ডঃ ইউনুস যে পদ্মা সেতুর বিরোধীতা করে ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন এই তথ্যটি প্রথম জানতে পারি সুশান্তের বাংলাদেশে যাতে financial assistance না আসে সেজন্য ড. মুহাম্মদ ইউনুস কেম্পেইন করছেন পোস্ট থেকে। পোস্টে সুশান্ত ১০০% গ্যারান্টি দিয়েছে ডঃ ইউনুস পদ্মা সেতুর ফান্ডিংয়ের বিরুদ্ধে ক্যামপেইন চালাচ্ছেন। পোস্টটাকে শুধুমাত্র সুশান্তের ব্যক্তিগত অভিমত হিসাবে হালকা ভাবে নেয়া যে ঠিক হবে না সেটা বোঝা যায় সংসদীয় দলের কমিটির মিটিংয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিযোগ পড়ে।
"আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন, একজন নোবেল লরিয়েট পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে অবস'ান নিয়েছেন। এই সেতু যাতে না হয় সে জন্য তিনি আন্তর্জাতিকপর্যায়ে লবিং করছেন। তার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খায়েশ ছিল। [১]"
পদ্মা সেতুর ফান্ডিং নিয়ে গ্যাঁড়াকলে পরার পর থেকে আওয়ামী লীগ হাই কমান্ড নিজেদের আত্মশুদ্ধি না চালিয়া স্কেপ গোট খোঁজার কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। আর তারই ফলশ্রুতিতে পূর্ব শত্রু ডঃ ইউনূস তাদের কাছে স্কেপগোট হিসাবে পারফেক্ট মনে হচ্ছে। অবশ্য তারা দূর্বল গলায় বিএনপির যোগযোগ মন্ত্রীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনার চেষ্টা করেছিলো তবে ধোপে টিকবে না ভেবে হয়ত সেদিকে আর আগায়নি। এই দলটিকে আমি সাপোর্ট করি সে কথা ভাবলে মাঝে মাঝে নিজের কাছেই লজ্জা লাগে।
প্রধান মন্ত্রীর বক্তব্যের পরদিন অর্থমন্ত্রী আবুলা মাল আব্দুল মুহিত টেলিভিশন এবং সংবাদপত্রের সাংবাদিকদের যে কথা বলেন তা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধী হলেও ডঃ ইউনুসের তথাকথিত ক্যাম্পেইন সম্পর্কে কিছু খুলে বলেননি।
পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বা বৈদেশিক সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস কোনো বাধা সৃষ্টি করেছেন বলে মনে করেন না অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে ইউনূস সাহেব প্রোপাগান্ডা করেছেন বা বিরোধিতা করছেন, আমি এখনো সে রকম দেখিনি।’ [২]
অথচ অর্থমন্ত্রী হিসাবে তার খুব ভালো করেই জানার কথা সিটি/মুডি তাদের মিটিং এজন্ডায় সে ক্যাম্পেইনের কথা বলেছেন সেটি কি? কেন তার জানার কথা সে কথা পরে বলছি। তার আগে সেই মিটিংয়ে জানতে চাওয়া সবগুলো পয়েন্টের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে আসি।

You, may want to start the meeting by providing Moody's with a summary of the major macroeconomic development in Bangladesh and outline the fundamental steength of the Bangladesh economy and the major competitive advantages since Tom's senior colleagues may not be familiar with Bangladesh. They May ask some questions along the following line:
. What progress has been made in terms of infrastructure development and energy generation.
. What progress has been made in the discussions with India?
. What major FDI success has been recorded?
. What is being done to keep infaltion under control
. Why is BOP under pressure? What is the level of FX reserve?
. Why is fiscal deficit widening? What are the funding plans of the Government for 2012?
. What are the on-going staructural tax reforms which have been implemented. Will they contribute to expand tax base and tax collection?
. what is the underlying rationale for the economic reform agenda?
. Why is there a deceleration of remittances? What is the outlook for remittances for 2011/2012?
. What are the latest development in the domestic capital market and banking system?
. What have been the increases administered fuel prices in 2011?
. What could be the impact of global slowdown on Bangladesh economy?
. What has been the impact of the campaign launched by Mohammad Yunus on the disbursement of multilateral and bilateral financial assistance?
"আলোচ্য সূচিতে দেখলাম অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছে তারা। জানতে চেয়েছে মূল্যস্ফ্রীতি নিয়ন্ত্রনে সরকারের পদক্ষেপ বিষয়ে, জানতে চেয়েছে ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভের পরিমাণ। জানতে চেয়েছে বাজেট ঘাটতি বাড়ছে কেনো? আগামী বছর উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দের অর্থ সংস্থান সম্পর্কেও জানতে আগ্রহী তারা। তারা সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের পরিস্থিতি এমন পরিমাণ সম্পর্কেও জানতে চেয়েছে, উত্থাপিত প্রশ্নগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়ার বিষয়টিকেই মূলত প্রকাশ করেছে।"
এখন কথা হলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্হিতি সম্পর্কে জানতে চাওয়ার সাথে ডঃ ইউনুসের ক্যাম্পেইনের কি সম্পর্ক। এই ক্যাম্পেইন যে কোন গোপন ক্যাম্পেইন না তা তাদের মিটিংয়ের এজেন্ডায় উল্লেখ করা থেকেই পরিস্কার বোঝা যায়। এজেন্ডার সর্বশেষ পয়েন্টটির যদি ব্যবচ্ছেদ করা যায় তবে কয়েকটি বিষয় উঠে আসে। যেমনঃ
১) এই ক্যাম্পেইন টা আসলে কি?
২) দ্বিজাতীক এবং বহুজাতিক কোম্পানীর সাথে এর সম্পর্ক কি?
৩) বাংলাদেশে তাদের আর্থিক সাহায্যের প্রভাব কেমন সে কথা কেন অর্থ মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইবে?

