতে বন্দী দ্রোহ আর প্রতিবাদের প্রতীক একুশে ফেব্রুয়ারি এখন একুশ উৎসব! - মনজুরুল হক
- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রচার-অপপ্রচার ও তার জবাব - গিনিপিগ
- মাননীয় শেখ হাসিনাঃ এটাই কি দিনের শেষ? - বিডি আইডল
- পিডিএফ কনভার্টার সফটওয়্যার - আবিদ হাসান
- মুক্তিযুদ্ধে আমার এলাকায় পিকিংপন্থী বামদের ভূমিকা - শরীফ এ. কাফী
- চৌধুরী মঈনূদ্দীন সহ তিন পলাতক যুদ্ধাপরাধী নিয়ে চ্যানেল ফোরের সেই বিখ্যাত ডকুমেন্টারিটি! - জিন্দা লাশ
- পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা মুসলমানদের জন্য আত্মহত্যা'মাওলানা আবুল কালাম আজাদ - শাহানূর
- ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থক দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষ, রক্তাক্ত জখম - গল্পসল্প
- ফতোয়া, ইসলামপন্থীদের নিরবতা এবং আমার মাথার উপর গোল গোল ধোঁয়ার রিং! - ফারজানা মাহবুবা
- দেশের কার্টুনিস্টদের জন্য সতর্ক সংকেত! - আরিফ সিদ্দিকি
- পার্বত্য চট্টগ্রাম কি পূর্ব তিমুরের মতো স্বাধীন হতে যাচ্ছে? অভিযোগ কি মিথ্যা? - হরিসূধন
- বাংলা কম্পিউটিং এর পুনর্জন্ম এবং এর খল নায়কেরা। কিছু বিষয়ে জবাব সংযুক্ত। - মু আ হাকিম নিউটন
- একজন বিচারপতির মিথ্যাচার এবং তার জ্ঞানগর্ভ বিশ্লেষণ - এরশাদুল হক সরকার
- ভালো থেকো কল্পনা চাকমা, ভালো থেকো মেজর মহসিন রেজা : একটি বানোয়াট ঘটনাক্রম - ফিউশন ফাইভ
- বেদনাবহ পলাশীর যে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস আমাদের অজানা! - ফিউশন ফাইভ
- কিভাবে, কত সহজেই বদলে যায় খবরের হেডিং, তোষণ নীতির জয় জয় কার। - সুভ্র
- লালন ফকির ও কতিপয় গুরুতর প্রসঙ্গঃ পর্ব-৩ - ফালতু মিয়া
- আল্লাহ ও তাঁর কোরআনের পরিচয় কোরআন থেকে-৩: - সামছুল আরেফিন
- ই-বুকঃ ইসলাম ও নাস্তিকতা ২০১০ - ফুয়াদ০দিনহীন
- ইরানকে লক্ষ্য করে চালানো মার্কিন 'ভূমিকম্প অস্ত্র' পরীক্ষার কারণে হাইতিতে ভূমিকম্প ? - নিউজকাস্টার
- ভারত মহাসাগরে হারিয়ে যাওয়া ( থাই নৌবাহিনী কতৃক ) হতভাগ্য মানুষগুলো নিয়ে নিউজ ক্লিপ - মাহবুব সুমন
- কুষ্টিয়ায় আরেক নারী চরমপন্থী দাদী নাসরিন গ্রেফতার - কুষ্টিয়া নিউজ
- নবীন লেখকলেখিকাদের জন্য :: কীভাবে বই বের করবেন - সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- ঈশ্বরের অস্তিত্ব - ফুয়াদ০দিনহীন
- ভারতের ৬০ বছরের লালিত স্বপ্ন পূরণ করতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা - ইবনে সালাম
- ঘাতক বাহিনীর হাতেই উড্ডীন হলো ইসলামের প্রথম পতাকা--- - হেডমাষ্টার সাহেব
- আমার ইমাম হুসাইন রঃ - ফুয়াদ০দিনহীন
- যুক্তিহীনতার মহামারীতে আক্রান্ত শিক্ষিত সমাজ --- মঈনুল আহসান - ড. মঈনুল আহ্সান
- ইসলামে নারী অধিকার - ইসমাইলএকেবি
- নৈতিকতার ভিত্তি - আস্তিক নাস্তিক কথোপকথন --

- কঠিন চিজ
- ত্রিবেনী আর পুজির নষ্ট সঙ্গমে কিংবা স্টেনগানের ব্রাশ ফায়ারে লুটিয়ে পড়লেন বঙ্গবন্ধু - নুরুজ্জামান মানিক
- আওয়ামিলীগ সরকার: of the আওয়ামিলীগার, by the বাংলাদেশী, for the ভারত ! - পাললিক মন
- রনি কলকাতা কী কন্সপিরেসি থিওরীর অংশ হতে পারে?? - আকাশ_পাগলা
- তোর কি ফুয়াদের কথা মনে আছেরে রু? - ফারজানা মাহবুবা
- কোরাবানী কোনভাবেই নিষ্ঠুরতা নয়ঃদেখুন বিজ্ঞান,যুক্তিশাস্ত্র আর ধর্ম কি বলে - এ. এস. এম. রাহাত খান
- কুরবানী-কাজী নজরুল ইসলাম - শিউলি
- বদরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপট: ডাকাতি-লুট না অত্যাচারিতের অধিকার আদায়? - জ্বিনের বাদশা
- প্রাচীন পৃথিবীর বিস্ময়, সিন্ধু লিপি, আর্য প্রোপাগাণ্ডা এবং নতুন আলো - ম্যাভেরিক
- এবার আস্তিক নাস্তিক তর্কের অবসান হোক। - ইরোর
- রাসূল (সঃ)-এর জীবনী - আবু আব্দুল্লাহ মামুন
- আমার ভাইয়ের মৃত্যূ ও সৌদিদের ক্ষমার অযোগ্য বর্বর আইন ও হাহাকার - পারভেজ রবিন
- মিয়ানমারের পর এবার চীনের সাথে .... - নিরপেক্ষ চিন্তা
- বিদায় হজের ভাষণ (যখনি পড়ি কান্না আসে ) আমার আগের পোষ্টের সাথে সম্পর্কিত ।ইংলিশ ও বাংলা - ফুয়াদ০দিনহীন
- কুয়েতের সাবেক জ্বালানি মন্ত্রীর বাংলা আর্টিক্যাল- I LOVE BANGLADESH - জেনারেশন৭৫
- ভারতে বাংলাদেশ টিভি ও রেডিও - ফেরদাউস আল আমিন
- কোন বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছি আমরা?? মডেলিংয়ের অফার দিয়ে ৬৪ মেয়েকে ধর্ষণ - স্পাইডার
- জাফর ইকবাল বাঙালি জাতিকে কি দিয়াছেন? এই পোষ্ট আমি পাইয়াছি।
কিন্তু সাহায্য লাগবে - মোতাব্বির কাগু
- ইবনে সিনা: একজন কাফের? - উম্মু আবদুল্লাহ
- বাংলাদেশের সমুদ্রসীমাঃ "দিন বদল" না হলেও দিন কিন্তু বয়ে যায় ...... - দিনমজুর
- ব্লগার ভাইয়ার অনুমতি নিয়ে রি পোস্ট.।.। স্টিকি কোরা হোক - নাযীর আহমদ
- পবিত্র কোরআনের ১৮ নং সূরা কাহাফ এর ৯০ নং আয়াত সম্পর্কে একজন প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাবে বলছি- - মাহফুজশান্ত
- সনাতন ধর্ম (হিন্দু ) ও ইসলাম এর মধ্যে যোগ সম্পর্ক-১ (আদি গ্রন্হ সমূহ -শেষ) - জেমসবন্ড
- বৃটিশ গোয়েন্দা মিষ্টার হ্যামপারের জবানবন্দি-১ - জাগারণ
- বোন, তুমি আমাকে ক্ষমা করো (একটি খোলা চিঠি) - বিদেশী বাঙালী
- ওই ছোটোলোকের পোলাটা কিন্তু বীরপ্রতীক ছিল - অমি রহমান পিয়াল
- ইসলামে উত্তরাধিকার আইন (১): কতটা গাণিতিক ব্যবহারিক আইন - মাসুদুল হক
- কেমন আছে সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশী নারী শ্রমিকেরা? - ডিজিটাল দুষ্ট ছেলে
