somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বঙ্গোপসাগরে ঘোড়দৌড় : প্রতিযোগিতাতেই নেই বাংলাদেশ!

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১১:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের স্থলভাগে ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে জ্বালানির মজুদ। গ্যাস প্রায় নিঃশেষ। ঢিমেতালের অনুসন্ধানে নতুন কোনো সুসংবাদও নেই। তেল আর কোথায়! কয়লায় এখন পর্যন্ত সবেধন নীলমনি ওই বড়পুকুরিয়া। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জন্য শেষ ভরসা হিসেবে আছে একমাত্র বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশকে ঘিরে আছে দুটি মাত্র দেশ- মিয়ানমার ও ভারত। বঙ্গোপসাগরে তাদেরও ভাগ আছে। এই জায়গায় বাংলাদেশের সঙ্গে দেশ দুটির পার্থক্য হচ্ছে, তেল-গ্যাসের খোঁজে তারা বঙ্গোপসাগর চষে বেড়াচ্ছে আর অন্যদিকে টিভি চ্যানেলের মাউথপিস মুখে নিয়ে বাংলাদেশ রাজা-উজির মেরে বেড়াচ্ছে।

গায়ে পড়ে ঝগড়া যে কারণে হয়
বঙ্গোপসাগরে অধিকার নিয়ে ভারত ও মিয়ানমারের মনোভাব এখন পর্যন্ত গায়ে পড়ে ঝগড়া লাগানোর মনোভাব। জেনেশুনেই তারা আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করছে। তবে প্রতিটি দেশই নিজেদের স্বার্থ দেখবে, তা যেভাবেই হোক না কেন- সেটিই স্বাভাবিক। বাংলাদেশকেও তার নিজের স্বার্থটি দেখতে হবে। শুধু দেখলেই হবে না, অগ্রাধিকারভিত্তিতে দেখতে হবে।
এমনিতে সামরিক শক্তি যতোই থাক, যে অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের, তাতে কারো সঙ্গেই সংঘাতে যাওয়ার সঙ্গতি নেই বাংলাদেশের। বিকল্প থাকে একটিই- কূটনৈতিক উদ্যোগ। কিন্তু এই যে মিয়ানমার সেন্টমার্টিনের দিকে বাংলাদেশ সীমানায় ঢোকার সাহস পেল, ভারত যে মংলার দিকে ঢুকে বসে আছে- এ সবই ইতিপূর্বেকার সরকারগুলোর মূর্খতার ফল, এ সবই তো অমার্জনীয় কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফল।

দুই প্রতিবেশীর দিনকাল
ভারত ও মিয়ানমার- এই দুটি দেশই বহুকাল আগে থেকে যথার্থ প্রস্তুতি নিয়ে সমুদ্রসম্পদের দিকে মনোযোগী হয়েছে, কাজ করে যাচ্ছে নিরলস, তেল-গ্যাস নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে জোর অনুসন্ধান। বঙ্গোপসাগর নিয়ে দেশ দুটি কী ভীষণ মনোযোগী- গত দু মাসে পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া লাগানোর প্রচেষ্টা থেকেই সেটি বোঝা যায়। রক্ষণশীল মিয়ানমার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য রীতিমতো বিদেশী বিনিয়োগ পর্যন্ত নিজেদের ঘরে ডেকে এনেছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ভারতীয় কম্পানিগুলো মিয়ানমারের পক্ষে একযোগে অনুসন্ধান কাজ চালাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে বেশ অনেক দিন ধরেই। ইতিমধ্যে মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে সাত টিসিএফ গ্যাস পেয়েছে। অন্যদিকে ভারত নিজেদের সমুদ্রসীমায় এখন পর্যন্ত ১০০ টিসিএফ গ্যাসের খোঁজ পেয়েছে। এমনকি সুনির্দিষ্ট মজুদের পরিমাণ পর্যন্ত তারা বের করে ফেলেছে। জ্বালানি অনুসন্ধানের এই ঘোড়দৌড়ে বাংলাদেশকে হিসেবে রাখার সময় তাদের কারোরই নেই। তারা এগিয়ে যাচ্ছে নিজেদের মতো, নিজেদের বিবেচনা সামনে রেখে। শুধু বাংলাদেশই, আর তার বেজন্মা সরকারগুলো এবং কুশিক্ষিত-দুর্নীতিবাজ সরকারি চাকরেরা হাত-পা গুটিয়ে বসে আছে। তারা দিনমান বসে থাকে এই কারণে, দেশের অমূল্য জ্বালানি সম্পদ অন্যের কাছে বেচে দিয়ে দুটো পয়সা তারা হাতিয়ে নেবে।

