আমি দুই টাকার নোট। আপনারা সবাই আমাকে চেনেন আর বাচ্চারা জীবনের প্রথম টাকা হিসেবে আমাকেই চেনে। কারণ আমার একপাশে বাংলাদেশের জাতীয় পাখির ছবি আর অন্যপাশে শহীদ মিনার। আমার পূর্ব পুরুষের জন্ম ১৯৮৯ সালে আর আমার জন্ম ২০০২ সালে। একসাথে আমাদের অনেকের জন্ম হয়েছিলো কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই একেক জন এক এক ব্যাংকে চলে গেলাম। আর ব্যাংক থেকে সাধরণ মানুষের হাতে। তার পর থেকে শুধুই মানুষের সেবা করে আসছি। কিন্তু মানুষ আমাদের বলে আমরাই নাকি সকল অনর্থের মূল। কিন্তু আমাদের প্রতি মানুষের লোভ-লালসাই রচনা করছে সব কলঙ্কিত অধ্যায়ের।
আমার বয়স বেশি না তবে তবুও আমি ঘুড়েছি বাংলার পথে-প্রান্তরে, মসজিদ,মন্দির,গির্জা সবখানে, ভিক্ষুকের থালা আর বড়লোকের মানিব্যাগে, শিক্ষিত আর অশিক্ষিতর হাতে, ধনী- দরিদ্রের ভেদাভাদ ভুলে সব খানে। নতুন অবস্থায় আমাদের সবাই খুব যত্ন করে রাখে কিন্তু যখন ভালোবাসাটা একটু কমে শুরু হয়ে যায় হাত বদলের পালা। দিনে-রাতে কতবার হাত বদল হই বলা মুশকিল। তবে একটা জিনিস দেখেছি ধনীদের নিকট আমার কদর একটু কম হলেও এই আমি গরিবের মুখ হাসি ফুটিয়েছি বহুবার। ধনীদের নিকট আমার কদর কম হলেও মজা লাগে যখন তারা ভাংতি টাকা নিয়ে বিপাকে পড়ে।
আমি প্রথম যার কাছে ছিলাম তার কথা আমার এখনো মনে পড়ে। ছেলেটা আমাকে অনেকদিন তার মানিব্যাগে যত্ন করে রেখেছিলো, ভাজ পর্যন্ত করেনি। তার পর পড়লাম এক খবিশের হতে ব্যটা আমাকে ভেঙ্গে ভাজকরে ফেললো। এরপর থেকে ভাঙ্গা অবস্থায়ই আছি। তার পর একবার তো মারাই পড়ছিলাম প্রায় এক মহিলা তার স্বামীর শার্ট ধুচ্ছিলো আর আমি ছিলাম শার্টের ভিতরে, ব্যস আর কি আমার তো দম বন্ধ অবস্থা। কিন্তু ভাগ্যভালো হওয়াতে মহিলা আমাকে দেখতে পায় আর আমিও জীবনটা ফিরে পাই, তবে ঠান্ডা লেগে গিয়েছিলো।
জীবনে চলারপথে হঠাৎ করে একদিন দেখা হয়ে গেলো আমার সাথে জন্ম নেওয়া এক নোটের সাথে। ও খুব সুখেই আছে তবে এর পিছনের কারণটা একটু অন্য রকম। এক মেয়ে ওর গায়ে মেয়ের বাড়ির ঠিকানা লিখে দিয়ে দিলো আর গিয়ে পড়লো এক ছেলের হাতে তার পর আর কি ছেলে আর মেয়ের মাঝে শুরু হলো চিঠি বিনিময়। শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা কিন্তু কোন লাভ হলো না মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেলো তখন ছেলেটা আমাকে পোষ্ট করে আবার মেয়েটার কাছে পাঠিয়ে দেয়। এর পর থেকে মেয়েটার কাছেই আছি, কোন কাজ নেই বাক্স বন্দী। তবে মাঝে মাঝে মেয়েটা আমাকে দেখতে আসে। আর এখন কেউ আর বসার ঠিকানা লিখে না মোবাইল নাম্বার লিখে। তবে এটা কতটা ঠিক বুঝতে পারি না।
আমাদের অনেকে সুখে থাকলেও অনেকে খুব অল্প বয়সেই মারা যায় নানা ভাবে। আজ আমার বয়স ৭বছর। জরাজীর্ণ হয়ে গেছি আমি, শরীরটা দু'এক জায়গায় ছিঁড়ে গেছে। আবার অনেকের তো পুরো শরীরে কস্টিপ ছাড়া কিছুই যেন নাই। তবুও মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। তবে ঐ দিন এক লোক বলছিলো দুই টাকার নোটের উপর নাকি রীতি মতো অত্যাচার চলছে।
আমিও বিষয়টা ভাবছি................................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


