আমার প্রিয় পোস্ট

একজন খাঁটি ভন্ড!

বীক্ষণ-১: আওয়ামিলীগ।

২৫ শে মে, ২০০৮ রাত ৩:৪০

শেয়ারঃ
0 0 0

১.
বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে মনে হয় আওয়ামিলীগ শব্দটার মত আর কোন শব্দ জড়িয়ে নেই। সেই মুসলিম লীগ ভেংগে যে আ'লীগ হল এরপর থেকে বাংলাদেশী বাংগালির সমস্ত কিছুই যেন আ'লীগকে কেন্দ্র করেই। মুসলিম লীগ থেকে যদি আ'লীগ না হত, তাহলে ব্যাপারটা কিরকম হত? কল্পণা করা যায়না। আমাদের স্বতন্ত্র সত্বাটা কি তৈরী হত? আমার মনে হয় না। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশী বাংগালি, মুসলমান পরে, সেই বোধটা প্রথম আসে আ'লীগের মাধ্যমেই। সেই বোধটাকে কেন্দ্র করেই আমাদের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, ভাষা, দেশপ্রেম সবকিছুই আবর্তিত। তাই যে কোন বাংলাদেশী বাংগালি, সে যে পার্টীরই হোক, তার আ'লীগের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ। কারণ আ'লীগ না হলে আমরা এখনও শুধু পাকিস্তানি নিম্নমানের-মুসলিমই থেকে যেতাম। পাকিস্তানিরা হত উচ্চমানের মুসলিম, ইমানদার মুসলিম। আমাদের অস্তিত্ব আ'লীগের দান। আমাদের পরিচয় আ'লীগের মাধ্যমেই শুরু। আমাদের সত্বা, তাও আ'লীগের জন্যই সম্ভব হয়েছে।

২.
বংগবন্ধুকে আমি ঠিক আ'লীগার মনে করিনা। যেসময়ে তিনি ছিলেন তখন তিনি দলমত নির্বিশেষে সবারই ছিলেন, অন্তত স্বাধীনতার কয়েকবছর পর পর্যন্তও। এই একটা মানুষের দিকে তাকালে মনে হয় "হ্যাঁ, সকল প্রতিকূলতাকে ভেদ করে আমরা জেগে উঠবই, আমাদের রুখার মত কেউ নেই।" বংগবন্ধুর যুবককালের ছবি দেখলে মনে হয় He was destined to give us a destiny of our own. আমি নিজে সবসময় ভাল স্পিচের ভক্ত। কিন্তু কেউ কি কোনদিন ৭ই মার্চের ভাষণের মত ভাষন দিতে পারবে? জাতির সবচেয়ে সংকটজনক মুহুর্ত্যে তার মুখ দিয়ে যা বের হয়েছে সেটা কি আর কারও পক্ষে সম্ভব? আমি আরো অনেক বক্তব্য শুনেছি। যেসব বক্তব্য খুবই বিখ্যাত তার বেশিরভাগ শুনার/পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু কোনটাই ৭ই মার্চের ধারেকাছেও আসেনা। আমাদেরকে স্বাধীনতা দেওয়া বাদে আমার কাছে বংগবন্ধুর সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে হয় ভারতের সৈন্যদেরকে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফেরৎ পাঠানো। জাপানকে এখনও ২য় বিশ্বযুদ্ধের মার্কিন সৈন্যকে নিজের দেশে রাখতে হচ্ছে, তাদের জন্য হাজার হাজার ডলার খরচ করতে হচ্ছে। এইকাজটা তিনি এত সহজে কিভাবে করলেন সেটা চিন্তা করলেই শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় এই মানুষটার প্রতি মাথা নুইয়ে আসে।

৩.
যাই হোক, বংগবন্ধুর গুনগান গাওয়া আমার এই পোস্টের উদ্দেশ্য নয়। বরং আ'লীগকে আমি যেভাবে দেখি সেটাই বলতে চেষ্টা করব। একজন সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড়গুণ মনে হয় অন্যকে বিশ্বাস করা। কিন্তু একইগুনটা রাজনীতিবিদদের সবচেয়ে বড়দোষ তাতে সন্দেহ নেই। বংগবন্ধুও এই দোষটাই সবচেয়ে বড় দোষ। তাজউদ্দিন আহমেদকে মোশতাকের কানকথায় বিশ্বাস না করা কেমনে একজন রাজনীতিবিদের পক্ষে সম্ভব? তবে অনেকে বলেন আমেরিকার ফেভার পাওয়ার জন্য আমেরিকা-পাকিস্তান পন্থী মোশতাকের কথা শুনতে হয়েছিল আর রাশিয়াপন্থী তাজুদ্দিনকে সরাতে হয়েছিল। সেটা কতটুকু সত্য জানিনা। বাকশাল কায়েম করাটা যে যতই বলুক কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। কিন্তু নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় বংগবন্ধুর সামনে কি আর কোন অপশন খোলা ছিল? উল্লেখ্য আমাদের তথাকথিত বুদ্ধিজীবি যারা এখন বাকশাল প্রতিষ্ঠার জন্য বংগবন্ধুকে দোষী করেন তাদের একটা বিরাট অংশ সেদিন বাকশালের পক্ষে ছিলেন। অবশ্য বুদ্ধিজীবিরা চিরদিনই সুবিধাবাদী। বংগবন্ধুর আরেকটা সমস্যা বলা যেতে পারে রক্ষী বাহিনী প্রতিষ্ঠা। এটাই মনে হয় আর্মীদেরকে ক্ষেপিয়ে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় দায়ী। বাংলাদেশের আর্মীরা এম্নিতেই হাঁটু-বুদ্ধির। জিয়ার মত কিছু চরম ধূর্ত বাদ দিলে আর্মীদেরকে আমার বুদ্ধিহীন জম্বি/রোবট মনে হয়। যাই হোক ১৫ই আগস্টের সেই নির্মম হত্যাকান্ড যা আমাদেরকে জাতি হিসেবে চরম অকৃতজ্ঞ, মানুষ হিসেবে মেরুদন্ডহীন প্রমাণ করেছে। জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তানকে হত্যা করে তার বিচারের পথ রুদ্ধ করা মনে হয় আমাদের মত অকৃতজ্ঞ জাতির মাধ্যমেই সম্ভব। রাষ্ঠ্রবিজ্ঞানের খুব জনপ্রিয় একটা থিয়রী হচ্ছে যে জাতির মানুষ যেরকম সেরকম নেতাই তারা পাই। আমাদের দিকে তাকালে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ পাওয়া যায়। জাতির জনককে হত্যা করে এবং তার বিচারের পথ রুদ্ধ করে আমরা জাতি হিসেবে বুক ফুলে দাঁড়ানোর সমস্ত অধিকার হারিয়েছি।

