আমার এই আহবান একটি দলের জন্য নয়। বরং সমস্ত সচেতন মানুষের জন্য।
আমি নতুন ভোটার হয়েছি। অর্থাৎ এইবারই আমি প্রথমবার ভোট দিব। আরও অনেকে এইবার প্রথম ভোট দিতে যাচ্ছেন। আমরা এই অর্থে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন প্রজন্ম। আমাদের হাত ধরেই পরবর্তীতে রাজনীতিতে নানারকমের পরিবর্তন আসবে। আমরা সর্বোত্র আমাদের হাত প্রসারিত করব। একটা কথা ভুলে গেলে চলবে না আমাদের পরের প্রজন্মের জন্য আমাদের একটা দায়বোদ্ধতা আছে।
আমরা আর বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরদের গাড়িতে জাতীয় পতাকা দেখতে চাইনা। আমরা চাই না আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধ শক্তি আমাদের ছাপিয়ে দেশের রাজনীতিকে চালনা করবে। আমরা সেটা হতে দেব না। তাই আসুন আমরা প্রত্যকে নিজের বিবেকের কাছে একটি দায়বোদ্ধতা রাখি। নিজের স্থান থেকেই সমস্ত যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিহত করি। নিজেকে ভোট দেওয়ার আগে জিজ্ঞেস করি আমরা আসলে কী করছি!
যুদ্ধাপরাধী সে যে দলেই থাকুক না কেন আসুন আমরা এই নির্বাচনে তাদেরকে চিহ্নিত করে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকি। আমাদের জাতীয় পতাকার যথেষ্ট অপমান হয়েছে। আর সহ্য করা যায় না।
যে আসনে যুদ্ধাপরাধী নির্বাচনের জন্য দাঁড়াবে আমরা সে আসনেই তাদের প্রতিহত করব। হোক সে বিএনপি, মহাজোটের প্রার্থী। আমরা দরকার না ভোট দিয়ে ফিরব তবু আমরা মীর জাফরদের হাতে দেশকে নষ্ট হতে দেব না।
জামায়াত ইসলামী নিজ স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী, তারা বলে তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রমাণ নেই। অথচ, তাদের অপকর্মের সব থেকে বড় প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দৈনিক সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কাটিং পড়লেই আপনারা সবই জানতে পারবেন। পত্রিকাটি প্রকাশ্যে জামাতকে সমর্থন দিয়েছে, ও জামাতের কাজকে সব সময় সমর্থন করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের দেশদ্রোহী বলেছে ১৯৭১ সালে। আজও তারা দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধচারণ করে যাচ্ছে।
দেশের সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যতজন যুদ্ধাপরাধীকে চিহ্নিত করেছে, আমরা সকলকেই এই নির্বাচনে প্রত্যাখান করব।
অবাক হতে হয়, মানুষের সব থেকে দুর্বল জিনিস অর্থাৎ ধর্মকে আশ্রয় করে যুদ্ধাপরাধীরা নিজেদের ঢাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু খুনীদের হাতে পবিত্র ধর্মের ঝান্ডা আমরা তুলে দিতে পারিনা। এ হবে ধর্মকে অপমান করা। আল্লাহ কোনদিন এই মোনাফেকি পছন্দ করবেন না। তিনি সবই অবগত।
ফেসবুকের এই গ্রুপটির হয়তো নির্বাচনের তেমন একটি গুরুত্ববহন করবে না। তবুও কিছু মানুষকে তো ভাবতে সময় দিবে। আমরা কী করতে যাচ্ছি। আমরা আমাদের বিবেককে অন্তত একবার হলেও প্রশ্ন করতে পারব। জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারব। অন্তত নিজের স্থান থেকে আসুন আজ দেশের জন্য আমরা এইটুকু করি। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা অন্তত এইটুকু দিয়ে যেতে পারি যে আমরা আমাদের দেশের জন্য একটা ভাল কাজ করেছি।
গ্রুপটি খোলার জন্য অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই ব্লগার গিফার ভাইকে। যিনি অনেক সময় নিয়ে কাজটি করেছেন। এবং আমাকেও এরকম একটি কাজের সাথে জড়িত হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। আমি তাকে আমার সমস্ত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আশা করছি আপনারাও আমাদের সাথে থাকবেন।
আসুন, দেশের এই ক্রান্তি লগ্নে আমরা ভাল মানুষটিকে বেছে দেই দেশের জন্য। আমরা নিজেদের পরিচয় আর নিজেদের বাবা মায়ের যুদ্ধের সময়কার হাহাকার ও কষ্টগুলোকে দাম দিতে শিখি। তাঁরা খুব কষ্ট পান আজও, যেহেতু তাদের চোখের সামনে রাজাকার আলবদররা হত্যা করেছে অনেক প্রিয় মানুষকে। আমরা তাদের অশ্রুকে বৃথা যেতে দেব না।
গ্রুপের লিংক
Click This Link
নিজের স্থান থেকে আসুন বদলে দেই, (আপনার দিকে তাকিয়ে আছে স্বদেশ)
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
১৩টি মন্তব্য ১০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন
=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল
আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।