RESULTS Educational Fund নামে আমেরিকার একটি গ্রাসরুট লেভেলেরো এ্যাডভোকেসি গ্রুপ আছে যাদের মূল লক্ষ্য হলো পৃথিবী ব্যাপী ক্ষুধা এবং দারিদ্রতা দূরীকরণ। এই RESULTS এবং এর সহযোগী আন্তর্জাতিক সংস্হাগুলোর একটি প্রজেক্ট হলো The Microcredit Summit Campaign। পাঠক লক্ষ্য করুন নামের মধ্যেই Campaign শব্দটি। এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো ক্ষুদ্র ঋণ প্রয়োগকারী সংস্হা, সমর্থনকারী সংস্হা, শিক্ষা প্রতিস্ঠান, দাতা সংস্হা, আন্ত্রজাতিক আর্থিক প্রতিস্ঠান, বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র ঋণের সাথে জড়িত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে একটি কমন প্লাটফর্মে নিয়ে আশার চেষ্টা করা যাতে করে পরস্পরের সাথে "নলেজ শেয়ার" করার মাধ্যমে তারা সর্বোত্তম পন্হা চালু করতে পারে এবং তাদের লক্ষ্যে পৌছাতে একসাথে কাজ করতে পারে। এই ক্যাম্পেইটি চালু হয় ১৯৯৭ সালে এবং ডঃ মুহাম্মাদ ইউনুস হলো এই Microcredit Summit Campaign এর কো-চেয়ারম্যান। [৩]
এই ক্যাম্পেইনের সাথে দ্বিজাতিক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক কি?
২০০৭ সালের Microcredit Summit Campaign এর রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায় পৃথিবীব্যাপী ১৩৩ মিলিয়নেরও বেশী মানুষের মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। CGAP এর হিসাব অনুযায়ী দ্বিজাতিক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্টানের মত পাব্লিক ফান্ডিং সোর্স থেকে বছরে দেড় বিলয়ন ডলার ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়। এইসব দ্বিজাতিক এবং বহুজাতিক দাতাদের তহবিল ট্টাক করার কোন কেন্দ্রীয় ব্যবস্হা নেই। ক্ষুদ্র ঋণের বাণিজ্যিক সাফল্যের পর ঝাকে ঝাকে নতুন দাতারা ক্ষুদ্র ঋণের বিভিন্ন প্রকল্পে বিভিন্ন উপায়ে ফান্ডিং করতে শুরু করেছে। এই ক্যাম্পেইন শুরুর এক বছরের মধ্যেই ২৯টি দ্বিজাতিক এবং বহুজাতিক কোম্পানী তাদের সাথে যোগ দেয়। ২০০৭ সালের CGAP এর হিসাব অনুযায়ী ৪০টা পাব্লিক সংগঠন, ২০টি ফাউন্ডেশন, এবং ৬০টি ফান্ড এবং অন্যান্য ক্ষুদ্রঋণ বিনিয়োগ চালক সারা পৃথিবীতে ফান্ডিং দিচ্ছে। CGAP এর হিসাব অনুযায়ী যে ১.৫ বিলিয়ন ডলার পাব্লিক ফান্ডিং ছিলো তার মধ্যে ২০০ মিলিয়ন ছিলো দ্বিজাতিক এবং ৬০০ মিলিয়ন ছিলো বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংকের (মোট .৮ বিলিয়ন)। এই দুটি ডোনার গ্রুপের ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের আনুমানিক পোর্টফোলিও হলো ৭ বিলিয়ন ডলারের মত। [4] [5]
বহুজাতিক কোম্পানীগুলো সাধারণত তাদের ফান্ড সরকারের মাধ্যমে পরিচালিত করে থাকে। আর দ্বিজাতিক কোম্পানীগুলো মাত্র ২০% অনুদান সরাসরি রিটেইল মার্কেটে যায়। ক্ষুদ্র ঋণ সেক্টেরে হঠাৎ করে বিশাল গ্রোথ দেখা দেওয়ায় Microcredit Summit Campaign এর সাথে জড়িতরা চিন্তিত। তাদের মতে, "If growth occurs too quickly, or if the goal of expansion is put ahead of sustainability, programmes may have more clients than they can serve effectively, microcredit experts warned. There is a risk that the microcredit initiative to combat poverty could be derailed by an indiscriminate flow of resources to programmes that are not ready for rapid growth, experts argue." [4][5]
ক্ষুদ্র ঋণে আগ্রহী প্রায় সবগুলো বহুজাতিক এবং দ্বিজাতিক কোম্পানী Microcredit Summit Campaign এর সাথে জড়িত। পাঠক, এখন সহজেই বুঝতে পারছেন কেন বিশ্বব্যাংক অথবা মুডিস অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইবেন, "What has been the impact of the campaign launched by Mohammad Yunus on the disbursement of multilateral and bilateral financial assistance?" এই জানতে চাওয়া পুরোপুরি ভাবেই ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পের সাথে জড়িত। পদ্মা সেতুর সাথে এর কোনই সম্পর্ক নেই। আর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের খুব ভালো করেই জানা থাকার কথা multilateral and bilateral financial assistance এর সাথে ডঃ ইউনুসের ক্যাম্পেইনের সম্পর্ক কি!!!!
সূত্র:
[১] নয়াদিগন্ত
[২] প্রথমআলো
[৩] মাইক্রোক্রেডিট সামিট ক্যাম্পেইন ডট অরগ
[৪] উইমেন এইড ডট অরগ
[৫] Under Invvestment in Savings-Led Microfinance A Costly Market Failure By Stephen Donnelly, harvard Kennedy School

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

