আমার প্রিয় পোস্ট

নাস্তিকতার চরিতার্থ!

১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৪৮

শেয়ারঃ
0 0 0

নাস্তিকতার কোন সংজ্ঞা পাওয়া দুস্কর। কারণ যারা নিজেদেরকে নাস্তিক বলে দাবী করেন তারা নিজেরাও অনেক কন্ট্রোভার্সিয়াল। চিরায়ত নাস্তিকের দেখা আমি কখনই পাই নাই। আর কিছু লেখকের বই পড়ে কিছু ধারণা জন্মে, কিন্তু তা আদৌ সমৃদ্ধ না।

আমাদের ক্লাস নাইন টেনের বাংলা ২য় পত্র বইতে নাস্তিকতার একটা ছোট্ট সংজ্ঞা দেওয়া আছে। আল্লাহর অস্তিত্বে যার বিশ্বাস আছে তাকে বলা হয় আস্তিক, আর আল্লাহর অস্তিত্বে যার বিশ্বাস নাই সে হলো নাস্তিক। কিন্তু এই সংজ্ঞা আমার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আল্লাহর অস্তিত্বে না বলে বলা উচিত ছিলো সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে যার বিশ্বাস আছে। নাস্তিক যারা তারা সৃষ্টিকর্তাকে মানেন না। বা সেটাই হওয়া উচিত। তাহলে কিসের উপর তাদের বিশ্বাস আছে? পৃথিবীর সৃষ্টির শুরু এবং শেষ কীভাবে হলো? সেটা আবেগ তাড়িত হয়ে একজন নাস্তিকের বিচার করা উচিত না। নাস্তিকের বিশ্বাস হলো প্রকৃতিতে। প্রকৃতির প্রয়োজনে মানুষের সৃষ্টি। প্রকৃতির প্রয়োজনেই আবার সব কিছুই শেষ হয়ে যাবে। যেমনটি হয়েছিলো ডাইনোসরের যুগে।

বিজ্ঞান আর ধর্মকে এক পথে চালানো দুস্কর। বিজ্ঞান তার ব্যাখ্যার জন্য অনেক কিছুকেই এভিডেন্স হিসেবে নেয়। তার অনেকটাই ধর্ম তাড়িত নয়। তাতে বিজ্ঞানের কিছু যায় আসে না সে খুজে বেড়ায় ধর্মীয় পুস্তকের আড়ালে সত্যটা কী? এখন স্বভাবতই প্রশ্ন জাগবে মৃত্যু কী? এটার খুব সহজ ব্যাখ্যা আমার ভাষায় তা হলো, একটা গাড়ি যখন রাস্তায় চলে তখন তাকে জীবন্ত মনে হয়। আবার গাড়িটির স্টার্ট বন্ধ করে দিলে সে ঘুমিয়ে পড়ে। যখন কোন ফ্যাটাল এক্সিডেন্ট হয় তখন গাড়িটি একেবারেই বিকল হয়ে যায়। মানুষ প্রকৃতির সৃষ্ট তেমনি একটি যন্ত্র। মানুষের হার্ট চলা বন্ধ হয়ে গেলে তা একেবারেই একটা নিথর শরীর ছাড়া আর কিছুই না। এই চিন্তা চেতনা সবই কল্পনা। এই কল্পনা শক্তি আছে বলেই মানুষের হাতেই ধর্মের সৃষ্টি। নাস্তিক সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে না। হাজার পুস্তকেই লেখা থাকুক আর হাজারটা ঘটনাই ঘটুক।