৪.
আমাদের রক্তে হিরো ওয়ারশিপ, ব্যক্তিপূজা মজ্জাগত। তাই বংগবন্ধুর কন্যা না হলে আ'লীগ আর উঠে দাড়াতে পারবেনা। মিজান, রাজ্জাক আরো কত ভাগে ভাগ হয়ে গেল। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে আনতেই হল বিদেশ থেকে। শেখ হাসিনা মানুষের বিশ্বাস প্রথম হারায় ৮৬'র এরশাদের প্রহসনের নির্বাচনে। চট্টগ্রামে বিশাল জনসভায় বক্তৃতা দিয়ে আসলেন যারা নির্বাচনে যাবে তারা বেঈমান। অথচ ঢাকায় এসেই কুত্তার বাচ্চা জামাতিদেরকে নিয়ে নির্বাচনে গেল। এর মত রাজনৈতিক অপরিপক্কতা মনে হয় আর নেই। আমি নিশ্চিত সেই সিদ্ধান্তটা শেখ হাসিনা একাই নিয়েছিলেন, কোন পার্টী মেম্বারদের সাথে আলাপ করেননি। নিজের প্রতি শেখ হাসিনার এই অতি-আত্ববিশ্বাস এবং অপরিপক্ক বুদ্ধি আর সস্তা তাৎক্ষণিক আবেগের মূল্য আ'লীগকে এখনও দিতে হচ্ছে। ৯১-তে নির্বাচন হল তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। বিচারপতি সাহাবুদ্দীন অতি সম্মানিত এবং ভাল মানুষ যদিও একটু সুশীল-টাইপ এবং মেরুদন্ডের অভাব আছে। তবুও ৯১-র নির্বাচন সুস্থ এবং ভালমতেই সংগঠিত হয়েছিল। শেখ হাসিনা ধরে নিয়েছিলেন আ'লীগ ক্ষমতায় আসবে সেটা অবশ্যম্ভাবী। হাসি পায় শুনলে যে শেখ হাসিনা কে কোন মন্ত্রীত্ব পাবে সেটাও নাকি ঠিক করে ফেলেছিলেন! জামাত ঠিকই সুযোগমত আ'লীগকে ল্যাং মারল। বিএনপি'র সাথে এক হয়ে নির্বাচন জিতল। আ'লীগের পরিকল্পনাহীনতা আর সমন্বয়হীনতার অভাবে ভরাডুবি ঘটল। উল্লেখ্য আ'লীগ সেবারও বিএনপি'র থেকে মোট ভোট গননায় বেশি পেয়েছিল। কিন্তু স্বল্পবুদ্ধি আর অতি-আবেগের শেখ হাসিনা সুস্থ নির্বাচনটাকেও মেনে নিতে পারেনি। তাই সুক্ষ কারচুপির দোহাই দিল। ডঃ কামাল হোসেনের সাথে শেখ হাসিনার গোলমাল মূলত শুরু এখানে থেকেই। কামাল সাহেব শেখ হাসিনাকে নির্বাচন মেনে নিতে বলেছিলেন আবার গনতন্ত্র ফোরাম নামে সবাইকে একসাথে আনারও একটা প্রচেষ্টা শুরু করেছিলেন। শেখ হাসিনা মনে করেছিলেন ডঃ কামাল তার অবাধ্য হয়ে যাচ্ছে এবং তার নেতৃত্বের প্রতি হুমকি হয়ে যেতে পারে। এবং অনিবার্য কারনেই ডঃ কামাল পার্টী থেকে বহিস্কৃত হলেন। ডঃ কামাল হোসেনকে আমার ভাল লাগে এজন্য যে তিনি শেখ হাসিনার সাথে অভিমান/রাগ করে এরপরে কোন সময়ই বিএনপি-জামাতের নব্য মুসলিম লীগ এক্সিসের পক্ষে যায় এরকম কোন কাজ করেননি যেমনটা আমাদের তথাকথিত জনগনের সাথে সম্পর্কহীন বামপন্থীরা করে থাকেন।

৫.
৯৬-র নির্বাচনের আগে আগে আ'লীগ ক্ষমতায় যেতে তখন মরিয়া। ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে তারা আর পেরে উঠতেছেনা। আর সেখানেই তারা সবচেয়ে বড় ভুল করেছিল। জামাত নামক কাল সাপকে তারা পাশে নিয়েছিল। যদিও সেটা বিএনপির মত নগ্ন নয়, তবুও আ'লীগ আর বিএনপি তো এক নয়। বিএনপি'র জন্মই যেখানে অবৈধ সেখানে বিএনপি'র সাথে আ'লীগের তুলনা দেওয়া যায়না। আমার মনে হয় ৯৬ এ জামাতকে প্রশ্রয় না দিলে আ'লীগ ক্ষমতায় আসতই। যদি সেবার নাই আসত তবে পরের বার আসত এবং জামাতের রাজনীতি বাংলাদেশে অসম্ভব হয়ে যেত আপনা থেকেই। তাছাড়া বিএনপি যেখানে পরিষ্কারভাবে নির্বাচন কারচুপির দিকে যাচ্ছিল সেখানে জনগন এম্নিতেই তাদের প্রতিরোধ করত, জামাতের কোন দরকার ছিলনা। যাইহোক এরশাদকে মুক্তি দিবে এই গোপন চুক্তিতে জাতীয় পার্টীর সাথে আঁতাত হল আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসল। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে ১৯৯৬-২০০১ সবচাইতে সাফল্যজনক অধ্যায়। সন্ত্রাসের প্রকোপ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছিল তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, শান্তি-চুক্তি(যদিও উপজাতীয়দের সাথে আমরা বিশ্বাসঘাতকতা এখনও করেই চলেছি), ব্যাপক উন্নয়ন, ক্রিকেটে সাফল্য মিলে যে কেউ স্বীকার করবে প্রস আর কনস মিলে সেই সময়টা তার আগে এবং পরের সময়ের সাথে তুলনা করলে স্বর্ণযুগের মত মনে হয়। আর এ জন্যই শেখ হাসিনার বিশ্বাস হয়েছিল যে পরের নির্বাচনে তারা বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে জিতবে। চারদলীয় জোট প্রচুর আন্দোলন করেও কোন কুল কিনারা করতে পারেনি। আ'লীগ এরশাদকে জেলের ভয় দেখিয়ে জোট থেকে বের করতে পেরেছিল কিন্তু জামাতিদেরকে জোট থেকে বের করতে পারেনি। তাছাড়া জামাতের স্বল্প সংখ্যক ভোটকে মনে হয় তেমন বিবেচনায় আনেওনি। ভোটের গাণিতিক হিসেবে জামাত আর বিএনপি'র ভোটব্যাংক আ'লীগের চেয়ে সামান্য বেশি। তাই চুড়ান্ত ভোট গণনায় আ'লীগ এককভাবে সবচাইতে বেশি ভোট পেয়েও আসন সংখ্যার বিচারে চরমভাবে মার খায়। ৫৮টা আসন পাবে সেটা আ'লীগ কেন কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি। শুধুমাত্র নাজিম ফারহান চৌধুরীর ডেইলি স্টারের কলামে তিনি হিসেব করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন কেন বিএনপি-জামাত জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্টতায় জিতবে। তখন সেটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। কিন্তু তার হিসেব ঠিক হয়ে যাওয়াতে পরবর্তীতে তিনি হিরো হয়ে যান। তিনিই নাকি খালেদা জিয়াকে জোটের ধারণাটা দিয়েছিলেন। তবে বিএনপি-জামাতের খাঁটি সমর্থকরা মনে করেন যে আ'লীগকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল ২০০১ সালে। নির্বাচনের পরে যাযাদি'তে প্রায়ই দেখতাম তারা লিখত আ'লীগের সন্ত্রাসবাদীতা, গড-ফাদার কালচারের জন্য নাকি জনগন আ'লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেটা যে কতবড় মিথ্যা সেটা যে কেউ বুঝবে। এটা সত্য যে আ'লীগ আমলে সন্ত্রাসবাদীতা চরম আকার ধারণ করেছিল। গডফাদার কালচারও তখনই আসল রুপ পেয়েছিল। সন্ত্রাসবাদীতার ইতিহাস এরশাদের আমলে সামনে এলেও গডফাদার কালচারটা আ'লীগের শাসনামলেই পাকাপোক্ত হয়েছিল যেটাকে বিএনপি পরবর্তী ২০০১-০৬ রেজিমের সময় চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। তবে জনগণ আ'লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে সেটা ভুল এজন্য যে আ'লীগ ৪১% ভোট পেয়েছিল, যা আগের নির্বাচন থেকে অনেক বেশি। আ'লীগ জোটের পাটীগানিতিক হিসাবেই পিছিয়ে পড়েছিল, জনগণ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়নি। বরং আ'লীগ ২০০১ সালে সমর্থনের বিচারে সবচেয়ে এগিয়ে ছিল। কিন্তু এ হারটা অতি-আবেগী শেখ হাসিনা কোনমতেই মেনে নিতে পারেননি। বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আর লতিফুর রহমানকে ডিমনাইজ করতে শুরু করলেন এবং সেটা নিজেদের ক্ষতিবৃদ্ধি ছাড়া কোন লাভ করেনি। আগেরবার সুক্ষ থেকে এবার স্থুল কারচুপিতে রুপ নিয়েছিল!

