সন্তান বিখ্যাত কি অবিখ্যাত, সে জিনিষ তার কাছে কোনও ব্যাপার নয়। তার কাছে সে কোলের শিশুটির মতোই এই টুকুন । যাকে ধমকানো যায়, শাসন করা যায়..এই আর কি !
যদি পৃথিবী বিখ্যাত সন্তানদের মা’য়েরা তাদের সন্তানদের কি বলতে পারেন একটু কল্পনা করে দেখি, কেমোন হয়? ………………………
কলম্বাসের মা – “বাইরে টো-টো করে ঘুরে তুমি কি আবিষ্কার করেছ না করেছ তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসেনা । বাইরে বাইরে না ঘুরে,ঘরে বসে তুমি এটা লিখে দিতে পারতে….”
মাইকেলেঞ্জেলোর মা - “ বাছা, তুমি কি অন্য বাচ্চাদের মতো শুধু দেয়ালে আঁকিবুকি করতে পারোনা ? তোমার কি ধারনা আছে, সিলিঙয়ে যেসব ছাইপাশ এঁকেছো তা মুছে ফেলতে আমাকে কতো কষ্ট করতে হবে ?”
আব্রাহাম লিংকনের মা – “ আবার তুমি ঐ “ষ্টোভপাইপ” টুপিটা মাথায় দিয়েছ ? একটু ভদ্র হতে শেখো। অন্য ছেলেদের মতো একটা “বেসবল” টুপি মাথায় দিলেই তো হয় ……”
আইনষ্টাইনের মা – “তুমি এতো এতো থিওরী দিচ্ছো রোজ, বুদ্ধি দিচ্ছো সবাইকে অথচ তোমার চুলগুলি যে ছ্যারাবেড়া সেটা সোজা করার কোনও বুদ্ধিতো তোমার মাথায় দেখিনা ! একটু স্টাইলিং জেল না হয় নিদেনপক্ষে একটু সর্ষের তেলও তো মাথায় মাখতে পারো !”
মোনালিসার মা – “ তোর দাঁত বাঁধাতে আমি আর তোর বাপ যে এত্তোগুলি টাকা খরচ করলাম আর তুই এর চেয়ে জোরে একটা হাসি আমাদের দিতে পারলিনা ? একটা দাঁতও তো দেখাতে পারতি !আহাম্মক…”
নেপলিয়নের মা – “ ঠিক আছে বাছা, তুমি কি দ্বিগ্বিজয় জয় করেছো এই রিপোর্ট কার্ডটি যদি পকেটে ঢুকিয়ে না থাকো তবে পকেট থেকে হাত বের করে দেখাও…”
থমাস এডিসনের মা – “ বুঝলাম, রাত জেগে আকাম করতে যাতে সুবিধা হয় এজন্যে তুমি ইলেক্ট্রিকবাল্ব বানিয়েছো । এবার এটা নিভিয়ে ঘুমাতে যাও… রাত অনেক হয়েছে ।”
বিলগেটসের মা – “ তোমার কি আর কোনও কাজ নেই বাছা ? লেখাপড়া বাদ দিয়ে সারাটি দিন বখাটে ছেলেদের মতো কম্পিয়্যুটার নিয়ে মেতে আছো, লজ্জা করেনা ? ”
মার্ক জুখারবার্গের মা – “তোমার স্বভাব চরিত্র তো দিন দিন খারাপ হচ্ছে । ফেসবুকে চ্যাট করে করে তো আজকালকার ছেলেপুলে গোল্লায় যাচ্ছে । আর তুমি কিনা সারাদিন সেই ফেসবুক নিয়ে পরে আছো ?”
ষ্টিফেন হকিংয়ের মা – “ সারাদিন তো ম্যাটার, এন্টি-ম্যাটার নিয়ে আছো । পার্টিকেলস কি ভাবে কাজ করে, কতো শক্তি তার, কিভাবে জোড়া লাগে আর কি হয়, এইসব বয়ান দিচ্ছো সবাইকে । নিজের ভাঙ্গা হাত-পা’য়ে একটু জোর আনার জন্যে নিউরোন পার্টিকেলসকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় এইসব চিন্তা ভাবনা করলেও বুঝতাম একটা কাজের কাজ করছো ।”
রবীন্দ্রনাথের মা – “ বাবা, জীবনভর তো গান ল্যাখছো, লম্বা দাড়ি রাইখ্যা আমারে ফ্যালাইয়া সারা দেশ ঘুইররা ব্যারাইছো, হেই দুঃখ না হয় চাপা দিমু ।একটা দোতারা নাইলে আমি তোমার হাতে দিতে পারি নাই । কিন্তু এতো কিছু কইররাও তুমি লালন ফকির হইতে পারলানা, হেই দুঃখ রাহি কই ?”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

