somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি কি পারবেন আপনার মাকে কেটেকুটে বিক্রি করে দিতে ??

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





এক.

পর্দার ফাঁকে উঁকি দিয়ে মা দেখলেন তার ছেলে শমশের আকন্দ একটা কাগজ নিয়ে বিরস মুখে বসে আছেন। দেখে মায়েরও একটু মন খারাপ হল, সেই ছেলেবেলায় যখন খুব কষ্টের সংসার ছিল তখন থেকে ছেলেকে সবসময় হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করে এসেছেন। শৈশবে কাজটা সহজ ছিল- এখন ছেলে বড় হয়ে গেছে, কাজটা এখন আর এত সহজ নয়। মা বেশির ভাগ সময়ই বুঝতে পারেন না কী নিয়ে ছেলের মন-মেজাজ খারাপ। পর্দার ফাঁক দিয়ে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে মা একটু ইতস্তত করলেন, ছেলে বড় হয়েছে, যখন তখন তার কাছে হুট করে যাওয়া মনে হয় ঠিক নয়- তবু শেষ পর্যন্ত পর্দা ঠেলে ঢুকে গেলেন। শমশের আকন্দ মাকে দেখে ভুরু কুঁচকে তার দিকে তাকাল। মা জিজ্ঞেস করলেন ‘শমশের বাবা, তোর কি হয়েছে? এই সকাল বেলায় এ রকম মুখ কালো করে বসে আছিস কেন?’

শমশের আকন্দ তার মুখটাকে আরো কালো করে বলল, ‘কে বলেছে মুখ কালো করে বসে আছি?’

মা ইতস্তত করে বললেন, ‘কী হয়েছে তোর? সব সময় দেখি কপাল কুঁচকে বসে থাকিস!’

শমশের আকন্দ একটু বিরক্ত হলো। সে তার হতদরিদ্র দিনগুলোর কথা মনে করতে চায় না- অথচ সুযোগ পেলে মা সেই সময়ের কথা টেনে আনে। এখন সে যে কোনো হিসেবে বড়লোক- বারিধারায় একটা ফ্ল্যাটে মাকে নিয়ে থাকে। উত্তরায় দুটো ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে রেখেছে। সেফ ডিপোজিটে বড় একটা অংকের টাকা। দুটো গাড়ি, একজন সার্বক্ষণিক ড্রাইভার। এখন তাকে দেখলে কেউ বুঝতে পারবে শৈশবে সে প্রায় বস্তিতে মানুষ হয়েছে? তার মা ফ্যাক্টরিরে শ্রমিকের কাজ করেছে, সেলাই করেছে? মা নিজে পড়াশোনা করেনি, কিন্তু পড়াশোনার গুরুত্বটা ঠিকই জানত, শমশের যখন পড়ত তখন মা পাশে বসে থাকত। সারাদিনের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের পর মায়ের চোখ বন্ধ হয়ে আসত; কিন্তু মা তবু চোখ খোলা রেখে পাশে বসে তাকে হাত-পাখা দিয়ে বাতাস করত।

মা কাছে এসে ছেলের মাথায় হাত দিয়ে বললেন, ‘কী এত চিন্তা করিস বাবা? আল্লাহর ইচ্ছায় এখন আমাদের কোনো অভাব নাই। তোর এখন যত টাকা সেটা দিয়ে গ্রামের সব মানুষের সংসারের খরচ দিতে পারবি। পারবি না?’


শমশের আকন্দ হাত দিয়ে তার মাথা থেকে মায়ের হাতটা সরিয়ে বলল। ‘আহ মা তুমি যে কী আজব কথা বলো। আমি কেন গ্রামের সব মানুষের সংসার খরচ দিব?’