- বেঞ্চমার্ক মুহাম্মদ (স):। লাইফ ইজ বিউটিফুল। ট্রাই করেই দেখুন না। প্লিজ! - পাললিক মন
- ছফা'র বর্ণনায় হুমায়ূন আজাদ-১: হুমায়ুন আজাদ একটা সজারু (চৌর্যবৃত্তির এই বিষয়গুলো আমাদের জানাই ছিল না) - সাদাত হাসান
- কবে মিলবে নারীমুক্তি???? - নাজনীন১
- পদ্মা-যমুনা হারিয়ে ২০টি জেলা মরুভূমি হবার আশংকা : গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রে অর্ধশত বাঁধ নির্মাণ করছে ভারত - ইবনে সালাম
- টিপাইমুখ বাধের সিদ্ধান্ত আগেই ঠিক করে ফেলেছে ভারত - dvWfu
- আল্লাহ্ কে, তাঁর পরিচয় কি? তিনি দেখতে কেমন, তাঁর লিঙ্গ কি? - আবূসামীহা
- সাঈদ আনোয়ার ও চার্লস কভেন্ট্রী – আপনিই নির্ধারণ করুন কে আপনার বাজির ঘোড়া - ধ্রুবমেঘ
- বাতিল ফিরক্বাহ - তুষারপাত
- জায়নিস্টদের অবিসংবাদিত নেতা এবং ইসরায়েলের প্রথম রাষ্ঠ্রপতি ডঃ চ্যাইম ওয়াজম্যানের সাথে ইসরাইল প্রতিষ্ঠা বিষয়ে কথোপকথন। - নরাধম
৭ই মার্চের ভাষণ। ও একটু সামান্য বিশ্লেষেণ।
০৭ ই মার্চ, ২০১০ দুপুর ১:৫৩
ভায়েরা আমার,
আজ দুঃখ ভারাক্লান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা
আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার
ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে।
আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়।
কি অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে, আওয়ামী লীগকে ভোট দেন।
আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো এবং এদেশকে আমরা গড়ে তুলবো।
এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে।
কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ২৩ বৎসরের করুণ ইতিহাস, বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের
রক্তের ইতিহাস। ২৩ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস- এদেশের মানুষের
রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।
১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে
আয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ৬-দফা আন্দোলনে
৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ এর আন্দোলনে আয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে
যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গনতন্ত্র দেবেন - আমরা মেনে
নিলাম। তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেলো, নির্বাচন হলো।
আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলা নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা
হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্র“য়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার
কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম,
ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলিতে বসবো। আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবো- এমনকি আমি এ পর্যন্তও
বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজনও যদি সে হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে
নেব।
জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরো
আলোচনা হবে। তারপরে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, তাদের সঙ্গে আলাপ করলাম- আপনারা আসুন, বসুন, আমরা আলাপ
করে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো।
তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসে তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলি। তিনি বললেন, যে
যাবে তাকে মেরে ফেলা দেয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত জোর করে
বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলি চলবে। তারপরে হঠাৎ ১ তারিখে এসেম্বলি বন্ধ করে দেওয়া হলো।
ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসেবে এসেম্বলি ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাবো। ভুট্টো সাহেব
বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপর হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া
হলো, দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্ধ করে দেয়ার পরে এদেশের মানুষ
প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।
আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সব কিছু বন্ধ
করে দেন। জনগণ সাড়া দিলো। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে
যাবার জন্য স্থির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।
কি পেলাম আমরা? আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্র“র আμমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই
অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে- তার বুকের ওপরে হচ্ছে গুলি।
আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু- আমরা বাঙালীরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর
ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
টেলিফোনে আমার সঙ্গে তার কথা হয়। তাঁকে আমি বলেছিলাম, জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের
প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের ওপরে, আমার বাংলার মানুষের বুকের ওপর গুলি করা হয়েছে। কি
করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে, কি করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আপনি আসুন, দেখুন, বিচার