ধর্ম চিরকাল একটা সামাজিক বিপ্লব। আর শিব নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের মতে যেকোন বিপ্লবই মানুষের মনে অন্ধত্ব সৃষ্টি করে। সেটা সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবই হোক, হিটলারের সশস্ত্র বিপ্লবই হোক অথবা ইসলামিক বিপ্লবই হোক। পক্ষান্তরে নাস্তিকতা কোন বিপ্লব নয়। এটা একটা একক, ব্যাক্তিগত ধারণা যার অস্তিত্ব শুধু নিজের ভেতরেই থাকে। কখনও দেখবেন না নাস্তিকরা আন্দোলন করা শুরু করেছে। নাস্তিকতার কোন স্বার্থকতা থাকলে সেটা হলো এটি মানুষকে ধর্মের বাইরে চিন্তা করতে শিখায়। ধর্মকে অতিক্রম করে অন্য সত্যের পেছনে ছুটতে শিখায়। আমার জীবনে যে সকল আধা নাস্তিকের সাথে দেখা হয়েছে, সকলেই বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মাঝে লটকে আছেন। কেউ পুরো বামও না পুরো ডানও না। ব্যাপারটা এমনই যে ধরুন এমন নাস্তিকও আছে (স্বঘোষিত) যে বিপদে পড়লে নিজের বিশ্বাস বিসর্জন দিয়ে বিধাতাকে ডাকা শুরু করে। যা আসলে তার অবস্থানকেই প্রশ্নবিধ্য করে। বিজ্ঞানকে বিশ্বাস করলেও অনেক আস্তিকের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে দেয় ধর্মীয় চিন্তা চেতনা। সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সে বিশ্বাস করতে পারে না কিছু সত্য। যেমন ডারউইনের মতবাদের কথাই ধরুণ। আমেরিকায় এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে সে দেশের ৯০% মানুষই এই মতবাদের বিরোধি। তার একটাই কারণ তাদের ধর্ম প্রথম মানুষ হিসেবে আদমকে চিহ্নিত করে।

নাস্তিকতার আড়ালে থাকা মানুষটি খারাপ না ভাল সেই প্রশ্ন আসতে পারে। সেখানে আমার একটা কথাই বলার আছে, যে ধার্মিক সেও কুকর্ম করে। ভাল খারাপ থাকার ব্যাপারটা নিজের ভেতর থেকে আসে। যে খারাপ সে ধার্মিক হলেও খারাপ। এর উদাহরণ আমাদের দেশের কেন্দ্রীয় কারাগারেই বর্তমান। নাস্তিক হলেই যে সে মানুষের ক্ষতি করবে সে ধারণা একেবারেই ভুল। তবে হ্যা সে প্রচলিত প্রথা বিরোধি এক নীরব সংগ্রামি।

নাস্তিকদের চোখে ধর্ম একটা পন্থা। যে পন্থা অবলম্বন করে মানুষ বাঁচতে চায়। ধর্ম এককটা সেখানো নীতি। সেই নীতিকে ধরে সে সৎ থাকার চেষ্টা করে। ধর্মের উৎপত্তি শুধু এইজন্যেই। কেননা কল্পনায় শূন্যতা মানুষের মনে ব্যাথার সৃষ্টি করে। পরে কী হবে ধর্ম সেই সংক্রান্ত একটি ভবিষ্যত বানী। এর উপর ভিত্তি করে বেঁচে থাকতেই মানুষ সাচ্ছন্দ বোধ করে। দিনে দোয়া করা, পুজা করা সব কিছুই তার মনে একটা অলীক আশা এবং বিশ্বাসের জন্ম দেয় যে না আমি ভাল পথেই এগুচ্ছি।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৭
সুশীল সমাজ বলেছেন: আমার দেখা সামওয়ারের সেরা লেখা এটা। আপনাকে ধন্যবাদ।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৯

লেখক বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

২. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২২
মদন বলেছেন: চমতকার বিশ্লেষন
+++++++++++++++++++
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৬

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

ভাল থাকবেন। শুভকামনা।

৩. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:২৬
ফজল বলেছেন: ভালো লিখেছেন। +

আপনি কি নাস্তিক?
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৩২

লেখক বলেছেন: পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। শুভকামনা।

প্রশ্নটা একটু অবান্তর নয় কী?