মা একটু থতমত খেয়ে বললেন, ‘আমি তো আসলেই দিতে বলছি না- শুধু একটা কথার কথার বললাম আর কি।’ একটু ইতস্তত করে বললেন, ‘আর দিলেই কী? আল্লাহ তোকে এত দিয়েছে, তুই না হয় গরীব আত্মীয়-স্বজনদের একটু দিলি আর কি।’

শমশের আকন্দ বিরক্ত হয়ে বলল, ‘আল্লাহ আমাকে এমনি এমনি দেয়নি, আমাকে অনেক কষ্ট করে টাকাগুলো রোজগার করতে হয়েছে।’

মা মাথা নাড়লেন- বললেন, ‘তা ঠিক।’

‘আমার এত কষ্টের টাকা আমি বিলিয়ে দিতে পারব না।’

মা একটু ইতস্তত করে বললেন, ‘ঠিক আছে না দিলি। কিন্তু এই টাকা-পয়সা নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ কর দেখি।’

শমশের আকন্দ হাত নেড়ে বলল, ‘ওসব তুমি বুঝবে না মা। তুমি এখন যাও দেখি- আমাকে একটু কাজ করতে দাও।’

মা মুখে আহত ভাবটা লুকিয়ে রেখে দুর্বল ভঙ্গিতে একটু হাসার চেষ্টা করলেন। তারপর বিব্রত ভঙ্গিতে পর্দা ঠেলে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন।

মায়ের সঙ্গে এ রকম দুর্ব্যবহার করে ফেলেছে বলে মুহূর্তের জন্য শমশের আকন্দের ভেতরে একটু অপরাধবোধ উঁকি দিয়ে গেল, শমশের আকন্দ অবশ্যি সেটাকে গুরুত্ব দিল না, ভেতর থেকে জোর করে সেটা ঠেলে বের করে দিয়ে কাগজটার দিকে তাকাল।

নতুন একটা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে সে, তার জন্য এই মুহূর্তে তার কিছু টাকার দরকার। শমশের আকন্দের টাকার অভাব নেই, কিন্তু সেই টাকা কোথাও না কোথাও কাজ করে তার জন্য আরো টাকা তৈরি করছে। এই নতুন প্রজেক্টে ঢালার মতো হাতে কোনো টাকা নেই। টাকার বড় অংশটা প্রায় ম্যানেজ হয়ে গেছে, এখন আর অল্প কিছু হলেই হয়। সেটা কোথা থেকে পাওয়া যায় বুঝতে পারছে না।

শমশের আকন্দ হিসাবটার দিকে আরো একবার চোখ বুলিয়ে টেবিলে রেখে খবরের কাগজ টেনে নিলো। আজকাল তার আর খবরের কাগজ পড়ার ইচ্ছে করে না। কোথাও কোনো ভাল খবর নেই। খুন-খারাবি, চুরি-ডাকাতি থেকে শুরু করে এসিড মারা, ধর্ষণ, ক্রসফায়ার, কী নেই। শমশের আকন্দ খবরের কাগজটা ভাঁজ করে সরিয়ে রাখছিল, তখন হঠাৎ করে একটা খবরে চোখ আটকে গেল। কোনো একজন মরণাপন্ন রোগী কিডনি কেনার জন্য বিজ্ঞাপন দিয়েছে। কী আশ্চর্য, মানুষ কি আজকাল কিডনি বেচাকেনা করে নাকি?

বিজ্ঞাপনের নিচে একটা টেলিফোন নম্বর দেওয়া আছে, কী ভেবে শমশের আকন্দ সেই টেলিফোন নম্বরে ডায়াল করল। দু’বার রিং হতেই কেউ একজন টেলিফোন ধরে ভারি গলায় বলল, ‘হ্যালো।’

শমশের আকন্দ বলল, ‘খবরের কাগজে একটা বিজ্ঞাপন দেখলাম, আপনারা একটা কিডনি কিনতে চাইছেন।’

‘হ্যা।’ টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে ভারি গলায় বলল, ‘আমাদের খুব দরকার। আছে কেউ আপনার পরিচিত।’

‘সেটা নির্ভর করে আপনারা কী রকম দাম দেন তার ওপর।’

