somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“নিজেকে খোঁজা” ।। সীমাহীন শূন্যতার মাঝে কি করুন ভাবে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমি ।।

০৬ ই মে, ২০১১ সকাল ১১:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“নিজেকে খোঁজা” ।। সীমাহীন শূন্যতার মাঝে কি করুন ভাবে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমি ।। দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কিস্তি একই সাথে ।।
( পূর্ব প্রকাশনার পর )
( দ্বিতীয় কিস্তি )
এই মূহুর্তে তোমার ভৌগলিক অবস্থানটি কি ? ডেস্ক বা ল্যাপটপের সামনে । পৃথিবীর একটি পূর্ণাঙ্গ মানচিত্র যদি তোমার সামনে থেকে থাকে তবে ওখানে তোমার এই অবস্থানটি চিহ্নিত করার চেষ্টা করোতো । কলমের একটি বিন্দুও কি বসাতে পারবে ওখানে তোমাকে বোঝাতে যে, তুমি এইখানে আছো ? না কি তোমাদের পুরো বাড়ীটিই চিহ্নিত করতে পারবে ? পারা যাবেনা এই জন্যে যে, তুমি এতোই ক্ষুদ্র এই পৃথিবীর তুলনায় ।পৃথিবী খুব বিশাল একটা ব্যাপার স্যাপার তাইনা ? আর যদি বলি, তোমার সামনে রাখা একটি প্রমান সাইজের মহাকাশের মানচিত্রে পৃথিবীকে দেখাও তো ? পারবে ? তুমি খুঁজেই পাবেনা পৃথিবী নামের এই বিশাল একটি গ্রহকে । কারন, ওটা ওখানে দেখানোর কোনও সুযোগ নেই, তুলনায় ওটা এতোই ছোট্ট।

এখোন তুমি হয়তো রেগে গিয়ে বলেই বসবে, “আমি কি বাচ্চা ? আমাকে এভাবে বোঝাচ্ছো কেন ?” রাগ করতে নেই , রাগ করা ভালো নয় । হাসিখুশি থাকবে সব সময় যেমন চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙে যায় সবখানে । সূর্য্য ও তো হাসে, তাইনা ?
আর শুধু এই হাসি ই নয় কান্নার ও দেখা পাবো এই বিশাল মহাবিশ্বে নিজেকে খুঁজতে গিয়ে ।
ওকে, এবারে শোনো – যে তারাদের (ষ্টার) পাড়ায় তোমার ঘুম ভাঙে সকাল বেলায় অর্থাৎ তুমি-আমি-আমরা বাস করি তার নাম ‘দুধপথ’ (এটা মজা করতে বললাম) আসলে ‘ছায়াপথ’ অর্থাৎ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি । কি মজা, তারাদেরও নাকি পাড়া আছে ! আমাদের এই পাড়াটিতে কতোগুলি বাড়ী আছে , থ্থুড়ী .. ষ্টার আছে ? । আমাদের পরিচিত সূর্যকে(এটি একটি ষ্টার) যদি একটি বাড়ী হিসেবে ধরি তবে এখানে আনুমানিক দশ হাযার কোটি বাড়ী বা ষ্টার আছে এরকম । না.. না.. গাঁজা-টাজা খাইনি । এটা বিজ্ঞানের হিসেবে । বিজ্ঞান বলছে, এ হিসেব কেবলমাত্র আমাদের পাড়ায় দৃশ্যমান তারাদের হিসেব । এর বাইরেও যে কতো কোটি তারা রয়েছে, যাদের আমরা দেখছিনে তার পরিসংখ্যান তাদের হাতে নেই । ওহ্‌ গড্‌ … যাদের দেখছিনে, যারা নেই তারা আবার হিসেবের মধ্যে এলো কি করে ! হয়.. হয় … এমোনও হয়, যেমন এই মূহুর্তে তুমি আমাকে দেখছোনা অথচ মনে মনে কষে গাল দিচ্ছো এমোন ইনিয়ে বিনিয়ে লিখছি বলে, তার মানে আমি হিসেবের মধ্যেই আছি কোথাও না কোথাও । বিজ্ঞান বলে, দেখছিনে বলেই কি তাদের অস্তিত্ব ছিলো না কিম্বা নেই ? ছিলো এবং আছে । এই রকম ভাবেই তারারাও আছে অদৃশ্য, যাদের হিসেব আমরা জানিনে । বেশ জটিল মনে হচ্ছে ? আসলে ওরা জাতীয় পরিচয় পত্রের (ষ্টার ইনডেক্স) জন্যে ছবি তুলতে লাইনে দাঁড়াতে পারেনি । পারবে কি করে ? ওরা যে হারিয়ে গেছে অভিমানে অনেক অনেক দিন আগে । আর কোনদিনও তাদের দেখা আমরা পাবোনা । ওদেরকে ফিরিয়ে আনলে খুউব ভালো হতো তাইনা ? বিজ্ঞান বলছে, ওরা যে ভোঁ-দৌড়ে দৌড়িয়ে আমাদেরকে ফেলে রেখে গেছে পেছনে, অতো জোড়ে দৌড়ানোর শক্তি নেই আমাদের ঠাংয়ে । সুতরাং ওদের কাছে গিয়ে হাতখানি রেখে হাতের পরে যে বলবো, “ফিরে এসো, হে নীলিমা” তা আর হচ্ছেনা । হবেও না কোনদিন ………….

