somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার জবাবদিহিতা @ ব্লগার শুষ্ক

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকাল বঙ্গবন্ধুকে নিয়া কথা বলতে গেলে, আর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখতে গেলেই আমাদেরকে ভারতের দালাল বলে গালি শুনতে হয়।

ব্লগে স্থূল মস্তিষ্কের লোকের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়ে যাচ্ছে। যা হোক, সেই জন্য আমি স্থুল মস্তিষ্কের ব্লগারদের দোষারোপ করি না। দোষ দিতে হলে দোষ দেই আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে। শুধু তাই না, আমাদের সার্বিক মেন্টালিটিকে।

সেদিন আমার ব্লগে ঢুকে "শুষ্ক" নামক এক ব্লগার রীতিমত হুমকি দিয়েছেন। আমি কমেন্ট মুছলে নাকি তিনি পোষ্ট আকারে জিনিসটা পেশ করবেন। আমার পূর্বদিনের একটা লেখার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আমাকে ভারতের দালাল বলে আখ্যায়িত করেছেন। অথচ সেই কমেন্টে আমি এমন কোন জিনিস দেখি না, যা দিয়ে আমাকে ভারতীয়দের দালাল বলা চলে। এবং আরও আশ্চর্য হলো, যে পোষ্টে তিনি এই মন্তব্য দিয়েছেন, সেই পোষ্টে আমি কোথাও ভারতের কথা বলি নাই। ভারতের কথা কেন, আমি এমন কিছুই বলি নাই, যে আমাকে ভারতের দালাল মনে করতে হবে।

প্রিয় ব্লগার শুষ্ক, আপনি হয়তো জানেন না, আমি কোনদিনও কার কমেন্ট ডিলেক্ট করি না। কারণ আমি যুক্তিবাদী মানুষ!

আমি আজকে আমার বক্তব্য তুল ধরতে যাচ্ছি। তার আগে আমার প্রিয় সহব্লগারদের বলছি, আপনারা দয়া করে না জেনে কথা বলবেন না। অনেকদিন আগের একটা পোষ্ট আপনাদের সামনে উপস্থিত করি। সেইটা দয়া করে পড়ে দেখবেন। Click This Link

আমি আসলে ভারতের দালাল নই। বলতে পারেন আমি অবিভক্ত বাংলার দালাল। আমি ইতিহাস পড়ার সময় কোনদিনও বাংলার পরাধীনতা মেনে নিতে পারতাম না। সেই জন্য বাংলার স্বনাম ধন্য রাজা রাজদের ইতিহাসে যেই কেউ পরাজিত করেছে, আমি তাকেই ধিক্কার দিয়েছি।

বাংলা চিরদিন স্বাধীন ছিল। কিন্তু আজকে তার স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। নীরদচন্দ্র চৌধুরী পাকিস্তান ও ভারতের বিভক্তির পর বলেছিলেন, পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্র দেখলে কষ্ট লাগে। মনে হয়, বহু কষ্ট করে কেটে কেটে বাধ দিয়ে দিয়ে একটা অঞ্চল দাড় করানো হয়েছে।

বাংলাদেশ অর্থাৎ পূর্বের পূর্ব পাকিস্তান বাংলাদেশ নাম ধরে স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু বাংলা কখনই এত অল্প জায়গা জুড়ে ছিল না। বাংলার রাজত্ব হলো, বাংলা বিহার উড়িষ্যা নিয়ে। আজ সেই জায়গা আমাদের থাকলে, আমাদের দেশটা অনেক বড় দেশ হতে পারতো।

বড় দেশ, ছোট দেশ, কোন ব্যাপার নয়। কিন্তু সুনামগঞ্জে গিয়ে যখন মানুষ বলে "ঐ দেখো ভারতের খাসিয়া পাহাড়"। রাগে গা জ্বলতে থাকে। মনে হয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী শালার কি করে? পারে না পূর্বের বাংলাটা দখল করে নিয়ে আসতে। আসামের খাসিয়া পাহাড় ভারতের কবে ছিল? সেইটা তো আমাদের সম্পত্তি।