‘মার্কেট প্রাইজের ডাবল দাম দেব। ২ লাখ টাকা। ১ লাখ আগে, ট্রান্সপ্ল্যান্টের পর বাকি ১ লাখ। মেডিকেল খরচ আমাদের।’ শমশের আকন্দ শিস দেওয়ার মতো শব্দ করল, কিডনি এত দামে বিক্রি হয় কে জানত। অন্যপাশ থেকে মানুষটি ভারি গলায় বলল, ‘আমাদের পরিচিত ক্লিনিক আছে, সব রকম গোপনীয়তা রাখা হবে। কাকপক্ষী টের পাবে না। আপনার কোন ভয় নাই।’

শমশের আকন্দ এতক্ষণ নেহাত কৌতূহলের বশে কথা বলছিল, শেষ কথাটি শুনে সোজা হয়ে বসল। বলল, ‘আমি যদি কাউকে নিয়ে আসি, তাহলে তার দুই কিডনিতে ৪ লাখ টাকা পাব?’

অন্য পাশের মানুষটি ভারি গলায় বলল, ‘এর বেশিও হতে পারে। এ দেশে টাকার অভাব নেই, হাত বাড়িয়ে সেই টাকা ধরার মানুষের খুব অভাব।’

শমশের আকন্দ উত্তেজিতভাবে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, ‘ঠিক আছে, আপনি ঠিকানা দেন। আমি আসছি।’

টেলিফোনের অন্যপাশ থেকে ভারি গলায় মানুষটি বলল, ‘কাগজ কলম আছে? তাহলে লিখে নিন।’

শমশের আকন্দ তার কাগজটিতে ঠিকানা লিখে কাগজটা ভাঁজ করে পকেটে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত সে হয়তো তার টাকার সমস্যা সমাধান করে ফেলতে পারবে। মা রান্নাঘরে চুলোয় একটা ডেকচি বসিয়ে চামচ দিয়ে ভেতরে নাড়ছিলেন, শমশের আকন্দ দরজায় দাঁড়িয়ে ডাকল, ‘মা।’

মা মাথা ঘুরিয়ে বললেন, ‘কী হলো বাবা।’

‘চলো আমার সঙ্গে।’

মা অবাক হয়ে বললেন, ‘তোর সাথে? কোথায়?’

শমশের আকন্দ ইতস্তত করে বলল, ‘তোমার অনেকদিন কোন মেডিকেল চেকআপ হয়না। চলো চেকআপ করিয়ে আনি।’

‘মেডিকেল চেকআপ? আমার?’ মা চোখ কপালে তুলে বললেন, ‘আমার হাট্টাকাট্টা শরীর, কোনো রোগ-বালাই নাই। আমার কেন মেডিকেল চেকআপ করবি?’

‘করতে হয় মা। সবাইরই মাঝে মাঝে মেডিকেল চেকআপ করতে হয়। চলো, দেরি করো না।’

‘কিন্তু আমি যে রান্না চাপিয়েছি? শেষ করে নিই।’

‘উঁহু। পরে এসে রান্না করবে। এখন চলো।’

মা ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা নিঃশ্বাস ফেলে চুলো থেকে ডেকচিটা নামিয়ে রেখে চুলোটা বন্ধ করে দিলেন। হাত ধুয়ে নিজের ঘরে গিয়ে শাড়িটা বদলে এসে বললেন, ‘চল। তোর পাগলামি আর গেল না।’

শমশের আকন্দ কিছু বলল না।

ক্লিনিকের ডাক্তার অনেকক্ষণ মাকে পরীক্ষা করলেন। তারপর স্টেথিস্কোপটা খুলে গলায় ঝুলিয়ে বললেন, ‘আপনার শরীরটা একেবারে পারফেক্ট। কোনো সমস্যা নেই।’

মা লাজুক ভঙ্গিতে হেসে বললেন, ‘আমি জানি। আমার ছেলেকে সেটা বোঝাতে পারলাম না।’

ডাক্তার সরু চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আপনি এখানে বসেন। আমি আপনার ছেলের সঙ্গে কথা বলে আসি।’

মা মাথা নেড়ে চুপ করে বসে রইলেন।

ডাক্তারকে দেখে শমশের আকন্দ উঠে দাঁড়িয়ে বলল, ‘কেমন দেখলেন ডাক্তার সাহেব?’

