মাননীয় আদালত ৭ম সংশোধনী বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ও বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেনের গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এরশাদের সামরিক শাসনকে বৈধতা দেয়া সংবিধানের ৭ম সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করেছে।
তার আগে বুধবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রিট আবেদনটির ওপর শুনানি শেষে রায় প্রদানের এ তারিখ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আদালত জানায়, ওই সময়ের বেআইনি সব কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করলেও আদালত প্রয়োজনে করা আইন ও চুক্তির বৈধতা দিয়েছে ।
৭ম সংশোধনী এবং এরশাদের শাসনামলে জারিকৃত সকল ফরমান, আদেশ সম্পূর্ণ অবৈধ ও অসাংবিধানিক। পরবর্তীকালে এই সামরিক শাসনকে সংসদ যে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল তা-ও ছিল সংসদীয় ক্ষমতার বাইরে। ক্ষমতা গ্রহণ করে সংবিধান স্থগিত করাটাও ছিল অবৈধ।
স্বাধীন বাংলাদেশে ২ বার সামরিক শাসন জারি করা হয়েছে। সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে এরশাদ সরকারের ২৪শে মার্চ ১৯৮২ থেকে ৮৬ সাল পর্যন্ত সময়কালের যে বৈধতা দেওয়া হয়েছিল তা এ রিটের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।
সামরিক শাসক এইচএম এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণকে কেন বেআইনি, অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে গত এপ্রিল মাসে সরকারের প্রতি রম্নল জারি করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি এরশাদের জারি করা সকল ফরমান, আদেশ, সামরিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় ও আদেশ এবং কার্যক্রমকে বৈধতাদানকারী সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীকে কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চায় আদালত ।
বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে হটিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ মার্শাল ল’ জারি করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এরপর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত এইচএম এরশাদের জারি করা সকল সামরিক ফরমান, আদেশ, সামরিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত রায় ও আদেশ এবং তার কার্যক্রমের বৈধতা দেয়া হয় সংবিধানের সপ্তম সংশোধনীর মাধ্যমে। এ ব্যাপারে কোন আদালতে কোন ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না বলে সংবিধানের ৪র্থ তফসিলে একটি ধারা সংযোজন করা হয় ।
বাংলাদেশে সামরিক শাসনের সূচনাকারী হলেন খোন্দকার মোশতাক আহমেদ এবং জে. জিয়াউর রহমান।বংগবন্ধুর রক্তাক্ত লাশ যখন সিড়িতে পরেছিল , হত্যার মাত্র ২ ঘন্টা পরে বংগবন্ধুর মন্ত্রীসভার মন্ত্রী খন্দকার মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি হিসাবে ঘোষনা দেয় । শুয়োরেরবাচ্চা মোশতাক ।
আমার বংগবন্ধু হত্যার মাত্র তিন ঘন্টার মাথায় বিভিন্ন বাহিনী প্রধানরা কাপুরুষেরা সব মিউ মিউ করে নব্য সরকারের অনুগত হয়ে যায় । বেতারে টিভিতে ঘোষনা দিয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে । ফাদার কে হত্যার ঠিক তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জেলের মধ্যে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয় । তার পর মোচা থেকে আসল বেড়াল বার হয় ৭ নভেম্বর । জাতির জনক হত্যার ৮৫ দিনের মাথায় উপপ্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হিসেবে জিয়া দেশ শাসন শুরু করে।এক বছর পর ২৮ নভেম্বর (১৯৭৬) রাষ্ট্রপতি সায়েমের কাছ থেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক (সিএমএলএ) পদ জিয়া নিয়ে নেয় । এর পর মাত্র ৫ মাস পর ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সায়েমকে অসুস্থ দেখায়ে রাষ্ট্রপতি পদ ও বগলদাবা করে নেয় জিয়া । সায়েম যতদিন রাষ্ট্রপতি ছিল সে ছিল পুতুল , জিয়ার হুকুম তামিল করত ।
মজার ঘটনা হল ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্টের মাত্র ৯ দিন পরে জিয়া জে।শফিউল্লাহকে সরিয়ে সেনাপ্রধান হয় । ঠিক একই দিনে দিল্লিতে ছিল লেজেহোমো এরশাদ । তখন ব্রিগেডিয়ার এরশাদ কে পদোন্নতি দিয়ে করা হয় মেজর জেনারেল এরশাদ এবং সেনাবাহিনীর উপপ্রধান । কেন ? ঐ সময় ফাদারকে খুনের সাথে যারা সম্প্রিক্ত ছিল তাদের পুরুস্ক্রিত করার যগ্গ চলতেছিল , এরশাদকে কেন রাতারাতি এই পদোন্নতি দেওয়া হল ?? যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বেশ কয়েকবার এরশাদ পাকিস্তান থেকে ঢাকায় এসে আবার পাকিস্তান চলে গেছে । তার ভুমিকা কিছিল মুক্তিযুদ্ধে ?? জিয়ার পরে এরশাদ ক্ষমতায় আসবে ফাদার হত্যার ৯ দিনের মাথায় তা ঘোষনাও হয় । কি সম্পর্ক ছিল এরশাদের ফাদারের খুনীদের সাথে ?? ১৫ ই আগষ্টের পরেরদিন এরশাদ বিনা অনুমতিতে দেশে এসেছিল এবং খুনিদের সাথে মিটিং করেছিল । কি অ্যাজেন্ডা ছিল সেই মিটিং এর ?? কি .... কি....... কি ...... ??
