somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চট্টগ্রামের হালদা নদী: বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের দাবিদার -- মোঃ মনজুরুল কিবরীয়া, সহকারী অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

০৩ রা জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি চট্টগ্রাম। পাহাড়, সাগর ও নদীবেষ্টিত এ চট্টগ্রাম আরও সমৃদ্ধ হয়েছে হালদা নদীর অনন্য বৈশিষ্ট্যের গুণে। হালদা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। এটি পৃথিবীর একমাত্র জোয়ার-ভাটার নদী যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। পৃথিবীর আর কোন জোয়ার-ভাটার নদী থেকে সরাসরি ডিম আহরণের নজির আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এ কারণে হালদা নদী বাংলাদেশের জন্য এক বৈশ্বিক উত্তরাধিকারও বটে। অথচ দেশের নদী সম্পর্কিত জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দলিল কিংবা ইতিহাসে এ নদীর নাম অনেকটা অনুচ্চারিত।
অপার জীববৈচিত্র্যময় ও মৎস্য সম্পদে ভরপুর এ নদী জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রেখে আসছে প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে। রুই জাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিবাউশ) পোনার জন্য এ নদীর আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকলেও এটি যোগাযোগ, কৃষি ও পানি সম্পদেরও একটি বড় উৎস। প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি গ্যালন পানি উত্তোলন করে চট্টগ্রাম ওয়াসা শহরের সূপেয় পানি সরবরাহ করে এ নদী থেকে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ যে কয়েকটি প্রাকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশে রয়েছে তার মধ্যে হালদা অন্যতম। আগে বাংলাদেশ ছাড়াও হালদার পোনা ভারত ও মিয়ানমারে রপ্তানী হতো। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, বাঁক কাটা, মা-মাছ শিকার, নদী দূষণ, সরকারের উদসীনতাসহ মানবসৃষ্ট নানা কারণে প্রাকৃতিক এ মৎস্যভান্ডার এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে। এর ফলে প্রতি বছর মা-মাছের ডিম ছাড়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে।

নদীর উৎপত্তি:
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড় উপজেলার পাহাড়ী ক্রীক থেকে দেশের মৎস্য খনিখ্যাত হালদা নদীর উৎপত্তি। এই নদী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রায় ৯৮ কি.মি. (উৎস থেকে কালুরঘাট সরাসরি দূরত্ব প্রায় ৫৭ কি. মি.) পথ অতিক্রম করে চট্টগ্রাম শহরের কালুরঘাট নামক স্থানে কর্ণফুলী নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। ফটিকছড়ির উপর দিয়ে দেশের গর্ব এ নদীর অধিকাংশ পথ (৪০ কি.মি.) অতিক্রম করেছে। এ নদীর পানির প্রধান উৎস মূলত: ফটিকছড়ি উপজেলার অসংখ্য পাহাড়ী ছড়া। ছড়াগুলো নদীর মূল স্রোতের সঙ্গে মিলিত হয়ে হালদাকে বৈশিষ্ট্যময় নদী হিসেবে এখনো সমৃদ্ধ করে রেখেছে।

