সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। তখনও আকাশ পুরো কাল হয়নি। একতলার ছোট্ট বারান্দায় বসে আকাশ দেখছে অনব। তার চোখে উৎকন্ঠা। যেখানে এসেছে সেটা মোটেও ভাল জায়গা নয়। পার্টি হচ্ছে। অর্চির জন্মদিন আজ। অর্চি অনবের দুই বছরের বড়। তবে দুজনই খুব বড় নয়। একজন আঠার আরেকজন ষোল।
অর্চির বাবা মা যেকোন পার্টিতে মদের ব্যবস্থা করেন। এই পার্টিও তার ব্যতিক্রম নয়। বাড়ির ড্রয়ং রুমের টেবিল ভরে গেছে হাইনেকেন আর ফোস্টারে। একটা আধো খাওয়া ব্ল্যাক লেবেল, তার পাশে গোল্ডেনের নতুন বোতল। অনব একবার ধরে দেখেছে বোতলগুলো। অনবের বাবা মদ খাচ্ছেন। অনবরত। অর্চির মা লেখক। এই সমাজ-এ তার ভারি নাম ডাক। লাল পানি না খেলে তার ভাব আসে না। আজ রাতেই মনে হয় একটা উপন্যাস লিখে ফেলবেন। হাটতে পারছেন না মহিলা।
অনব অর্চির ঘরের বারান্দায় বসে আছে। একটু পর অর্চি এসে পাশের চেয়ারে বসল। কি চিন্তা কর?
-কিছু না, আকাশটা দেখছি।
-হুমম...
-মেহমান সব চলে গেছে?
-পিচ্ছিরা গেছে, বাবা মা'রা যাননি।
-বোতল শেষ করে যাবেন?
কথাটা শুনে অর্চির মুখে কিঞ্চিৎ হাসি ফুটে। অন্ধকারে অনবের দৃষ্টি এড়ায় না। অর্চি বলে, ভেতরে আসো, কথা বলি।
অনবের ইচ্ছে হচ্ছিল না। কিন্তু তবুও ভেতরে গেল। অর্চি আপু, তোমার ঘরটা সুন্দর।
-তাই?
-হুমম...।
-কিছু খাবে?
-কী খাব?
-কেক আছে।
-নাহ! থাক...খিদা নেই।
তখন পাশের ঘর থেকে অনবের বাবা বিশ্রী ভাষায় গালাগাল দিয়ে ওঠে।
অর্চির মুখে আবার হাসি। তোমার বাবা মনে হয় একটু বেশিই খেয়েছেন।
-হুমম...না খেলে অমন ষাড়ের মত চিল্লায় নাকি?
অর্চি এবার হাসে। হাসতে হাসতে পা গুটিয়ে বিছানার উপরে বসে। অনব, খানিক দূরে একটা চেয়ারে বসে আছে। অর্চির রুমটা একটু ভেতরে। ড্রয়িং রুম থেকে বেশ দূরে। এখানে কেউ আসছে না। না আসাই ভাল, বড় মানুষদের মাতলামো ভাল লাগে না অনবের। আর অর্চিকে দেখতে ভাল লাগছে। চুলগুলো এলোমেলো, গায়ের কাপড়, কেমন যেন, অগোছাল। ওড়না একপাশে ঝুলে আছে।
অর্চি জিজ্ঞেস করে, কী ভাব?
-কই কিছু না।
-তোমাকে অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
-হতে পারে। আপু আপনাকে সুন্দর লাগছে। কথাটা মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেল অনবের।
শুনে অর্চি অনেক হাসে। হাসতে হাসতে যেন লুটিয়ে পরবে।
-হাসির কী হলো?
-আমাকে আপু না বললে হয় না?
-নাহ! আপনি আমার বড়...
-কে বলল বড়, আমরা একসাথে খেলা করতাম ছোটবেলায় মনে নেই?
-হুম, খুব মনে আছে, মারামারি করতাম অনেক। একবার আপনার একটা বেলুন চুরি করে নিয়ে গেলাম...তাই নিয়ে কী হাঙ্গামা করেছিলেন...
-মনে আছে। খুব মনে আছে। বলে অর্চি অনবের দিকে এগিয়ে আসে। অনব ভীষণ অপ্রস্তুত...কী হলো?
অনব, ইতস্তত জবাব দেয়, কিছু না তো...
আসো, বিছানায় এসে বস, তোমাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে।
-নাহ থাক...
-থাকবে কেন...বলেই অনবের হাত ধরে ফেলে অর্চি। টেনে আনে বিছানায় বসানোর জন্য।
অনবে উঠে আসে। অসহায় ভাবেই...
অর্চি অনবকে একটা জুস খেতে দেয়। নিজেও নেয়...তারপরে বিছানার মাঝখানে পা গুটিয়ে বসে।
অনব বলে, আমার এসব ভাল্লাগে না...
