somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইরান, নির্বাচনের পরের অবস্থা আরও জটিল আকার ধারণ করছে!

২০ শে জুন, ২০০৯ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পর আজ লিখতে বসেছি। কেমন আছেন সবাই?

আমি ভালোই আছি। ব্যস্ত ভীষণ। যে কারণে লিখতে বসা সেটা বলে ফেলি।

গত কয়েকদিন ধরেই আমি টিভিতে ইরানের খবর শুনছি। পেপারে পড়ছি। সেই সাথে ইন্টারনেটও ঘাটাঘাটি করছি। সবকিছু মিলিয়ে আসলে কোন হিসাব মেলাতে পারছি না।

মোসাভি এবং আহমেদিনিজাদ। আমাদের কাছে আহমিদিনিজাদের জনপ্রিয়তা বরাবরই বেশি। কারণ তিনি প্রকাশ্যে আমেরিকা এবং ইসরাঈলের বিরোধীতা করেন। কিন্তু সমস্যা অন্যখানে। আহমেদিনিজাদ তার নিজের দেশে কতটুকু জনপ্রিয়? নির্বাচনের রেসাল্ট দেখে একটা ভেবেছিলাম। এখন দেখছি আসলে তার উলটা। আহমেদিনিজাদ তাঁর দেশে মটেও জনপ্রিয় নন। যতই তিনি সকালে বসে রুটি খান আর মাটিতে শুয়ে থাকুন।

মোসাভি প্রগ্রেসিভ (!) বলে খ্যাত। তিনি ইরানে প্রথমবারের মত নিজের বউকে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন। ইরানের মানুষকে এক নতুন দিনের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। যা ইরানের প্রতিটি গণতন্ত্র মনা মানুষের মধ্যে দিনের পর দিন সুপ্তই থেকে গেছে। আয়াতুল্লাহ আল-খামেনী ঠিক আগেকার অবস্থায় ইরান ফেরত যেতে চায়। যখন নাকি ইরানকে বলা হত সব থেকে উন্নত ও প্রগ্রেসিং কান্ট্রি। যেটা আর নেই।

গত শুক্রবার বাদ জুম-আ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এক ভাষণ দিয়েছিলেন। যা একেবারেই ইরানিদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তিনি অন্তত নিজেকে না বিতর্কিত করলেই পারতেন। আমারও আশা ছিল তিনি এই নির্বাচনকে ভুল বলে আরেকটি নির্বাচনের ডাক দিবেন।
যদি এই নির্বাচনী ফলাফল গ্রহণযোগ্যই হত তাহলে বৃহস্পতিবার এক লক্ষ মানুষ একত্রে রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ করতে পারত না। এই ব্যাপারটিকে একেবারেই তোয়াক্কা না করে আলী খামেনী যা করেছেন তা হলো, তিনি বলেছেন, ইরানের শত্রুরা নাকি ইরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। যারা প্রতিবাদ করছে তারা তো ইরানেরই মানুষ। তারা তো ইরানের শত্রু নয়। সেটাকে তাঁর মূল্য দেবার যথেষ্ট দরকার ছিল। তা না করে তিনি অন্ধভাবে সাপোর্ট করে গেলেন আহমেদিনিজাদকে।

যাহোক, আমাদের সবার প্রিয় ইরানের কপাল সম্ভবত সামনে আরও খারাপ হতে যাচ্ছে। একটু আগে খবরে দেখলাম খামেনী মাজারে সুইসাইড বোমা মারা হয়েছে। আর তেহরানে এখনও চলছে প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ। পুলিশ আর্মি সবই রাস্তায় নেমে পরেছে। ইরানের নির্বাচনটাকে বাতিল ঘোষণা করে নতুন করে নির্বাচন না দিলে এই সহিংসতা কমবে না।

আমার ভয় অন্যখানে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ইরানের সবাই মানে। তিনি যে কথা বলবেন তার কোন বিরোধিতা না করেই ইরানের মানুষ সব সময় মেনে নিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে তাঁকেও হয়তো সরে যেতে হবে এই পদ থেকে। তিনি নিজেকে বিতর্কিত করে ফেলেছেন।

খবরের সূত্রঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০০৯ রাত ১২:২১
১১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×