করুন। তিনি বললেন, আমি নাকি স্বীকার করেছি যে, ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স হবে।
আমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছি, কিসের রাউন্ড টেবিল, কার সঙ্গে বসবো? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত
নিয়েছে, তাদের সঙ্গে বসবো? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি
করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার ওপরে দিয়েছেন, বাংলার মানুষের ওপরে দিয়েছেন।
ভায়েরা আমার,
২৫ তারিখে এসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি, ওই শহীদের রক্তের
ওপর পাড়া দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারেনা।
এসেম্বলি কল করেছেন, আমার দাবী মানতে হবে। প্রথম, সামরিক আইন- মার্শাল ল’ উইথড্র করতে হবে। সমস্ত
সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে। আর
জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো, আমরা এসেম্বলিতে বসতে
পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না।
আমি, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না।আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই।
আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার চাই, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাচারী, আদালত-ফৌজদারী, শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
গরীবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে সেইজন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলোর
হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা,,ঘোড়ারগাড়ি, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে- শুধু সেμেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট,
হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমি গভর্নমেন্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না।
২৮ তারিখে কর্মচারীরা যেয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে,
আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয় - তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে
তোল।
তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্র“র মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু -
আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো।
তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের ওপর গুলি
চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ
আমাদের দাবাতে পারবেনা।
আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য
করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আমাদের রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা-পয়সা পৌঁছে দেবেন। আর এই সাত দিন
হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইয়েরা যোগদান করেছে, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছে দেবেন।
সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে, খাজনা ট্যাক্স
বন্ধ করে দেওয়া হলো- কেউ দেবে না।
মনে রাখবেন, শত্র“বাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায় হিন্দুমুসলমান,
বাঙালী-ননবাঙালী যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের ওপর, আমাদের
যেন বদনাম না হয়।
মনে রাখবেন, রেডিও-টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে তাহলে কোন বাঙালী রেডিও
স্টেশনে যাবে না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। ২ ঘণ্টা ব্যাংক
খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মায়না-পত্র নেবার পারে। পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান
হতে পারবে না। টেলিফোন, টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ব বাংলায় চলবে এবং বিদেশের সংগে নিউজ পাঠাতে হলে
আপনারা চালাবেন।
কিন্তু যদি এ দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালীরা বুঝেসুঝে কাজ করবেন।
প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল−ায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল। এবং তোমাদের যা কিছু আছে,
তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো রক্ত দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশি-আল্লাহ।
এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
(ধন্যবাদ যে এই ভাষন লিখিত ফর্মে নিয়ে এসেছেন)
এই ভাষনের উপর ভিত্তি করেই, বাংলাদেশ প্রতিষ্টা করা হয়েছে, দুঃখের বিষয় অনেকেই এই পুরো ভাষন জানে না। তাই কিছু সংখ্যাক জেনে নিজের ইচ্ছামত ব্যাক্ষা দেয়। যাইহোক, ভাষনের কোথাও বলা হয়নি সেকুলারিসমের জন্য সংগ্রাম। আসলে সংগ্রাম ছিল বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম কোন সেকুলারিসম ফেকুলারিসমের জন্য নয়। যারা এই দাবী করেন, তারা হয় মিথ্যাবাদী নয়ত চক্রান্তকারী। আমার তো সংদ্ধেহ হয় এদের সম্পর্কেই কি তিনি এই মন্তব্য করেছিলেন, আমার সংদ্ধেহ ভুলও হতে পারে।
"শত্র“বাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে"
