মাঝরাতে হঠাৎ করেই ফোন বেজে উঠল। ঘুম ঘুম চোখে বিরক্তির সাথে ফোনটা কার সেটা না দেখেই হ্যালো হ্যালো করে যাচ্ছি। ওপাশ থেকে কেউ কথা বলছে না। বিরক্তির পরিমাণ ঢের বেড়ে গেল। ফোন কেটে ঘুমে মন দিলাম। কিন্তু একটু পর আবার সেই ফোন। আবার সেই কথা না বলা।
এবার আর লাইন কাটলাম না। ঠিক সেভাবেই রেখে দিলাম। টাকা গেলে ও ব্যাটার যাবে। কিন্তু ফোন রাখতে চিৎকার শুনতে পেলাম আমার বন্ধুর।
-ফোনটা ধর, কথা বলি।
-হ্যালো কে?
-আমি আদনান।
-এত রাতে কী হলো?
-তোকে খুব দরকার। তুই একটু আসতে পারবি?
ঈদের আগের দিনের রাত। এমন কথা শুনে আমি হতভম্ব। কিসব বলে? এতরাতে আমাকে কেন দরকার পরবে ওর?
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, কয়টা বাজে জানিস?
-জানি। প্লিজ বিপদে পরছি।
-কী হইছে?
-আমি তোর বাসার গলিতে।
বলে রাখি। আমার বাসার গলি একটি কানা গলি। মানে একদিক দিয়ে ঢুকলে আর বের হওয়া যায় না। আর মধ্যরাতের পর তা একেবারেই ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে। কিন্তু কানা গলি হওয়াতে একটা লাভ হয়েছে। সেটা হলো গলিতে অনেকগুলো গরু বাঁধা আছে। তাই একটা লাইটও দেওয়া হয়েছে।
তখন আসলে বাজে ১টা। আমি দৌড়ে নিচে গেলাম। বাড়িতে তখন সব বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। গিয়েই ওকে পেলাম। ওকে ভীত সন্ত্রস্ত দেখে আমি অবাক। তুই এত রাতে এই গলিতে?
ও কাপতে কাপতে আমাকে বলল, গলির মাথায় দেখ দুইটা মোটর সাইকেল আলা। আমাকে নিউমার্কেট থেকে ফলো করতেছে। এখন ওখানে দাঁড়ায় আসে। আমার বাসা তো বিশাল গলির ভেতরে। আমাকে ফলো করে ফার্মগেট গেলে তো বিপদে পরব। তাই কোন রকম রিক্সা দিয়ে এইখানে নেমে দৌড়ে ভেতরে চলে এলাম। তোকে ফোন দিলাম।
আমি কথা শুনে জিজ্ঞেস করলাম, তোর সাথে দামী জিনিস আছে?
-আছে তো, নোকিয়ার সেটটা আছে। আর এই ব্যাগে ছয় হাজার টাকা আছে।
-ঢাকা কলেজের সামনে তোরে ধরলে খবর ছিল।
-আমার রিস্কার সামনে আসার সাথে সাথে রিক্সাআলা বুদ্ধি করে রং সাইডে চলে গেল। আর ওরা তখন আর ঘুরে আসতে পারল না।
আমি আমার বাসার গেটে তাকে দাড়া করায় গেলাম গলির মুখে। দেখি আসলেও দুইটা মোটর বাইক। একটা তে তিনজন আর আরেকটাতে দুইজন। গলির দুই মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। দেখলেই বোঝা যায় এরা ভাল ছেলে না।
এদিকে আমার হুলুস্থুল করে নিচে নামার শব্দে আমার এক আংকেল দরজা খুলে নিচে নেমে এসেছেন। তিনি বিডিআর এর একজন সদস্য। আমাকে খুজতে গলির মাথায় এলে, আমি মোটরবাইকআলাদের আড়ালে ওনাকে বললাম এই এই ঘটনা।
তিনি কথা শুনে তাদের সামনে গেলেন। অবাক হলাম, তাদের কোন ভ্রুক্ষেপই নাই। আংকেল কে বলল, আমরা এখানে রাত পর্যন্ত থাকব, আপনার সমস্যা?
বিডিআর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা (ইচ্ছে করেই র্যাঙ্কটা উল্লেখ করলাম না) তিনি, এহেন কথা শুনে ক্ষেপে গেলেন। গালি দিয়ে বললেন, ঐ হারামির বাচ্চারা এইটা আমার এলাকা জানস, বিডি আর গেট থেকে লোক আসতে দুই মিনিটও লাগবে না।
বচসা চলছে। রাস্তার আলোয় আমি বেশ ভীত। বন্ধু আমার বাড়ির নিচে দাঁড়িয়ে আছে। ভাগ্যক্রমে পাশের মার্কেট তখনও বন্ধ হয়নি। হবার উপক্রম করছে। সেখানে একজন সাবেক সভাপতি (ঢাকা কলেজের, রাজনৈতিক) তিনি এসে পড়লেন।
-কী হইলো?
মোটর বাইক আলারা দেখি তাও বিচলিত নয়। বলে, আপনি কে?
আংকেল এমন সময় মোবাইল আনতে ঘরের দিকে যাচ্ছেন। কিন্তু তার আর দরকার পরল না। সাবেক সভাপতি সাহেব একটারে থাপ্পড় মেরে বসলেন, আর সেই সাথে সাথে বাইক দুইটা ছেড়ে গেল।
দুইজনেরই রক্তগরম। কিন্তু সভাপতি সাহেব রেগে রাস্তার ওপারে চলে গেছেন। মোটর সাইকেল ঘুরে আসলেই ধরবেন। আর দোকানের লোকজন রাস্তায় আটকে দিচ্ছে। কিন্তু বাইক আলারা নিউমার্কেটের দিকেই গেল। সাইন্স ল্যাবের দিকে এলো না।
যাহোক, বন্ধুর বাসার লোকজন ফোন করে করে অস্থির। এত রাত পর্যন্ত নিউমার্কেটে তার ভাইয়ের দোকান থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল সে। আমি অবাক হলাম। এত রাতে কেন? কিন্তু কথা অবান্তর। ঈদের আগের দিন ভোর রাত পর্যন্ত মানুষ মার্কেটিং করে এই এলাকায়। বন্ধুর ভাই কই গেল তাহলে? জিজ্ঞেস করতে বলল, একটু পরেই ও বাসায় যাচ্ছে বলে আমাকে আগে আগে পাঠিয়ে দিল, যেহেতু রাত হয়ে যাচ্ছিল।
শেষে সভাপতি সাহেব আর তার লোকজন বন্ধুটিকে ফার্মগেইট পর্যন্ত দিয়ে এলো।
(বন্ধুর নাম আসল নয়)!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

