অনেকদিন পর আজ লিখতে বসেছি। কেমন আছেন সবাই?
আমি ভালোই আছি। ব্যস্ত ভীষণ। যে কারণে লিখতে বসা সেটা বলে ফেলি।
গত কয়েকদিন ধরেই আমি টিভিতে ইরানের খবর শুনছি। পেপারে পড়ছি। সেই সাথে ইন্টারনেটও ঘাটাঘাটি করছি। সবকিছু মিলিয়ে আসলে কোন হিসাব মেলাতে পারছি না।
মোসাভি এবং আহমেদিনিজাদ। আমাদের কাছে আহমিদিনিজাদের জনপ্রিয়তা বরাবরই বেশি। কারণ তিনি প্রকাশ্যে আমেরিকা এবং ইসরাঈলের বিরোধীতা করেন। কিন্তু সমস্যা অন্যখানে। আহমেদিনিজাদ তার নিজের দেশে কতটুকু জনপ্রিয়? নির্বাচনের রেসাল্ট দেখে একটা ভেবেছিলাম। এখন দেখছি আসলে তার উলটা। আহমেদিনিজাদ তাঁর দেশে মটেও জনপ্রিয় নন। যতই তিনি সকালে বসে রুটি খান আর মাটিতে শুয়ে থাকুন।
মোসাভি প্রগ্রেসিভ (!) বলে খ্যাত। তিনি ইরানে প্রথমবারের মত নিজের বউকে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। ইরানের মানুষকে এক নতুন দিনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। যা ইরানের প্রতিটি গণতন্ত্র মনা মানুষের মধ্যে দিনের পর দিন সুপ্তই থেকে গেছে। আয়াতুল্লাহ আল-খামেনী ঠিক আগেকার অবস্থায় ইরান ফেরত যেতে চায়। যখন নাকি ইরানকে বলা হত সব থেকে উন্নত ও প্রগ্রেসিং কান্ট্রি। যেটা আর নেই।
গত শুক্রবার বাদ জুম-আ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এক ভাষণ দিয়েছিলেন। যা একেবারেই ইরানিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তিনি অন্তত নিজেকে না বিতর্কিত করলেই পারতেন। আমারও আশা ছিল তিনি এই নির্বাচনকে ভুল বলে আরেকটি নির্বাচনের ডাক দিবেন।
যদি এই নির্বাচনী ফলাফল গ্রহণযোগ্যই হত তাহলে বৃহস্পতিবার এক লক্ষ মানুষ একত্রে রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ করতে পারত না। এই ব্যাপারটিকে একেবারেই তোয়াক্কা না করে আলী খামেনী যা করেছেন তা হলো, তিনি বলেছেন, ইরানের শত্রুরা নাকি ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। যারা প্রতিবাদ করছে তারা তো ইরানেরই মানুষ। তারা তো ইরানের শত্রু নয়। সেটাকে তাঁর মূল্য দেবার যথেষ্ট দরকার ছিল। তা না করে তিনি অন্ধভাবে সাপোর্ট করে গেলেন আহমেদিনিজাদকে।
যাহোক, আমাদের সবার প্রিয় ইরানের কপাল সম্ভবত সামনে আরও খারাপ হতে যাচ্ছে। একটু আগে খবরে দেখলাম খামেনী মাজারে সুইসাইড বোমা মারা হয়েছে। আর তেহরানে এখনও চলছে প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ। পুলিশ আর্মি সবই রাস্তায় নেমে পরেছে। ইরানের নির্বাচনটাকে বাতিল ঘোষণা করে নতুন করে নির্বাচন না দিলে এই সহিংসতা কমবে না।
আমার ভয় অন্যখানে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ইরানের সবাই মানে। তিনি যে কথা বলবেন তার কোন বিরোধিতা না করেই ইরানের মানুষ সব সময় মেনে নিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে তাঁকেও হয়তো সরে যেতে হবে এই পদ থেকে। তিনি নিজেকে বিতর্কিত করে ফেলেছেন।
খবরের সূত্রঃ Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