হালদা নদী গুরুত্বপূর্ণ কেন?
হালদা নদী বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রুই জাতীয় মাছের (রুই, কাতলা, মৃগেল এবং কালিগনি) প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র। এটিই দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র যেখান থেকে সরাসরি রুই জাতীয় মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। বাংলাদেশের রুই জাতীয় মাছের একমাত্র বিশুদ্ধ প্রাকৃতিক জিন ব্যাংক। এই প্রাকৃতিক জিন পুল বাঁচিয়ে রাখার জন্য হালদা নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। বর্তমানে কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রগুলিতে ইনব্রিডিং-এর কারণে মাছের বৃদ্ধি মারাত্বক ভাবে ব্যহত হচ্ছে এবং বামনত্ব, বিকলাংঙ্গতাসহ বিভিন্ন ধরনের জিনগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দ্রুত বর্ধনশীল বড় আকারের রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালিগনি মাছ এক সময় রূপকথার গল্পের মত মনে হবে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য হালদা নদীর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের বিকল্প নেই। এজন্য বর্তমানে মৎস্যচাষী ও হ্যাচারি মালিকেরা রেণু পোনার জন্য আবার হালদার পোনার দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। হালদা একমাত্র নদী যেখান থেকে আহরিত ডিম স্মরণাতীত কাল থেকে স্থানীয় জ্ঞানের মাধ্যমে প্রাচীন পদ্ধতিতে নদীর পাড়ে খননকৃত মাটির গর্তে (কুয়ায়) ফোটানো হয় এবং চারদিন লালন করে রেণু পোনা (ঋরংয ঋৎু) তৈরি করা হয়। এ নদীর রুই জাতীয় মাছের বৃদ্ধির হার অন্যান্য উৎসের মাছের তুলনায় অনেক বেশি (যেমন কাতলা বৎসরে ২.০-২.৫ কেজি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়)। এতে মৎস্যচাষী এবং হ্যাচারি মালিকেরা হালদা নদীর রুই জাতীয় মাছের চাষ কিংবা প্রজনন ঘটিয়ে বেশি লাভবান হতে পারে। ব্রিটিশ আমলে সারা দেশের ২/৩ অংশ পুকুরে মৎস্য চাষ তথা একোয়াকালচার হালদার পোনা দিয়েই করা হতো। এমনকি ভারত এবং মিয়ানমারেও হালদার পোনা চাষের জন্য নিয়ে যেত। বর্তমানেও পরিকল্পিতভাবে হালদা নদীর সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। বর্তমান বাংলাদেশের প্রায় ৮ শতাধিক কার্প হ্যাচারি (রেণুর চাহিদা ২ লক্ষ কেজি প্রায়) তথা বাংলাদেশের একোয়াকালচার এবং বায়োডাইভার্সিটি বাচিঁয়ে রাখার জন্য হালদার প্রাকৃতিক উৎসের গলদা চিংড়ি ও মেজর কার্পের পোনার গুরুত্ব অপরিসীম।

হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছের ডিম ছাড়ার কারণ:
হালদা নদী এবং নদীর পানির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের জন্য এখানে মাছ ডিম ছাড়তে আসে যা বাংলাদেশের অন্যান্য নদী থেকে ভিন্নতর। এ বৈশিষ্ট্যগুলো ভৌতিক, রাসায়নিক এবং জৈবিক। ভৌতিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে নদীর অক্সবো বাঁক, অনেকগুলো নিপতিত পাহাড়ি ঝর্ণা বা ছড়া, প্রতিটি পতিত ছড়ার উজানে এক বা একাধিক বিল, নদীর গভীরতা, কম তাপমাত্রা, তীব্র খরস্রোত এবং অতি ঘোলাত্ব। রাসায়নিক কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কম কনডাক্টটিভিটি, সহনশীল দ্রবীভুত অক্সিজেন, পিএইচ., কম হার্ডনেস এবং কম এলক্যালাইনিটি ইত্যাদি। জৈবিক কারণগুলো হচ্ছে বর্ষার সময় প্রথম বর্ষণের পর বিল থাকার কারণে এবং দুকূলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে নদীর পানিতে প্রচুর জৈব উপাদানের মিশ্রণের ফলে পর্যাপ্ত খাদ্যের প্রাচুর্য থাকে যা প্রজননপূর্ব গোনাডের পরিপক্কতায় সাহায্য করে। অনেকগুলো পাহাড়ি ঝর্ণা বিধৌত পানিতে প্রচুর ম্যাক্রো এবং মাইক্রো পুষ্টি উপাদান থাকার ফলে নদীতে পর্যাপ্ত খাদ্যাণুর সৃষ্টি হয় (ফাইটোপ্লাংকটন, জুপ্লাংকটন ও বেনথোস)। উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বিত ক্রিয়ায় হালদা নদীতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রুই জাতীয় মাছকে বর্ষাকালে ডিম ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করে যা বাংলাদেশের অন্যান্য নদ-নদী থেকে স¤পূর্ণভাবে আলাদা।