৪. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:০৮
আশিকুর রহমান বলেছেন: প্রকৃত নাস্তিক কেউ আছে কিনা আমার মনে সন্দেহ আছে। তবে নাস্তিকতার সাথে ধর্ম নিরপেক্ষতা গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৫

লেখক বলেছেন: ধর্মনিরপেক্ষতা এখানে আলোচ্য না। একমত।

পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।

৬. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৫৭
এবি+ বলেছেন: বিজ্ঞান আর ধর্মকে এক পথে চালানো দুস্কর

>>>>>>> না, অসম্ভব !




ধর্ম চিরকাল একটা সামাজিক বিপ্লব। আর শিব নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের মতে যেকোন বিপ্লবই মানুষের মনে অন্ধত্ব সৃষ্টি করে।

>>>>>>>>>>> একমত ।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। শুভকামনা রইলো।

৭. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৪৭
দুঃখবিলাস বলেছেন: ভালো লাগলো...শো কেসে পাঠালাম।
১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:১৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ দুঃখবিলাস। অনেকদিন পর দেখা। ভাল আছেন?

শুভকামনা।

৮. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১০:৫৪
নেই মানুষ বলেছেন: ইমরোজ, কয়েকদিন ব্লগে ছিলাম না। কোন আপডেট?
১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৪৫

লেখক বলেছেন: নাহ তেমন কোন আপডেট নেই। অবস্থা অপরিবর্তিতই আছে।
ভাল থাকবেন।

৯. ১৫ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ১১:১৬
ফজল বলেছেন: প্রশ্নটা ঠিক অবান্তর নয়। নাস্তিকতা ও ধার্মিকতা দুটোই আসলে বিশ্বাসের অবস্থান। আপনি বলেছেন নাস্তিকতা বিপ্লব নয়, কিন্তু প্রচলিত ধারণার বাইরে কোন মত প্রকাশ বা লালন করা কি বিপ্লব নয়?

ধার্মিকতা বা ধর্মহীনতার সাথে বিজ্ঞানের তেমন সম্পর্ক আছে বলে আমার মনে হয়না। বিজ্ঞান ধর্ম বা ধর্মহীনতাকে প্রকাশ করেনা - সত্য প্রকাশ করে কেবল এবং সেই সত্য প্রমাণিত সত্য। দেখা যায় সময়ের পথ ধরে উন্নতির ধারায় নতুন প্রমান পূর্বের প্রমানকে বাতিল করে।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫০

লেখক বলেছেন: প্রচলিত ধারার বাইরে মত প্রকাশ করা বিপ্লব না। বিপ্লবের সংজ্ঞাটা অন্যরকম। এটা হতে হবে সমষ্টিগত ভাবে। কিন্তু সমষ্টিগত ভাবে কখন নাস্তিকের উত্থান হয়না।
যে নাস্তিক সে নীরব সংগ্রামী।

বিজ্ঞান ধর্মহীনতাকে প্রমাণ করে না। তবে দুটো এক পথে চলতে পারে না। বিজ্ঞান ধর্মের গন্ডিতে থেকে কাজ করতে পারে না।

১০. ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৪৪
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন।
আপনার লেখায় যৌক্তিক ভিত্তি খুব ভালো

ধন্যবাদ এই লেখার জন্য
১১. ০১ লা ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১:১৬
ইফতেখার ইনান বলেছেন: ইমরোজ, মাইন্ড খাইয়ো না ভাইয়া, লেখাটা আজাইরা মনে হইসে। তোমার লেখা নিয়া বিশ্লেষনে যাব না, ভাব ধইরা এইটাও রিপ্লাই দিও না- 'ধন্যবাদ, কি কি কারনে আজাইরা মনে হল বলবেন কি?'

 

মোট সময় লেগেছে ০.৯৫৪৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
আমার আমি।
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