এ ব্লগে আর কোন মৌলিক লেখার দরকার নেই, যেহেতু আমি আমার নিকৃষ্টতম লেখার স্বত্ব ও কাউকে দিতে রাজী নই

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ৎৎ হবে না কেনো, হবে ...
২৯ শে এপ্রিল, ২০০৭ বিকাল ৪:২০
নিজস্ব আগ্রহে গতকয়েকদিন থেকে পড়াশুনো করছি, গনহত্যা সংক্রান্ত জাতিসংঘ ঘোষনা, আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এইসব নিয়ে । অবশ্যই, অতি অবশ্যই বাংলাদেশ ৭১ কে মনে রেখে, আসলে সেই তাড়নাতেই ।
দেখছি , জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ তার অংগীকার ও দায়বদ্ধতা ঘোষনা করেছে বেশ কিছূ মানবাধিকার সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষর করে । যেমনঃ
১।geneva convention
২।Convention of the prevention and
punishment of the crime of genocide
৩।convention against Torture and other
cruel, inhuman or Degrading treatment
or punishment
৪।International Convent of Civil and
political rights
অংগীকার ও দায়বদ্ধতা ঘোষনা করা স্বত্বে ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র তার নিজের বিরুদ্ধে সংঘটিত গনহত্যারই বিচার আয়োজন করেনি । International Criminal court এ বিচার হওয়ার সুযোগ নেই কারন এ আদালত নিজ উদ্যোগে কেবল বর্তমান অপরাধ সমুহের শুনানী আয়োজন করতে পারে, পেছনের গুলোর আয়োজনের এক্তিয়ার তার নেই ।
আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার হতে হলে জাতিসংঘের সাধারন বা নিরাপত্তা পরিষদের উদ্যোগে special tribunal গঠিত হতে হবে এবং অবশ্যই তা হতে হবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের সরকারের আগ্রহে ও অনুরোধে ।
এ সব কিছুর প্রয়োজন,
যদি বাংলাদেশ গনহত্যার জন্য দায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার দাবী করে এবং ক্ষতিপুরন আদায় করতে চায় । এটা অসম্ভব নয় । খেয়াল করা জরুরী , মানবাধিকার সংস্থা গুলোর চাপে বৃটিশ সরকার তার দাসব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও গোষ্ঠিগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপুরন দিতে প্রতিশুতি দিয়েছে । যদি ও দাসব্যবসা বিলুপ্তির দুশো বছর হয়ে গেছে ।
কিন্তু যদি বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আল-বদর তথা জামাত গংদের বিচার করতে চায় তাহলে এতো ঝামেলায় যেতে হবেনা । বিদ্যমান সংবিধানের আওতায় এদের বিচার সম্ভব । এ ক্ষেত্রে দুটো পয়েন্ট মনে হলোঃ
১। আদালত গোলাম আজমের নাগরিকত্ব দিয়েছে । অনেকের
মতো আমি ও ক্ষুব্দ হয়েছিলাম এ সিদ্ধান্তে । আসলে কিন্তু
ক্ষুব্ধ হবার কিছু নেই । আদালত তাকে নাগরিকত্ব দিয়েছে
কারন জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনা অনুযায়ী
অপরাধের শাস্তি হিসাবে জন্মসুত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব কেড়ে
নেওয়া যায়না, দেশে ঢুকতে কিংবা বের হতে বাধা দেয়া
যায়না কিংবা জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া যায়না ।
যে আদালত গোলাম আজম এর নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়েছে
সে আদালত কিন্তু তাকে নির্দোষ ঘোষনা করেনি, যেমনটি
জামাতীরা প্রচার করে । বরং এ রায় তার বিচারের পথ সুগম
করেছে । সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এখন সহজেই তার বিচার
করতে পারে, যেমনটি সম্ভব হতোনা সে যদি পাকিস্তানী