‘একেবারে পারফেক্ট। আপনার মা শরীরের যত্ন নিয়েছেন, তার শরীর খুব ভাল রয়েছে।’

শমশের আকন্দ হাসল, বলল, ‘গরিবের মেয়ে ছিলেন। সারা জীবন শারীরিক পরিশ্রম করেছেন, এখনো তার অভ্যাসটা যায় নি, সেই জন্য স্বাস্থ্য এত ভালো।’

ডাক্তার সাহেব বসে বললেন, ‘ঠিক আছে তাহলে কাজের কথায় চলে আসি।’

শমশের আকন্দ মাথা নাড়ল, বলল, ‘বেশ।’

‘আপনি দু’টি কিডিনিই দিতে চান। একটা নিলে কিন্তু আপনার মা বেঁচে থাকতে পারবে।’

‘আমার খুব টাকার দরকার ডাক্তার সাহেব।’

‘ঠিক আছে। তাহলে দু’টিই নিচ্ছি। আপনার মা যখন মারাই যাবেন, তাহলে তার অন্যান্য অর্গান রেখে কী করবেন? সেগুলোও দিয়ে দেন।’

শমশের আকন্দ চকচকে চোখে সোজা হয়ে বসে বলল, ‘অন্য কিছুও বিক্রি করা যায় নাকি?’

‘আমাদের দেশে হার্ট ট্রান্সপ্লান্ট হয় না, কিন্তু আইসব্যাগে ভরে সিঙ্গাপুরে পাঠাতে পারি। সেখানে সাংঘাতিক ডিমান্ড। আমাদের এগ্রেসিভ এজেন্ট আছে, ভালো দামে বিক্রি করে দেবে। লিভারটা কাজে লাগাতে পারব না, কিন্তু টিস্যু ব্যবহার করতে পারব।’

শমশের আকন্দ মুখের লোল টেনে বলল, ‘ফ্যান্টাস্টিক ডাক্তার সাহেব। আপনি যা পারেন ব্যবহার করেন। শুধু দেখবেন যেন ভাল দাম পাই।’

‘দাম নিয়ে আপনি মাথা ঘামাবেন না। আমরা প্রফেশনাল, আমাদের ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক- একটা ভাল অর্গান পেলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে এয়ার লিফট করে বাইরে পাঠিয়ে দিই। পার্টি যদি চায় আমরা ডলারেও পেমেন্ট করতে পারি।’

শমশের আকন্দ মাথা নেড়ে বললেন, ‘না, না। আমার ডলারের দরকার নেই। লোকাল কারেন্সিতে হলেই হবে।’

‘চমৎকার। আসুন তাহলে ফাইন্যান্সিয়াল কাজগুলো সেরে নিই। বেশ বড় একটা অ্যামাউন্ট পাবেন। আমাদের ফাইন্যান্স মিনিস্টারের বদান্যতায় এই টাকাগুলো আপনি সাদা করে ফেলতে পারেন।” ডাক্তার সাহেব খুব বড় একটা রসিকতা করে ফেলেছেন- এ রকম ভান করে হা হা করে হেসে উঠলেন।

অপারেশন থিয়েটারে শুয়ে মা অবাক হয়ে বললেন, ‘ডাক্তার সাহেব। আমার শরীরে তো কোনো রোগ বালাই নেই, তাহলে এখানে কি করছেন?’

ডাক্তার সাহেব মায়ের মুখের উপর মাস্কটা লাগিয়ে বললেন, ‘জোরে একটা নিঃশ্বাস নেন।’

মা নিঃশ্বাসের মাঝে কটু একটা গন্ধ পেলেন এবং হঠাৎ করে তার হালকা লাগতে থাকে। চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল, জোর করে খোলা রাখার চেষ্টা করে বললেন, ‘কী হয়েছে আমার ডাক্তার সাহেব?’