৬.
আ'লীগে শেখ হাসিনার মনপুত না হওয়া কিছু বললে কি পরিণতি হয় সেটা সবার জানা আছে, তাই অনেকে হয়ত ভোটের ফলাফল মেনে নিলেও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। শেখ হাসিনা ৫৭ বছর বয়সে রাজনীতি থেকে অবসর নিবেন বলেছিলেন, কোনদিন হরতাল করবেননা বলেছিলেন। কোন ওয়াদাই তিনি রক্ষা করেননি। অবশ্য হরতাল করবেননা যখন বলেছিলেন তখন তিনি এও বলেছিলেন যে বিএনপিকেও একই ওয়াদা করতে হবে। কিন্তু বিএনপি-জামাত এক্সিস পরবর্তীতে গোয়েবলসীয় কায়দায় শেষের অংশকে বাদ দিয়ে টিভি-তে শুধু প্রথম অংশকেই দেখাত। হরতালকে জনগণ চরম অপছন্দ করলেও আ'লীগ একের পর এক অর্থহীন ইস্যুতে অর্থহীন হরতাল দিতেই থাকল। সংসদে যাওয়া তো দূরের কথা। অথচ দ্রব্যমুল্যের আকাশচরা দাম, তারেক রহমানের দুর্নীতি এসব ইস্যুতে জনগণকে এক করার কোন কাজ তারা করতে পারেনি। এমনকি সারা দেশজুড়ে মৌলবাদী আক্রমণকেও তারা কোন রিয়েল ইস্যু হিসেবে দাঁড় করাতে পারেনি। শেখ হাসিনা আসলে কোন রাজনীতিই জানেনা। সঠিক ইস্যুতে জনগণ সবসময় আ'লীগের সাথে আছে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায় আবারও ২০০৭ সালের বিএনপি-জামাতের নির্বাচন কারচুপির মেগা প্রজেক্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে তাদের স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ দেখে। দেশের আজকের জলপাই শাসনের জন্য বিএনপি-জামাত ৯০% দায়ী, বাকিটা আ'লীগ। অবশ্য বিএনপি-জামাত সবসময়ই জলপাইদের শাসনামলে লাভবান হয়। শেখ হাসিনার সবচেয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভুল হল বর্তমান জলপাইরা যখন ক্ষমতা দখল করল তখন অতিরিক্ত খুশি হয়ে ভিতরের খোঁজখবর না নেওয়া। জলপাইদের আসল উদ্দেশ্য না বুঝেই তাদেরকে অভিনন্দন জানানো। তাদেরকে ক্ষমতায় গেলে বৈধতা দেয়া হবে বলে ব্লাংক চেক দেয়া। তবে শেখ হাসিনার চেয়ে আমার জয়কে অনেক পরিপক্ক মনে হয়েছে তার ব্লগ পড়ে। যদিও মায়ের কোন দোষ দেখতে সে রাজিনা, তবে সে রাজনীতিতে এলে দেশের ভাল হবে বলে মনে করি। তবে তাকে তারেক রহমানের মত টপে ইনস্টিটিউট করে দিলে তারও ক্ষতি হবে, পার্টীরও ক্ষতি হবে। দেশের ক্ষতি নিয়ে যেহেতু রাজনৈতিকে দলগুলো তেমন মাথা ঘামায়না, তাই সেটা আর বলছিনা। এখন তো জলপাই শাসনের জন্য সামনে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখছিনা।



শেখ হাসিনাকে আমার চরম অপছন্দের কারণ:

শেখ হাসিনাকে আমি চরম অপছন্দ করি। সেটা তার বাচালতা বা অতি-আবেগের জন্য নয়। সম্পূর্ণ অন্য কারণে। শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সেই ঘাতক-দালাল নির্মূল আন্দোলনের কথা মনে আছে? সেই গণআদালত? জাহানারা ইমাম ছাড়া আর কারও দ্বারা সেরকম গণজাগড়ন গড়ে তোলা মনে হয় এ সময়ে সম্ভবও নয়। তার মত এরকম ফেরেস্তার মত মানুষ কোথায় পাব আমরা? "ক্যান্সারের সাথে বসবাস" বইটা পড়েছেন? একজন মানুষ মনের দিক দিয়ে কত শক্ত হলে ক্যান্সারের সাথে এভাবে বাস করতে পারে সেটা বইটা না পড়লে বুঝা যাবেনা। ৯১-র পরে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর যখন শহীদ জননী কুত্তার বাচ্চা গোআসহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গণআন্দোলন গড়ে তুললেন তখন আ'লীগ প্রথমদিকে খুব সহযোগীতা করলেও আস্তে আস্তে পরবর্তীতে সহায়তা করা ছেড়ে দেয়। শেখ হাসিনার ধারণা হয়েছিল শহীদ জননী তার থেকে বেশি জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে। তাতে তার দলের লোকজন হয়ত তাকে আর সেরকম মানবেনা। এই ভয়ে সে আন্দোলন থেকে আস্তে আস্তে আ'লীগকে দুরে সরিয়ে নিল। শহীদ জননী মারা যাওয়ার পর ঘাদানিক যে আর কোন অর্থপূর্ণ কাজ করতে পারলনা সেটার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী তাই শেখ হাসিনা। এরপরেও ৯৬-০১ শাসনামলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য আ'লীগ কোন চেষ্টাই করেনি। শুধু তাই নয়, রমনার বটমুল আরো অন্যান্য বোমাহামলার বিচারের কোন প্রচেষ্টা আ'লীগ করেনি। কারণ শেখ হাসিনা চেয়েছিল তার থেকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করবে। জামাতকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিলে শেখ হাসিনার ভয় হয় তারা হয়ত জামাত-বিরোধী ভোট-ব্যাংক হারাবে। শেখ হাসিনা বংগবন্ধু হত্যারও কোন কূল কিনারা করে যেতে পারেনি। এসব কারণে আমি শেখ হাসিনাকে চরম অপছন্দ করি।


সংযুক্তি: আমার বয়স ২৫-এর কাছাকাছি। রাজনীতি কিছুটা বুঝতে শুরু করেছি ১৫/১৬ বছর বয়সে। আমার বুঝে উঠার অনেক আগেই অনেক কিছু ঘটে গেছে! তাই এখানে দেয়া কোন তথ্য ভুল থাকতে পারে। সেরকম চোখে পড়লে জানালে ঠিক করে দিব। আমার সাথে একমত হবেনা এরকম অনেকেই আছেন। ড়াজাকার বাদে সবার মতামতকে শ্রদ্ধা করি।

 

সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মে, ২০০৮ রাত ৩:৪০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ২৫ শে মে, ২০০৮ রাত ৩:৪৯
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: শেখ হাসিনাকে অপছন্দের কারনগুলি ঠিক আছে । তুমি তো অনেক অল্প কারন দেখাইসো .. শী ডিসার্ভ মোর ।

"কিন্তু কেউ কি কোনদিন ৭ই মার্চের ভাষণের মত ভাষন দিতে পারবে? জাতির সবচেয়ে সংকটজনক মুহুর্ত্যে তার মুখ দিয়ে যা বের হয়েছে সেটা কি আর কারও পক্ষে সম্ভব?" .. একমত
২৫ শে মে, ২০০৮ রাত ৩:৫৪

লেখক বলেছেন: বিমা, একমত। তবে আমার কাছে জাহানার ইমামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করাটাকে সবচেয়ে বড় কারণ মনে হয়।

২. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:১১
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: আপনার এই পোষ্টে আওয়ামীলীগ বিষয়ে অতি অন্ধত্ব, আর সমর্থক পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ফুটেছে।

শ্রদ্ধেয় শেখ হাসিনা সম্পর্কে কিছু বিরক্তি এসেছে, যদিও তার অনেক ভাল ভাল গুনের কাছে তার এইসব ক্ষুদ্র দোষ বড় করে দেখার কিছু আছে বলে আমি মনে করি না ব্যক্তিগতভাবে। দোষেগুনেই মানুষ। শেখ হাসিনা যা করেননি বলে অভিযোগ করছেন, ২১ বছর পর দায়িত্বে এসে(ক্ষমতা শব্দটি ব্যবহারে আমি রাজি নই।) তাকে অনেক কিছুই নিয়েই ভাবতে হয়েছে, ২১ বছরের কাছে ৫ বছর সামান্যই। যা হোক।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কি বলব, তার ৭ মার্চের ভাষন আমাদের প্রত্যেকের নিয়ম করে শোনা উচিত। অনুভব করা উচিত। এবং মানুষ তা করেও বলে মনে করি। আমি অনেক বড় বিএনপি নেতাকেও এই ভাষন কান লাগিয়ে চোখ বন্ধ করে শুনতে দেখেছি।

বঙ্গবন্ধুর গল্প বলতে গেলে অনেক কিছু বলতে হয়। শুধু একজন বড় মানুষ হিসেবে তার যত উদাহরন তা শুনেই আমার মত ক্ষুদ্র একজন মানুষ সারাজীবন তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করবে। আর বাংলাদেশের জন্য তার অবদান নাই বা বলা হল।

অনেক কষ্ট পাই যখন বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে কোন কথা কাউকে বলতে দেখি। একবার তাদের চোখ বন্ধ করে ভাবতে অনুরোধ জানাবো শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের কথা।

জানি না এই ব্লগের কে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কতটুকু জানেন বা কতটুকু পড়েছেন। কিন্তু যারা কটুক্তি করেন তাদের বুদ্ধিবৃত্তি, মনুষত্ব সম্পর্কে সন্দেহ দেখা দেয় আমার।

অনেক গুলো উদাহরন দিতে ইচ্ছে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে। কটা দিব,
সেই যে এক বাচ্চা ছেলে প্রতিদিন ৩২ নম্বরের বাসার গেটের সামনে দাড়িয়ে থাকত তাকে এক নজর দেখার জন্য, বঙ্গবন্ধূ একদিন তাকে অবাক করে দিয়ে তার সামনে গাড়ি দাড় করিয়ে তাকে উঠিয়ে নিয়ে বললেন, তুই প্রতিদিন দাড়িয়ে না থেকে আমাকে একদিনের জন্যেও কিছু বললি না কেন? বাচ্চা ছেলেটার তখন কি মনে হয়েছিল বলুন?

