নবীজির অন্দরমহলের রাজনীতি: সহীহ বুখারী মোতাবেক
২০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১২:৫৯
আমার গতকালের ডন হুয়ানের পোস্টটি এই সাইটের ধার্মিকদের মধ্যে অনেক আলোড়ন তুলেছে দেখে খুশি হলাম।
এগার বউ নিয়ে নবীজী যে কি বিপদে থাকতেন তা নিচের হাদীস থেকে সহজেই বুঝা যায়। যদিও সুরা নিসা'র (কিশোর/যুবক ব্য়সীরা চটি'র বিকল্প হিসাবে এই সুরা উপভোগ করতে পারে) আয়াত তিন এ বলা হয়েছে যে চারটা পর্যন্ত বিয়ে মুসলমান পুরুষ করতে পারে "যদি" সবার প্রতি সমান আচরণ করতে পারে, চটি সুরা'র তৃতীয় আয়াত
সহীহ বুখারী থেকে পাওয়া নিচের হাদীসটি কিন্তু বলে যে নবীজি কোরানের এইসব বিধানের কোন ধার ধারতেন না।
হাদীসটি আমি বাংলায় অনুবাদ করে দিচ্ছি সবার সুবিধার জন্য আর রেফারেন্স হিসাবে লিংকটি পোস্ট করছি।
৭৫৫ নং হাদীসটি দেখুন
-হাদীসের শুরু-
Narrated 'Urwa from 'Aisha:
নবীজি'র স্ত্রীগণ দুই দলে বিভক্ত ছিলেন। এক দলে ছিল আয়শা, হাফসা, সাফিয়া আর সাউদা; আর অন্য দলে ছিল উম্ম সালমা আর নবীজি'র অন্য স্ত্রীরা। মুসলিমরা জানত যে নবীজি আয়শা কে ভালোবাসতেন, কাজেই যদি কারো কোন উপহার নবীজিকে দেবার থাকত, তাহলে সে অপেক্ষা করত কখন উনি আয়শার ঘরে যাবেন, আর তারপর ঐ ঘরে সে উপহার পাঠিয়ে দিত। উম্ম সালমা'র দল এটা নিয়ে আলোচনা করে ঠিক করল যে উম্ম সালমা নবীজিকে অনুরোধ করবে যে তিনি যেন মানুষদের বলে দেন যে স্ত্রীর ঘরেই উনি থাকেন না কেন উপহার জেন সেই ঘরে পাঠান হয়।
উম্ম সালমা নবীজি কে বললেন এটা, কিন্ত নবীজি কোন মন্তব্য না করে চুপ থাকলেন। অন্য স্ত্রীরা যখন উম্ম সালমাকে জিজ্ঞাসা করল এই সম্পর্কে, সে বলল, "উনি আমাকে কিছুই উত্তর দেন নি"। তারা তখন আবার তাকে একই কথা বলতে বলল। পরের বার তার ঘরে নবীজি আসলে, আবার বলল, কিন্তু নবীজি আবারো কোন উত্তর দিলেন না। আবার অন্যরা জিজ্ঞাসা করল, এবারও উম্ম সালমা একই উত্তর দিল। তারা তখন বলল, "উনার সাথে কথা বলে যাও যতক্ষন উত্তর না পাও।" উম্ম সালমা পরের টার্নে তাই করল। নবীজি এবার বললেন, "আমাকে আয়শার ব্যাপারে আঘাত করো না। কারন, আমি আয়শা ছাড়া আর কাউকে লাগাবার সময় কোরানের আয়াত রচনা করতে পারিনা (আসল হাদিস দেখুন)"। উম্ম সালমা তখন বলল, "আপনাকে কষ্ট দেবার জন্য আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রাথী।"
উম্ম সালমার দল তখন নবী কন্যা ফাতিমাকে ডেকে তাকে নবীজিকে বলতে বলল, "পিতাজী, আপনার স্ত্রীগণ আপনাকে অনুরোধ করেছেন যে তাদের সাথে আর আবু বকর কন্যা (আয়শা)'র সাথে সমান আচরন করতে"। ফাতিমা তাই করল। নবীজি উত্তরে বললেন, "হে আমার কন্যা, আমি যাকে ভালবাসি, তুমি কি তাকে ভালবাসনা?" ফাতিমা হাঁ-সুচক উত্তর দিয়ে ফিরে এসে অন্যদের তাই জানাল। তারা তাকে আবার যেতে বলল, কিন্তু সে গেল না আর।
তারা তখন জয়নাব-বিনতে-জাহাশ কে পাঠাল নবীজি'র কাছে। সে কঠিন ভাবে বলল, "আপনার স্ত্রীগন আপনাকে অনুরোধ করেছেন যে তাদেরকে আর ইবনে আবু কুহাফা (আবু বকর) কন্যাকে সমান চোখে দেখতে।" এটা করতে গিয়ে জয়নাব চিৎকার আরম্ভ করল আর আয়শাকে এমন গালাগালি করল যে নবীজি আয়শার দিকে তাকালেন এই ভেবে সে যেন উত্তর দেয়। আয়শা তখন উল্টো এমন গালাগালি দিল যে জয়নাব চুপ মারতে বাধ্য হল।
নবীজি তখন আয়শার দিকে তাকিয়ে বললেন, "এ দেখছি আসলেই আবু-বকর কন্যা!!"