-কোন সব?
-এ মাতলামি, হাঙ্গামা, আমার একা থাকতে ইচ্ছে করে।
-তাই?
অর্চি ঝুকে কথাটা জিজ্ঞেস করে। অনবের চোখে পরে অর্চির শরীর। বিশ্রী লাগতে থাকে ওর। ওদিকে বয়সটা কেমন কৌতুহলের। অনেক কিছুই দেখতে ইচ্ছে করে মেয়েদের। কিন্তু দেখতে পারা যায় না। আর এখন সামনে...দেখে ঘামতে থাকে অনব। তার শরীর শিউরে ওঠে। হলি-উডের কিছু সিনেমার কাটপিস ভেসে ওঠে। নায়ক, ভীষণ ভাবে নায়িকাকে ধরে চুমো খাচ্ছে...
-আপু, ওভাবে ঝুকবেন না...
-কেন?
-আপনার শরীর দেখা যায়।
অর্চি হাসে, দেখ দেখতে চাইলে।
অনব সাহস নিয়ে বলে, কী সব বলছেন?
-কই কিছু বলছি না তো।
অনব একবার দরজার দিকে তাকায়। অর্চি বলে, কেউ আসবে না, তোমার যদি বেশি সমস্যা হয় দরজা লাগিয়ে দাও।
অনব বলে, না থাক, কেউ না আসলে সমস্যা নাই।
-ভয় পাচ্ছো?
-নাহ! অবাক লাগছে।
-কেন...
অর্চির চোখ তীক্ষ্ম। দৃষ্টি অন্তরগ্রাহী। আবারও বুঝি ঝুকে জিজ্ঞেস করবে "কেন"?
অনব চিন্তা করে হাতটা বাড়িয়ে দেবে? নাকি...এমন সময় অর্চি বলে, আকাশটা পুরো অন্ধকার হয়ে গেছে। চলো বারান্দায় যাই...
বারান্দায় বসে দু'জন গল্প করে। গল্প করতে করতে অর্চি অজান্তেই বলে ফেলে, তোমাকে একটা কথা বলি?
-বলেন।
-আমাকে তোমার সাথে নিয়ে যাবে?
-কোথায়?
-তোমার বাসায়।
-কেন?
-আমার এখানে ভাল্লাগে না।
-আমি কেমন করে নেব?
-কেন সমস্যা? আমি কী দেখতে সুন্দর না?
অনব বলে, হুমম...আপনি অনেক সুন্দর। অর্চি অনবের হাত ধরে ফেলে। আরও কাছে আসে। তাহলে সমস্যা কোথায়?
অর্চির গায়ে অনবের হাত স্পর্শ করতেই, অনবের শরীরে শিহরণ জেগে ওঠে। ঠোট কেপে ওঠে। ঘাম ঝরে। অর্চিকে আরও কাছে পেতে ইচ্ছে করে হঠাৎ...
এমন সময় চিৎকার শোনা যায়...অনবের বাবা অনবকে ডাকে। বাড়ি যেতে হবে।
অনব অর্চির হাত ছাড়িয়ে বলে, আমি যাই।
অর্চি ঠায় বসে থাকে।
এই নরকে তার আর ভাল লাগে না। অর্চির হাতটা অনবের কাছে অনেক প্রিয় হয়ে ওঠে মুহুর্তেই। অনব বাড়ি যাবার সময় অর্চি একবার আসে। অনবের বাবা গাড়ি ঘোরাচ্ছে। অনব সবার সামনে অর্চির হাতটা আবার ধরে। "আমি ভেবে দেখব"।
সেই সন্ধ্যার এইখানেই সমাপ্তি। পরে অর্চির সাথে অনেকদিন যোগাযোগ হয়নি অনবের। অর্চির প্রতি তার আকর্ষণ অনেকদিন ছিল। কিন্তু তবু, একবার তার সাথে কেন জানি অনবের যোগাযোগ করতে ইচ্ছে করে নাই।
সেদিন একটা ফোন আসে। অনব তখন কলেজের ফার্ষ্ট ইয়ার। অর্চি পরীক্ষার্থী। ফোন ধরেই একটা চেনা কন্ঠ বলে, হ্যালো?
-হ্যালো,
-অনব?
-কে বলছেন?
-আমি অর্চি।
-কেমন আছেন?
-ভাল না, কাল থেকে পরীক্ষা।
-চিন্তা করবেন না, ভাল হবে।
-তাই?
-হুমম...
-সেদিনের কথা মনে আছে?
-কোন কথা?
-আমাকে নিয়ে যাবার কথা?
-আছে...
-কবে নিবা?
-আপনি কবে আসবেন...
অর্চি হাসে। হাসতে হাসতে লাইন কেটে দেয়।
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।