বঙ্গোপসাগরে মূষিকপ্রসব
রাজনৈতিক সরকারগুলোর লুটপাট আর দীর্ঘ শীতনিদ্রা শেষে এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদ্যোগে গত ফেব্রুয়ারিতে বঙ্গোপসাগরের গভীরে ২০টি এবং অগভীর সমুদ্রে আটটি ব্লক নির্ধারণ করা গেছে। সেখানে অনুসন্ধান কাজ চালানোর জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রও আহ্বান করা হয়। সংক্ষেপে একে বলা যেতে পারে 'পর্বতের মূষিকপ্রসব'। তবে দৌড়ে অনেক পিছিয়ে থাকার পরও যে বাংলাদেশ উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে- এটা আবার হয়ে গেছে ভারতের মাথাব্যাথা, তা বোঝা যায় আজ শনিবার ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তীর প্রশ্নে- "যখন আলোচনা চলছে, তখন বাংলাদেশ সরকার কেন ওই এলাকায় খনিজ অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করলো?" ইতিপূর্বে বাংলাদেশ ব্লকগুলো ঘোষণার পরই ভারত আটটি ব্লকের ব্যাপারে এবং মিয়ানমার ঢালাওভাবে আপত্তি জানিয়েছে। মিয়ানমার যেসব এলাকায় গত বছর সাত টিসিএফ গ্যাসের খোঁজ পেয়েছে, ওই এলাকাগুলো বাংলাদেশ সীমানার খুব কাছেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমানার মধ্যেই পড়েছে। বাংলাদেশ সীমায় ঢুকতে তাদের মরিয়া হয়ে ওঠার কারণও এ থেকে বোঝা যায়।

ভেতরবাড়ির সমস্যা
জ্বালানি সম্পদ নিয়ে মাতামাতি শুরু হওয়ার পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারই ক্ষমতায় ছিল বেশি সময়। কিছুকাল ছিল আওয়ামী লীগও । তারা একযোগে তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রের ইজারা নিয়ে ক্ষমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে। সিলেটের দিকে তাকান, সাঙ্গুর দিকে তাকান- দেখবেন অমূল্য জ্বালানি সম্পদ নিয়ে এই রাজনৈতিক টাউটগুলো কী লুটপাট, দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছে! বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারগুলো দেশের অপূরণীয় ক্ষতি করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই ক্ষতি সাদা চোখে এখনই দেখা যাচ্ছে না হয়তো, তবে এই ক্ষতির বোঝা নিশ্চিতভাবেই বিশাল এবং দীর্ঘস্থায়ী। ভেতরবাড়িতে এই ধরনের সমস্যা আবার ভারত ও মিয়ানমারের নেই। থাকলেও তা মূল কাজে প্রভাব ফেলে না। দেশের স্বার্থ তাদের কাছে সবার আগে।

বরং বাংলাদেশ এগিয়ে যাক নিজের মতো
একটি পথই এখন খোলা- সমুদ্রসীমার দাবি বাংলাদেশকে তুলে ধরতে হবে জোরালোভাবে। তার জন্য নিবিড় হোমওয়ার্কের দরকার আছে। দেশের অভিজ্ঞ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে চালাতে হবে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরে পেশাদার মেধাবী কূটনীতিকের অভাব প্রচণ্ড। দিনে দিনে এটা হয়ে উঠেছে বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে। ভারতের রাজিব সিক্রির (একসময়কার ভারতীয় হাইকমিশনার বীনা সিক্রির স্বামী) মতো মেধাবী কূটনীতিবিদ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র দপ্তরে কেউ আছেন কি? নেতাদের তৈলমর্দনে তারা যতোটা সিদ্ধহস্ত, দেশের জন্য তার সামান্যও না। গণমাধ্যমের ওপরও খুব বেশি আস্থা রেখে লাভ নেই। আমাদের সময় সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান তেল-গ্যাস কম্পানির গণসংযোগ বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন। তথাকথিত এনার্জি রিপোর্টারদের জীবনের লক্ষ্যও একটিই- বিদেশী বেনিয়াগুলোর পয়সায় বিদেশ ভ্রমণ। অপাত্রে আশা করে লাভ নেই সুতরাং! বরং বাংলাদেশ এগিয়ে যাক নিজের মতো, নিজের বিবেচনা সম্বল করে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই এপ্রিল, ২০১০ রাত ৩:৫৮
১২টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও অমলকান্তির মতো রোদ্দুর হতে চেয়েছিলাম

