আমি প্রায়ই বিডিআরের সামনে দিয়ে যাতায়াত করে থাকি। সে জন্য বিডিআরের গেটটা দেখা হয়েছে ঘটনার পর। মজার ব্যাপার হলো, বিডিআর গেটের ভেতরটা একরকম, আর বাইরেটা আরেক রকম। গেটের ভেতরে তাকালে নিজের গা ছমছম করে ওঠে। কী নৃশংস তান্ডব সেখানে চালানো হয়েছে।
অবাক হলেও সত্য, বসন্ত কালে দখিনা বাতাস বয় জোরে সরে, সে বাতাসে ধানমন্ডি লেকের পাড়ের গাছগুলো নড়েচড়ে ওঠে, কিন্তু বিডিআর গেটের ভেতরের গাছগুলোতে কোন স্পন্দন নেই। তারা যেন ভুলে গেছে এ বাতাসে একটু নড়েচড়ে উঠা দরকার ছিল। ভেতরে ঢুকলেই মনে হবে লাশের গন্ধ পাচ্ছি। যদিও আমি ভেতরে ঢুকি নাই। বাইরে থেকে অনুভব করি।
পিলখানায় আমি কয়েকবার বিয়ে খেতে গিয়েছি। তখনও রাতের নিস্তব্ধতা, নীরবতা আমাকে অনেক অবাক করে দিয়েছিল। একবার কী জন্য যেন একটা বিয়ে অর্ধেক রেখেই চলে এসেছিলাম দরবার হল থেকে। দরবার হল থেকে বিডিআর গেটে যেতে বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দিতে হয়। এবং সে রাতে আমি একা হেটে বের হই, চারিদিকের নীরব নিস্তব্ধতা আমাকে ঘিরে ধরেছিল। অজান্তেই দেহের ইন্দ্রীয়গুলো কেপে কেপে উঠেছিল। আজ সেসব কথা মনে করে রোমাঞ্চিত হই।
আবার কবে বিডিআরে প্রবেশ করার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য হবে আমার জানা নেই। তবে, এবার হয়তো একা দরবার হলের দিকে যেতে সাহস হবে না। সেই বিশ্বাস ভেঙ্গে ফেলেছে আমাদের বিডিআরের জোয়ানরা।
আমি সেনাবাহিনীকে সাপোর্ট করি না। যদিও আমার ফ্যামিলিতে অনেকে সেখানে আছেন। কেন সাপোর্ট করি না, তার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো, আমার কাছে মনে হয় সেনাবাহিনী দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষা ছাড়া আর কিছুই না। তবে এই নৃশংসতার পর অনেক কিছুই পেচিয়ে গেছে। বলতে পারেন, সব ভাবনাগুলো একসাথে হয়ে আর কোন বের হবার রাস্তা পাচ্ছে না। পাবেও না কোনদিন।
১৯৭৫ সালের ঘটনা আমাকে যেমন অবাক করে দেয়, তেমনি সাম্প্রতিক এই ঘটনাও আমাকে অবাক করে দিয়েছে। মাঝে মাঝে চিন্তা করি, এ ছাড়া আর কী কোন পথ ছিল না? একবার পরিবারগুলোর দিকে তাকানো যেত। তাদের তো আর কোন দোষ ছিল না।
১৯৭৫ সালের পর সেনাবাহিনী বাংলাদেশে একটি বিশৃঙ্খল বাহিনীতে পরিণত হয়েছিল। সেখানে শুধু হত্যা আর হত্যার মহোৎসব যেন। এরপরেও এ দেশে সেনাবাহিনীকে কেন আমরা রিস্ট্রাকচারড করতে পারলাম না সে আমার এখনও অজানা। কেনই বা আমাদের দেশের মত এত ছোট একটা দেশে এতগুলো প্যারামিলিটারি ফোর্স থাকবে? কেনই বা দেশের বাৎসরিক বাজেটের একটা বিশাল অংশ সেনাবাহিনীর দিকে প্রচন্ড রকম ঝুকে থাকবে? কেনই বা দেশে সেনাবাহিনীর জন্য টাকা ঢেলে মিগ আর ফ্রীগেড কিনতে হবে?
যাহোক, যেটা সত্য সেটা সত্যই। এই সত্যকে আমাদের মেনে নিতেই হবে। এছাড়া আর কোন রাস্তা আমাদের জন্য খোলা নেই। যেসকল আত্মা পিলখানায় সেদিনকার ঘটনায় দেহ ত্যাগ করেছে, তারা শান্তি পাক, এই কামনাই করি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