*** আসুন দেখেনেই সেকুলারিসমের ইভুলশন***
সংবিধানের ৫ম সংশোধনী বাতিল প্রসঙ্গে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, হাইকোর্টের রায়ের উপর থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর ’৭২ সালের মূল সংবিধান আপনাআপনিই পুনর্বহাল হচ্ছে। এর ফলে দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে এবং চার মূলনীতির ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। তবে ৫ম সংশোধনী বাতিলের কারণে ৪র্থ সংশোধনীর আলোকে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েমের কোনো সুযোগ নেই। কেননা পরবর্তীতে রেফারেন্ডামের মাধ্যমে বাকশাল বিলুপ্ত করা হয়েছিল। আইনমন্ত্রী বলেন, ৫ম সংশোধনী বাতিল হলেও বহুদলীয় গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিল্লাহ সংবিধানে থাকবে। গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
=> ধর্ম ভিত্তিক রাজনিতিক দল নিষিদ্ধ করা হোক , ধর্ম পুজি করে ব্যবসা । কখন হবে না । রাষ্ট্র ধর্ম নিরোপেক্ষ থাকবে ।
ড.অভিজিৎ রায় লিখেছেনঃ‘সেক্যুলারিজম’ শব্দটির অর্থ –‘সব ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা’ নয়, বরং এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে একটি মতবাদ, যা মনে করে রাষ্ট্রীয় মূলনীতি থেকে ধর্মকে পৃথক রাখা উচিৎ। ( নুরুজ্জামান মানিকের "ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র হোক সবার" এই পোষ্ট থেকে নেওয়া)
=> মানে এইটি একটি মতবাদ । এক মতবাদের উপর ভিত্তি করে বাকি মতবাদ গুলি রাষ্ট্র থেকে পৃথক করতে হবে । রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম বাদ দিতে হবে ।
আমেরিকান হেরিটেজ ডিকশনারীতে secularism শব্দটির সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে এভাবে -The view that religious considerations should be excluded from civil affairs or public education এ সংজ্ঞা থেকে বোঝা যাচ্ছে, ধর্মকে রাষ্ট্রের কাজের সাথে জড়ানো যাবে না- এটাই সেক্যুলারিজমের মোদ্দা কথা ।( নুরুজ্জামান মানিকের "ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র হোক সবার" এই পোষ্ট থেকে নেওয়া)
=> ধর্মকে রাষ্ট্রের কাজের সাথে জড়ানো যাবে না, মানে রাষ্টে তার খেয়াল খুশি মত চলবে । মানে বিসমিল্লাহ থাকতে পারে না ।
ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তার ‘ইহজাগিতিকতার প্রশ্ন’ প্রবন্ধে: ‘ধর্মনিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়, এই কথাটা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর পরই খুব জোরেসোরে বলা হচ্ছে। কথাটা সত্য বটে আবার মিথ্যাও বটে। সত্য এ দিক থেকে যে, রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষতা নাগরিকদের এ পরামর্শ দেয় না যে, তোমাদের ধর্মহীন হতে হবে; কিন্তু তা বলে এমন কথাও … বলে না যে, রাষ্ট্র নিজেই সকল ধর্মের চর্চা করবে, কিংবা নাগরিকদের নিজ নিজ ধর্ম চর্চায় উৎসাহিত করবে। রাষ্ট্র বরঞ্চ বলবে ধর্মচর্চার ব্যাপারে রাষ্ট্রের নিজের কোন আগ্রহ নেই, রাষ্ট্র নিজে একটি ধর্মহীন প্রতিষ্ঠান।, ধর্ম বিশ্বাস নাগরিকদের সম্পূর্ণ ব্যাক্তিগত ব্যাপার। রাষ্ট্রের ওই ধর্মহীনতাকেই কিছুটা নম্রভাবে বলা হয় ধর্মনিরপেক্ষতা। ( নুরুজ্জামান মানিকের "ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র হোক সবার" এই পোষ্ট থেকে নেওয়া)
=> মানে ধর্মহিনতাই সেকুলারিসম । এতএব, সরকারী সকল কাজ ধর্মহীন হতে হবে । মানে ইসলামী ফায়ন্ডেশন সহ সরকারী ধর্মীয় কার্যক্রম বন্দ করতে হবে ।
ডাঃ বিল্পব পাল বলেন ঃ ধর্ম টিকে থাকবে আবার রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ হবে, সেটা সোনার পাথর বাটি।
ধর্ম মানে কি নামাজ পড়া? মোটেও তা না। ধর্মের নৃতাত্ত্বিক উৎপত্তির ভিত্তি সামাজিক চুক্তিগুলি যা আবার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রন করে আইনের মাধ্যমে। তাই ধর্ম থাকবে আবার রাষ্ট্র ধর্ম নিরেপেক্ষও হবে, এটা শ্রেফ গোঁজামিল ছাড়া কিছুই না । ( নুরুজ্জামান মানিকের "ধর্ম যার যার কিন্তু রাষ্ট্র হোক সবার" এই পোষ্ট এর কমেন্ট থেকে নেওয়া)
=> মানে ধর্ম থাকলে সেকুলারিসম হয় না । ধর্মকে রাখাই যাবে না । ইসলাম, খ্রিস্টানিটি তারপর হিন্দুইজম চর্চা বন্দ করতে হবে । এদের নিষিদ্ধ করতে হবে । মসজিদ, মন্দির বন্দ করতে হবে ।
(এইখান কার ইভুলোশন ধরতে পেরেছেন কি ?)
জেগে ঊঠুন, কারন আপনি যখন ঘুমান তখন-ই তারা তাদের নীল নক্সা নিয়ে মাঠে নামে আর গোলা পানিতে মাছ শিকার করে। ছাত্র লীগের মধ্যে শিবির ঢুকে পড়েছে বলে যে কাজ করা হয়েছে তা নীল নক্সার-ই নিদর্শন। আওয়ামিলীগের ভিতর যারা ইসলাম পন্থী আছেন তাদের দুর্বল করার জন্য-ই এই চক্রান্ত। আমি বুঝে পাই না, সৈয়দ আশরাফ একজন সৈয়দ বংশের মানুষ হয়ে এই ফাদে কিভাবে পা দিলেন। আমরা উনার কাছ হতে এই কঠিন সময়ে দায়িত্বশীল আচরন আশা করি।
(এটি আমার সংদ্ধেহ, যা ভুল হতে পারে, তাই আমার ভুলগুলিকে ভুল হিসাবে ধরবেন)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৭ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
ইউনুস খান বলেছেন:
প্রিয়তে। এই ভাষণটুকু শুনলে নিজের ভিতর অন্যরকম উত্তেজনা বোধ করি। এইভাবে কেউ কখনও বলতে পারে এই ভাষণ না শুনলে বিশ্বাস করতাম না।
অনুসন্ধিৎসু বলেছেন:
"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"ভাল থাকবেন
হঠাৎ বলেছেন:
অসাধারণ!
আবদুল মুনয়েম সৈকত বলেছেন:
জোসসসসসসস ++++
হতাশার স্বপ্ন বলেছেন:
প্রিয়তে রাখলাম +
জোকার হাবিব বলেছেন:
পুরা ভাষণটা দিলেন না যে। ছাগুচীফ বলছে মুজিব নাকি ভাষনের শেষে ফাকিস্তান জিন্দাবাদ বলছে- ওইটা কই?
