somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃসাহসী এক অভিযান

৩০ শে নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাত্রই ঘন্টা খানেক আগে এক দুঃসাহসী অভিযান শেষ করে বাসায় ফিরলাম।
বড় ভাইয়ার স্টাফ রোডের বাসা থেকে খাওয়া-দাওয়া সেরে রাত সাড়ে নয়টার দিকে রেল ক্রসিং-এর কাছে দাড়ালাম যাত্রাবাড়ীর বাসের জন্য। বেশ কয়েকটা বলাকা সার্ভিস চলে গেলেও উঠলাম না যে সায়েদাবাদ নামতে হবে। ভরসা ৩/বি সার্ভিস। এরই মধ্যে খেয়াল করলাম একটা সিএনজি বাস-বে এর কাছে এসে থেমে গেল। রাস্তায় সিটি সার্ভিস একেবারেই কম। দুরপাল্লার বাসগুলো হুশ হুশ করে বেরিয়ে যাচ্ছে। আরও দু’টি বাস ’গুলিস্তান গুলিস্তান’ বলে ডেকে চলে গেল। এদিকে দু’দিনের কোরবানির খাওয়া হঠাৎ করে পেটের মধ্যে জানান দেয়া শুরু করলো, মহাবিপদ। বাসের দেখা নেই। গেল আরও কিছুক্ষণ। এবার থেমে থাকা সিএনজিটা স্টার্ট নিয়ে আমার সামনে এসে দাড়াল। ড্রাইভারের জিজ্ঞাসার জবাবে জানালাম যাত্রাবাড়ী যাব। চাইলো ২০০ টাকা। আমি না করে দিলাম। ড্রাইভার চাপাচাপি শুরু করলো ভাড়া বলার জন্য। ১০০ টাকা বললাম। সে রাজী। চড়েও বসলাম সময় কম লাগবে এই আশায়। বনানী সিগন্যালে আসার পর ড্রাইভার বলে স্যার এইটা নারায়নগঞ্জের গাড়ী, ভাড়া নিয়ে জিয়া কলোনীতে গিয়েছিলাম এখন যাত্রাবাড়ীর দিকেই যাব তাই আপনার ভাড়াতেই রাজী হয়ে গেছি। আমি একটা প্রশ্রয়ের হাসি হাসলাম। ফ্লাইওভারের কাছে এসে বলল ফার্মগেট দিয়ে যাই। আমি ভাবলাম মগবাজার এভয়েড করতে চাচ্ছে হয়ত, বললাম যাও। শাহবাগ পর্যন্ত এসে সে বামে মোড় না নিয়ে সোজা ভার্সিটি এলাকায় ঢুকলো। আমি তো রেগে গেলাম। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পাশের পুরো রাস্তাটাই নির্জন। ঘড়িতে বাজে দশটা। ড্রাইভারের এক কথা নারায়নগঞ্জের গাড়ী পুলিশ ধরলে ১০০০ টাকা ফাইন করবে, তাই ভার্সিটির ভিতর দিয়ে গুলিস্তান হয়ে যাত্রাবাড়ী যাবে। আমি ভাবলাম দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্টের পাশ দিয়ে সচিবালয়ের সামনে দিয়ে গুলিস্তান গেলে তো কোন সমস্যা নাই। আমার কাছে দুইটা মোবাইল, হাজার দুয়েক টাকা আর পৈত্রিক প্রাণটা সঙ্গে। টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত স্পীড ব্রেকারগুলো আমার হার্টের স্পীড বাড়িয়ে দিচ্ছিল। ঠিকমতো দোয়েল চত্বর পর্যন্ত আসার পর পুলিশের একটা টহল ভ্যান চোখে পড়ল, মনে সাহস পেলাম। তবে বিপদ এখানেই শেষ হলো না কারণ হাইকোর্টের পাশদিয়ে এসে সোজা সচিবালয়ের রাস্তায় না গিয়ে সে সিএনজি ঘোরালো ডানদিকে বঙ্গবাজারের দিকে। আমি রীতিমতো আঁতকে উঠলাম। ঐ রাস্তায় গাড়ী তো দূরের কথা কুকুর-বিড়ালও নাই। মনে মনে নিজেকে গালিগালাজ করলাম গাড়ীতে না উঠার জন্য। ছিনতাই হওয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেললাম। ছিনতাইকারীর সাথে কি কি কথোপকথন হতে পারে তার একটা রিহার্সেলও দিয়ে ফেললাম। বাসার চাবি আর মোবাইলের সিমগুলি ফেরত চাইব ভেবে রাখলাম। সিএনজি এরইমধ্যে বঙ্গবাজারের মোড় ঘুরে নগর ভবনের সামনের রাস্তায় উঠল। আমি মোটামুটি উত্তেজনায় ভিতরে ভিতরে কাঁপছি। পুলিশের হেডকোয়ার্টার থাকলে কি হবে পার্কের ভাসমান মানুষগুলো সব ফুটপাথের উপর জায়গায় জায়গায় জটলা কলে দাড়িয়ে। নগর ভবনের সামনে এসে সিএনজির গতি কমা শুরু হলো ! আমি তো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি এতদিনের পেপারে পড়া, অন্যের মুখে শোনা ছিনতাইয়ের ঘটনার হবহু প্রতিফলন। এই সময় শেষ চেষ্টা হিসেবে গলায় মোটামুটি জোর নিয়ে এসে ধমক দিলাম সিএনজি যদি রাস্তার মধ্যে থামাস তো খবর আছে। ড্রাইভার জবাব দিল সামনে স্পীড ব্রেকার। দেখলাম সত্যিই তাই। গুলিস্তান পৌঁছলাম। ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পুলিশ বক্সের সামনে ড্রাইভার সিএনজি পুরোপুরি থামিয়ে দিল। আশেপাশে অনেক লোকজন, তাও থামার সাথে সাথে সিএনজি থেকে নেমে দাড়ালাম। কি ব্যাপার। চাকার স্ক্রু টাইট দিতে হবে। কিছুক্ষণ খুটখাট করার পর আবার যাত্রা শুরু হলো। বঙ্গভবনের কোনাটায় এসে আবার সিএনজি থামলো। আমি আবার দিলাম ধমক। আবার চলা শুরু হলো। সায়েদাবাদ পার হয়ে জনপথের মোড়ের ঠিক আগে আবার সিএনজি থামিয়ে রাস্তার পাশে দাড়ালো। নির্জন জায়গা। আবার কি হলো? ড্রাইভারের পাশের দরজা আপনা-আপনি খুলে গেছে, সেটা লাগানো হলো। এরপর একটানে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা। ভাড়া মিটানোর পর খেয়াল হলো এই শীতেও ঘামে ভিজে গেছি। নামার সময় ড্রাইভারের স্বগোক্তি ‘আল্লাহ, সহি-সালামতে আসলাম।’
রাতে আর কখনো একা সিএনজিতে উঠছি না। টেনশনে আয়ু অর্ধেক শেষ।
১২টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×