বঙ্গবন্ধু রাজনীতিবীদ ছিলেন, নিজের মাতৃভুমির জন্য তার আজন্ম সংগ্রাম। আপনি আমি যদি আমাদের পরিবারের উন্নতির জন্য কিছু করি, কত প্রানপনে করি, বঙ্গবন্ধুর পরিবার ছিল বাংলাদেশ। তার চোখে দেশের মানুষ ওই বাচ্চা ছেলেটার মতই ছিল। যখন তখন আদর করতেন।

ছোটবেলায় জলরঙে বঙ্গবন্ধুর ছবি আকতাম, ছবিটা যখন সম্পূর্ন হয়ে উঠত, আমার অনেক খারাপ লাগত, ওই অংকিত ছবিতে তার চোখ আর উথ্বিত অনামিকা দেখে, আমার ৭৫ এর কথা মনে পড়ত।

আর বড়বেলায়, মাঝে মাঝে ভাবি, কি প্রতিদান পেল লোকটা। একদা বাসায় ঘুমিয়ে ছিল সে, সারা দেশের মানুষের শান্তির ঘুম নিশ্চিত করে দিয়ে, অকস্মাত কজন বর্বর এসে পুরো পরিবার টাকে গুলি করে মেরে ফেলল!

দেশে জোড়া খুন হলেও হইচই বেধে যায়, জেল,ফাসি, আদালত সব। আর এই ঘটনার কিছুই হল না। এ দুঃখ কোথায় রাখব?

আমাদের বেচে থাকা আর না থাকা সমান কথা।


প্রতিরাতে আমরা যখন নিশ্চিত ঘুম ঘুমাই, কেউ দেশে অথবা কেউ বিদেশে আমরা কি একবারের জন্যেই ওই মানুষটির কথা মনে করি যে আমাদের নিশ্চিত ঘুম উপহার দিয়েছে? দেশকে দেশ বলে ডাকার অধিকার দিয়েছে?



আমরা জাতি হিসেবে অকৃতজ্গ বলেই আমার বদ্ধমুল ধারনা।
২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৫৮

লেখক বলেছেন: রন্টি, মক্তব্যের জন্য এবং বংগবন্ধুর কাহিনীগুলো বলার জন্য অনেক ধন্যবাদ। স্বীকার করছি আমি আ'লীগ সমর্থক। বিএনপি-জামাতকে সমর্থন করার রুচি হয়না।

৩. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৩৭
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: রন্টি .. আমাদের মনুষত্যের বোধগুলো মনে হয় ৭৫ ভোতা করে দিয়েছে । যা কিছু বাকি ছিলো সেটাও ৩রা নভেম্বরের জেল হত্যায় পুরোপুরি বিলিন ।
২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৫৮

লেখক বলেছেন: বিমা, একমত।

৪. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৪৯
বিবর্ণ বলেছেন: ভাইজান কি নয়া বুদ্ধিজীবীর খাতায় নাম তুলতে চান...... এখন বেশ সহজ হবে....মাঠ ফাকা....হাহাহাহাহাহা.....
২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৫৯

লেখক বলেছেন: আপনি কি সোনার বাংলা=মামু ? পোস্ট পড়েছেন? লেখাটার সাথে বুদ্ধিজীবি হওয়ার সম্পর্ক বুঝলাম না।

৫. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৫৬
নমরুদ বলেছেন: বিবন্নরে আমি ঠিক বুজবার পারি না...তরলং সদৃশ; ক্ষনে ক্ষনে আকার চেঞ্জ করতে দেকা যায়।
২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:০০

লেখক বলেছেন: আমিও বুঝবার পারিনা। আমার ধারণা সে সোনার বাংলা=মামু।

৬. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:০৯
শান্তির দেবদূত বলেছেন: কি আর বলবো :(............. শুধু কষ্ট :(.......... আমি নিজেকে খুব শক্ত মনের মানুষ মনে করি, কিন্তু এই আমি সবার চোখে পরবে এই ভয়ে বাতরুমে ১ ঘন্টা উপর বসে বসে কেদেছিলাম, জানেন কেন ? যেদিন প্রথম আলোয় সিড়ির উপর শেখ মুজিবের গুলিবিদ্ধ লাশের ছবি দেখেছিলাম..........

আর কতকাল যে আমাদের এই পাপের বোঝা টানতে হবে :(........

আমার মতে আওয়ামিলীগের সবচেয়ে বড় ভুল , "শেখ মুজিবকে দলীয় নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা । উনি আওয়ামিলীগের নন বরং সমগ্র জাতির " .............
২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:৩১

লেখক বলেছেন: একমত। অনেক ধন্যবাদ।

৭. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:১১
বিবর্ণ বলেছেন: নমরুদ বলেছেন: বিবন্নরে আমি ঠিক বুজবার পারি না...তরলং সদৃশ; ক্ষনে ক্ষনে আকার চেঞ্জ করতে দেকা যায়।
লেখক বলেছেন: আমিও বুঝবার পারিনা। আমার ধারণা সে সোনার বাংলা=মামু।


লিখাটা পড়েছি এবং যতেষ্ট যত্ন করে পড়েছি। ইদানিং একটা নয়া কায়দা আবিস্কার হয়েছে...... কায়দাটার কি জানি একটা ভাল নামও আছে মনে করতে পারছি না। যাই হোক.... কিছু আলোচন, কিছু সমালোচনা, কিছু তেল= সুবিধাবাদী আতেল, থুক্কু বুদ্ধিজীবী।
২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:২০

লেখক বলেছেন: তো আপনার মত হচ্ছে শুধু আলোচনা অথবা সমালোচনা যেকোন একটা করা যাবে? আপনি সঠিকভাবে লিখতে চাইলে তো ভালকাজের জন্য প্রশংসা আর খারাপের জন্য সমালোচনা করতে হবে, নাকি? আমার পোস্টে কোন বিষয়ে আপনার দ্বিমত আছে সেটা বলেন আর কেন সেটাও বলেন। নাহয় আগড়ম বাগড়ম কথা বলে কি লাভ?

৮. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:৪৪
বিষাক্ত মানুষ বলেছেন: বিবর্ন আর কথা কয় না কেন !! উনার জবাবের অপেক্ষায় আছি ..
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:৫৩

লেখক বলেছেন: জবাব নিচে দিছে!

৯. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:৪৫
রাশেদ বলেছেন: হাসিনার আওয়ামী লীগকে আমি বিএনপির চেয়েও বেশি ঘৃণা করি।

বঙ্গবন্ধু সবচেয়ে ভালো করতেন যদি ক্ষমতায় না আসতেন। উনি বেশি বিশ্বাস করতেন মানুষকে। এই বিশ্বাসটাই কাল হয়ে দাঁড়ায়। দেশের মানুষকে আপন মনে করতেন দেখেই তাদের উপরে একটু জমিদারিসূচক ভাব তাঁর ছিলো। এইটাকে আমি ভালোবাসা হিসেবেই দেখি। আর যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি দেশকে চালাতে হবে খুব শক্ত হাতে। সেইটা মনে হয় তিনি পুরাপুরি পারেন নাই।


ব্যখ্যা চাইয়ো না। দিতে পারবো না। :)
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: রাশুদা, ব্যাখ্যা চাইতে হবেনা, আমারও একই মত এ ব্যাপারে।

১০. ২৫ শে মে, ২০০৮ ভোর ৬:৪২
বিবর্ণ বলেছেন: @ আমার মনে হয় না। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশী বাংগালি, মুসলমান পরে, সেই বোধটা প্রথম আসে আ'লীগের মাধ্যমেই। সেই বোধটাকে কেন্দ্র করেই আমাদের স্বাধীনতা, সংস্কৃতি, ভাষা, দেশপ্রেম সবকিছুই আবর্তিত।
- আপনার পর্যবেক্ষন ক্ষমতা বেশ ভাল। কিন্তু কথাগুলি যদি পুরমাত্রায় সত্যি হবে, তবে বৃটিশরা কি করল! তারা কেন মাঝে বিশাল ভারত আর দুই প্রান্তের দু্ই খন্ড ভীন্ন সংস্কৃতি ও মানসিকতার জনপদকে এক রাষ্ট্র করার মন্ত্র দিল! এর আড়ালে কি কোনই উদ্দেশ্য ছিল না! তারা কি জানতো না আমাদের বোধের কেন্দ্রবিন্দু কোথায়?