কোলকাতা, বিহার...উড়িষ্যা যদি আজকে বাংলাদেশের অন্তর্গত হতো, তাহলে ডাইভার্সিফাইড কালচারের একটা দেশ হতে পারত বাংলাদেশ। দুঃখ করে বলতে হত না, ভারতের দার্জিলিং। ভারতের কবে ছিল দারজিলিং? এটা তো আমাদের জায়গা। অবশ্য এখন তা আর বলতে পারি না।

আমার বরাবরই একটা কথা, বাঙ্গালীকে যে ষড়যন্ত্রে পৃথক করে রাখা হয়েছে, যে ষড়যন্ত্র বৃটিশদের দ্বারা রচিত, সেই ষড়যন্ত্রকে ভেঙ্গে দিতে ইচ্ছে করে। মনে হয়, সমস্তা বাংলা বিহার উড়িষ্যা আমার এক হোক।

বৃটিশ শাসক গোষ্ঠী বাংলাকে বঙ্গভঙ্গ করে আলাদা করেছিল, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। পরবর্তীদের আমাদের রাজনীতিবিদরা পাকিস্তান ও ভারত বিভাগের সময় এদিকে চোখই দেননি। বাংলাকে নিয়ে তাদের চিন্তা করার কোন সময়ই ছিলো না। তখন পাকিস্তান ছিল একটা বড় ফেক্টর।

ভারত আমাদের ঘাড়ে নানা রকমের অবরোধ চাপায়, নানা রকমের উছিলায় আমাদের দেশের মানুষ হত্যা করে। আমাদের বাধ্য হয়ে বলতে হয়, বড় দেশ নাকি বড় ভাইয়ের মত। সেইদিন বাংলা ভাগ না হলে আজকে আমরাও বিশালাকার দেশ হতে পারতাম। সেই দেশ ভারত পাকিস্তানের চেয়েও শক্তিতে কোন অংশে কম হতো না। আজকে আমাদের ছোট্ট দেশ হবার অপবাদটাও নিজেকে দিতাম না।

পাকিস্তান চেয়েছিল, বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধ শিল্প সাহিত্যকে উর্দু দিয়ে ধ্বংস করতে। তারা পারেনি। কিন্তু ভারত খুব সূক্ষ্মভাবে সেই কাজটি করেছে পশ্চিমবঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের বাঙ্গালীরা যখন নিজেদেরকে ইন্ডিয়ান বলে পরিচয় দেয় এখন, তখন তারা নিজেদেরকে নিজেরাই প্রতারণা করে।

আমি কখনও ভারতের পক্ষে নই। আমার স্বপ্ন একটা অবিভক্ত বাংলার, যেই স্বাধীনতা হারিয়েছিল সিরাজউদ্দৌলা সেই স্বাধীনতা ফিরে চাইতে আমি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মত উদ্গ্রীব। আর এই জন্যই আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সাথে মিশতে চাই। তাদের এই উপলব্ধি করাতে চাই, আসেন আমরা এক হই। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। কারণ ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রপাগান্ডা অনেক আগে থেকে শুরু হয়েছে। বলতে পারেন ভারতের স্বাধীনতার পর পর। তারা এখন অনেক এগিয়ে!

ভারত অনেক সফল বাঙ্গালীকে ডিপ্রাইভড রাখার ক্ষেত্রে। আর বাঙ্গালী নিজেদের মধ্যে বিভেদ করে ভারতের প্রপাগন্ডাকে (দাদারা) মাথা নিচু করে নির্লজ্জের মত মেনে চলে, আর আমরা যারা বাংলাদেশী আমাদের চোখে পশ্চিম বঙ্গ এক অসহ্য বিষ স্বরূপ। অথচ এককালে আমরা এক জাতি ছিলাম!

১৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×