ডাক্তার সাহেব হা হা করে হাসলেন, বললেন, ‘আপনার কিছু হয় নি। আমরা আপনাকে কেটে আপনার ভেতরে যা আছে সব নিয়ে নেব। সেগুলো খুব ভালো দামে বিক্রি হয়েছে।’

মা বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে রইলেন, ফিস ফিস করে বললেন, ‘আমার ছেলে কোথায়- আমি আমার ছেলের কাছে যাব।’

ডাক্তার সাহেব মাথা নিচু করে বললেন, ‘আপনার ছেলেই আপনার সবকিছু আমাদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে!’

মা বড় বড় চোখে তাকিয়ে রইলেন। হাতে চাকু তুলে নেওয়ার পর ডাক্তার সাহেব লক্ষ করলেন মায়ের চোখ থেকে ফোঁটা ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ছে।

দুই.

আমি আগেই বলেছি এটি একটি কাল্পনিক গল্প। শুধু কাল্পনিক নয়, বীভৎস গল্প। এটি লিখতে গিয়ে একটু পরপর আমার হাত থেমে এসেছে, তবু আমি জোর করে লিখেছি। আমি জানি কখনোই এরকম ঘটবে না। একজন সন্তান কখনোই তার মাকে কেটেকুটে বিক্রি করে দেবে না।

কিন্তু দেশ তো মায়ের মতোই। আমরা যদি মাকে কেটেকুটে বিক্রি করে না দিই, তাহলে কেমন করে নিজের দেশকে কেটেকুটে বিক্রি করে দিই? টেংরাটিলার বিস্ফোরণে এই দরিদ্র দেশের হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে। এই সম্পদ নষ্ট হয়েছে নাইকোর সঙ্গে দেশ বিক্রি করার চুক্তির কারণে। আমরা খবরের কাগজে দেখেছি জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন কোটি টাকার গাড়ি ঘুষ নিয়ে নাইকোর কাছে নিজের দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়েছেন। খবরের কাগজে দেখেছি দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার সেই চুক্তির সঙ্গে আমাদের আইনমন্ত্রী মওদুদ আহমেদের ফার্ম জড়িত ছিল। তারা নিজের দেশের স্বার্থ দেখেননি, নিজেদের স্বার্থ দেখেছেন।

আমরা যদি আমাদের মাকে কেটেকুটে বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার কথা চিন্তাও করতে না পারি, তাহলে এ দেশের মানুষ হয়ে তারা কেমন করে এই দেশকে কেটেকুটে বিক্রি করে দিচ্ছে?

আমার দেশ কি আমার মা নয়?



আমার নোটঃ

মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এই লেখাটি লিখেছিলেন ২০০৫ সালে(প্রথম আলোর উপসম্পাদকীয়তে)। তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপির মন্ত্রী-আমলাদের দেশ বিক্রির চিত্র দেখে । রাজা যায় রাজা আসে। সরকার পরিবর্তন হয়েছে, পরিবর্তন হয় নি দেশকে কেটেকুটে বিক্রি করে দেওয়ার কনসালটেন্ট-আমলা। বঙ্গোপসাগরের ২৮ টি ব্লকের দু’টি ব্লক মার্কিন কোম্পানী কনোকো ফিলিপসকে ৮০% মালিকানা ও রপ্তানীর সুযোগ সহ ইজারা দেয়া হয়েছে গত ১৬ জুন। উক্ত ১০ ও ১১ নম্বর ব্লকের একাংশ নিজেদের বলে বাদী করে আসছে ভারত ও মিয়ানমার। কনোকো ফিলিপসের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে শুধুমাত্র বিরোধহীন অংশে। অর্থ্যাৎ এই চুক্তির মধ্য দিয়ে একদিকে ভারত ও মিয়ানমারের দাবী মেনে নেয়া হল, অপরদিকে বিরোধহীন অংশকে তুলে দেয়া হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। এই চুক্তি জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। জাতীয় কমিটি এই চুক্তি বাতিলের দাবীতে ধারাবাহিক আন্দোলন করেছে, ৩ জুলাই হরতালও ডেকেছে। আমরা কি আমাদের মাকে কেটেকুটে বিক্রি করতে দেব নাকি জাতীয় কমিটির আন্দোলনে শরিক হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো???
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:০৮
১২টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×