একটা জিনিস দেখতে খুব ভাল লাগছে । আবার সামুর ব্লগারগণ এক হয়েছেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে । এবারের বিষয় – বর্ডারে অকারণ হত্যা । ঘটনা আপনারা সবাই জানেন । নতুন করে বলার কিছু নেই। তবে নতুন করে করার অনেক কিছুই আছে ।
ভারত – হ্যাঁ , এটা সেই রাষ্ট্র যেটাকে ঘৃণা করি এই পৃথিবীর যে কোন কিছু থেকে বেশি পরিমাণে – সেই ছোট্ট বেলা থেকেই । এই ঘৃণার পেছনে কোন ব্যক্তিগত কারণ নেই । তাদের কর্মকাণ্ড দেখলেই যে কোন স্বাভাবিক বিবেকবান মানুষের-ই রক্ত গরম হয়ে যাবে । বাংলাদেশের প্রতি তাদের আচরণ ... কিছু বাংলাদেশি তার পরেও যে কি করে নিজেদের ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞ বলে দাবী করে ? মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ? এমনটা তো নয় যে আমাদের দুর্দশা দেখে ভারতের অন্তরে দরদ একেবারে উথলে উঠছিল ! তারা কেন আমাদের ডিসেম্বরে সাহায্য করল ? কারণ , তখন পাকিস্তান এর সাথেও ভারতের যুদ্ধ শুরু হয়ে যাচ্ছিল । দ্বিবিভক্ত পাকিস্তানী আর্মিকে নিজেদের দুই বর্ডারে পেয়ে প্রথম সুযোগেই একাংশকে (বাংলাদেশের ভেতরে) মেরে ছাতু করে দিল । ভারতের জায়গায় ইসরায়েল থাকলেও বাংলাদেশকে তখন সাহায্য(!) করত । আর সেজন্য তাদের পূজা করারও কোন কারন নেই । এমনটি নয় যে তাদের সাহায্য ছাড়া আমরা জিততে পারতাম না ! হ্যাঁ , আর হয়ত কয়েক মাস লাগতই , ঝরত আরও রক্ত । কিন্তু আর ৬-৭ মাসের মধ্যেই আমরা পেয়ে যেতাম স্বাধীনতা , ওদের সাহায্য ছাড়াই । আর আমরা তাদের সাহায্যের প্রতি কৃতজ্ঞ-ও আছি এই জন্য যে, তাদের জন্য একসময় ত্বরাণ্বিত হয়েছিল বিজয় , তার অর্থ এই না যে তখনকার উপকারের জন্য আমরা তাদের সব অত্যাচার সহ্য করে নিতে বাধ্য , তাই না ? বাঁধ দেওয়ার বিলাসিতা তো আছেই ... সীমান্তে হত্যার সংখ্যাও প্রায় অগণিত । এ সব কার্যক্রম দেখে হিন্দী ভাষা , বলিউড , হিন্দী গান , যে কোন ভারতীয় টিভি চ্যানেল ,ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল , আইপিএল , এয়ারটেল এর প্রতি যদি আমার বিদ্বেষ থাকে তাহলে কি আমাকে দোষ দেবেন ? দিলে দিতে পারেন , তবে আমার রুচি হয় না এখন আর “ইন্ডিয়া” নামটি শুনতে ।
চলুন , ভারতীয় পণ্য বর্জন করি । সীমান্তে অকারণ হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার হই । আর আপাতত প্রতিবাদের সবচেয়ে বড় সুযোগ আসছে সামনের বিশ্বকাপে । প্ল্যাকার্ড , ফেস্টুন –এ অন্যায়ের প্রতিবাদে আমরা অনায়াসে অনেক দিক থেকেই এ বিষয়ে আলোকপাত করতে পারি ।
এখন শুধু বাঙ্গালীর জেগে ওঠার অপেক্ষা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