ডিম ছাড়ার স্থান:
হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছের প্রজনন স্থান হচ্ছে নদীর বিশেষ ধরনের বাঁক। এই বাঁকগুলোকে অক্সবো বাঁক বলে। নদীর এসব বাঁক পানির উলট-পালট, পানির স্রোতের গতিধারা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জৈব রাসায়নিক অনুঘটক উৎপন্ন করে মাছের প্রজননের বিশেষ পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং ডিম নিষিক্ত করতে সহায়তা করে। তা ছাড়া এই বাঁকগুলোতে পানির ঘুর্ণনের কারণে প্রাকৃতিকভাবে গভীর স্থানের সৃষ্টি হয়, যাকে কুম বা কূয়া বলে। প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট এসব কুম বা কূয়া হালদা নদীতে মাছের প্রজনন ও প্রজননকালীন সময়ে বিভিন্ন নদী থেকে এসে ব্র“ড মাছ অবস্থান করার বিশেষ স্থান। মূলত বাঁকগুলো হালদা নদীতে মাছের প্রজননের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে এই নদীকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের খ্যাতি এনে দিয়েছে। আর এজন্য হালদা নদী দেশের মৎস্য খনি হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে।
উনবিংশ শতকের গোড়া থেকে প্রায় ১০০ বছরে হালদা নদীর এগারটি বাঁক পর্যায়ক্রমে কেটে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে হালদার ভাটি এলাকায় আটটি, উজান এলাকায় তিনটি বাঁক কেটে দেয়া হয়েছে। এই বাঁকগুলো কেটে দেয়ায় প্রায় ১২৩ কি.মি. নদীর দৈর্ঘ্য ২৫ কি.মি. কমে ৯৮ কি.মি. হয়েছে। হালদার ভাটি এলাকার (হাটহাজারী ও রাউজানের অংশ) অক্সবো বাঁকগুলো রুই জাতীয় মাছের প্রজনন ক্ষেত্র।
উনবিংশ শতকের শেষে এবং বিংশ শতকের প্রথম দিকে হালদা নদীতে মাছ বেশ কয়েকটি বাঁকে ডিম ছাড়তো। প্রথম বাঁক কাটা হয় বর্তমান মকদাইর খালের মুখে ছৈয়দ্দার চর বাঁক ১৯০৫-১৯১০ সালের দিকে। পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আবুরখীল গ্রামের শেয়ানঘাট (øানঘাট) নামক স্থানটি পুরানো এ হালদার সাক্ষ্য বহন করছে। এখানে একসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় øান করতো এবং মেলা বসতো। বাঁক কাটার পর এই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন øান ও মেলা কোনটাই হয় না।
দ্বিতীয় বাঁক কাটা হয় পোড়া খালির মুখে মাছুয়াঘোনা অক্সবো বাঁক। এখানেও মাছ ডিম ছাড়তো, ১৯২৮ সালে এই বাঁকটি কেটে দেয়ার কারণে মাছ পরবর্তী বছর গুলোতে বাড়িঘোনা বাঁকে ডিম ছাড়তো, ১৯৪৮ সালে এই বাঁকটি কেটে দেয়ার কারণে এখানের মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রটি ধ্বংস হয়ে যায়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত আছে ১৯৪৮ সালে এই বাঁক কাটা নিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রায় ১২ জন লোক নিহত হয়েছেন। এরপর মাছ আরো উজানে অঙ্কুরীঘোনা নামক অক্সবো বাঁকটি বেছে নেয় ডিম ছাড়ার জন্য, এই বাঁকটিও ১৯৬৪ সালে কেটে দেয়া হয়, একই বছর হাটহাজারীর পূর্ব মেখল এবং ছিপাতলির মধ্যবর্তী স্থানেও একটি বাঁক কেটে দেয়া হয়। এরপর মাছ ডিম দেয় সোনাইরচর বাঁকে, এটি ১৯৮৮-৯০ সালে কেটে দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে মাছ কাগতিয়ার বাঁককে ডিম দেয়ার স্থান হিসাবে বেছে নেয়। বিগত বছরগুলোতে এই বাঁকে মাছ ডিম ছাড়ত। ফটিকছড়ি উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামে একটি বাঁক কেটে দেয়া হয়েছে, তবে এই বাঁক সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। সর্বশেষ ২০০২ সালে গড়দুয়ারার কাগতিয়ার বাঁকটি ১০ ফুট প্রশস্থ করে কেটে সোজা করে দেয়া হয়। এই বাঁকটি কাটার মাধ্যমে হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছের প্রজননের সর্বশেষ অক্সবো বাঁকটি ধ্বংস করে দেয়া হলো। এটিই হচ্ছে হালদা নদীর রুই জাতীয় মাছের সর্বশেষ প্রজনন স্থান। এই অক্সবো বাঁকটি কেটে সোজা করে দেওয়ায় বিশেষজ্ঞরা আশংকা করেছিল এই প্রজনন ক্ষেত্রের অস্তিত্ব থাকবে কিনা। এর চূড়ান্ত রূপ নিল ২০০৮ সালে। কারণ নতুন কর্তনকৃত খালটি ক্রমশ চওড়া হয়ে নদীর গতিপথ পরিবর্তন করার মাধ্যমে গড়দুয়ারা প্রজনন ক্ষেত্রের পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। এতে মাছ ডিম দেয়ার উপযুক্ত স্থান না পেয়ে নদীর কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে (খাগতিয়ার মুখ থেকে নাপিতের ঘাট) বিক্ষিপ্ত ভাবে ডিম দেয়। এতে ডিম সংগ্রহকারীরা প্রজননের সুুুনির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করতে না পেরে বিক্ষিপ্তভাবে ডিম সংগ্রহ করে। এ ধারা এখনো অব্যাহত আছে। যার কারণে স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা আর্থিকভাবে প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডিম ছাড়ার সময়:
প্রতিবছর ফেব্র“য়ারী-মার্চের দিকে হালদার সাথে সংযুক্ত অন্যান্য নদী থেকে বড় বড় রুই জাতীয় মাছগুলো এ নদীতে আসে ডিম ছাড়ার জন্য এবং অনুকূল পরিবেশের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। তবে কিছু মাছ স্থানীয়ভাবে এই নদীতে অবস্থান করে। এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে অমাবস্যা বা পূর্ণিমার সময় অনুকুল পরিবেশে হালদা নদীতে রুই জাতীয় মাছ ডিম ছাড়ে। এই সময়কে স্থানীয় ভাষায় “জো” বলে। এই "জো”র বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে অমাবস্যা বা পূর্ণিমা হতে হবে। এই সময় প্রচন্ড বজ্রপাতসহ বৃষ্টি হবে, এই বৃষ্টিপাত শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে হলে হবে না একই সাথে নদীর উজানের পাহাড়ী অঞ্চলেও প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে হবে, ফলে নদী পথে পাহাড়ী ঢল নামবে। পাহাড়ী ঢলের পানি খুবই ঘোলা হবে এবং খরশ্রোতা হয়ে ফেনাসহ হালদা নদী দিয়ে প্রবাহিত হবে। এতে নদীর পানির কিছু ভৌত রাসায়নিক পরিবর্তন হবে যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখিত এই বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয় হলে পরে সর্বশেষ বৈশিষ্ট নদীর জোয়ার অথবা ভাটার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। পূর্ণ জোয়ারের শেষে পানি যখন স্থির হয় অথবা ভাটার শেষ সময়ে পানি যখন প্রায় স্থির হয় তখন মাছ ডিম ছেড়ে দেয়।
তবে চূড়ান্তভাবে ডিম ছাড়ার আগে মাছ পরীক্ষামূলকভাবে অল্প পরিমাণ ডিম ছাড়ে। একে স্থানীয় ভাষায় নমুনা বলে। এই নমুনা ছাড়ার মাধ্যমে মাছ তাদের নতুন বংশধরদের জন্য নদীর পরিবেশ নিরাপদ এবং অনুকুল কিনা তা উপলব্ধি করার চেষ্টা করে। অনুকুল পরিবেশ নিশ্চিত হলে পরে মাছ চূড়ান্তভাবে ডিম ছাড়ে। নমুনা ছাড়ে বিশেষ করে জোয়ারের মাঝামাঝি অবস্থায়। নমুনা পাওয়া গেলে স্থানীয় লোকজন নৌকা, জাল ও অন্যান্য ডিম ধরার সরঞ্জাম নিয়ে ডিম সংগ্রহের জন্য নদীতে অবস্থান নেয়। অপরূপ সে প্রাকৃতিক দৃশ্য সত্যিই দেখার মতো।

