somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার ভীষণ লজ্জা লাগছে প্রসঙ্গঃ ঢাবির ঘটনা

২৫ শে আগস্ট, ২০০৮ রাত ১১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে একটা কথা বার বার করে মনে পড়ছিল। সালটা আমার ঠিক মনে নেই। অনেকদিন আগেকার কথা। তখন বিটিভিতে একটা চমৎকার অনুষ্ঠান দেখতাম। তার নাম "শুভেচ্ছা"। আব্দুর নূর তুষারের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটা এত লাইভলি হত যে মনে দাগ কাটার মত।

অনেকদিন পর হয়েছিল শুভেচ্ছাটা। আমরা একটু বেশি আগ্রহ নিয়েই বসেছিলাম সপরিবারে। দর্শকদের সারি থেকে কিছু দর্শককে আব্দুর নূর তুষার স্টেজে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। স্টেজে ওঠার পর তিনি ৪-৫ জন দর্শক অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের হাতে একটি চা খাওয়ার কাপ ও পিরিজ দিয়েছিলেন। দিয়ে বললেন, "এগুলো ফেলে ভেঙ্গে দিন"। এবং দর্শকরা কথা শোনা মাত্রই হাত থেকে কাপ পিরিজ ফেলে ভেঙ্গে ফেললেন। তখন আব্দুর নূর তুষার তাদের জিজ্ঞেস করলেন "আপনারা কেন এভাবে জিনিসগুলো ভেঙ্গে ফেললেন?"
উত্তরে একজন বলেছিলেন, "আপনি বলেছেন তাই"।
তুষার বললেন, "একবার জিজ্ঞেস করলেন না জিনিসটা কেন ভাংবো"?
তখন দেখি স্টেজে ওঠা ৪-৫ দর্শক শীথিল দাঁড়িয়ে আছেন। কোন কথা বলছেন না। তারপর তুষার বললেন, "ভাঙ্গা খুব সহজ কিন্তু একটা জিনিস তৈরী করা অনেক কঠিন ব্যাপার"।

এই চমৎকার সেগমেন্টটা আমার মনে চির অমলিন। আসলেই ভাঙ্গা খুব সহজ গড়া ততই কঠিন। আজকে আমার বাসা সাইন্স ল্যাবের সামনে ভেঙ্গে চূড়ে পুড়ে যেতে দেখলাম একটা মাইক্রোবাসকে। আরও দেখলাম কী আকস্মিক একটা জীবন চলে গেল পৃথিবী থেকে। কী বিকট শব্দে সিলিন্ডারটা ফেটে গেল। কী পেল ছাত্ররা? আচ্ছা এভাবে কিছুই কী পাওয়া যায়?

আমাদের দেশ এতই উন্নত যে আজ পর্যন্ত আমাদের দেশে একটা গাড়ি বানানোর ফ্যাক্টরি আমরা করতে পারিনি। কিন্তু কী সুন্দর বছর বছর শত শত গাড়ি ভাঙ্গাভাঙ্গিতে আমাদের জুড়ি নাই। এই না বলে বাঙ্গালীর বাচ্চারা।

যাই হোক, আজকের ঘটনা দিয়েই কথা বলছি তা সবাই হয়তো বুঝে গেছেন। আচ্ছা তারেক রহমানের কোন বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রী আছে? তার মায়েরটা তো বাদই দিলাম! নেই। কোন ডিগ্রী তারেকের নেই। তারেক সেন্ট যোসেফে পড়াশোনা করেছিলেন। আমার স্কুল ছিল সেন্ট যোসেফ। তারেকের কথা তাই আমাদের টিচারদের মুখে একটু আধটু শুনেছি। তিনি এতই ভালো ছাত্র ছিলেন যে ক্লাস ফাইভ থেকে তাকে কোন মতেই সিক্স-এ উঠানো গেল না। কোন মতেই না। শেষে তাকে স্কুল থেকে টিসি দেওয়া হয়েছিল।

