somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি থাকি বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে

১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল ন’টায় সাদিকের কল : “হক ভাই, আপনার লেখাটা দারুণ হয়েছে!” ব্যাপার বুঝলাম না। “কোন লেখা? কোথায়?” প্রশ্ন শুনে সে অবাকই হলো। “কী কাণ্ড, আপনি নিজেই জানেন না! এইমাত্র না ‘ডাক’-এ পড়লাম! ‘আমাদের আমি’।” এবার মনে পড়লো। গত রমযানে ওই লেখাটি দিয়েছিলাম ‘ দৈনিক সিলেটের ডাক’-এ। যাকে বলে আলোর মুখ দেখা, অবশেষে তবে তা-ই ঘটলো! সাদিককে ধন্যবাদ দিয়ে মনে মনে পত্রিকার অপেক্ষা। দেখতে হবে, তার আগে স্বস্তি নেই। কারণ স্থানীয় ওই পত্রিকাটার শুদ্ধি-অশুদ্ধি নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। এমনকী শিরোনামেও প্রায়ই বানান ও ব্যাকরণগত ভুল দেখা যায়। মুদ্রণপ্রমাদও বিস্তর।



আমি যেখানে থাকি, শহর থেকে তা চল্লিশ কিলোমিটার দূরে। প্রতিষ্ঠানটা সময়ের দায় খানিকটা মানে। রোজ দু’টো পত্রিকা রাখা হয়, স্থানীয় ও জাতীয়। কিন্তু পত্রিকা কখনোই ঠিক সময়ে আসে না। কেননা যে- সিলেট-জকিগঞ্জ সড়ক ধরে হকার যায়, তার থেকে এ পর্যন্ত রিকশাভাড়া দশ টাকা। গোটা পাঁচেক কাগজ এখানে চলতে পারে, তার জন্যে তো হকার যাওয়া-আসায় বিশ টাকা ভাড়া গুণতে পারে না। তাই আমাদের কাগজ দু’টো সে দিয়ে যায় রিকশাঅলার কাছে। রিকশাঅলা এনে দেয় বাজারের দোকানঅলার কাছে। মুদি মশাই বেচাবিক্রির ফাঁকে ফাঁকে বিনে পয়সায় দেশ-বিদেশের হাল-হকিকত জানবার সুযোগটা তো শুধুশুধু নষ্ট করতে পারে না। তাই সে আমাদের ছাত্রদের সারাক্ষণ তার সমুখ দিয়ে চলাচল করতে দেখলেও নিজ থেকে কাউকে পত্রিকা আসার খবর বলতে চায় না, যতোক্ষণ না তা নিয়ে আসতে লোক পাঠানো হচ্ছে। ফলে কখনো পত্রিকা পৌঁছুয় বিকেলে, কোনো কোনো দিন একেবারে সন্ধ্যেয়।



আজ সন্ধ্যেও গড়িয়ে গেলো, পাত্তা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখি মুদি দোকান বন্ধ। একবার, দু’ বার, তিন বার। বলা বাহুল্য নয় যে, আমি পত্রিকাসক্ত নই। ঈশ্বর কৌতূহল জিনিসটা আমাকে খুব কম দিয়েছেন। তাই সুঘটনা দুর্ঘটনা কোনো ঘটনারই বর্ণনা পাঠ করে আমাকে সময় নষ্ট করতে হয় না। দিনরাত নেটে থাকি, প্রতিদিন দুনিয়ার কয়েক হাজার দৈনিক পত্রিকা আমার সামনে অপঠিত পড়ে থাকে। কিন্তু আজ ‘ডাক’ নিয়ে হাঁকডাকের হেতু তো ওই লেখা, যা ঢের দেরিতে আলোর মুখ দেখলো, তার মুখ দেখতে আমার পরাণটা মুখিয়ে ছিলো যে! আর কাগজখানাও আক্ষরিক অর্থেই কাগুজে, ওদের ওয়েবের বালাই নেই। ইচ্ছে হলেই মিশরের আল-আহরাম পড়তে পারি, কিন্তু সিলেটের ডাক পারি না।



সামনে একটা মস্ত মজমা আছে। তার মালামাল কিনতে শহরে গিয়েছেন তিন জন। ফোন করে বললাম, ‘একখানা ডাক আনবেন’। আমার ডাকে তাঁরা সাড়া দিলেন। আশায় আশায় থাকলাম, কেননা খবর বাসি হয় শুনেছি, কিন্তু দর্শন-মনস্তত্ত্ব কচলানো নিবন্ধ এতো জলদি তো আর পঁচে যাবে না। নাহয় রাতেই দেখলাম।



ওরা ফিরলেন রাত দশটার দিকে। কিন্তু পত্রিকা আনলেন না। লাখ খানেক টাকার মাল কিনেছেন তো, মালের চাপে গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বের করতে ভুলে গেছেন। বিরক্তি মাথায় উঠে গেলো। ঠিক করলাম, ভোর হলেই এই বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগৎ ছেড়ে পালাতে হবে। সাধারণত একবার কোনো কারণে বিরক্ত হলে আমার বিরক্তি বৃদ্ধির ক্রমাগত আরো নানা কারণ তৈরি হতে থাকে। তখন তাৎক্ষণিক একটা ডুব দেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। ঠিক এ সময়, দফতরি আবুল ফয়েয ভাই আমার বিরূপ রূপ দেখে হাতের কাজকর্ম ফেলে দৌড় দিলো বাজারে, এবং পত্রিকা হাতে নিয়েই ফিরলো। খুশি হয়ে তাকে পঞ্চাশ টাকা বখশিশ দিলাম, কারণ শেষ পর্যন্ত লোকটা আমার ডুব দেয়া মনসূখ করে দিয়েছে!
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

নাজিয়া সামান্তা, হিজাব এবং আমাদের সমাজের প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামি।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১০ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১



​একজন তরুণী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ড্রাম বাজিয়ে দর্শক মাতাল। নেটিজেনরা বাহবা দিল। কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়—মেয়েটি বোরকা-হিজাব পরা, সে ২০২৫ সালে হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে এবং নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×