জিয়া হত্যার পর বিদ্রোহের দায়ে ১৩ মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারকে গোপন বিচারে এরশাদ সবাইকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে । যাদের কে ফাঁসি দিয়ে এরশাদ হত্যা করেছে তাদের অনেকেই ওই হত্যা-ষড়যন্ত্র সম্পর্কে কোন কিছুই জানতেন না।-- এগুলোর কি বিচার হবেনা ? দেশের সূর্য সন্তানদের এরশাদ কচুকাটার মত হত্যা করেছে । পরিবারের একজন খুন হয়েছে , আরেকজন যেন খুন না হয় সেজন্য পরিবারের সদস্যরা একটা এফ আই আর ও করতে পারেনাই । এসবের তো প্রমান নাই , তাই বলে কি এরশাদ ছার পাবে নাকি পাওয়া উচিত?? দেশের গোপন নথিপত্র নকশা ভারতের গোয়েন্দা সংস্হার কাছে সমর্পনের শাস্তি কি হবে ? প্রমান তো নাই কিন্তু আমরা যে জানি ? আর জানে এরশাদও । তাই একাই চিৎকার করে বেরাচ্ছে - ফাসি হলেও মাথা পেতে নেবো । দুনিয়ার আর কেউ না জানুক এরশাদ ঠিকই জানে যে ও পার পাবেনা । কেন কিভাবে পার পাবেনা তাও জানে । এরশাদ সাহেব একটা গল্প বলি , আমাদের দেশে ধানের ক্ষেতেও মাঝে মধ্যে কই মাছ , টাকি , চ্যাং টাকি দেখা যায় । চৈত্রে যখন খালবিল মাঠ শুকায় যায় তখন এরা মাটির নীচে যায় । সেখানেও যখন পানি শুকায় যায় তখন তারা ডিম পেরে রেখে যায় । পরবর্তী বর্ষায় সেই ডিম থেকে বাচ্চা হয় । এভাবেই তারা বংশরক্ষা করে চলে । -- ঈশ্বর মরেনা এরশাদ । পাপের শাস্তি হবেই । কঠিন এবং কঠোর শাস্তি।
এরশাদ একজন সংবিধান লংঘনকারী , রাষ্ট্রদ্রোহী । দন্ডবিধীর ১২৩ ও ১২৪ নং ধারা অনুযায়ীঈ তার শাস্তি হবে ।
সমস্ত র্যাংক , সমস্ত অ্যাওয়ার্ড , মিলিটারী সুযোগ সুবিধা সব সব সমস্তকিছু কেরে নিয়ে আম্রিত্যু ফাসিতে ঝুলিয়ে যুগান্তকারী এই রায়ের দ্রিষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক - সরকারের কাছে এই প্রত্যাশা আমার । ভবিষ্যতে যেন কেউ কখনও ভূলেও রাষ্ট্রকে এইভাবে নিজের ক্ষমতার খেদমেটানোর জন্য ব্যাবহার না করতে পারে , গনতন্ত্র হত্যার পরিকল্পনা যেন না করতে পারে ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে আগস্ট, ২০১০ ভোর ৬:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




