তসলিমা আপনাকে এইটুকু বলতে চাই যে ভাগ্যিস আপনি গোয়েইন জেকবসের মত অধিকার চাননি। তাহলে অতি উৎসাহী পাবলিকেরা প্রতিবার আপনি ঘর থেকে বেরুলেই নিজ উদ্যোগে আপানার গায়ের জামা কাপড় খুলে নিত মজা দেখার জন্য।
গত কয়েকদিনে তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে লেখা অনেকগুলো ব্লগ পড়লাম। এই লেখাগুলোর পাঠক প্রতিক্রিয়া থেকে দুটো জিনিষ বেশ পরিষ্কার ভাবে উঠে এসেছে। সেগুলো হল:
১) তসলিমা লেখক হিসাবে ভাল/খারাপ
২) তসলিমার চরিত্র বেশি সুবিধার না।
লেখক হিসাবে সে খারাপ হলেই বা কি? তাতে করে কি সে সমাজ, রাস্ট্র, বা ধর্মের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে কথা বলার অধিকার হারিয়েছে? আমি তো লেখক হিসাবে ভাল না তাই বলে কি আমি আমার পছন্দের বিষয়ের লেখার অধিকার পাব না?
উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাঠককেই দেখলাম ২ নাম্বার পয়েন্টা প্রমাণ করতে অতি উৎসাহী। তবে মজা পেয়েছি এই কথাটা শুনে, "অনেক বছর আগে উনি বলেছিলেন যে-ছেলেরা দাঁড়িয়ে পি দিলে মেয়েরা ও দাঁড়িয়ে পি দিবে, কিন্তু টেকনিক্যালি এটা কি সম্ভব?" হা হা..... এটা যে সমঅধিকারের ব্যাপারে একটা প্রতিকী স্টেটমেন্ট সেটাও মগজে ঢুকিয়ে না দিলে বোঝার ক্ষমতা নেই। উনাকে দেখলাম আবার চোঙা জাতীয় একটা প্রডাক্টের ছবিও দিতে যাতে তসলিমার দাড়িয়ে প্রসাব করতে কোন সমস্যা না হয়।
তাই, তসলিমা আপনাকে এইটুকু বলতে চাই যে ভাগ্যিস আপনি গোয়েইন জেকবসের মত অধিকার চাননি। তাহলে অতি উৎসাহী পাবলিকেরা প্রতিবার আপনি ঘর থেকে বেরুলেই নিজ উদ্যোগে আপানার গায়ের জামা কাপড় খুলে নিত মজা দেখার জন্য।
১৯৯১ সালের এক ক্ষরত্প্ত দুপুরে গুয়েলফ ইউনিভার্সিটির (Guelph) ছাত্রী গোয়েইন জেকবস ঠা ঠা রোদ্দুরে গুয়েলফ ( কানাডার অন্টারিও প্রদেশে) শহরের ডাউন টাউনে টপলেস অবস্হায় হেটে যাচ্ছিলো। ফলশ্রুতিতে পুলিশ গোয়েইনকে অশ্লীল কাজ করার অভিযোগে গ্রেফতার করে (Delonghi, 1992)। তার কাজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সে বলেছিলো যে সেই দিনটা ছিলো খুবই গরম আর তাছাড়া সে বিশ্বাস করে মেয়েদেরও ছেলেদের মত উদোম গায়ে হাটার সমান অধিকার আছে। এটা শুধুমাত্র সে নগ্ন হওয়ার জন্যেই করেনি, এটা সে করেছে নিজের আত্মবিশ্বাসের উপর আস্হা আনার জন্যে (Canadian Press, 1992)।
এই ব্যাপারে অন্টারিও সরকারের হয়ে The Sex Information and Education Council of Canada একটা কমিটি গঠন করে, যে কমিটির কাজ ছিলো Canadian attitudes toward female topless behaviour এর উপর রিসার্চ করা। ১৯৯৬ সালে অন্টারিও কোর্ট অব আপিলস এই রিসার্চ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে রায় দেন যে কানেডিয়ান ক্রিমিনাল কোড (R. v. Jacobs, 1996) এর সংজ্ঞা অনুযায়ী মেয়েদের উর্ধাঙ্গ অনাবৃত হওয়া মানেই সেটা অশ্লীলতা নয় বা এটা কোন যৌন কাজের বহিপ্রকাশ নয়। একই ধরেনের নিয়ম সাচক্যাচুয়ানে ১৯৯৮ সালে এবং ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় ২০০০ সালে আইন হিসাবে পাশ হয়।
অন্টারিও কোর্ট অব আপিলসের রায় অনুযায়ী টপলেস হওয়া কোন অপরাধ না হলেও আমার এই দীর্ঘ প্রবাস জীবনে আমি কোন টপলেস মেয়ে রাস্তায় হাটতে দেখিনি। কিন্তু আমি নিশ্চিত তসলিমা এরকমটি চাইলে আমাদের অতি উৎসাহী পাব্লিকেরা সেটা প্রতিবারই বাস্তবায়নে সাহায্যের হাত প্রসারিত করতে পিছপা হতেন না।
As a result of the Ontario Court of Appeal decision, female toplessness is not considered an indecent act, yet few women go topless in Canada (Murdock, 1996).
এটা একটা তুলনামূলক পোস্ট। পাঠক আবার ভাববেন না আমি বাংলাদেশের মেয়েদেরও টপলেস দেখতে চাই। কোন ব্যাপারে অধিকার থাকা মানেই যে সবাই সেটার প্রয়োগে ব্যস্ত হয়ে পরবে তা নয়। সেটা হয়ও না। তবে নাগরিক হিসাবে অধিকার থাকলে সবারই সমান অধিকার থাকাটা জরুরি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