নাগরিক থাকতো। এ ক্ষেত্রে আর কোনো কুটনৈতিক বা
আন্তজাতিক আয়োজন প্রয়োজন নেই ।
২। বিগত বি এন পি সরকারের সময়েই বাংলাদেশের একটি
আদালত জিয়াঊর রহমান ও এরশাদের ক্ষমতা দখল ও
শাসনামলকে অবৈধ ঘোষনা করেছে ।সরকার উচচ আদালতে
প্রভাব খাটিয়ে এ রায়কে স্থগিত করেছে । রায় কিন্তু বাতিল
হয়নি ।
এ রায় বাস্তবায়িত হলে এ দুই আমলে গৃহীত সিদ্বান্ত গুলো ও
বাতিল হবে । গুরুতর অপরাধে বিচারাধীন ১০ হাজার দালাল
যারা মুজিব আমলে সাধারন ক্ষমা পায়নি এবং পাকিস্তানে
পালিয়ে যাওয়া জামাতের শীর্ষ নেতা যাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারী
পরোয়ান ঝুলছিল, তাদের সবাইকে আবার বিচারের মুখোমুখি
হতে হবে ।
সোজা কথায় , পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিচার করার মতো আন্তর্জাতিক প্রভাব বাংলাদেশ অর্জন করতে না পারলে ও দেশে থাকা ঘাতক দালাল জামাতী গং দের বিচার হতে পারে, যে কোনো মুহুর্তেই ।
শুধু প্রয়োজন একটা স্থিতিশীল, সাহসী, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সত্যিকারের অংগীকারবদ্ধ সরকার যারা অপরাধীদের অপরাধী হিসেবেই গন্য করবে, রাজনীতির গুটি হিসেবে নয় ।
কে জানে, এরকম একটা সরকার গড়ে না উঠার পিছনে আরো অনেক হিসেবের সাথে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হিসেব টি ও আছে কিনা?
এস এম মাহবুব মুর্শেদ বলেছেন:
কঠিন। ১ নম্বর যুক্তি পইড়্যা হাসলাম। দারুন লজিক। ৫ দিলাম (সাদিক কিন্তু হাসে কইলাম
অন্যমনস্ক শরৎ বলেছেন:
এই তো !!!! । ব্যাপকস।
কনফুসিয়াস বলেছেন:
পার্ফেক্ট ১০! নাগরিকত্ব দেয়াটাকে নির্দোষ ঘোষনা বইলা প্রচার করাটা সত্য। আমি নিজে প্রচুর এরকম ফালতু যুক্তির সামনে পড়ছি।
লেখাটা পড়ে ভাল লাগলো।
রাগ ইমন বলেছেন:
দারুন যুক্তি , ভালো লাগলো ।
এহহামিদা বলেছেন:
একটা ব্যাপার বুঝলাম না।১৯৯১-১৯৯৬ পর্যন্ত বিএনপি ক্ষমতায় থাকনের সময় বিচারের দাবীতে অনেক আন্দোলন হইল। আওয়ামী লিগেরও সমর্থনও আছিল। বাম দল গুলারও সমর্থন আছিল।
আওয়ামীলীগ ৫ টা বছর ক্ষমতায় ছিল ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত। জামাতরে নিয়া আন্দোলনও করল। কিন্তু কোন আওয়ামী বা বাম সমর্থকদের জামাতের বিচার চাইয়া একটা টু শব্দ করতে শুনলাম না।
আবার ২০০১-আজ পর্যন্ত আবার এক দাবী।
এইটা কি শুধু একটা রাজনৈতিক কৌশল! এইটা কি শুধুই ভাওতাবাজী! নাকি শুদ্ধ মন থেকে চাওয়া কোন দাবী।
ধূসর ছায়া বলেছেন:
দারুন !!!
অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
আমার তো মনে হয়, কারও কাছে এ প্রশ্নটার উত্তর নেই .."কেনো যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে না ?
সময়োপযোগী শক্ত জবাব ।
এহহামিদা বলেছেন:
বিচার চাই ঠিক আছে, কিনতু এত লুকোচুরী কেন?
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবী নিয়ে কেউ কেউ রাজনীতি করেননি, ভাওতাবাজি করেননি- এমন বলা যাবেনা অবশ্যই ।
৭৫ পরবতী জিয়া, এরশাদ, খালেদা, হাসিনা সকলেই এটাকে রাজনীতির ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছে । কেউ জেল থেকে বের করে এনেছে, পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনেছে, কেউ মন্ত্রী বানিয়েছে, কেউ আন্দোলনের সহযোগী করেছে, ক্ষমতায় গিয়ে প্রসংগ ভুলে থেকেছে ।
কিন্তু এই ক্ষমতাসীনদের বৃত্তের বাইরেই কিন্তু বেশীর ভাগ সাধারন মানুষ । আমি, আপনি কিনা জানিনা । এই সাধারন মানুষ কি বিচারের দাবী উচচারন করেনা তার শুদ্ধ মন থেকে ?
