ভারত থেকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ক্রয় করতে যাচ্ছে - সম্প্রতি এটি একটি গরম খবর এবং এ নিয়ে রাজনীতির অঙ্গনে বেশ হইচই শোনা যাচ্ছে ৷ তবে প্রকৌশলগত দিক থেকে এটি কতটুকু যুক্তিপূর্ণ সেটিও বিবেচনা করার প্রয়োজন আছে বৈকি ৷
ভারত আর বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডকে একটি সংযোগ লাইনের মাধ্যমে একটি বিশেষ কৌশলে সংযুক্ত করা হবে আর ভারত থেকে ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আসবে ৷
শুনতে খুব সহজ মনে হলেও আসলে ব্যাপারটা অত সহজ নয়. দুটি দেশের গ্রিডকে সংযুক্ত করতে হলে দুই দেশের গ্রিড ভোল্ট সমান হতে হবে, তাদের ফ্রিকোয়েনসি বা কম্পনাঙ্ক সমান হতে হবে এবং তাদের জেনারেটরগুলোকে সিনক্রনাইস বা সমলয়ে চালাতে হবে ৷
এ ছাড়াও দরকার প্রয়োজন মাফিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন করার সুইচগিয়ার ও মিটারিং ব্যবস্থাপনা ৷
তবে দুই দেশ এতসব ঝামেলায় না গিয়ে অন্য একটি উপায় ভাবছে - তা হলো ভারত থেকে এসি বিদ্যুৎ কিনে এনে বাংলাদেশে তাকে ডিসিতে রুপান্তরিত করবে এবং তা দিয়ে একটি ডিসি মোটর চালাবে ৷ এই ডিসি মোটরের সাহায্যে ঘুরানো হবে একটি এসি জেনারেটরকে এবং এই এসি জেনারেটরের দ্বারা উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভোল্টেজ ও ফ্রিকোয়েনসি সিনক্রনাইস করার পর বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে ৷
এই ভাবনাটিও বেশ জটিল এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল, এতটাই ব্যয়বহুল যে এই অর্থ ব্যয় করে দেশেই ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব ৷
তবে আমার ভাবনাটি অতি সহজ - বাংলাদেশের কয়েকটি জেলাকে ভারতীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য নির্বাচিত করতে হবে, তারপর সেই জেলাগুলোকে আমাদের জাতীয় গ্রিড থেকে বিছিন্ন করে দিয়ে ভারত থেকে আনা সংযোগ লাইনে যুক্ত করতে হবে ৷ ভারত আমাদেরকে সার্বক্ষণিক নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে বাধ্য থাকবে ৷ কোনো কারণে ভারত বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হলে ভারতীয় গ্রিড থেকে জেলাগুলোকে বিছিন্ন করে দিয়ে আবার আমাদের জাতীয় গ্রিডে সংযোগ দেবার ব্যবস্থা থাকবে ৷ ভারতকে ঘন্টাপ্রতি জরিমানা করার বিধান থাকবে বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হলে ৷
কেমন লাগলো আমার ভাবনাটি?
আপনারাও মতামত দিন ৷

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




