"পাই লেখ"!
আমি হা করে তাকিয়ে থাকি স্যারের দিকে। স্যার আমার দিকে তাকিয়ে আবারও চিৎকার, "পাই লেখ"।
-স্যার আমি গত ক্লাসে আসি নি।
-গতক্লাসের সাথে পাইয়ের কী সম্পর্ক?
আমি চুপ করে থাকি। ক্লাস সেভেনের কথা। ফার্স্ট টার্ম। ক্লাস সিক্সের শেষের দিকে পাই শিখিয়েছিল। কিন্তু ক্লাস সিক্সে ইম্পোর্টেন ছিল না বলে পাত্তাই দেই নাই। তাই এই দশা।
স্যার আমাকে নিয়ে হাসা হাসি শুরু করে দিল। মেজাজটা খারাপ হতে লাগলো। আমি পাই কিভাবে লিখি? অঙ্ক ক্লাসে পাই লিখতে কয়? পাই বানানটা তখন জানতাম। কিন্তু ঐ পাই মানে তো পিঠা। আর পিঠা অঙ্ক ক্লাসে লিখতে বলছে কেন? আজব!
এই হলো, পাইয়ের সাথে আমার প্রথম সাক্ষাৎ। বুঝলাম পাই এক বিশাল রহস্য। সব রহস্যের উর্ধ্বে থেকে মেনে নিতে হলো, ২২/৭ এর মানই পাই। আর ক্যালকুলেটরে ব্যবহার করতে হতো ৩.১৪১৬। শুরু হলো পাই দিয়ে অঙ্ক কষা।
সে এক ইতিহাস বটে। ব্যাসার্ধের স্থানে ক্ষেত্রফলের সূত্র, আর ক্ষেত্রফলের স্থানে আয়তনের সূত্র, গোলককে সিলিন্ডার, সিলিন্ডারকে কোণ করতে করতে প্রথম দুই দুইটা জ্যামিতি পরীক্ষায় গর্বের সাথে ১০ এ ৩ পেলাম। গর্বে আমার আর পাই পড়ে না। পাই তখন বিভিষিকার মত তাকিয়ে থাকতো, আমার প্রতিটি অঙ্ক খাতার পাতায় পাতায়। এখন কী করণীয়? যাকেই জিজ্ঞেস করি বলে পড়তে, মুখস্থ করতে। কিন্তু ছাতার সেটাই তো পারি না।
যাহোক, সূত্র পেটস্থ পাটস্থ করে সেবার উত্রে গেলাম। কোনরকমে আমার পাশ হলো। তবে পাই ভিতি এখনও যায় নি। মাঝে মাঝে পাই দেখি আর মনে পড়ে স্মৃতিময় স্কুলের কথা, যেখানে প্রথম পাইয়ের সাথে পরিচয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পাইয়ের আনাগোণা শুরু হয়নি। তবে হবে সামনে। সেটা নিয়ে টেন্সড।
আজ মহান পাই দিবস। পাই নিয়ে শোভাযাত্রা হবে। কত মহা অঙ্কপন্ডিতের বিশদ আলোচনা বসবে। আমি খুব অবাক হই, এত সুন্দর করে পাই দিবসটাকে উদযাপন করা হবে ভেবে। পাই নিয়ে শোভাযাত্রা অবশ্যই এক অভিনব বিষয়। সমস্ত লোকের ভেতরটা অঙ্কময়, যুক্তিময় ও সত্য হয়ে উঠুক। যদিও অঙ্ক আমার ভালো লাগে না
মহান পাই দিবসে সামহোয়ারের সকল অঙ্ক-মনা ব্লগারকে শুভেচ্ছা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


