somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভয়হীন আনন্দনগরে

১৮ ই জুন, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শেষবার কোলকাতা গিয়েছিলাম, ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে। আবার কোলকাতা যেতে হলো। যেতে হলো বলতে ভাববেন হয়তো যাওয়ার ইচ্ছে ছিল না। তা বোধহয় না। নতুন জায়গা ঘুরতে আমার অনেক ভালো লাগে। আর এইবার ভ্রমণটা শুধু ভ্রমণ বললে যে ভুল হবে। আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে গেল কোলকাতার সাথে আপন মনেই।

ঢাকা টু কোলকাতা
ঢাকা থেকে বাস ছাড়ার কথা ছিল সকাল পৌনে সাতটার সময়। সেই বাস ছাড়লো ৮ টার সময়। এর কারণ কি ঠিক বোঝা গেল না। কাউন্টারের কথামত গাড়ি অত সকালেই জ্যামে পড়ে আটকে গেছিলো। সকালটা শুরুই হলো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি দিয়ে। আর বাসখান কারণে অকারণে জায়গায় বেজায়গায় থামছে। থামছে না শুধু বলতে পারেন একেকটা থেমে থাকা মানে আধা ঘন্টা পাড়। আর ভালো লাগছিলো না। মনে হচ্ছিলো ব্যাডলাক দিয়ে কি ভ্রমণটা শুরু হলো?

শেষমেশ গাড়ি মানিগঞ্জের রাস্তা ধরলো। গন্তব্য পাটুরিয়া ফেরিঘাট। জার্নিটা শুরু হতেই বেশ ভালো বোধ হতে লাগলো। ওদিকে আমার ঠিক পেছনে এমন একজন মানুষ বসেছিলেন, যার সাথে কপালজোড়ে মাঝে মধ্যে দেখা হতে পারে। সব সময় নয়। তিনি বাংলাদেশের কোন এক রাজনৈতিক দলের কোন এক পদ পেয়েছেন। সেই জন্য তার গর্বের শেষ নেই। একটু পর পর তার মোবাইল বেজে উঠছে। তার সাথে বাজছে আমার বিরক্তি। মোবাইলটা যে কেন আবিষ্কার হলো? মেজাজটা ঠিক চড়ে যাচ্ছিলো। তারপর ভাবলাম, কি আর করার? এত অসামান্য একটা লোক যদিচ আমার ঠিক পেছনেই উঠেছেন, তা ভালো তার কথা কিছু শুনি।

লোকটি বলছেন, "আপনারা ভালোবেসে যা দিবেন, তাতেই আমি সন্তুষ্ট, লোক দেখানোর জন্য সংবর্ধনা দেওয়া আমি পছন্দ করি না"। তারপরই তিনি বলছেন, "তা কয়টা গাড়ি জমেছে সাতক্ষীরায়?"
অপাশ থেকে কি বলা হলো তা বোঝা গেল তারই পরবর্তি সংলাপে।
"দশটা? আলহামদুলিল্লাহ"!
আমি মনে মনে হাসি। হাসতে হাসতে এই দেশের রাজনীতিবিদদের একটু সংবর্ধনা পাওয়ার দৈন্যতা আমাকে চিরে ফেলে। আমি তবু কিছু বলি না। থাক, তিনি থাকুক তার দেশপ্রিতি নিয়ে।

রাজনীতিবিদ সাহেবের যাওয়ার কথা হলো সাতক্ষীরা। তিনি যশোড়ে নেমে যাবেন। সেখানে আসার পর দেখি, কয়েকজন মানুষ তার জন্য ফুল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে বাস থেকে নামতে দেখেই তারা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নিল। বাস থামা আর ছাড়ার এইটুকরো অবসরে আমি ও আমার ভ্রমণ সঙ্গী আমার মা, বিশেষ কৌতুকের সাথে এসব দৃশ্য অবলোকন করে যাচ্ছিলাম।

ভদ্রলোকের নূরানী চেহারা। বেশ সাজগোজ করা পোশাক। এক্কেবারে পুরোদুস্তর রাজনীতিবিদ। তার সাথে অবশ্য তার এক চেলা উপস্থিত ছিলেন। তার পাশেই। তিনিও ফোনে ভিষণ ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন। কেমনে তার পাশের এই ভয়ংকর জনপ্রিয় জননেতাকে একটু ভালো করে সংবর্ধনা দেওয়া যায়! তার চেষ্টার অন্ত নেই। ওদিকে চেলার ভবিষ্যত আমার চোখের সামনে জাজ্জ্বল্যমান হয়ে দেখা দিলো। বিশেষ কৃতার্থ হইলাম, এধরণের একজন মানুষ আমারই সঙ্গে কিছুটা পথ এসেছেন।

যাওয়ার সময় পদ্মার বুক দিয়ে পাড়ি দিতে হলো। ফেরী দিয়ে। পদ্মা আমি এর আগেও বহুবার দেখেছি। কিন্তু এইবারের দেখা কেমন যেন ঠেকলো। সে বিশেষ এক রূপ ধারণ করেছে। উথাল পাথাল ঢেউ যেন পদ্মাকে তার নামের সার্থকতা দিয়েই বিচার করছে। আমাদের ফেরী একটু পর পর দুলে উঠছিলো, তাও ভাবলাম পদ্মা আসলেই প্রমত্তা নদী।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×