লিখেছেন কল্লোল পথিক, ২৭ শে জুন, ২০১৬ দুপুর ১২:২৪



আমিও অমলকান্তির মতো
রোদ্দুর হতে চেয়েছিলাম
স্কুল পালিয়ে রবীন্দ্রনাথ!
আমার কোন দিদির নাম দূর্গা ছিলো না
তার পরও পলাশ ডাঙ্গার মাঠ পেরিয়ে
রেল লাইনের সমান্তরলে সাম্যবাদের
পথে হেটে কলেজের দেয়ালে চিকা মেরেছিলাম।
"গোবিন্দ তোমার রক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি-বিভ্রম ( অন্যরকম কিছু ছবি ব্লগ)

লিখেছেন অশ্রুকারিগর, ২৭ শে জুন, ২০১৬ বিকাল ৩:১৭

ছবি তুলতে তো সবাই ভালবাসেন। যিনি সুন্দর ছবি তুলতে পারেন না তিনিও অন্যের তোলা সুন্দর ছবি মুগ্ধ হয়ে দেখেন। তাছাড়া ছবি দিয়ে খুব সহজেই মনের ভাব প্রকাশ করা যায়, এজন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর সকল সিনিয়ার, জুনিয়ার আড্ডাবাজ ব্লগারদেরকে আমন্ত্রন সামুপাগলার ব্লগবাড়িতে (আড্ডা পোষ্ট) :) :) :)

লিখেছেন সামু পাগলা০০৭, ২৭ শে জুন, ২০১৬ রাত ৮:৫৩

একটা সময় ব্লগে অনেক আড্ডা পোষ্ট আসত। অনেক ব্লগারদের ভার্চুয়াল মিলনমেলা ঘটত সেসব পোষ্টে। সামুর অনেককিছু হারিয়ে গিয়েছে। এটা হারাতে দিতে ইচ্ছে করেনা। আড্ডা পোষ্ট সব নতুন ও পুরোন ব্লগারদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তবুও বন্ধু... মন হলো না আপন... (এবারের তোমার আর আমার গল্প সিরিজে লিখেছি আমি শায়মা আর সুলতানা আপুনিমনি:))

লিখেছেন শায়মা, ২৭ শে জুন, ২০১৬ রাত ১০:৪৬


সুলতানার কথা....
অনেক্ষণ ধরে বসে আছি শায়মাদের ড্রয়িং রুমে। ওর দেখাই নেই। বসতে বসতে আমার পায়ে ঝিঝি ধরে গেছে। আমি পায়ের ঝিঝি কাটানোর জন্য হাঁটতে থাকি রুমের এ মাথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুর ব্লগারদের নাম এক কথায় প্রকাশঃ না পড়লে চরম মিস B-) :P

লিখেছেন মোঃ সাইফুল্লাহ শামীম, ২৮ শে জুন, ২০১৬ রাত ২:৫৮



১.কালো পানির নদী=কালনী নদী
২.বনে থাকে যে রাখাল =আরণ্যক রাখাল
৩.রোজ যে চায় দুইটা নতুন জামা=শায়মা
৪.খেলাকে বদলে দেওয়া যার কারবার=গেমচেঞ্জার
৫.সবসময় কোলাহলে থাকে যে পথিক=কল্লোল পথিক
৬.নীল আকাশ ছেড়ে সারাদিন সামুতে থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×