এস এইচ খান বলেছেন:
ভাই ফুয়াদ দিন হীন, আপনার পোষ্টটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে আমি কনফিউজড। তবে আমি যা বুূঝতে পারলাম, কমেন্টকারীরা তার ধারে কাছে গেল না। তারা আছে ভাষন নিয়া আর আপনিও যথারিতি একই ষ্টাইলে কমেন্টের উত্তর দিলেন। বুঝিনা ভাই, আমি আপনাকে ভাল জানি, এ জন্য বললাম।
লেখক বলেছেন: কমেন্টকারীরা কোন বক্তব্যে না গেলে আমার তো আর কিছুই করার থাকে না। আপনি চাইলে আমার উপরের জবাব ডিলিট করে দিব। তারা আমার পোষ্ট না বোঝেই, কমেন্ট করে গেছে। তাছাড়া আমি লেখা ভুল সঠিক ঠিক করে এডিট ও করেছি। আপনাকে দুঃখ দেওয়ার জন্য, আমি দুঃখিত। আর আমার যে অনেক ভুল হয়, তাই ভুল গুলিকে ভুল হিসাবেই নিয়েন। আমি আমার উপরের জবাব কেটে দিলাম।
ফুয়াদ০দিনহীন বলেছেন:
আমি রাহমান পিয়াল তার শেখ মুজিবের নির্বাচিত বক্তৃতা ও ধর্ম নিরপেক্ষতা লিংকঃ http://omipial.amarblog.com/posts/100642
দিয়েছেন। আমি এখানে সংযুক্ত করে দিলাম।
১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ ৬-দফা প্রসঙ্গে তার ভাষণ :
আমার প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা,
আমি পূর্ব পাকিস্তানবাসীর বাঁচার দাবীরূপে ৬-দফা কর্মসূচী দেশব্যাপী ও ক্ষমতাসীন দলের বিবেচনার জন্য পেশ করিয়াছি। শান্তভাবে উহার সমালোচনা করিবার পরিবর্তে কায়েমি স্বার্থবাদীদের দালালেরা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা শুরু করিয়াছে। অতীতে পূর্ব পাকিস্তানবাসীর নিতান্ত সহজ ও নায্য দাবী যখনই উঠিয়াছে, তখনই এই দালালরা এমনিভাবে হৈচৈ করিয়া উঠিয়াছেন। আমাদের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী, পূর্ব পাক জনগণের মুক্তি-সনদ একুশদফা দাবিযুক্ত নির্বাচন প্রথার দাবী, ছাত্র-তরুণদের সহজ ও স্বল্পব্যয়ে শিক্ষা লাভের দাবী, বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম করার দাবী ইত্যাদি সকল প্রকার দাবীর মধ্যেই এই শোষকের দল ও তাহাদের দালালেরা ইসলাম ও পাকিস্তান ধ্বংসের ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করিয়াছেন। ...
১৯৭০ সালের নভেম্বরে রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ :
...আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে আমরা ইসলামে বিশ্বাসী নই। এ কথার জবাবে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য লেবেল সর্বস্ব ইসলামে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হযরত রাসুলে করিম (স.) এর ইসলাম। যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র। ইসলামের প্রবক্তা সেজে পাকিস্তানের মাটিতে বরাবর যারা অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চণার পৃষ্টপোষকতা করে এসেছেন, আমাদের সংগ্রাম সেই মোনাফেকদেরই বিরুদ্ধে। যে দেশের শতকরা ৯৫ জনই মুসলমান সে দেশে ইসলাম বিরোধী আইন পাশের সম্ভাবনার কথা ভাবতে পারেন কেবল তারাই ইসলামকে যারা ব্যবহার করেন দুনিয়াটা ফায়স্তা করে তোলার কাজে। ...
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর রেসকোর্সে ভাষণ :
সকলে জেনে রাখুন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের স্থান চতুর্থ। ইন্দোনেশিয়া প্রথম এবং ভারত তৃতীয়। বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি কোনো বিশেষ ধর্মীয় ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
১৯৭২ সালের ৭ জুন, রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ :
বাংলাদেশ হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্ম নিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবে। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে। খ্রিস্টান তার ধর্ম পালন করবে। বৌদ্ধও তার নিজের ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নাই, ধর্ম নিরপেক্ষতা আছে। এর একটা মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আল বদর পয়দা করা বাংলার বুকে আর চলবে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে (জাতীয় সংসদে) ভাষণ :
