বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশ দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা দাবি করছে (ভারত একে বলে নিউমুর/ পূর্বাশা দ্বীপ)। এটি ”ইউ” আকৃতির। সীমান্তবর্তী হাড়িয়াভাঙা নদীর মোহনায় ২১ডিগ্রী ৩৬.০উত্তর এবং ৮৯ ডিগ্রী ০৯.১০ দ্রাঘিমাংশ পূর্বে এর অবস্থান। ভারত দ্বীপের মালিকানা দখল করতে নৌ-জাহাজ এবং আইএনএস আন্দামান নামক ফ্রিগেট পাঠায়। বাংলাদেশ এটি প্রতিহত করে এবং এ সময় দ্বীপে ১টি লাইটহাউজ নির্মাণ করে। সে সময় ভারত আমাদের সমুদ্রসীমা লংঘন করে রায়মঙ্গল মোহনা অতিক্রম করে। ভারতের স্বার্থ হচ্ছে- দ্বীপটি দখল করতে পারলে – এটির নিজস্ব সমুদ্রসীমায় অর্থনৈতক অঞ্চল (ইইজেড) এবং সিএস থাকবে, যা বাংলাদেশের সমুদ্রে প্রবেশ সীমাবদ্ধ করবে।
১৯৭৮ সালে উভয় দেশ সমস্যাটির সমাধানের জন্য আলোচনা করে কিন্তু মধ্য স্রোতের প্রবাহ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। বাংলাদেশ দাবি করে, নদীটির প্রধান স্রোত দ্বীপটির পশ্চিমে প্রবাহিত হয়েছে। যেখানে ভারত দাবি করে এটি পূর্বে প্রবাহিত হয়েছে। উভয় সীমান্তবর্তী নদী হাড়িয়াভাঙা এবং বাংলাদেশর অভ্যন্তরীণ নদী রায়মঙ্গল- মোহনায় পড়েছে, যে কারণে বাংলাদেশের দাবি ভারত পূর্বের স্রোতের সাথে বর্তমান স্রোতকে এক করে ফেলেছে। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ সরকার দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের ওপর ১টি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে। বাংলাদেশ ১৯৮২ সালে উভয় দেশের একত্রে ১টি যৌথ জরিপ পরিচালনার কথা বললেও ভারত নাকোচ করে দেয়। ভারত সম্মত হয়- সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্থানটি নো ম্যানস্ ল্যান্ড হিসেবে বিবেচিত হবে। ২৮ বছর পর ২০০৮ সালের ১৫-১৭ সেপ্টেম্বর ৩ দিন ব্যাপী সীমানা নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু উভয় দেশ ১৯৭৪ ও ১৯৮০ সালের মত কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়।
সম্প্রতি ভারত দ্বীপটির আনুষ্ঠানিক মালিকানা দাবি করতে জাতিসংঘে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ যেন এ ব্যাপারে
কোন প্রতিবাদ না করে সে জন্য ভারত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব শীব শংকর মেনন ঢাকা সফর করেছেন। বাংলাদেশ সরকার যদি জাতিসংঘে ভারতের দাবির বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ না করে তবে দ্বীপটি ভারত পেয়ে যাবে।
বাংলাদেশে যে সরকার ক্ষমতায় থাকুক না কেন তারা জাতীয় স্বার্থে খুব একটা আন্তরিক নয়। যে কারণে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পররাষ্ট্র নীতিতে ও পরিবর্তন আসে। সুতরাং সরকার যদি জাতিসংঘে দ্বপটির মালিকানা দাবি না করে অবাক হবনা। তবে আশা করছি সরকার খুব দ্রুত কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