ডিম সংগ্রহ:
হালদার ডিম সংগ্রহের কৌশল সম্পূর্ণ স্থানীয়। তাদের দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান থেকে স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিম সংগ্রহ করে থাকে। এই প্রচলিত পদ্ধতির মাধ্যমে হালদায় মাছ যে পরিমান ডিম দেয় তার মাত্র ২০-২৫% সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতির সাথে কিছু প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বৈজ্ঞানিক ধ্যান ধারনার সমন্বয় করতে পারলে অধিক পরিমাণ ডিম সংগ্রহ সম্ভব হবে। এই প্রচলিত পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহের জন্য প্রয়োজন ১টি কাঠের নৌকা, ২-৩ জন মানুষ, ১টি ডিম ধরার জাল, ২টি নোঙ্গর, ২টি বড় বাঁশ, ২টি বড় প্লাষ্টিক বালতি ইত্যাদি। সংগৃহিত ডিম নৌকার মধ্যবর্তী খোলের মধ্যে দুইপার্শ্বে কাঠ ও মাটি দিয়ে বিশেষ ভাবে তৈরি ১টি চার কোণা আকৃতির প্রকোষ্ঠ তৈরী করে একে স্থানীয় ভাবে ”গুদি” বলে। প্রতি গুদিতে ২৫ থেকে ৩০ বালতি (১০/১২ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন) ডিম রাখতে পারে এই গুদি বা প্রকোষ্ঠের ভিতর ১টি সুতির মার্কিন কাপড় বিছানো থাকে। এই কাপড়ের উপর ডিম রাখে। এই কাপড় দেয়ার ফলে ডিমের পানির পরিবর্তন ও কুয়াতে পরিবহণে সুবিধা হয়। নৌকার প্রকোষ্ঠে থাকা অবস্থায় ডিম ও পানির পরিমাণ হবে সমান। প্রতি ঘন্টা পর পর পানি পরিবর্তন করতে হবে, না হলে অক্সিজেন স্বল্পতা এবং পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ডিম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। প্রচলিত পদ্ধতিতে ডিম সংগ্রহের অসুবিধা হচ্ছে- প্রথমত: নদী থেকে খুবই কম পরিমাণ ডিম সংগ্রহ করতে পারে (২০-২৫%)। অবশিষ্ট ডিম ৭/৮ ঘন্টার মধ্যেই অর্থাৎ রেণু ফোটার আগেই সমুদ্রের লোনা পানিতে চলে যায়। ফলে সব ডিম নষ্ট হয়ে যায়। দ্বিতীয়ত: একটি নৌকার জন্য যে পরিমাণ ব্যয় হয় (নৌকা বাবদ ২৫১০০/-, শ্রমিক বাবত ১১,০০০/-) তাতে জেলেদের চড়া সুদে কর্জ নিতে হয়। প্রতি নৌকার সংগৃহিত ডিম থেকে রেণু উৎপাদনের মাধ্যমে যে আয় হয়, তাতে খরচের সাথে সামঞ্জস্য থাকে না। ফলে দরিদ্র জেলেরা ডিম সংগ্রহের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। চড়া সুদ পরিশোধ করতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়ে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িত হচ্ছে। তাই ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তৃতীয়ত: ডিম সংগ্রহের কাজ অতিরিক্ত শ্রম নির্ভর। বিগত ৬-৭ বছর ধরে ডিমের পরিমাণ খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু প্রতি নৌকার জন্য ২/৩ জন লোক ছাড়া ডিম সংগ্রহ সম্ভব নয়। তাদের এই শ্রমের বিনিময়ে যে পরিমাণ ডিম আহরিত হয় তা শ্রমের তুলনায় অতি নগন্য বলা চলে।

