somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ধূসর জন্মদিন

০৫ ই জুন, ২০০৯ সকাল ৭:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ আমার জন্মদিন। আনন্দের একটা দিন হওয়ার কথা; খুশিময় দিনের শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু তার পরিবর্তে দিনটা আমার শুরু দুঃখে ভারাক্রান্তময় মনে। নিশ্চয় আপনাদের মনে প্রশ্ন উদয় হচ্ছে। আমি অবশ্যই বলব। কিন্তু কীভাবে শুরু করবো ভেবে পাচ্ছি না।

আসলে আমার জীবনটাই ব্যর্থতায় পূর্ণ। যা চাই তা আমার থেকে শত শত মাইল দূরে সরে যায়। আর সৌভাগ্যক্রমে যা পাই, স্রষ্টা কেন জানি না কেড়ে নেন। ঠিক এমনই অমূল্য সম্পদ আমার জীবনে এসেছিল। আমার জীবনটা কিছুদিনের জন্য হলেও আলোকিত হয়েছিল। আমার সেই অমূল্য সম্পদটা হলো আমার বোন যাকে আমি হারিয়ে ফেলেছি।

আমার এই বোনটা আমাদের ডিপার্টমেন্টে অধ্যয়নরত এক ছাত্রী। আমার থেকে এক বছরের ছোট। ওর কোন দাদা নেই। তাই আমাকে দাদা বলে ডাকত। আমিও খুব খুশি এমন একটা বোন পেয়ে যে আমাকে দেবতার মতো শ্রদ্ধা, সম্মান ও আমার সব কথা মান্য করতো। এক কথায় আমি ছিলাম ওর দ্বিতীয় অভিভাবক।

কিন্তু বললাম যে সৌভাগ্যক্রমে যা পাই, স্রষ্টা কেন জানি না কেড়ে নেন। আজ আমার সেই বোনটা আমার কাছ থেকে হাজার ক্রোশ দূরে যদিও এখনো আমাদের প্রতিদিন দেখা হয়। কিন্তু ওর মুখ থেকে আর দাদা ডাকটা আর শুনতে পাই না। ও আমার মুখোমুখি হতে চায় না। আমিও বিব্রতবোধ করি ওর সামনাসামনি দেখা হলে।

ভুলটা আসলে আমার। আমার কোন যোগ্যতাই নেই এমন অমূল্য সম্পদ ধরে রাখার। একটা দুর্ঘটনা আজ আমার বোনটাকে আমার কাছ থেকে হাজার ক্রোশ দূরে সরিয়ে নিয়েছে। গত রোববার ওর সাথে প্রায় ১৫ দিন পরে দেখা হয় ডিপার্টমেন্টে। কিছুক্ষণ কথার পর ও বিদায় নেয়। কিন্তু কে জানে এই বিদায়ই শেষ বিদায় হবে।

সেইদিন বিকেলে আমাকে কল দেয় এবং কিছু বিষয় নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করে যা ওকে কেউ বলেছে আমার সম্পর্কে কিছু কথা যার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম না। তবুও উত্তর দিলাম এবং যেটুকু সত্য তাই বললাম। কিন্তু সেটা মেনে নিতে পারে না। আমার বোনটার কথা, আমার দাদার সম্পর্কে কেন এমন শুনতে হবে? আমি ওকে বোঝাতে ব্যর্থ হলাম আমি ভুলটা ইচ্ছে করে করি নি। আমি আসলে একটা ট্র্যাপে পড়েছিলাম এবং আমি কাউকে সে সময় পাই নি পাশে যে আমাকে সাহায্য করবে। আমি বুঝতে পারলাম যে বলেছে সে আমাদের সম্পর্কটা দেখতে পারছিল না। আশ্চর্য হলেও সত্য, আমি অনুমান করছিলাম এমন কিছু হবে।

আমার এক সহপাঠীনীকে নিয়ে আমার বোনকে কেউ বাজেভাবে কিছু বলেছে এবং ওকে পরোক্ষভাবে নিষেধ করেছে আমার সাথে না সম্পর্কটা রাখতে কেননা আমার সাথে ওর কোন রক্তের বন্ধন নেই।

আসলে আমার সেই সহপাঠীনীর সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই যখন ওর আসল রূপটা দেখেছি। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ওর সাথে আমারই এক সহপাঠীর সম্পর্ক ছিলো। কিন্তু ওদের ছাড়াছাড়ি হলে আমি পড়ি আমার ওই সহপাঠীর কোপানলে। ও আমাকে দায়ী করে আমার সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে বেড়ায়। তাছাড়া ওর এক কাজিন আমার বোনের সহপাঠিনী। ওর সেই কাজিনটা সরাসরি আমার বোনকে আমার সাথে যোগাযোগ রাখতে নিষেধ করে।

এরপর থেকে ও আমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে। আমি ওকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি কিন্তু ও ওর সিদ্ধান্তে অটল থাকে। আমার দুজন বন্ধু ব্যাপারটা জানতে পেরে ওকে বোঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু ও আমার সাথে কোনভাবেই সম্পর্কটা রাখতে চায় না। আমার জীবন থেকে এক অমূল্য সম্পদ হারিয়ে ফেলি।

তবুও প্রতীক্ষায় থাকি আমার জন্মদিনে আমাকে উইশ করবে, আমার বোনটা আমার কাছে ফিরে আসবে। বলবে, দাদা, আসলে আপনার সাথে দুষ্টুমি করছিলাম এটা দেখতে যে আপনি আমাকে কতটা ভালবাসেন। কিন্তু প্রতীক্ষার কেটে যায়। আমার বোনটা আমাকে আর কল করে না।

আজ আমার মনে হচ্ছে সেদিন যদি একটা মিথ্যা বলতাম তাহলে আজ আর আমার বোনটাকে হারাতাম না। আসলে সত্য সবসময় শুভকর নয়, প্রিয়জনকে দূরে সরিয়ে দেয়।

আজ নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছে। সব থেকেও যেন কেউই নেই। বোন হারানোর বেদনাটা তীব্রভাবে অনুভব করছি। এত কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা কেন জানি স্রষ্টা আমাকে দেন নি। কীভাবে যে এই রুঢ় বাস্তবতাকে মেনে নিবো ভাবতেই পারছি না। সবকিছু কেমন যেন ধূসর লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ১২:৩৮
২২টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৩২


ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্মৃতির নৌকা

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ১৩ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১১


কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।

কোন কোন সন্ধ‍্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×