ছোট টেবিলটার ধারে বসে থাকি। জানালা দিয়ে চোখ বহুদূরে যায়। সেখানে সূর্য অস্ত যাচ্ছে। লালচে হয়েছে সুনীল আকাশ। এলোমেলো হলো সাময়িক বাতাস।
আমার জানালার উল্টো দিকে বাতায়ন। কোন এক ষোড়শীর বাস সারা জানালা জুড়ে! কখনও বা আমার ভয়ে লুকিয়ে যায় পর্দার আড়ালে। নিজে অনেক সময় লজ্জিত বোধ করি। যখন দেখি আমার জন্য তার জানালায় আসা হয় না।
আমি বাইরে যাই। এখানে সেখানে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেই। আর মেয়েটির তো একটা জানালাই আছে। আর যে কিছু নেই। না আড্ডা। না রাত পর্যন্ত বাইরে থাকা। না বিলিয়ার্ডের নেশা করা। তাই জানালার পর্দা টেনে পরদেশি বাতায়নটাকে মুক্ত ভাবে শ্বাস নিতে দেই। তুমি জানালা জুড়ে স্বপ্ন দেখ। আর আমি একলা বসে থাকি। মেয়েটির জন্য সোনালী আকাশ বা রোদেলা দুপুর ছেড়ে দেই দেখা। কী যায় আসে?
একটা বাইসন দেখি। এনিমেল প্ল্যানেটে। বন্ধুর সাথে। বাইসনের সিং আছে। বাইসন নিয়ে লাগে। কার শিং কত বড়? "দোস্ত বাইসন চেনার উপায় হলো শিং"। তারপর আসে সাপ। সাপ দেখে ভালো লাগে। সর্পরাজ গোখরো। সেটার শ্রেষ্ঠত্ব কিসের উপর নির্ভর করে জান?
-ফোণা।
-ঠিক তাই। কার ফোণা কতবড়? যতবড় ফোণা ততই শ্রেষ্ঠ সাপ। ততই বিষাক্ত সে!
এমনই সময় ষোড়শীকে চোখে পড়ে আমার ঘরে এসে। আমি অবাক হয়ে জানালা দিয়ে দেখি তাকে। তার চোখ ভর দুপুরে রোদহীন মেঘলা আকাশের মতই নিস্তেজ। নীরব। মেঘে মেঘে কী সে রঙধনু খুজে? আমি দৌড়ে যাই। আমার প্রিয় বন্ধুকে বয়সের দোষে ডেকে আনি।
"কেমন দেখতে মেয়েটা? সাবধানে দেখিস। চিত্রা হরিণ সে। একটু টের পেলেই জানালা থেকে চলে যাবে।"
আমার বন্ধু মেয়েটির অলক্ষ্যে নিরীক্ষণ করে তাকে। তারপর আমাকে বলে মেয়েটি ভালো না!
মানুষের পছন্দ শ্রদ্ধা করি। তাই...বললাম, "আমার ভালো লাগে"।
কেন সে ভালো না বলল? সে কী মেয়েটির বিষন্ন চোখে কিছুই খুজে পায় না। মেয়েটির মেঘরূপ চুলে কোন স্বপ্ন খেলে না?
চুপচাপ থাকি আমি।
আমার বন্ধু আমাকে কারণটা বলে। কারণ মেয়েটি মোটা নয়। তার বক্ষ উন্নত নয়। আর বক্ষ উন্নত না হলে সে মেয়ের কদর নেই।
আপন মনেই বলে উঠি, "ছি"। তারপর বন্ধু চলে গেলে এমনই নীচ মনটাকে ঘৃণা করতে থাকি। নিজেকেও থিকথিকে লজ্জা দেই। এই আমার বন্ধুবর? এই শ্রেষ্ঠ বন্ধু আমার? মেয়েটা পশু? সে কী মানুষ নয়? তাকে এভাবে বিচার করতে হবে?
অজান্তে সেদিন জানালার পর্দা সরিয়ে দিলাম। মেয়েটি আকাশ দেখুক। আমি বিরক্ত করবো না!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