ডিম ফুটানো:
নদী থেকে সংগৃহিত ডিম সম্পূর্ণ স্থানীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির গর্তে ফুটানো হয়। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের মাধ্যমে নদীর পাড়ে চার কোনা বিশিষ্ট মাটির গর্ত তৈরী করা হয়। এই গর্তের আকার স্থান ভেদে বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে। সাধারণত: ৮-১৬ ফুট দৈর্ঘ্য ৬-১০ ফুট প্রস্থের এবং ৩-৪ ফুট গভীরতার হয়ে থাকে। এই মাটির গর্ত গুলোতে মশারীর কাপড়ের উপর ডিম রেখে ৪ দিন পর্যন্ত পরিচর্যার মাধ্যমে রেণু উৎপাদন করা হয়। ৪ দিন অর্থাৎ ৯৬ ঘন্টা পর এই রেণুগুলো বিক্রয় করা হয়। ২০০৯ সালে ৪ দিন বয়সের প্রতি কেজি রেণূর বাজার মূল্য ছিল প্রায় ৬০-৬৫ হাজার টাকা।

জাতীয় অর্থনীতিতে হালদার অবদান:
হালদা নদী শুধু জাতীয় ঐতিহ্যের দাবিই রাখে না বরং আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ডিম থেকে উৎপাদিত রেণু পোনা থেকে মাছ হিসাবে খাবার টেবিলে আসা পর্যন্ত দেশের মৎস্য খাতে হালদা নদী চার ধাপে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
হালদা নদীর একটি মা মাছ আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে কতটুকু ভূমিকা রাখে তা বিগত ২০০৭ সালে রাউজান থেকে উদ্ধারকৃত (ওজন ১৮ কেজি এবং বয়স ৭ বছর) কাতলা (ঈধঃষধ পধঃষধ) মা মাছটির অবদান বিশ্লেষণ করলে তার একটি ধারনা পাওয়া যায়। একটি কাতলা মাছ তৃতীয় বছর বয়স থেকে পরিপক্কতা লাভ করে ডিম দেয়া শুরু করে। বিভিন্ন গবেষণা তথ্য অনুযায়ী কাতলা মাছের ডিমের সংখ্যা ১৫ লক্ষ থেকে ৩৫ লক্ষ (৫ কেজি -২০ কেজি ওজন), সুতরাং গড় সংখ্যা হয় ২৫ লক্ষ।
একটি মা মাছ থেকে এক বছরে চার ধাপে (স্তরে) আয় করা যায়। ধাপ চারটি হলো-
১ম ধাপ: ডিম থেকে ডিম পোনা / রেণু বা ঐধঃপযষরহম বিক্রি করে (৪ দিন বয়সের)
২য় ধাপ: ধানী পোনা বা ঋৎু বিক্রি করে (২০ থেকে ২৫ দিন বয়সের)
৩য় ধাপ: আঙুলী পোনা বা ঋরহমবৎষরহম বিক্রি করে (১ থেকে ২ মাস বয়সের)
৪র্থ ধাপ: এক বছর বয়সে মাছ বা ঋড়ড়ফ ভরংয হিসাবে বাজারজাত করে।
উপরোক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৫ বছরে এই একটি মাত্র মাছের অবদান হিসাব করলে দেখা যায় মাছটি মোট ১৯ কোটি ৮৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দান করেছে যা আমাদের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। এই হিসাবে হালদার প্রতিটি মা মাছকে একেকটি প্রাকৃতিক এগ্রো মেগাইন্ডাষ্ট্রি হিসাবে অভিহিত করা যায়।
হালদা নদী থেকে বিগত ১০ বছরে (১৯৯৮ থেকে ২০০৭) প্রাপ্ত রেণুর পরিমাণ হিসাব করলে দেখা যায় যে, গড় রেণু প্রাপ্তির পরিমাণ ৬০৪.৬৪ কেজি (পোনার সংখ্যা = ৩০ কোটি ২৩ লক্ষ ২০ হাজার)। একই পদ্ধতিতে এক বছরের চার ধাপে জাতীয় অর্থনীতিতে হালদার অবদান প্রায় ৮২১ কোটি ১০ লক্ষ ১১ হাজার ২ শত টাকা। যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৬%। নদী হিসাবে এককভাবে আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশী অবদান রাখছে হালদা নদী। এই নদীকে যদি সুষ্টু ও পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা যায় তাহলে অবদানের পরিমাণ অনেকগুণ বাড়ানো সম্ভব।

হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার প্রকল্প:
পরিকল্পিতভাবে নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রের সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হালদা নদীর প্রজনন ক্ষেত্র আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব। এ উপলব্ধি থেকে দেশের ঐতিহ্য হালদা নদীর প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের উদ্দেশে বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ২০০৭ সালের জুলাই থেকে “হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার প্রকল্প” নামে একটি প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করে। পাঁচ বছর মেয়াদী (২০০৭-২০১২) এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন শেষে হালদা নদীর রুই জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক পোনার উৎপাদন বৃদ্ধিতে যথার্থ ভূমিকা রাখা এবং সংশ্লিষ্ট জনগণের আয় বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন করা এর প্রধান উদ্দেশ্য। কিন্তু প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় হালদা পাড়ের জনগণের অংশগ্রহণ না থাকা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্বেচ্ছাচারিতা, অস্বচ্ছতা, অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগসহ নানা কারণে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অথচ হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রয়োজন এই নদীর পরিকল্পিত বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক ব্যবস্থাপনা। বাস্তবায়নের শুরু থেকেই গবেষক, চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ স্থানীয় জনগণ এই প্রকল্পের রিভিউ করার মাধ্যমে যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যতায় এ নদীর ঐতিহ্য প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্রের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন সম্ভব নয়।

হালদা নদীকে বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্য (ডড়ৎষফ ঐবৎরঃধমব) ঘোষণা:
বিশ্বের প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের তালিকায় শীর্ষে রাখার জন্য কক্সবাজার ও সুন্দরবনকে ঘিরে এ দেশের মানুষের মধ্যে যে প্রবল আগ্রহ ও প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে তাতে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি আমাদের অসীম মমতা ও ভালবাসা প্রকাশ পেয়েছে। প্রচারের অভাবে আমাদের দেশের অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পর্কে আমরা জানি না। কক্সবাজার ও সুন্দরবন ছাড়া এ দেশে আরও অনেক প্রাকৃতিক সম্পদ আছে, যা নিয়ে আমরা বিশ্ব দরবারে ঐতিহ্যের দাবি জানাতে পারি। তেমনি একটি হচ্ছে চট্টগ্রামের হালদা নদী।
ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্য ঘোষণার জন্য চারটি শর্ত রয়েছে এর মধ্যে একটি শর্ত পূরণ করতে পারলে বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের যোগ্যতা অর্জন করে। এই ক্ষেত্রে হালদা নদী দুটি শর্ত সম্পূর্ণ এবং একটি আংশিক পূরণ করে। সুতরাং হালদা নদী জাতীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যেরও যোগ্যতা রাখে।
হালদা নদীকে জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণার দাবী চট্টগ্রামবাসী অনেকদিন ধরেই করে আসছে। হালদা জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষিত হলে এর রক্ষণাবেক্ষণ এবং এখানে ডিম দিতে আসা ব্র“ড মাছের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করা যাবে তেমনি এটি বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ার পথেও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
গত ২৮ জুন ২০০৮ তারিখে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সংলাপে জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণার মাধ্যমে হালদাকে রক্ষার আহ্ববান জানিয়ে সাবেক প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করার পর তিনি তা বাস্তবায়নে আশ্বস্ত করেছিলেন চট্টগ্রামবাসীকে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগষ্ট ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তৎকালীন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় হালদা নদীকে জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণার সংবাদ বিভিন্ন সংবাদপত্রে গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হয়। কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে চট্টগ্রামবাসীর সেই ছোট্ট দাবী অপূর্ণ থেকে গেল।
এ দাবী চট্টগ্রামবাসীর হলেও এর সঙ্গে সমগ্র দেশ জড়িত। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে হালদা নদীর অবদান ও গুরুত্ব যারা সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করেন তারা জানেন, হালদা এ দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক সম্পদ।