আপনি যদি জামাতী না হয়ে থাকেন, যদি আসলেই বিএনপি করে থাকেন আপনি কি চাননা এদের বিচার হোক ।
আমার খুব কাছের অনেক বন্ধু বিএনপি রাজনীতিতে জড়িত ছিল , আছে । কিন্তু এই একটা প্রসংগে আমি কিন্তু তাদের কাউকেই জিয়া-খালেদার ভুমিকায় দেখিনি, আওয়ামী লীগ করে যে বন্ধুরা তাদেরকে ও হাসিনার জামাতসংগ মন থেকে মেনে নিতে দেখিনি ।
হযবরল বলেছেন:
হবে হবে এবং হতেই হবে, এই হচ্ছে আমাদের প্রজন্মান্তরে বয়ে বেড়ানো শ্লোগান। দলমত নির্বিশেষে এই শ্লোগান ।
আরশাদ রহমান বলেছেন:
বিচার করার ইচ্ছা থাকলে একদিন না একদিন অবশই্য বিচার হবে। মরে গেলেও কবরে রায় পৌঁছে দিব। রাজকারদের বিচার এর কথা উঠলেই বলা হয় হাসিনা কেন বিচার করেনি শেখ মুজিব কেন ক্ষমা করেনি (যদিও শেখ মুজিব ক্ষমা করেছে শুধু যারা সরাসারি জড়িত ছিলনা)। শেখ মুজিব জুদ্ধ বিধস্ত দেশে ক্ষমতায় ছিলো মাত্র ৩ বছর আট মাস। তার পরে রাজাকারদের শক্তি বাড়াতে কাঁদের ভূমিকা এবং ৭৫ এর পরে যখন জিয়া এরশাদ দেশের ক্ষমতা দখল করেছিলো তাঁরা রাজাকারদের বিচার করাটা কি আরো কঠিন করে দেয় নি? রাজকারদের বিচার না করাও শেখ মুজিব আর আওমীলীগ এর দোষ আর মাফ করাও ওদের দোষ। বাকি যারা আছে তাঁদের কেমনে কি?
ধুসর গোধূলি বলেছেন:
সাদিকরে হাসতে দ্যান, হাসি স্বাস্থ্য রক্ষায় দরকার। সাদিকের স্বাস্থ্যের অবনতি হোক এটা অন্তত আমি চাইনা, আপনেরা চান?
মাহবুব সুমন বলেছেন:
হাসান ভাই , বিচারের পুরো ব্যপারটাই হোলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সততার উপর নির্ভর। যেটা কোনো সরকারের কাছ থেকেই পাওয়া যায় নি, ইভেন বংগবন্ধুর সময়ও। দেশের প্রচলিত আইনেই বিচার করা সম্ভব, আর এ বিষয়টা নতুন কিছু না। সাথে আছি এ ব্যপারে।
এস্কিমো বলেছেন:
বিষয়টা যখন রাজনীতির সাথে বেঁধে ফেলা হয়েছে তখনই বেধেছে যত গোলামাল। ভোট এবং পেট্টোডলারের প্রভাবে একটা ভয়াবহ গনহত্যার বিচারের বিষয়টা নিয়ে সবাই রাজনীতি করেছে। কিন্তু অপরাধ অপরাধই। মুক্তিবুদ্ধির মানুষের বিবেকের দংশনেই এই বিচার হবে। এবং রাজনীতিবিদরাই করবে - শুধু দরকার জনমতকে সংগঠিত করা।
জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
বস,প্রাসঙ্গিক একটা পোস্ট দিছি ... আপনার এটাতো বিরাট একটা পয়েন্ট।
লিংক করে নিলাম।
ফারহান দাউদ বলেছেন:
হিটলারের নাগরিকত্ব বাতিল হয়েছে,গোলাম আযম বা নিজামীর টা হবে না কেন? রাজনীতিবিদদের জন্য বিচার করা যতটা সোজা,আমাদের জন্য ততোটা না। আমরা চাইতে পারি,কিন্তু যতদিন রাজনীতিবিদরা না চাইবে এটা হওয়া খুবই কঠিন। এক রাজাকার এখানে ঠিকই বলেছে,ধীরে ধীরে পরের প্রজন্ম রাজাকারদের কথা ভুলে যাবে(ওরা এই আশাতেই আছে,আর রাজনীতিবিদরা এভাবে রাজাকারদের নিয়ে আমাদের সাথে খেললে ওদের আশাটা খুবই সম্ভব),আমরা বড়জোর আমাদের পরে যারা আসবে তারা যেন ওদের কথা ভুলে না যায় সেটাই করতে পারি,হয়তো কোন একদিন বিচার হবে।