আমাদের আদর্শ পরিষ্কার। এই পরিষ্কার আদর্শের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এই আদর্শের ভিত্তিতে এই দেশ চলছে। জাতীয়তাবাদ-বাঙালী জাতীয়তাবাদ, এই বাঙালী জাতীয়তাবাদ চলবে বাংলাদেশে। বাংলার কৃষ্টি, বাংলার ঐতিহ্য, বাংলার আকাশ-বাতাস, বাঙালীর রক্ত দিয়ে গড়া বাংলার জাতীয়তাবাদ। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, জনসাধারণের ভোটের অধিকারকে বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি সমাজতন্ত্রে, যেখানে শোষনহীন সমাজ থাকবে। শোষক শ্রেণী আর কোনোদিন মানুষকে শোষণ করতে পারবে না। সমাজতন্ত্র না হলে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ৫৪ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে বাঁচতে পারবে না। সেজন্যই অর্থনীতি হবে সমাজতান্ত্রিক, আর হবে ধর্ম নিরপেক্ষতা। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে, মুসলমান তার ধর্ম পালন করবে না, বাংলার মানুষ এটা চায় না। রাজনৈতিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। রাজনৈতিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ ব্যবহার করে, তাহলে বাংলার মানুষ তাকে প্রত্যাঘাত করবে। এ বিশ্বাস আমি করি।
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে ভাষণ :
জনাব স্পিকার সাহেব, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবও না। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের কারো নেই। হিন্দু তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাঁধা দেওয়া ক্ষমতা নেই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের কেউ বাঁধাদান করতে পারবে না। খ্রীস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কেউ তাদের বাঁধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।
২৫ বছর আমরা দেখেছি ধর্মের নামে জুয়াচুরি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে বেঈমানি, ধর্মের নামে অত্যাচার, ধর্মের নামে খুন, ধর্মের নামে ব্যাভিচার- এই বাংলাদেশের মাটিতে এসব চলেছে।
ধর্ম অত্যন্ত পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলবো, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি, সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা করছি। যদি কেউ বলে গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার নাই, আমি বলবো সাড়ে সাতকোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যদি গুটি কয়েক লোকের অধিকার হরণ করতে হয়, তাহলে তা করতে হবে।
১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ভাষণ :
আর একটা জিনিস। রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি করে , যারা সাম্প্রদায়িক, তারা হীন, নীচ, তাদের অন্তর ছোট। যে মানুষকে ভালোবাসে, সে কোনোদিন সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। আপনারা যারা এখানে মুসলমান আছেন তারা জানেন যে, খোদা যিনি আছেন, তিনি রাব্বুল আলামিন, রাব্বুল মুসলেমিন নন। হিন্দু হোক, খৃষ্টান হোক, মুসলমান হোক, বৌদ্ধ হোক, সমস্ত মানুষ তার কাছে সমান। সেজন্যই এক মুখে সোস্যালিজম ও প্রগতির কথা আরেকমুখে সাম্প্রদায়িকতা চলতে পারে না। সমাজতন্ত্র, প্রগতি আর সাম্প্রদায়িকতা পাশাপাশি চলতে পারে না।
১৯৬৬ সালের ১৮ মার্চ ৬-দফা প্রসঙ্গে তার ভাষণ :
আমার প্রিয় দেশবাসী ভাই ও বোনেরা,
আমি পূর্ব পাকিস্তানবাসীর বাঁচার দাবীরূপে ৬-দফা কর্মসূচী দেশব্যাপী ও ক্ষমতাসীন দলের বিবেচনার জন্য পেশ করিয়াছি। শান্তভাবে উহার সমালোচনা করিবার পরিবর্তে কায়েমি স্বার্থবাদীদের দালালেরা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা শুরু করিয়াছে। অতীতে পূর্ব পাকিস্তানবাসীর নিতান্ত সহজ ও নায্য দাবী যখনই উঠিয়াছে, তখনই এই দালালরা এমনিভাবে হৈচৈ করিয়া উঠিয়াছেন। আমাদের মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবী, পূর্ব পাক জনগণের মুক্তি-সনদ একুশদফা দাবিযুক্ত নির্বাচন প্রথার দাবী, ছাত্র-তরুণদের সহজ ও স্বল্পব্যয়ে শিক্ষা লাভের দাবী, বাংলাকে শিক্ষার মাধ্যম করার দাবী ইত্যাদি সকল প্রকার দাবীর মধ্যেই এই শোষকের দল ও তাহাদের দালালেরা ইসলাম ও পাকিস্তান ধ্বংসের ষড়যন্ত্র আবিষ্কার করিয়াছেন। ...
১৯৭০ সালের নভেম্বরে রেডিওতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ :
...আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে আমরা ইসলামে বিশ্বাসী নই। এ কথার জবাবে আমাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য লেবেল সর্বস্ব ইসলামে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা বিশ্বাসী ইনসাফের ইসলামে। আমাদের ইসলাম হযরত রাসুলে করিম (স.) এর ইসলাম। যে ইসলাম জগতবাসীকে শিক্ষা দিয়েছে ন্যায় ও সুবিচারের অমোঘ মন্ত্র। ইসলামের প্রবক্তা সেজে পাকিস্তানের মাটিতে বরাবর যারা অন্যায়, অত্যাচার, শোষণ, বঞ্চণার পৃষ্টপোষকতা করে এসেছেন, আমাদের সংগ্রাম সেই মোনাফেকদেরই বিরুদ্ধে। যে দেশের শতকরা ৯৫ জনই মুসলমান সে দেশে ইসলাম বিরোধী আইন পাশের সম্ভাবনার কথা ভাবতে পারেন কেবল তারাই ইসলামকে যারা ব্যবহার করেন দুনিয়াটা ফায়স্তা করে তোলার কাজে। ...