উপসংহার:
মৎস্য খনি খ্যাত এই হালদা নদী আমাদের ঐতিহ্য। হালদা নদী শুধু মৎস্য সম্পদের জন্য নয় এটি কৃষি ও পানি সম্পদেরও একটি বড় উৎস। এ নদী জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্ত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি আমাদের প্রাণিজ প্রোটিনের উল্লেখযোগ্য যোগানদাতা। হালদাকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন দেশের খ্যাতিমান মৎস্য, পানি, কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারী ও জেলেদের মতামতের ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী, পরিকল্পিত ও বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়ন। আমাদের প্রত্যাশা বর্তমান নির্বাচিত সরকার হালদা নদীকে জাতীয় ঐতিহ্য ঘোষণা এবং বর্তমানে অপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের পূন:প্রণনয়নের মাধ্যমে হালদা নদী রক্ষায় বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে
তথ্যসূত্রঃ হালদা নদী
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ রাত ৩:১২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছাগল-সমাবেশ(“ছেলেপুলের খেলো ছড়া” সিরিজ)

লিখেছেন স্নিগ্দ্ধ মুগ্দ্ধতা, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ৯:১৭



নিখিল-বঙ্গ ছাগল-সঙ্ঘ করল মিছিল সেদিন,
মানুষ নাকি এখন বড়োই বে-আক্কেল আর বে-দ্বীন!
ছাগলদেরে মান-সম্মান দেয় না তারা মোটেই,
সে-সব কিছুই ধরতে তুলে তাদের মহান জোট এই!


এইতো সেদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়ের চোখে বিজয়।

লিখেছেন কথাকথিকেথিকথন, ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:৩৩


মা বলে, খোকা যুদ্ধে যা, অস্ত্র ধর
খোকা বলে, আমি যদি না ফিরি মা?
মা অশ্রুসিক্ত নয়নে বলে, আমি ভেবে নেবো তুই স্বাধীনতা
খোকা বলে, তোমার কথা মনে পড়লে?
মা খোকার মাথায় হাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

টেলিভিশনের ভয়াবহতা এবং আমাদের সমাজের অবক্ষয়

লিখেছেন এক বিন্দু জল, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:৩০

একমাত্র টেলিভিশন ব্যবহারের পর থেকে মানুষের জীবনের এবং মানব সমাজের চরম দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। মানুষের যে যে ক্ষতিগুলো হয়েছে......

১। অযথা সময়ের অপচয়হেতু সময় কম পড়ে যাওয়া,
২। অভাব বৃদ্ধি, কারন চাহিদা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আকায়েদ উল্লাহকে আসলে বোমা হামলা ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ভোর ৫:৫৪


বুধবার রাজধানী ঢাকার মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের প্রধান মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, আকায়েদ উল্লাহ বাংলাদেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের অদ্ভুত যত নাম-(০১-পর্ব)

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৪ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১১:৩৬

ফেসবুকে আমরা হরহামেশাই দেখি অনেক সুন্দর সুন্দর নাম। কিছু নাম আবাড় বড়ই অদ্ভুত। কিছু নাম কাব্যিক। কিছু নাম সাধারণ।
তেমনি সামু ব্লগেও অনেক সুন্দর নামের পাশাপাশি কিছু অদ্ভুত নাম রয়েছে।রয়েছে সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×