তারেক এরপরে কোথায় কী পড়েছেন অথবা ডিগ্রী করেছেন বলে কোন খবর আমার জানা নেই। আপনারা জানলে জানাবেন। আচ্ছা এই অশিক্ষিত নেতাদের জন্য ঢাবির মেধাবী ছাত্ররা কেন আন্দোলন করেন? আমার এতদিন জানা ছিল না। এখন যখন নিজেই ঢাবির একজন অথর্ব ছাত্র আমি তখন বলতে এই ব্যাপারটা আমি জানতে পেরেছি। তাহলে আসুন শুনি ব্যাপারটা আসলে কী?

আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি এসব দলের ছাত্র সংগঠনের জন্য দলগুলো অনেক লোভ দেখায়। রাজনীতির সাথে জড়িতরা হলের ক্যান্টিন থেকে শুরু করে টিভি রুম পর্যন্ত নানা রকমের সুবিধা পেয়ে থাকে। আর আমাদের মত সাধারণ ছাত্ররা হলের সীট পায়না। আমার ক্লাসে একটা ছেলে আছে। যে সেই ২০০৩ সাল থেকে আমার ক্লাসে মানে ফার্ষ্ট ইয়ারেই পড়ছে। এখনো বেচারা সেকেন্ড ইয়ারে উঠতে পারলো না।

তার এই অভূতপূর্ব সাফল্যের রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে বেড়িয়ে এলো যে তিনি অত্যন্ত প্রতাপশালী নেতা। আমরা তো ভয়ে অস্থির। বড় ভাই মানুষ তার উওর ছাত্রদলের নেতা। তার পোস্ট অবশ্য জানি না। পরে একদিন মিছিলে তাকে দেখলাম। তিনি একদম পিছনে স্লোগান দিতে দিতে যাচ্ছেন। এবার তার পোস্ট জানা গেল। তার কোন পোস্টই নেই। আশা করা যায় তিনি এবার না হলেও পরের বার পাবেন। আচ্ছা, এই জন্য তিনি চার চারটে বছর নষ্ট করেছেন? ব্রিলিয়ান্ট!!!!

যাইহোক, রাজনীতি করার বিপক্ষে আমি না। আমরা কেন সেই রাজনীতি করতে পারি না যে রাজনীতি আমাদের ভেতর আদর্শের হেরফের করবে না। আমরা কেন ভালোর পক্ষে থাকতে পারলাম না আজও। আমরা কেন শিক্ষিত হয়ে আমাদের মূর্তি এভাবে নষ্ট করছি? একটা পোস্টের জন্য?

আমি আমার এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে কী না ঢাবির সক্রিয় রাজনীতিবিদ(!!!)। কেন করছিস এসব? বলল,"ছাত্রদলের সভাপতি হতে পারলে যেখানে যাব সেখানে আমি অনেক সুবিধা পাব, সরকারে বি এন পি থাকুক আর আওয়ামীলীগ থাকুক"।

আমি বললাম, "সভাপতি কয়জন হতে পারে"?
ও অবাক হয়ে বলল, "এটাও জানিস না"?, "একজন"।

আমি এবার জিজ্ঞেস করলাম, "কয়জন সভাপতির সুবিধার জন্য রাজনীতি করছে"?

সে কিছুটা ভিমরি খেয়ে গেল। বললাম, "সভাপতি একজন হবে তাই না, আর এইযে যারা আন্দোলন করে মাথা ফাটাচ্ছে গাড়ি ভাংছে, জেলে যাচ্ছে তারা সবাই তো আর হবে না, তাহলে তাদের এই কষ্ট, মার খাওয়ার তখন কী মূল্য থাকবে"?

বন্ধুটি উত্তর দিতে পারলো না। আমি জানি কেউ পারবে না।
২৯টি মন্তব্য ২২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×