(তৃতীয় কিস্তি )

…… হবেও না কোনদিন ………….
কারন ওরা ছুটছে আলোর বেগের চেয়েও দ্রুত । আলোর গতিবেগ জানো নিশ্চয়ই ? উমমমমমম্ … গাল ফুলিও না । সেকেন্ডে, একলক্ষ ছিয়াশী হাযার মাইল । হারিয়ে যাওয়া সেই নীল তারারা এখোন কতোদুরে জানো ? তুমি জানবেই বা কি করে, যেখানে বিজ্ঞান নিজেই জানেনা ? ওরা কোনও ঠিকানা দিয়ে যায়নি আমাদের ! ঠিকানা জানা থাকলেও লাভ হোতনা কিছুই । কারন ঐ রকম গতিবেগে ছুটবে এমোন কোন যানবাহন নেই আমাদের, যে ওদের পিছু ধাওয়া করে বুড়ীটি ছুঁয়ে ফেলবো । আচ্ছা এসো, যারা আমাদের ভালোবাসা পায়ে ঠেলে দুরে সরে গেছে তাদের কথা কিছুক্ষন ভুলে থাকি না হয় । নিজেদের বাড়ীতে ফিরে যাই ।

এই বাড়ীটির মানে আমাদের সূর্য্যদেব এর উঠোনে আমরা অনেকগুলো ছোট ছোট গেষ্ট-হাউস, এখোন পর্যন্ত্ এরকম এগারোটি গেষ্ট-হাউস বা “গ্রহ/প্লানেট” নিয়ে আমাদের এই সোনালী আলোর সংসার । আমাদের মূল ঘরটি, মানে সূর্য্যটি নাকি যৌবন হারিয়ে মাঝবয়সী । এই মরলো বলে । অথচ দ্যাখো, এখোনও কি তার তেজ ! জ্বলছে, হৃদয়ের ভেতরে আগুনের পরশমনি জ্বালিয়ে, জ্বলছে । তোমার – আমার বেঁচে থাকার জন্যে সূর্য্যের এই নিজেকে পোড়ানো কি অদ্ভুত আত্মাহুতি ( সে আর এক কাহিনী ) তাইনা ? ধিকিধিকি নয়, কতো আগুন যে দাউদাউ করে জ্বলছে তার বুকে তুমি জানো ? তুমি আনবিক বোমা এবং তার ধংশের শক্তির কথা এতোদিনে জেনে থাকবে । হিরোশিমা কিম্বা নাগাসাকির দিকে তাকালেই চলে । ‘এ্যানোলা গে’ নামের যে বিমানটি থেকে প্রথম যে বোমাটি ছোড়া হয় তার নাম ছিলো ‘লিটল্‌ বয়’ । মাত্র বিশ হাযার টন “টিএনটি”র ধংশ ক্ষমতা ছিলো তাতে । জানলে অবাক হবে, সূর্য্যের বুকে প্রতি মূহুর্তে এরকম লক্ষ লক্ষ আনবিক বোমার আগুন জ্বলছে । জ্বলছে, গেল চারশো পঞ্চাশ কোটি বছর ধরে । কতো জ্বালা তার বুকে অনুমান করো । এই যে এখোন, আমার এই লেখাটি পড়তে পড়তে তোমার (পাঠক, আপনাদের ও ) যে গা পুড়ে যাচ্ছে রাগে; তার মাত্রা কতো ? মেপে দ্যাখো, মাত্র ৩৮ থেকে ৩৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস । অসহ্য তাইনা ? আর সুর্য্যের এই রাগ গিয়ে ঠেকেছে প্রায় এককোটি চল্লিশ লক্ষ ডিগ্রী সেলসিয়াসে । অসহ্যের ও বাইরে । ভাবা যায় ? বিজ্ঞান বলছে এর চেয়েও নাকি বেশী রাগী তারার সংখ্যা অগনিত ।
সূর্য্যের এতো যন্ত্রনা কেন ? কারন তার ভালোবাসার প্রথম কদমফুল খৈ’এর মতো ফুঁটছে তাতে । মহাশূন্যের প্রথম মৌল হাইড্রোজেন জোড়া লেগে হিলিয়ামে পরিনত হচ্ছে যে । ভালোবাসা প্রথমে হাল্কা থাকে, ধীরে ধীরে ভারী বা গাঢ় হয়, এটা আমরা সব্বাই ই জানি । মহাবিশ্বের প্রথম ভালোবাসা, দু’টো হাইড্রোজেন অনুর এক হয়ে যাওয়া । ঠিক যেন মানুষের ভালোবাসার মতো, দু’টো প্রান এক হওয়া । তাই হাইড্রোজেন সূর্য্যের আনবিক চুল্লীতে গাঢ় হয়ে যখোন ভারী অনু হিলিয়ামে পরিনত হচ্ছে তখোন তৈরী হচ্ছে শক্তি আর ছড়াচ্ছে ভালোবাসার উত্তাপ । সূর্য্যের বুকে প্রতি সেকেন্ডে ৬২০ মিলিয়ন মেট্রিক টন হাইড্রোজেন এভাবেই জোড়া লেগে যাচ্ছে । এই উত্তাপ থেকে জন্ম নিচ্ছে গামা রশ্মি । আমরা পাচ্ছি আলো । তারপর …… ?
……………. এই আলোতেই দৃশ্যমান হচ্ছে জগৎসংসার । লক্ষ কোটি তারাদের এমনি রয়েছে আলো তৈরীর নিজস্ব কারখানা , নিউক্লিয়র রি-এ্যাক্টর । তারাদের এই আলোতেই আমরা তাদের দেখতে পাই । রাতভর বৃষ্টির মতো, রাতের আকাশেও আলোর বন্যা বয়ে চলে । আমরা গান গাই, কেউ আসবে বলে জেগে থাকি ।

( চলবে…. গুছিয়ে লেখার খাতিরে কিছুটা সময় আপনাদের কাছে চাইছি, দেবেন তো ?)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মে, ২০১১ সকাল ১১:৫৫
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×