somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশে হচ্ছেটা কী এইসব?

১১ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝরাতে হঠাৎ করেই ফোন বেজে উঠল। ঘুম ঘুম চোখে বিরক্তির সাথে ফোনটা কার সেটা না দেখেই হ্যালো হ্যালো করে যাচ্ছি। ওপাশ থেকে কেউ কথা বলছে না। বিরক্তির পরিমাণ ঢের বেড়ে গেল। ফোন কেটে ঘুমে মন দিলাম। কিন্তু একটু পর আবার সেই ফোন। আবার সেই কথা না বলা।

এবার আর লাইন কাটলাম না। ঠিক সেভাবেই রেখে দিলাম। টাকা গেলে ও ব্যাটার যাবে। কিন্তু ফোন রাখতে চিৎকার শুনতে পেলাম আমার বন্ধুর।
-ফোনটা ধর, কথা বলি।
-হ্যালো কে?
-আমি আদনান।
-এত রাতে কী হলো?
-তোকে খুব দরকার। তুই একটু আসতে পারবি?

ঈদের আগের দিনের রাত। এমন কথা শুনে আমি হতভম্ব। কিসব বলে? এতরাতে আমাকে কেন দরকার পরবে ওর?
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, কয়টা বাজে জানিস?
-জানি। প্লিজ বিপদে পরছি।
-কী হইছে?
-আমি তোর বাসার গলিতে।

বলে রাখি। আমার বাসার গলি একটি কানা গলি। মানে একদিক দিয়ে ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। আর মধ্যরাতের পর তা একেবারেই ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে। কিন্তু কানা গলি হওয়াতে একটা লাভ হয়েছে। সেটা হলো গলিতে অনেকগুলো গরু বাঁধা আছে। তাই একটা লাইটও দেওয়া হয়েছে।

তখন আসলে বাজে ১টা। আমি দৌড়ে নিচে গেলাম। বাড়িতে তখন সব বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। গিয়েই ওকে পেলাম। ওকে ভীত সন্ত্রস্ত দেখে আমি অবাক। তুই এত রাতে এই গলিতে?

ও কাপতে কাপতে আমাকে বলল, গলির মাথায় দেখ দুইটা মোটর সাইকেল আলা। আমাকে নিউমার্কেট থেকে ফলো করতেছে। এখন ওখানে দাঁড়ায় আসে। আমার বাসা তো বিশাল গলির ভেতরে। আমাকে ফলো করে ফার্মগেট গেলে তো বিপদে পরব। তাই কোন রকম রিক্সা দিয়ে এইখানে নেমে দৌড়ে ভেতরে চলে এলাম। তোকে ফোন দিলাম।

আমি কথা শুনে জিজ্ঞেস করলাম, তোর সাথে দামী জিনিস আছে?
-আছে তো, নোকিয়ার সেটটা আছে। আর এই ব্যাগে ছয় হাজার টাকা আছে।
-ঢাকা কলেজের সামনে তোরে ধরলে খবর ছিল।
-আমার রিস্কার সামনে আসার সাথে সাথে রিক্সাআলা বুদ্ধি করে রং সাইডে চলে গেল। আর ওরা তখন আর ঘুরে আসতে পারল না।

আমি আমার বাসার গেটে তাকে দাড়া করায় গেলাম গলির মুখে। দেখি আসলেও দুইটা মোটর বাইক। একটা তে তিনজন আর আরেকটাতে দুইজন। গলির দুই মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। দেখলেই বোঝা যায় এরা ভাল ছেলে না।

এদিকে আমার হুলুস্থুল করে নিচে নামার শব্দে আমার এক আংকেল দরজা খুলে নিচে নেমে এসেছেন। তিনি বিডিআর এর একজন সদস্য। আমাকে খুজতে গলির মাথায় এলে, আমি মোটরবাইকআলাদের আড়ালে ওনাকে বললাম এই এই ঘটনা।

তিনি কথা শুনে তাদের সামনে গেলেন। অবাক হলাম, তাদের কোন ভ্রুক্ষেপই নাই। আংকেল কে বলল, আমরা এখানে রাত পর্যন্ত থাকব, আপনার সমস্যা?

বিডিআর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (ইচ্ছে করেই র‌্যাঙ্কটা উল্লেখ করলাম না) তিনি, এহেন কথা শুনে ক্ষেপে গেলেন। গালি দিয়ে বললেন, ঐ হারামির বাচ্চারা এইটা আমার এলাকা জানস, বিডি আর গেট থেকে লোক আসতে দুই মিনিটও লাগবে না।

বচসা চলছে। রাস্তার আলোয় আমি বেশ ভীত। বন্ধু আমার বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে আছে। ভাগ্যক্রমে পাশের মার্কেট তখনও বন্ধ হয়নি। হবার উপক্রম করছে। সেখানে একজন সাবেক সভাপতি (ঢাকা কলেজের, রাজনৈতিক) তিনি এসে পড়লেন।
-কী হইলো?
মোটর বাইক আলারা দেখি তাও বিচলিত নয়। বলে, আপনি কে?
আংকেল এমন সময় মোবাইল আনতে ঘরের দিকে যাচ্ছেন। কিন্তু তার আর দরকার পরল না। সাবেক সভাপতি সাহেব একটারে থাপ্পড় মেরে বসলেন, আর সেই সাথে সাথে বাইক দুইটা ছেড়ে গেল।

দুইজনেরই রক্তগরম। কিন্তু সভাপতি সাহেব রেগে রাস্তার ওপারে চলে গেছেন। মোটর সাইকেল ঘুরে আসলেই ধরবেন। আর দোকানের লোকজন রাস্তায় আটকে দিচ্ছে। কিন্তু বাইক আলারা নিউমার্কেটের দিকেই গেল। সাইন্স ল্যাবের দিকে এলো না।

যাহোক, বন্ধুর বাসার লোকজন ফোন করে করে অস্থির। এত রাত পর্যন্ত নিউমার্কেটে তার ভাইয়ের দোকান থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল সে। আমি অবাক হলাম। এত রাতে কেন? কিন্তু কথা অবান্তর। ঈদের আগের দিন ভোর রাত পর্যন্ত মানুষ মার্কেটিং করে এই এলাকায়। বন্ধুর ভাই কই গেল তাহলে? জিজ্ঞেস করতে বলল, একটু পরেই ও বাসায় যাচ্ছে বলে আমাকে আগে আগে পাঠিয়ে দিল, যেহেতু রাত হয়ে যাচ্ছিল।

শেষে সভাপতি সাহেব আর তার লোকজন বন্ধুটিকে ফার্মগেইট পর্যন্ত দিয়ে এলো।

(বন্ধুর নাম আসল নয়)!
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×