@ যেসময়ে তিনি ছিলেন তখন তিনি দলমত নির্বিশেষে সবারই ছিলেন, অন্তত স্বাধীনতার কয়েকবছর পর পর্যন্তও।
-স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধুর সরকার কি একথা বলে! তিনি কি সেদিন পেরেছিলেন আওয়ামীলীগের গন্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে?


@ বাকশাল কায়েম করাটা যে যতই বলুক কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায়না। কিন্তু নিরপেক্ষভাবে চিন্তা করলে দেখা যায় বংগবন্ধুর সামনে কি আর কোন অপশন খোলা ছিল?
-মানে কি? সত্যিই কোন পথ ছিল না? যে ব্যক্তি মিত্রদেশ গান্ধির সাথে হ্যান্ডশেখ করার আগেই বলেছিলেন, কখন আমার দেশ থেকে শৈন্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে তাই বল। তার সামনে কোনই পথ খোলা ছিল না!

@ ডঃ কামাল হোসেনকে আমার ভাল লাগে এজন্য যে তিনি শেখ হাসিনার সাথে অভিমান/রাগ করে এরপরে কোন সময়ই বিএনপি-জামাতের নব্য মুসলিম লীগ এক্সিসের পক্ষে যায় এরকম কোন কাজ করেননি যেমনটা আমাদের তথাকথিত জনগনের সাথে সম্পর্কহীন বামপন্থীরা করে থাকেন।
-আজ গণফোরাম যদি আকারে বা শক্তিতে আওয়ামীলীগের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াত তবে কি সত্যিই ডঃ কামালকে ভাল লাগা দীর্ঘ হতো?

@ তবে শেখ হাসিনার চেয়ে আমার জয়কে অনেক পরিপক্ক মনে হয়েছে তার ব্লগ পড়ে।
-আপনার একথার সাথে আমিও মোটামুটি একমত।
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১২:৫৬

লেখক বলেছেন: আপনার ১ নং পয়েন্টে কি বলতে চেয়েছেন সেটা কিছুই বুঝিনি।
২ নং পয়েন্টের জন্য বলব ৭৩ পর্যন্ত বংগবন্ধুর সেরকম কোন ভুল চোখে পড়েনা। বাকশাল করাই সবচেয়ে বড় ভুল বলে মনে হয়।

২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫০

লেখক বলেছেন: ৩ নং পয়েন্ট: আমার মনে হয় বাকশাল কায়েম করাটা ছিল বংগবন্ধুর দেশকে একসাথে আনার একটা ডেসপারেট চেষ্টা। তবে আপনার দৃষ্টিভংগিটা জানলে ভাল লাগত।

২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫২

লেখক বলেছেন: ডঃ কামাল যদি এরকম একটা পার্টী করতে পারত সেটা দেশের জন্য অনেক ভাল হত। আ'লীগের জন্য হুমকি হয়ে দাড়ালে আরো ভাল হত। এখন ত আমরা যারা জামাতকে ঘৃণা করি, মুক্তিযুদ্ধকে মনেপ্রাণে লালন করি তাদের জন্য আ'লীগ খারাপ হলেও অন্য কোন উপায় নেই। তখন একটা ভাল বিকল্প থাকত।

১১. ২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ৭:১৯
এস্কিমো বলেছেন: পোস্টের অনেক বিষয়ে একমত।

শুধু দ্বিমত থাকলো ৮৬ এর নির্বাচন নিয়ে। ৮৬ নির্বাচনে আ.লীগ অনেক ক্রেডিবিলিটি হারিয়েছে। কিন্তু সেইটা ছিলো একটা গভীর ঘটনা। আরেকটুকু জেনে নিতে হবে।

আর শেখ হাসিনার বেশ কিছু পয়েন্ট মিস করেছেন --

১) আপনার সাথে সম্পূর্ন একমত। গনআদালতের সাথে প্রতারনা করেছে।
২) আন্দোলনের নামে নিজামীর সাথে এক টেবিলে বসেছে। যা মূলত নিজামীকে গ্রহনযোগ্যতা দিয়েছে। আওয়ামীলীগের কর্মীদের রাজাকার ইস্যুতে অনুভুতি ভোতা করেছে।


২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৩

লেখক বলেছেন: একমত এস্কিমোভাই। ৮৬'র নির্বাচন সম্পর্কে আপনার মতামতটা আরেকটু পরিষ্কার করে বললে ভাল হত।

২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৩. ২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ৮:১৭
বিবর্তনবাদী বলেছেন: পোস্টের প্রথম অনুচ্ছেদের ব্যাপারে একেবারেই সম্মত হতে পারলাম না। আপাত দৃষ্টিতে বর্তমানে দাঁড়িয়ে দেখলে হয়ত মনে হতে পারে, "সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশী বাংগালি, মুসলমান পরে, সেই বোধটা প্রথম আসে আ'লীগের মাধ্যমেই।" কিন্তু বাংলার ইতিহাস একটু বিস্তারিত ঘাটলেই বুঝতে পারবেন, এটা একটা ভ্রান্ত ধারণা।

আওয়ামী লীগের তৎকালীন যে রূপ আমরা এখন দেখতে পাই, তা সম্পূর্ণই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিশাল ব্যক্তিত্ত্বের আঁচলে মোড়া। সূর্যের পেছনে কোন বিশাল গ্রহ রইলেও যেমন তাকে দেখা যাবে না ঠিক তেমনই বলতে পারেন। ১৯৬৬ এর আগে আওয়ামী লীগ এ দেশের জনমানুষের কাছে তেমন কোণ আলোচ্য দলই ছিল না। কিন্তু ছয় দফা কর্মসূচির মাধ্যমে শেখ মুজিব তাদের সামনে নিয়ে আসেন।

প্রথম অনুচ্ছেদে যা যা বললেন, তা এ অঞ্চলের মানুষের ভেতরে একটি চেতনা যা প্রকাশ পায় আমাদের ইতিহাসের নানা সময়ে, শুধু ষাটের দশকে নয়।

আওয়ামী লীগের মত একটি বুর্জোয়া ও সুবিধাবাদী দল হতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে আলাদা রাখবার জন্য ধন্যবাদ। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিব এক সাথে আলোচিত হতে পারে না
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনার মতামত ভাল লাগল। ধন্যবাদ বিবর্তনবাদী।

১৪. ২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ৮:৩৭
আবুল বাহার বলেছেন: অনেক বড় লেখা তার পরে ও পড়লাম । কিছু কিছু বিষয় আমার মতের সাথে মিললেও কিছু বিষয়ে দ্বিমত আছে । সে গুলো নিয়ে বিতর্ক বাড়াতে চাইনা । কারন এতে অপশক্তিই লাভবান হবে ।

ধন্যবাদ ।
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

১৫. ২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:১৪
সাঁঝবাতি'র রুপকথা বলেছেন: "ক্যান্সারের সাথে বসবাস
বইটার কোন লিঙ্ক আছে?

আপনার লেখা ভালো হইসে...
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৫

লেখক বলেছেন: ভাই, আমার জানামতে সেরকম লিংক নেই। অনেক ধন্যবাদ।

১৬. ২৫ শে মে, ২০০৮ সকাল ১১:৩৭
বৃত্তবন্দী বলেছেন: সুন্দর পোস্ট। যদিও কিছু অংশের সাথে ভিন্নমত। আমি নিজেও বঙ্গবন্ধু কে দলীয় সম্পত্তি হিসেবে দেখতে নারাজ।
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৫

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

১৭. ২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১২:১৮
চিকনমিয়া বলেছেন: অবজার্বেশনে রাকলাম, বিরাট লেকা আস্তে আস্তে পড়মু
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৫

লেখক বলেছেন: চিকনা, কেমুন আছ?