সাদিক মোহাম্মদ আলম বলেছেন:
প্রয়োজনীয় পোস্ট।
ইরতেজা বলেছেন:
দারুন লিখেছেন
আসল-ট্রাপ বলেছেন:
কে কইছে বিচার হইবোনা? হইতেই হইবো
রাশেদ বলেছেন:
অবশ্যই হইবে।
ফারহান দাউদ বলেছেন:
হবে,আজকে বা কালকে বা পরশু,হবে।
পুতুল বলেছেন:
শুধু রাজাকার ছাড়া, আর আমরা সবাই জানি, ওরা অপরাধী। সেটাও একটা বিচার। রাজারকে সমথর্ন করাও একটা অপরাধ। রাজাকার নিপাত যাক। পোষ্টের জন্য ৫।
রোদ্দূর মিছিল বলেছেন:
আচ্ছা ফরাসী বিপ্লবের কথা কি আমাদের মনে আছে? খেটে খাওয়া নিপীড়িত মানুষরা সেদিন প্রচলিত আইনের তোয়াক্কা না করে নিজেরাই গিলোটিনে করেছিল এ্যারিস্টোক্রেটদের মুন্ডচ্ছেদন?একটু কি বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছিল?
ডাক্তাড়' বলেছেন:
৫
হট্টগোল বলেছেন:
সেই দিন বেশি দূরে না। ৫০ বছর পরও নাতসীরা ছাড়া পায় না। ৭১ এর শত্রুরাও পাবে না।
অচেনা বাঙালি বলেছেন:
সেই দিন বেশি দূরে না। ৫০ বছর পরও নাতসীরা ছাড়া পায় না। ৭১ এর শত্রুরাও পাবে না।ফুল চণ্দন পড়ুক হট্টগোল এর মুখে।
তানভীর মোর্শেদ বলেছেন:
৫
ধোনোরাজ পিল্লাই বলেছেন:
৫
মদনবাবু বলেছেন:
আদালত গোলাম আজমের নাগরিকত্ব দিয়েছে । অনেকের মতো আমি ও ক্ষুব্দ হয়েছিলাম এ সিদ্ধান্তে । আসলে কিন্তু
ক্ষুব্ধ হবার কিছু নেই । আদালত তাকে নাগরিকত্ব দিয়েছে
কারন জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষনা অনুযায়ী
অপরাধের শাস্তি হিসাবে জন্মসুত্রে প্রাপ্ত নাগরিকত্ব কেড়ে
নেওয়া যায়না, দেশে ঢুকতে কিংবা বের হতে বাধা দেয়া
যায়না কিংবা জোর করে দেশ থেকে বের করে দেয়া যায়না ।
যে আদালত গোলাম আজম এর নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়েছে
সে আদালত কিন্তু তাকে নির্দোষ ঘোষনা করেনি, যেমনটি
জামাতীরা প্রচার করে । বরং এ রায় তার বিচারের পথ সুগম
করেছে । সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এখন সহজেই তার বিচার
করতে পারে, যেমনটি সম্ভব হতোনা সে যদি পাকিস্তানী
নাগরিক থাকতো। এ ক্ষেত্রে আর কোনো কুটনৈতিক বা
আন্তজাতিক আয়োজন প্রয়োজন নেই ।
--- ভালো বলেছেন। নাগরিকত্তের বেপারটা দেখি শাপেবর হয়ে গেছে।
নির্বাক সুশীল বলেছেন:
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে না কেনো, হবে ...
মাহবুব সুমন বলেছেন:
হা.মোর লেখাটি অনেক দিন পর পড়লাম।একটা জিনিস মাথায় খালি ঘুরে, বেড়ালে গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে ?
আমরা আম জনতা চাই কিন্তু যাদের উদ্যোগ নেয়া দরকার তাদের কান্ড কারখানাতো আশাবাদী করে না।
বিচারের দাবী দাবী হয়েই কি রইবে ?

