- হাদীসের শেষ
জটিল হাদীস, তাই না? আমরা কি শিখলাম:
১) ধান্ধাবাজ মুসলমান তখনও ছিল যারা জানত কোথায় ঘুষ দিলে কাজ হবে।
২) নবীজী'র আয়শার প্রতি পক্ষপাতিত্ব ছিল তার গৃহদাহের মূল কারণ।
৩) আয়শার সাথে এক বিছানায় থাকার সময় (বিজ্ঞ পাঠক বুঝে নিন) নবীজি কোরাণ রচনার স্বর্গীয় প্রেরণা পেতেন।
৪) আবু-বকর মনে হ্য় খুব ঝগড়াটে ছিলেন (হাদীসের শেষ লাইন দেখুন)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০০৮ দুপুর ১:০৩ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...
দিগন্ত বলেছেন:
"Divine Inspirations do not come to me on any of the beds except that of Aisha"!! পড়ে খুব অবাক হলাম। যাহোক এটি সাহি বুখারির হাদিথ তবে এর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে কারো কোনো মতামত থাকলে জানান।
লেখক বলেছেন: আমার মনে হয় না এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোন কামেল মুসলমানের মনে সংশয় আছে। বুখারী'র বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে পুরো ইসলামের তাসের ঘর ভেংগে পড়বে। আমি কোরানের পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন অনুবাদ পড়েছি। ইসলামীক জীবন বিধান সম্পর্ক কোরান এতটাই অস্পষ্ট যে, নামাজ কায়েম করতে বলা হয়েছে, কিন্তু দিনে কয় ওয়াক্ত আর কখন সেগুলো তা বলা হয়নি। এরকম সবচেয়ে বেসিক ইসলামীক বিধান যদি হাদীসের উপর নির্ভর করে, আর তারপর যদি হাদীসের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় তাহলে একটাই ফলাফল: ইসলামের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাবে।
আরিফুর রহমান বলেছেন:
কি ব্যাপার এইরকম জটিল হাদিস, কেউ মজা পাইলো না যে!!
ভক্কডা বলেছেন:
হাদিস খুব ভালা। আমার মতে এই পোস্টটা নির্বাচিত পোস্টের তালিকায় থাকা উচিত
শেহাব বলেছেন:
ইন্টারেসটিং!
হুমায়ূন সাধু বলেছেন:
সবার জানা থাকা উচিৎ
সু্মিত বলেছেন:
ভক্কডা বলেছেন: হাদিস খুব ভালা। আমার মতে এই পোস্টটা নির্বাচিত পোস্টের তালিকায় থাকা উচিত________
একমত
মোতাব্বির কাগু বলেছেন:
কারন, আমি আয়শা ছাড়া আর কাউক..................হে হে হে হে হে
হিমু ব্রাউন বলেছেন:
এটা করতে গিয়ে জয়নাব চিৎকার আরম্ভ করল আর আয়শাকে এমন গালাগালি করল যে নবীজি আয়শার দিকে তাকালেন এই ভেবে সে যেন উত্তর দেয়। আয়শা তখন উল্টো এমন গালাগালি দিল যে জয়নাব চুপ মারতে বাধ্য হল।
নবীজি তখন আয়শার দিকে তাকিয়ে বললেন, "এ দেখছি আসলেই আবু-বকর কন্যা!!" এই না হলে উম্মূল মুমেনীন!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
প্রজন্ম একুশ বলেছেন:
আস্তিক নাস্তিক নির্বিশেষে সবাই এলার্ট।
এই হাদিসটা নেয়া হয়েছে Center for Muslim-Jewish Engagement এর সাইট থেকে। এই হাদিসের সত্যতা প্রশ্নসাপেক্ষ। লেখক ইহুদীদের বানানো হাদিস রেফার করে সুকৌশলে বলেছেন, বুখারী'র বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে পুরো ইসলামের তাসের ঘর ভেংগে পড়বে।
Divine Inspirations-এর অর্থ লেখক করেছেন 'কোরানের আয়াত রচনা'!!!
স্পষ্টতঃ লেখক উদ্দেশ্যমূলকভাবে নবীজী (স)-কে কোরানের রচয়িতা হিসেবে প্রমান করতে ভুল অনুবাদ করেছেন।
ধিক্কার।
ইবনে উজজা বলেছেন:
Dear Projonmo Ekush,Clearly you are one of those "mini Muslims" who takes no time to blame Jews as soon as they see some islamic evidence against Islam. It is like looking into mirror for the first time for someone never seen a mirror and then blaming glass to make him look so ugly. In addition, you are also too lazy to cross check against other sources to find the authenticity of any information/claim. I am giving here another eight references of the same hadis all from different muslim web sites. I feel pity for you for your ignorance about Islam and your state of denial.
http://www.sultan.org/books/bukhari/047.htm
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
Click This Link
http://bukhari.gawaher.com/47-gifts
লেখক বলেছেন: জনাব কালা কাশেম,
আপনার মত নাবালক বাছুরের অসংলগ্ন মন্তব্যের উত্তর দেবার মাধ্যমে আপনার নিজেকে গুরুত্বপুর্ণ বলে কল্পনা করার সুযোগ করে দিতে চাই না। তবে এটুকু বলতে দ্বিধা নাই যে আপনার মুখউচ্চারিত শব্দ আর আমার পায়ু নির্গত বায়ু একই মূল্য বহন করে।
সামহোয়্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...