১৮. ২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ১:১৫
রাফা বলেছেন: আপনার লেখার বেশির ভাগের সাথেই একমত।কিন্তু ব্যার্থতার সব দায় কি হাসিনার।কোন কোন সময় তাকেও ভূল পথে পরিচালনা করা হয়েছে ।কেন্দ্রীয় নেতৃত্ত ও ব্যার্থ।বিনপি কে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনুসরন করেই আজকে আলীগের এই অবস্হা।কখনো কখনো বিশাল এই দলটিকে অসহায় মনে হয়েছে কারন আমাদের দেশে অনিয়মটাই নিয়মে পরিণত হয়েছিল।আর এই ফাদটুকু এড়িয়ে চলতে পারে নাই বলেই আজকের অধপতন।
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৬

লেখক বলেছেন: শেখ হাসিনাকে ভুল পথে পরিচালনা করা হলে তিনি ভুল পথে চললেন কেন? দলীয় চামচাদের থেকে নিজেকে কখনই দূরে রাখতে পারেননি।

১৯. ২৫ শে মে, ২০০৮ দুপুর ২:৫৯
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: বিশ্লেষণ ভালো লাগছে ...
বঙ্গবন্ধু বাঘ হইলে তাঁর কন্যাটা বিড়ালও হইতে পারেনাই -- এটাই আওয়ামী লীগের মূল মাইনাস পয়েন্ট

তবে একটা তথ্য (যদিও শোনা কথা) ... ৮৬ এর ভোটের সময় শুনতাম ... হাসিনাকে ভোটে নামাইছিলো মূলতঃ ড.কামাল ... ঐ ভোটে না গেলে এমনও হয়তো হইতে পারতো যে ১৯৯১ থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় থাকত ...
ঐ এক ঘটনা পুরা একটা প্রজন্মকে আওয়ামীলীগবিমুখ করে ফেলেছিলো ... আমার ধারনা এখনকার বাঙালীদের মধ্যে ২০ এর দশকে আর ৪০ এর দশকে যে পরিমাণ আওয়ামীলীফ সাপোর্টার পাওয়া যাবে, ত্রিশের দশকে, বিশেষ করে লেইট থার্টিতে সেরকম পাওয়া যাবেনা ... এরা সেই প্রজন্ম যাদের কাছে খালেদা জিয়া এক নির্বাচান বর্জন করে হিরো হয়ে গেছিলো (পরে অবশ্য নামতে নামতে কোথায় নেমে গেলো!) ... আমার এখনও মনে আছে, ৯১ এর ভোটের সময় আমাদের কলোনীর কমন প্যাটার্ণ ছিলো বাসার বাবা আওয়ামী লীগ সাপোর্ট করে, ছেলে বিএনপি ... সেসময় লীগ-বিএনপি কাঁধে কাঁধে লড়ত ... কিন্তু ছাত্রলীগের চেয়ে ছাত্রদল অনেক পপুলার ছিলো ... অবশ্য বিএনপি'র দশ বছরের শাসনকাল আওয়ামী লীগকে সেই ক্ষতিপূরণে অনেক সাহায্য করছে ;)


২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে একমত। আমিও দেখেছি তরুনদের কাছে ছাত্রদল ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। তবে ডঃ কামাল বিষয়ক কথাটা আমি জানিনা।

২০. ২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:০১
জ্বিনের বাদশা বলেছেন: "কাঁধে কাঁধে " মানে "সমানে সমানে"
২১. ২৫ শে মে, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০
বহুরূপী মহাজন বলেছেন: বড় লেখা, পড়ে কমেন্ট করবো। আপাতত শোকেসে।
২২. ২৫ শে মে, ২০০৮ রাত ৯:১৪
বন্ধনহীন বলেছেন: বিবর্তনবাদীর শেষ কথার সাথে একমত। তবে আমি কথাটা এভাবে বলবো - "বর্তমান আওয়ামী লীগ ও শেখ মুজিব এক সাথে আলোচিত হতে পারে না"। বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বঙ্গবন্ধুকে প্রতিনিয়ত বিক্রি করছে।

গনভবন শেখ হাসিনার নামে লিখিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ায় বুঝা যায় - কী চরম সামন্ত মানসিকতা বর্তমান আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে বিরাজ করছে। অল্প সংখ্যক সুশীল পেটি-বুর্জোয়া দিয়ে গনতন্ত চর্চা সম্ভব নয়।
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৮

লেখক বলেছেন: সম্পূণ একমত।

২৩. ২৫ শে মে, ২০০৮ রাত ৯:২৩
পলটু বলেছেন: জ্বিনের বাদশা বলেছেন: ...হাসিনা ৮৬ ... ভোটে না গেলে এমনও হয়তো হইতে পারতো যে ১৯৯১ থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় থাকত ..


একমত
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৫৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আমিও একমত।

২৪. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:১৩
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: জামাত ব্যবসা করে ধর্ম নিয়ে আর আওয়ামী লীগ ব্যবসা করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। জামাত বা বিএনপি বা অন্যান্য দলগুলো নিয়ে বলার রুচি নেই; আমার ব্যক্তিগত ধারণা আওয়ামী লীগের প্রতি আমাদের অনেকেরই একধরনের অভিমান জমা হয়ে আছে, আমরা অনেকেই হয়তো নিজেদের অজান্তেই দেশটা ঠিক করার ভার আওয়ামী লীগের ওপর দিয়ে বসে আছি, তারা কিছু করতে পারেনা (এবং ক্ষেত্রবিশেষে উল্টোটা করে) দেখে হতাশা বোধ করি। আহমদ ছফার কথাটা কি জানো হ্যারি? "আওয়ামী লীগ যখন জেতে তখন একাই জেতে, আর যখন হারে তখন পুরো দেশকে নিয়ে হারে।"
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:০০

লেখক বলেছেন: রিয়াজ শাহেদ, আপনার কমেন্টটা খুবই ভাল লাগল। অভিমানের কথা যেটা বলেছেন সেটা একদম সত্য। আহমদ ছফা'র কথাটা শুনেছিলাম। অনেক ধন্যবাদ।

২৫. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:১৭
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: ভালো লাগলো , যদিও একজন কট্টর সমর্থকের দৃষ্টিকোণ থেকে লিখেছেন ।

ছাত্ররাজনীতি অল্প কিছুদিন করেছি , ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিলাম । তবে সবসময় ঠিকটা বুঝে করার চেষ্টা করেছি , অনেক সময় দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করেও । মফস্বলে একটা নির্বাচন পুরোপুরি দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছিল।রাজনীতিবিদরা কত যে নিচে নেমে গেছে তার খানিকটা অভিজ্ঞতা আছে । এগুলো নিয়ে হয়তো লিখবো

ধন্যবাদ আপনাকে।
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:০১

লেখক বলেছেন: মেহরাব, অনেক ধন্যবাদ। তোমার লেখা পড়ার আশা রাখি।

২৬. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ১:৩০
বহুরূপী মহাজন বলেছেন:
চীনের দুঃখ হোয়াং হো নদী

আওয়ামীলীগের দুঃখ হাসিনা
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:০১

লেখক বলেছেন: হাহাহা.......খুব ভাল বলেছেন।

২৭. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:০৪
বহুরূপী মহাজন বলেছেন: (উপরের মন্তব্যটা মুছে দাও, কমেন্টটাতে ভুল আছে তাই ঠিক করে আবার দিলাম)

বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে একটু কথা আছে। আমি ওনাকে প্রচন্ড শ্রদ্ধা করি, তবে আমার যতদূর মনে হয়- তিনিও তার মেয়ের মত তোষামদ অতিরিক্ত পছন্দ করতেন এবং মনে করতেন তার কারিশমাতেই বীর বাঙ্গালি দেশ ফট করে স্বাধীন করে ফেলেছে - কোন সাংগঠনিক তৎপড়তার প্রয়োজন হয়নি। অথচ এর পেছনে যে তাজউদ্দীন আহমদের বিশাল ভূমিকা ছিল তা তিনি কখনো মূল্যায়ন করেন নি। জানি না তিনি সেটা বুঝতে পারেন নি না বুঝতে চান নি। এর পেছনে কারন আছে।

যখন তিনি মুক্ত হয়ে দেশে ফেরেন তারপর তিনি কখনো তেমনকরে জানার চেষ্টা করেন নি কিভাবে দেশটা মাত্র নয় মাসে স্বাধীন হয়ে গেল। তিনি তাজউদ্দীন আহমদকে কখনো জিজ্ঞেস করেন নি নয় মাসে কি কি হয়েছে, কার ভূমিকা কি ছিল, তাজউদ্দীন আহমদ কিভাবে নয়মাস প্রবাসী সরকার পরিচালনা করেছেন? অথচ তার প্রথমেই এসব ব্যাপারে বিস্তারিত জানার দরকার ছিল।

হতে পারে তিনি তাজউদ্দীন আহমদকে চিনতে পারেন নি। তবে তার মত নেতা এমন ভুল করবে সেটা মানা কষ্টকর। অন্যটি হতে পারে - তিনি তার মেয়ের মতই ভেবেছেন, তাজউদ্দীনকে যোগ্য মযার্দা দিতে গেলে তার নিজের অবিসংবাদিত নেতার আসনটিই টলমলে হয়ে যাবে - খুবই ভয়াবহ ভাবনা জানি, তবে কেন জানি মনে হয় এটি সত্যি, অবস্থা সেরকমই বলে।

তবে এ কথা সত্যি, বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীন আহমদকে চরম অবমূল্যায়ন করেছেন। সেটা না করলে বাংলাদেশের অবস্থা হয়তো অন্যরকম হতো। তাজউদ্দীন তার সব কাজে চমৎকার চমৎকার - লিডার লিডার করেন নি বলে সবসময় অবহেলা পেয়েছেন। তারপরও তিনি কখনো বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে যাননি, বরং অভিমানে নিজেকে গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন।
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:১০