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি, পাকিস্তান থেকে দেশে ফেরার পর রেসকোর্সে ভাষণ :
সকলে জেনে রাখুন, বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র এবং পাকিস্তানের স্থান চতুর্থ। ইন্দোনেশিয়া প্রথম এবং ভারত তৃতীয়। বাংলাদেশ একটি আদর্শ রাষ্ট্র হবে। আর তার ভিত্তি কোনো বিশেষ ধর্মীয় ভিত্তিক হবে না। রাষ্ট্রের ভিত্তি হবে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা।
১৯৭২ সালের ৭ জুন, রেসকোর্স ময়দানে ভাষণ :
বাংলাদেশ হবে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্ম নিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্ম পালন করবে। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে। খ্রিস্টান তার ধর্ম পালন করবে। বৌদ্ধও তার নিজের ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নাই, ধর্ম নিরপেক্ষতা আছে। এর একটা মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আল বদর পয়দা করা বাংলার বুকে আর চলবে না। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর গণপরিষদে (জাতীয় সংসদে) ভাষণ :
আমাদের আদর্শ পরিষ্কার। এই পরিষ্কার আদর্শের ভিত্তিতেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। এই আদর্শের ভিত্তিতে এই দেশ চলছে। জাতীয়তাবাদ-বাঙালী জাতীয়তাবাদ, এই বাঙালী জাতীয়তাবাদ চলবে বাংলাদেশে। বাংলার কৃষ্টি, বাংলার ঐতিহ্য, বাংলার আকাশ-বাতাস, বাঙালীর রক্ত দিয়ে গড়া বাংলার জাতীয়তাবাদ। আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, জনসাধারণের ভোটের অধিকারকে বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি সমাজতন্ত্রে, যেখানে শোষনহীন সমাজ থাকবে। শোষক শ্রেণী আর কোনোদিন মানুষকে শোষণ করতে পারবে না। সমাজতন্ত্র না হলে সাড়ে ৭ কোটি মানুষ ৫৪ হাজার বর্গমাইলের মধ্যে বাঁচতে পারবে না। সেজন্যই অর্থনীতি হবে সমাজতান্ত্রিক, আর হবে ধর্ম নিরপেক্ষতা। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে, মুসলমান তার ধর্ম পালন করবে না, বাংলার মানুষ এটা চায় না। রাজনৈতিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। রাজনৈতিক কারণে ধর্মকে ব্যবহার করা যাবে না। যদি কেউ ব্যবহার করে, তাহলে বাংলার মানুষ তাকে প্রত্যাঘাত করবে। এ বিশ্বাস আমি করি।
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে ভাষণ :
জনাব স্পিকার সাহেব, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মকর্ম করার অধিকার থাকবে। আমরা আইন করে ধর্মকে বন্ধ করতে চাই না এবং করবও না। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের বাঁধা দেওয়ার ক্ষমতা এই রাষ্ট্রের কারো নেই। হিন্দু তাদের ধর্ম পালন করবে, কারো বাঁধা দেওয়া ক্ষমতা নেই। বৌদ্ধরা তাদের ধর্ম পালন করবে, তাদের কেউ বাঁধাদান করতে পারবে না। খ্রীস্টানরা তাদের ধর্ম পালন করবে, কেউ তাদের বাঁধা দিতে পারবে না। আমাদের শুধু আপত্তি হলো এই যে, ধর্মকে কেউ রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না।
২৫ বছর আমরা দেখেছি ধর্মের নামে জুয়াচুরি, ধর্মের নামে শোষণ, ধর্মের নামে বেঈমানি, ধর্মের নামে অত্যাচার, ধর্মের নামে খুন, ধর্মের নামে ব্যাভিচার- এই বাংলাদেশের মাটিতে এসব চলেছে।
ধর্ম অত্যন্ত পবিত্র জিনিস। পবিত্র ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা চলবে না। যদি কেউ বলে ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়েছে, আমি বলবো, ধর্মীয় অধিকার খর্ব করা হয়নি, সাড়ে সাত কোটি মানুষের ধর্মীয় অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা করছি। যদি কেউ বলে গণতান্ত্রিক মৌলিক অধিকার নাই, আমি বলবো সাড়ে সাতকোটি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে যদি গুটি কয়েক লোকের অধিকার হরণ করতে হয়, তাহলে তা করতে হবে।
১৯৭৪ সালের ১৮ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে ভাষণ :
আর একটা জিনিস। রাজনীতিতে যারা সাম্প্রদায়িকতার সৃষ্টি করে , যারা সাম্প্রদায়িক, তারা হীন, নীচ, তাদের অন্তর ছোট। যে মানুষকে ভালোবাসে, সে কোনোদিন সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। আপনারা যারা এখানে মুসলমান আছেন তারা জানেন যে, খোদা যিনি আছেন, তিনি রাব্বুল আলামিন, রাব্বুল মুসলেমিন নন। হিন্দু হোক, খৃষ্টান হোক, মুসলমান হোক, বৌদ্ধ হোক, সমস্ত মানুষ তার কাছে সমান। সেজন্যই এক মুখে সোস্যালিজম ও প্রগতির কথা আরেকমুখে সাম্প্রদায়িকতা চলতে পারে না। সমাজতন্ত্র, প্রগতি আর সাম্প্রদায়িকতা পাশাপাশি চলতে পারে না।
লেখক বলেছেন: আমি রাহমান পিয়ালকে বলি, আমি নিরুপায়, ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু গেলে আমাকে তা প্রকাশ করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই।
ফুয়াদ০দিনহীন বলেছেন:
সম্ভবত আমি রাহমান পিয়াল হয়ত আমাকে উদ্দোশ্য করেই এই লিখা লেখেছেন। আপনারাও জেনে নিন। আমি পোরো লিখা ই এখানে দিয়ে দিলাম।
সংগ্রামী অলস বলেছেন:
দারুন বিশ্লেষণের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। +
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:
লেখক বলেছেন: অমি রাহমান পিয়ালকে বলি, আমি নিরুপায়, ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু গেলে আমাকে তা প্রকাশ করতেই হবে। এ ক্ষেত্রে আমার কিছু করার নেই। আসেন এইবার আলোচনা করি, কোন কথাটা ইসলামের বিরুদ্ধে গেছে।
লেখক বলেছেন: তার আগে বলেন, আপনি কি খোলা মনে আমার কথা বুঝতে চাইবেন কি না। যদি তাই হয় তাহলে আলোচনায় যেতে পারি।
কারন, আপনি জানেন কি না জানি না, এ সেকুলারিসমের ব্যাপারে ভিন্ন জনের অনেক লেখা লেখি দেখেছি। সেকুলারিসমের ইভুলোসন অংশটুকু পড়ুন। আপনি না হয় ভাল মানুষ, আপনি সেকুলারিসমের আপনার প্রদত্ত সংজ্ঞা ফল করবেন, কিন্তু দেখবেন, আরেক জন এসেই সেকুলারিসমের আপনার সংজ্ঞা কে আরেকটু আগ বাড়িয়ে নিয়ে যাবে কেউবা আপনার সংজ্ঞাকে বাতিল করে দিবে। স্বীকার করেন আর নাই করেন, দেখুন, সেকুলারিস কোন পর্যায়ে নেওয়া যায়,
ডাঃ বিল্পব পাল বলেন ঃ ধর্ম টিকে থাকবে আবার রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ হবে, সেটা সোনার পাথর বাটি।
ধর্ম মানে কি নামাজ পড়া? মোটেও তা না। ধর্মের নৃতাত্ত্বিক উৎপত্তির ভিত্তি সামাজিক চুক্তিগুলি যা আবার রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রন করে আইনের মাধ্যমে। তাই ধর্ম থাকবে আবার রাষ্ট্র ধর্ম নিরেপেক্ষও হবে, এটা শ্রেফ গোঁজামিল ছাড়া কিছুই না ।
ঐ পর্যায়ে নিলে কি হবে, তা আমি বুঝতে পারি। তাই আগাম সতর্কতা।
নাস্তিকদের লেখা বার্তা পরলেই বুঝা যায়, তারা কোন দিকে পরবর্তীতে নিয়ে যাবে। আস্তে আস্তে কঠিন থেকে কঠিন, তারা কিভাবে ক্রমান্নয়ে হিংস্র হয়ে উঠে তা আমার দেখা আছে। তারা জাস্ট কিছুই করতেছে না, আওয়ামিলিগের মাথায় কাঠাল ভেংগে খাওয়ার চেষ্টা করতেছে। শুধু চেষ্টা না, বড় কোন প্রগ্রাম নিয়েই এগুতেছে। এদের কোন ধর্ম নীতি নেই, এবং ধার্মিকদের এরা ঘৃনা করে। তাই, আকাশে মেঘ জমলেই সতর্ক না হয়ে পারা যায় না। আমি আপনাদেরকে ঘুম থেকে জাগানোর জন্য-ই এই লেখা লেখেছি। আপনারা কিভাবে নিবেন তা আপনাদের বিষয়।
তাছাড়া, সেকুলারিসমের নামে ঘটে যাওয়া তুরষ্কের ঘটনা আমাদের জানা আছে । কি কাহিনি হইতেছিল সেগুলো ও আমরা জানি জনাব। হেড রিভুলশলেন এক মুসলিম বাবাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ায় ফাসীর আগে তার মেয়েকে বলেছিল, ডোন্ট ক্রাই মাই চাইল্ড , জাস্ট রিড আল কুরান ফর মায় সোল। কয়দিন পরে সেকুলারিসমের নাম করে, যারা আপনাদের ধর্মহীন কিছু নুতুন চাপিয়ে দেওয়া কিছু মানবে না, তাদের কেও ধরে ধরে, এভাবে শেষ করা হবে না, তার নিশ্চয়তা কে দিবে?
আমি আওয়ামিলিগ , বি.এন.পি, জামাত কিংবা জাতীয় পার্টি এদের লাভ ক্ষতি দেখি না, আমার কথায় কার লাভ হল, কার ক্ষতি হল, এতে আমার কিছু করার নেই। দেখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবাদ Click This Link
এই পোষ্টে আমি শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছি, ধর্মের পক্ষে বলায়। আবার অন্য এক পোষ্টে সমালোচনাও(ঠিক সমালোচনাও নয়, অনুরোধ) করেছি। অতএব, আশা করি বুঝতে পেরেছেন, আমি চাইনা পলাশীর ঘটনা আবার ঘটুক যেখানে দুই লক্ষর মত মানুষ দাড়িয়ে তামাশা দেখুক।
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন:
এইটাকে ফাঁদ মনে করাটা কিছুটা প্যারানয়া নির্দেশ করে। বিজ্ঞজনের মন্তব্যের কোথাও কি বলেছে, রাষ্ট্র মন্দির মসজিদ বন্ধ করে দিবে? আপনি সেই সিদ্ধান্তে গেলেন কেমন করে! বিস্মিত হলাম। এখানে কেউ ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে কাব্য করে কিছু বলে নাই, যে তা এক একজন এক এক অর্থ করবেন।রাষ্ট্র আর নাগরিক দুটা আলাদা সত্ত্বা।
নাগরিক নিজের ধর্ম পালন করবে, রাষ্ট্র কোন ধর্মচিহ্ন ধারণ করবে না।
এই সোজা কথাটা কেন বুঝতেছেন না?
শেলী বলেছেন:
রাষ্ট্র মন্দির মসজিদ বন্ধ করবেনা ঠিক কিন্তু meaningless করে দিবে। কারণ তখন রাষ্ট্র চলবে বানানো আইনে। মুসলিমদের জন্য ইসলামিক আইন আর হিন্দুদের জন্য হিন্দু আইন এমন হবেনা। ধর্ম তো শুধু personal ইবাদাত করার জন্য পাঠাননি আল্লাহ। জীবনের সবদিক ধর্মের আওতার মধ্যে পড়ে।রাষ্ট্র তার বাইরে নয়।
ধ্রুব তারা বলেছেন:
শেলী বলেছেন: রাষ্ট্র মন্দির মসজিদ বন্ধ করবেনা ঠিক কিন্তু meaningless করে দিবে। কারণ তখন রাষ্ট্র চলবে বানানো আইনে। মুসলিমদের জন্য ইসলামিক আইন আর হিন্দুদের জন্য হিন্দু আইন এমন হবেনা। ধর্ম তো শুধু personal ইবাদাত করার জন্য পাঠাননি আল্লাহ। জীবনের সবদিক ধর্মের আওতার মধ্যে পড়ে।রাষ্ট্র তার বাইরে নয়।তাহলে তো একটি রাষ্ট্র ধর্ম থাকলে অন্যান্য ধর্মগুলোকে রাষ্ট্র মিনিংলেস করে দেবে।
জোকার হাবিব বলেছেন:
রাষ্ট্র আর নাগরিক দুটা আলাদা সত্ত্বা।নাগরিক নিজের ধর্ম পালন করবে, রাষ্ট্র কোন ধর্মচিহ্ন ধারণ করবে না।
এই সোজা কথাটা কেন বুঝতেছেন না?
প্রজন্ম একুশ বলেছেন:
শেলী, আপনি ধ্রুবতারার কমেন্টের উত্তর দিলেননা যে
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...














