কোন এক ভোর চারটার সময়ে ভূমিষ্ট হলো কেউ। শাঁ শাঁ বাতাসের শব্দ। নীরবতাকে বিদ্ধ, বিদগ্ধ করে দিচ্ছে বিজন কোন বাড়ির উঠান। একটি সন্তানের জন্মের খবর। নতুন সত্ত্বা নতুন প্রাণ, নতুন মৌলিকতা। তবু তাকে বাঁধানো হয় আমাদের ছকে। হারিয়ে যায় মৌলিকতা!
স্বাগতম,
একটি বিদগ্ধ নগরীর দ্বারে।
নিঃশ্বাস ফেলে যায় অন্ধ নাসিক্য, ধূলিকণা, শীশার বাষ্প।
সিগারেটের টানে টানে নগরীর নাগরেরা বাঁচার নেশায় মত্ত।
এখানে, নানা বাজে বিশেষণে তোমার নগরকে প্রায়শ্চিত্ত গুণতে হয়।
তবুও ভালোবাসতে হয় যেমন ভালোবেসেছি আমরা।
যেমন, ছেড়ে যাইনি প্রিয় শহর।
তোমাকেও গুণতে হবে বিনিদ্র প্রহরার রাত।
অথবা জানালার পাশে জ্যোছনার ম্লান আলো ঢেকে দেবে তোমার চাওয়া পাওয়া।
পানাম নগরের এই বর্ধন বিষময় করে দেবে তোমার বাষ্প।
স্বাগতম,
নিয়মে নিয়মে বাঁধা পড়ে এখানে প্রতিটি চলা তোমার।
বাঁধায় বাঁধায় হাসফাস করবে তোমার দুটো ডানা।
মাঝে মাঝে তেপান্তরের স্বপ্ন বুনতে হয় আপন ঘরে।
নিত্য দেখা সমাচারে দেখবে, জীবন কেমন এফোঁড়-ওফোঁড় করে গ্যাছে ঘাতক বুলেট।
নিত্য লাশের ঘরের পাশেই দেখবে আত্মীয়ের চিৎকার করা কান্না।
স্বাগতম,
নিত্য মদের গন্ধে ভরে উঠবে উচ্চবিত্তের উঠান-বৈঠখানা।
রাস্তায় রাস্তায় চলবে দানবের উল্লাস মিছিল।
চৌচির মাটি আঁকড়ে কাঁদবে কোন কৃষক।
অথবা রাতবিরাতে বস্ত্রবালিকার হবে বাড়ি ফেরা।
তামার সুতোয় সুতোয় তোমার নগর বন্দী হবে জালে।
একদিন তুমিও বলবে, এর থেকে চলো দূরে যাই...
দূর দূর দূর আর কত দূরে গ্যালে পৃথিবীতে নামবে স্বর্গ।
মরিচীকার পেছনে প্রায়সই তুমি বিলীন হবে, ক্লান্ত হবে পথ চলা।
স্বাগতম,
বিছানায় শুয়ে স্বপ্ন দেখাবে রঙ্গীন ষান্মাষিক কোন প্রেমকাব্য।
ছন্দে ছন্দে করবে মাতাল তোমার হৃদয় দরজা।
তুমিও ভুল করে বলে ফেলবে “ভালোবাসি”।
সেখানেই সমাপ্ত এক ইতিহাস...বলো তবুও ভুল করবে।
এখানে দ্রীপ্ত কবিতায় রক্ত-গরম হবে।
চায়ের পেয়ালায় প্রাণাতীত সুখ পাবে ঠোট।
তবু বলো ভুলটা তুমি করবেই।
"অনব" তোমার নামটা হবে...পানাম নগরের ছুটে চলায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ রাত ১২:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