লেখক বলেছেন: "তবে এ কথা সত্যি, বঙ্গবন্ধু তাজউদ্দীন আহমদকে চরম অবমূল্যায়ন করেছেন। সেটা না করলে বাংলাদেশের অবস্থা হয়তো অন্যরকম হতো। কিন্তু তাজউদ্দীন তার সবকাজে চমৎকার চমৎকার করেন নি বলে সবসময় অবহেলা পেয়েছেন। কিন্তু কখনো বঙ্গবন্ধুর বিপক্ষে যাননি, বরং অভিমানে নিজেকে গৃহবন্দি করে রেখেছিলেন।"


পরিপূর্ণ একমত। তাজউদ্দিন আহমেদকে এত ভাল লাগে আমার বুঝানো যাবেনা।


"হতে পারে তিনি তাজউদ্দীন আহমদকে চিনতে পারেন নি। তবে সেটা তার মত নেতা এমন ভয়াবহ ভুল করবে সেটা মানা কষ্টকর। অন্যটি হতে পারে তিনি হয়তো তার মেয়ের মতই ভেবেছেন, তাজউদ্দীনকে যোগ্য মযার্দা দিতে গেলে তার নিজের অবিসংবাদিত নেতার আসনটিই হয়তো টলমলে হয়ে যাবে - খুবই ভয়াবহ ভাবনা জানি, তবে কেন জানি মনে হয় এটি সত্যি, অবস্থা সেরকমই বলে।"

এটা মানতে পারতেছিনা। মোশতাকের কানকথাকে বিশ্বাস করেছিলেন, তাছাড়া বংগবন্ধু মানুষ চিনতে ভুল করেছিলেন।

২৮. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:০৮
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: মফস্বলের নির্বাচনের ঘটনাটা একবার লিখতে চেয়েও বাদ দিয়েছি । সত্যি ঘটনাগুলো রেন্টুর বইয়ের চাইতেও বেশি হয়ে যেত ,ব্লগে অনেকেই ক্ষেপে যাবে দেখে সাহস পাইনি । এমন না যে একটি দলই এই দোষে দোষী , আমি যেখানে দেখিনি সেখানে হয়তো অন্য দলটিও একই কাজ করেছে । তবে জীবনে এমন অভিজ্ঞতার দরকার ছিল , সংবাদপত্র আর রাজনীতি কত বেশি নোংরা হতে পারে , নিজের চোখে না দেখলে কোনদিনও বিশ্বাস করতে পারতাম না।
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:১১

লেখক বলেছেন: মেহরাব, লোকজনে কি বলে সেটা নিয়ে মাথা ঘামালে চলবে কেন? যা দেখেছ তাই লিখে ফেল। সবদলই একই ব্যাপার আছে।

২৯. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:১১
মেহরাব শাহরিয়ার বলেছেন: কিছু মনে করবেন না মাহফুজ ভাই , একটা পোস্টে আয়াত নিয়ে কাটাছেঁড়া হচ্ছে , আমরাও তাতে অংশ নিচ্ছি , খারাপ লাগলো ।

আমার কমেন্ট টা মুছে দেবেন
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:২৭

লেখক বলেছেন: মেহরাব, ওটা জাস্ট একটা ফান করা। তাই আমিও মজা করতেছিলাম। তাছাড়া লোকাল-টক কোরাণকে অবমাননা করার মত ব্লগার না। তোমার অনুভুতিতে আঘাত লেগেছে মনে হচ্ছে। ঠিকাছে আমিও আর ঐ পোস্টে কমেন্ট করতেছিনা।

৩০. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:৩০
বহুরূপী মহাজন বলেছেন: হ্যারি, আমি এ নিয়ে কিছুটা ঘাটাঘাটি করেছি; তাতে এমনটাই মনে হয়েছে। আমি নিজেই শকড.....
২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:৪১

লেখক বলেছেন: হুমম.....তাহলে তো আমার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। তবুও এটা মানতে ইচ্ছে হচ্ছেনা। কোন বই অথবা লেখার নাম বলবে?

৩১. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:৪৩
বহুরূপী মহাজন বলেছেন: মাথা খারাপ করার দরকার নাই, আমি বাদ দিসি
২৬ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:১০

লেখক বলেছেন: ওকে।

৩২. ২৬ শে মে, ২০০৮ রাত ২:৪৭
রেটিং বলেছেন: আমার আগের কমেন্টটা মুইছা দিও
২৬ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:১০

লেখক বলেছেন: কেন? ওকে দিলাম।

৩৩. ২৬ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:১৪
রাতুল" বলেছেন: আওয়ামী লিগ, বিনপি দুইটার হাত থেইকা ছুটতে চাই। কাওরে এই সময়ে একটুও ভাল লাগে না। পুরান কথা ভাইবা জাবর কাটতে আমি রাজি না। আর জামাতরে গাদাম লাথি অলওয়েজ।
২৬ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। কিন্তু বিকল্প নেই ত। কি করবেন? আমরা মধ্যবিত্ত ভন্ডরা ড্রয়িং রুমে বসে তাদেরকে গালি দিই, কিন্তু নিজে কোনদিন সেখানে যায়না!

৩৪. ২৬ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:২২
রাতুল" বলেছেন: আমার চোখে অনেক ঘুম, ঘুমাইতে চাই, কাম হালাই শেষ হয় না। আমি না ভোট দেবার পক্ষে। কারও দলে যামু না। দরকার হইলে কালি কলম নিজে নিয়া যামূ, আরেকটা ঘর বানাইয়া নিজের ভোট নিজেরে দিমু। তাও এই ২ টা পার্টিরে আর না।
২৭ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৩৭

লেখক বলেছেন: হাহাহ......ঠিক ভাই।

৩৫. ২৬ শে মে, ২০০৮ সকাল ৯:৪১
রিয়াজ শাহেদ বলেছেন: আমার ধারণা বঙ্গবন্ধুর একটা ব্যাপারেই সীমাবদ্ধতা ছিলো- তিনি বেঁচে আছেন অথচ দেশ চালাচ্ছে অন্য কেউ বা অন্য কোনো দল এটা তিনি সহ্য করতে পারতেন না বলেই মনে হয়; সুতরাং এ ব্যাপারটা ঠেকাতে তিনি (হতে পারে সেসময় তিনি খুব বেশি সচেতনও ছিলেন না) এমন সব ব্যবস্থা নেন যেগুলো বিরোধী পক্ষের পুঁজি হয়ে ওঠে, এবং এখনো তাঁর সমালোচনা করতে গেলে কুলাঙ্গারগুলো ঐ পুঁজিটা দিয়েই শুরু করে।
২৭ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৩৭

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ মতামতের জন্য।

৩৬. ২৭ শে মে, ২০০৮ রাত ১০:২৫
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

এই পোস্টটা দেরীতে দেখলাম বলে একটু আক্ষেপ হচ্ছে । আরো আগে দেখার দরকার ছিল । পোস্ট ভালো লেগেছে বেশ । যদিও অনেক বিষয়েই একমত নয় । আমাদের প্রিয় হ্যারিকে দলীয় আনুগত্যের উর্ধ্বে দেখতে চেয়েছি । এই পোস্টে দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পায়ওনি । যেটা প্রকাশ পেয়েছে সেটা হচ্ছে, নিজর ভালো লাগার দুর্বলতা । এই দুর্বলতাটার প্রকাশ না দেখলে আরো খুশী হতাম ।

রাশেদের একটা কথা মনে লেগেছে । "হাসিনার আওয়ামীলীগকে আমি বিএনপির চেয়ে বেশী ঘৃণা করি !" আমাদের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিতর্কের অবকাশ থাকে । কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি সেই পথে যেতে রাজি না । আমি মনে করি, শেখ মুজিব বাংলাদেশে একজনই এসেছিলেন । তাঁর মতন নেতা আরো পেতে পারি আমরা, এই বিশ্বাস আমার হয় না ।

জিয়াউর রহমানের প্রতিও আমার শ্রদ্ধা আছে । বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের তুলনায় হাজারগুণ বেশী দেশপ্রেম এই নেতাদের মাঝে ছিল এটা আমার বিশ্বাস ।
জিয়াউর রহমানকে এই পোস্টে কি জন্য ধূর্ত বলা হলো, বিষয়টি আমার কাছে পরিস্কার নয় ।


আর শেখ হাসিনার ৯৬--২০০১-এ সময়টা আমাদের স্বর্ণযুগ এ বিষয়ে আমি একমত নই । একমত নই কারণ, সেই সময়ের সন্ত্রাসের দৌরাত্মকে এই পোস্টে খুব লাইলটি দেখানো হয়েছে । বাস্তবে ব্যাপারটা ভয়ানক । একজন দিনমজুরের সারাদিনের আয় যদি সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক নিয়ে যায়, আমাদের মতো গরীব দেশের প্রেক্ষাপটে সেটাকে হালকাভাবে নেবার উপায় নেই । সন্ত্রাসী সব দলেই আছে । সবার শাসনামলেই সন্ত্রাসের দৌরাত্ব তীব্রভাবে আছে ।তবে শেখ হাসিনার মতো করে কেউ সন্ত্রাসকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়নি । প্রাতিষ্ঠানিক রূপটা কি রকম ? একজন জয়নাল হাজারীকে যখন শেখ হাসিনা-- মুজিব আদর্শের সৈনিক বলে সদম্ভে ঘোষণা দেন, তখন কবরে থাকা মুজিবের আত্মা নিশ্চয়ই লজ্জা পান । লজ্জা পান এই কারণে যে, "মুজিবের আদর্শটা তাহলে কি ?" এই প্রশ্নটা তখন ভীষণ সাংঘর্ষিক হয়ে আমাদের সামনে দেখা দেয় । দেয় না-কি ?


একজন জয়নাল হাজারী, একজন আবু তাহের, একজন শামীম ওসমানরা শেখ হাসিনার স্নেহের ছায়াতলে ছিল, এই ইতিহাসটা ভয়াবহ ।
২৮ শে মে, ২০০৮ রাত ২:৪০

লেখক বলেছেন: আরাশি বদ্দা, তোমার মতামতটা খুবই ভাল লাগল। জিয়াকে কেন ধূর্ত বলেছি সেটাসহ বিএনপিকে নিয়েও একটা পোস্ট দিব। জিয়া'র দেশপ্রেম বিষয়ে আমার তেমন ধারণা না থাকলেও তাঁর স্বজনপ্রীতিহীনতা আমার খুবই ভাল লাগে। সে বিষয়ে বলব। জয়নাল হাজারীর থেকে ১০০গুন বেশী সন্ত্রাসী সাকা চৌধুরী। শামীম ওসমান থেকে পিন্টু অনেক বড় গডফাদার। আর জয়নাল হাজারীর ব্যাপারটা এত বেশী এসেছে কারণ প্র. আ. মতিউর রহমানের সাথে তার গোলমাল হয়েছিল তাই। তবে শেখ হাসিনা যেভাবে নগ্নভাবে জয়নাল হাজারীর পক্ষে সাফাই গেয়েছে সেটা তার মানসিক সমস্যার লক্ষণ। এইজন্য আ'লীগ যতটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেটা এখন এই মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা হয়ত এখন বুঝতেছে। তবে তোমার মতামতকে সম্মান করি বস্‌। বিএনপিকে নিয়ে পরের পোস্টে আশা করি তোমার অংশগ্রহন থাকবে।

৩৭. ২৮ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:১৭
আবদুর রাজ্জাক শিপন বলেছেন:

বিএনপিকে নিয়ে পোস্ট দিলে অবশ্যই অংশগ্রহণ থাকবে । এখানে একটা বিষয় ক্লীয়ার করা জরুরী মনে করছি । আমাকে যদি কেউ কোন দলের সমর্থক মনে করে তাহলে ভুল করবে । বাংলাদেশের যে মূল দুটো দল বিএনপি-আওয়ামিলীগ, এ-দুটি দলের বর্তমান যে রাজনৈতিক ধারা (এটাকে আমি ঘৃণা করি ) সেটা কাছাকাছি মনে হয় । তেমন একটা তপাৎ খুঁজে পাইনা । মৌলিক তপাৎ হয়তো থেকে থাকবে ! কিন্তু সেই মৌলিকত্ব দিনেদিনে দল দুটো পুরোপুরি হারাচ্ছে বলে আমার ধারণা । দুটো দলই ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করে, দেশ বা জনগণের জন্য নয় । সুতরাং এদের রাজনীতি সত্যিই আমার পছন্দ না ।

আর বাকী থাকে কারা ? রাজাকার জামাতীরা ! এদের ব্যাপারে আমার মনোভাব নিশ্চয়ই নতুন করে বলে দিতে হবে না ।

এই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমি বীতশ্রদ্ধ । এদের নোংরা রাজনৈতিক ধারা , হরতাল -ভাঙ্গচুর -জ্বালাওপোড়াও এগুলো না থাকলে দেশ আরো অনেক এগিয়ে যেতো এটা আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি ।

আর এজন্যই মি. পটেটো খ্যাত এই তথাকথিত তত্বাবধায়ক সরকার যখন দায়িত্ব নিয়েছিলো একটু আশাবাদীই হয়েছিলাম বলতে দ্বিধা নেই । এখন শুধু হা-পিত্যেস করি, মনে মনে বলি, হায়রে আমার দুর্ভাগা জাতি , তোমাদের নিস্তার নেই । :(


সাকা চৌধুরী বিরাট গড ফাদার । তবে জয়নাল হাজারীর চেয়ে ১০০ গুণ বেশী সন্ত্রাসী সেটা কিভাবে ? সাকা'র বিরাট সন্ত্রাসী বাহিনী আছে । কিন্তু তারা হাজারী বাহিনীর মতো অরাজকতা করেনি ।



আর গোলমালটা মতিউর রহমানের সাথে হয়েছে তা নয় । এভাবে বললে কেমন হয় যে, গোলমালটা হয়েছে সুবোধসম্পন্ন মানুষের বিবেকের সাথে । যেভাবে বর্বরের মতো সাংবাদিক টিপুকে পিটিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হলো, ন্যূনতম বিবেকবোধ সম্পন্ন যে কোন মানুষ তখন হাজারী কে ঘৃণা করবে, সম্মুখ যুদ্ধে হাজারীর সাথে বিরোধে যাবার শক্তি না থাকুক, মনে মনে হাজারীর সাথে বিরোধী জড়াবে তাকে ঘৃণা করে , সেটাই কি স্বাভাবিক নয় ?

২৮ শে মে, ২০০৮ ভোর ৪:৩৭

লেখক বলেছেন: ঠিকাছে। আরাশি বদ্দা, তোমার মতামত ভাল লাগল। সাকা চৌধুরীর অরাজকতা তুমি মনে হয় জাননা। সাংবাদিক টিপু হত্যাটা ঘৃণ্য অমানবিক এবং জয়নাল হাজারী তার শাস্তি পাচ্ছে। সাকা চৌধুরীর সাথে অন্য কারো তুলনা চলেনা। আমার আত্মীয় আছে তার এলাকায়। ৩০ বছরেরও বেশী সময় ধরে কি চলতেছে সেটা বুঝানো সম্ভব না। হাজার হাজার টিপু সুলতান তার হাতে খুন হয়েছে। তবে একটা হত্যা বা অন্যায় অন্য কোন হত্যা বা অন্যায়কে জায়েজ করেনা।

বাদ দাও। সবাই ওরা একই।

৩৮. ২৮ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:২০
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: মাইগড! কিসের সাথে কিসের তুলনা? শামীম ওসমান আর হাজারী গজারী এরা তো ফালতু টাইপ। সাকা তো সাকা...। সাকার মত ভয়ংকর হওয়া সহজ না।
৩৯. ২৮ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:২৪
রন্টি চৌধুরী বলেছেন: আরাশি;র সাথে একমত। জিয়ার দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ করি না। অন্তত অনেকগুলা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন তিনি যেগুলো খুবই সৃষ্টিশীল ছিল। স্বজনপ্রীতি ছিল না। তবে ক্ষমতায় যাবার সময় কিছু নিষ্ঠুরতা দেখিয়েছেন এবং পরে বাইরের মানুষকে কিছু সুবিধা দিয়েছেন। তাই তার ধুর্ততাও চোখে পড়ার মত। কিন্তু ওভারওল বলব একজন শাসকতো ওত ভাল হয় না। তবে এই লোকটি দেশকে এগিয়ে নিতে কার্যকর ছিল।
২৮ শে মে, ২০০৮ ভোর ৫:৪৪

লেখক বলেছেন: জিয়া'র গোআ'কে দেশে নিয়ে আসা, জামাতিদেরকে রাজনীতি করতে দেয়া এসব দেশকে ২০০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। তবে স্বজনপ্রীতি ছিলনা সেটা দিনের আলোর মত পরিষ্কার। এবং টাকার প্রতিও মোহ ছিলনা।

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৮৬০ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
কেন তুমি তরকারী বঁটি দিয়ে কুটবে
কেন তুমি দশটায় অফিসেতে ছুটবে
কেন তুমি ডালে দেবে আটখানা লংকাই
সব্বাই করে বলে সব্বাই করে তাই।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই