পাল বংশের এক লোক নেপাল হইতে বাংলা শিখিয়া দেশ ভ্রমণের উদ্দেশ্যে সীমান্তের বেড়া টপকাইয়া বাংলাদেশে বেড়াইতে আসিলেন। মহাখালি যাইয়া তিনি মহা বড় একটি খালি বাসে চড়িলেন। সেই বাস লেট করিলে তিনি সিলেট পৌছাইলেন। লেট করিবার কারণে তিনি কর্ণফুলী নদীর কাছে গেলে ড্রাইভারের কর্ণ মর্দন করিয়া দিলেন। সেইখান হইতে শীতলক্ষ্মা নদীর তীরে গেলে তাহার শীত লাগিল, তাই তিনি বরিশালে গিয়া একটি শাল কিনিলেন। সুন্দরবনে যাইয়া তিনি বনের সুন্দর দৃশ্য দেখিলেন এবং বান্দরবনে যাইয়া 'বান্দর' মানে বানরের লাফ-ঝাঁপ দেখিলেন। সোনারগাঁওয়ে যাইয়া তিনি সোনার সন্ধান পাইলেন। সেই সোনা দ্বারা মানুষের কল্যাণ করিবার উদ্দেশ্যে তিনি কল্যাণপুরে চলিয়া গেলেন এবং হাতিরপুলে যাইয়া তিনি হাতিতে উঠিলেন। কাওরান বাজারে যাইয়া তিনি 'কাও' 'রান' অর্থাত গরুর রানের মাংস দিয়া ভাত খাইলেও বগুড়া যাইয়া তাহাকে গুঁড়া মাছ দিয়া ভাত খাইতে হইল। কুষ্টিয়া যাইয়া তিনি টিয়া পাখি দেখিলেন এবং শেরপুরে যাইয়া তিনি 'শের' অর্থাত বাঘ দেখিলেন। মতিঝিল যাইয়া তাহার মতি ভ্রম হইল এবং তিনি ঝিলের ময়লা পানিতে গোসল করিলেন। ইহার পর শান শওকত বাড়াইবার উদ্দেশ্যে তিনি গুলশান গেলেন। শান্তিবাগে যাইয়া শান্তি পাইলেও গুলিস্তান যাইয়া তিনি গোলাগুলির সম্মুখীন হইলেন। তাই তিনি ভয়ে শোরগোল করিয়া যশোর পৌছাইলেন। সাতক্ষীরা যাইয়া সাতটি ক্ষীরা কিনিলেও পঞ্চগড়ে তাহার পাঁচটি ক্ষীরা গড়াইয়া পড়িয়া গেল। কলাবাগানে গেলে তিনি কলার খোসায় আছাড় খাইলেন এবং কাঁঠালবাগানে তাহার মাথায় কাঁঠাল ভাঙিয়া পড়িল। তাই তিনি মাথার উপর তাল পড়িয়া যাইবার ভয়ে খুব সাবধানে তালতলা পার হইলেন এবং কমলাপুর যাইয়া কমলা কিনিয়া খাইলেন। এরপর তিনি ধানক্ষেতের খোঁজে ধানমন্ডি যাইয়া উপস্থিত হইলেন। রাজশাহী গেলে তিনি রাজদরবারে শাহী খাবার খাইলেন ফলে রাঙামাটি গেলে তিনি লজ্জায় রাঙা হইলেন। সেখানে মন খারাপ হইলে তিনি মন ভালো করিবার জন্যে ময়মনসিংহে যাইয়া সিংহ দেখিলেন। নীলফামারী গেলে তাহার মুখে নীল রং লাগিয়া গেল এবং সেই রং দূর করিবার জন্য তিনি রংপুর রওয়ানা হইলেন। বোয়ালমারী যাইয়া তিনি বোয়াল মাছ মারিলেন এবং চিলমারী যাইয়া তিনি চিল পাখিকে ঢিল মারিলেন। নবাবগন্জে যাইয়া নবাবী ভাব দেখাইলেও মুন্সীগন্জে যাইয়া তিনি মুন্সীয়ানার পরিচয় দিলেন। ইহার ফলে সুনামগন্জে গেলে তাহার সুনাম হইল। সেই সুনাম বজায় রাখিবার জন্য তিনি ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ায় গিয়া ব্রাক্ষ্মণ এবং ঠাকুরগাঁওয়ে যাইয়া ঠাকুরদের সাথে দেখা করিলেন। সকলেই তাহাকে মৌলভীবাজারে যাইয়া মৌলভীদের সাথে দেখা করিবার উপদেশ দিলেন। মৌলভীদের আদেশে তিনি শরীয়তপুরে যাইয়া শরীয়ত পালন করিলেন এবং ইহার পর কিশোরগন্জে যাইয়া কিশোরদের সাথে খেলাধুলা করিলেন এবং তাহার জয়পুরহাটের জয়ের কথা কিশোরদের জানাইয়া দিলেন। গাজীপুর গেলে তিনি গাজীদের কথা স্মরণ করিলেন এবং নেত্রকোণা পৌছাইলে তাহার নেত্রের কোণা অর্থাত চোখের কোণা হইতে পানি পড়িতে লাগিল। খাগড়াছড়ি যাইয়া তিনি একটি ছড়ি কিনিলেন এবং সেই ছড়ি ফটিকছড়িতে গিয়া বিক্রয় করিয়া দিলেন। মহাস্থানগড় গেলে সেই স্থানে রাস্তা দেখিয়া তিনি সবকিছু গড়বড় করিয়া ফেলিলেন এবং মহা বিরক্ত হইলেন। তিনি খানিকটা মঙ্গল লাভের উদ্দেশ্যে শ্রীমঙ্গলে গেলেও সেইখানে যাইয়া হতশ্রী অবস্থায় পরিবর্তিত হইলেন। নড়াইলে যাইয়া তিনি হাত পা নড়াইলেন ও সরাইলে যাইয়া একটি বইয়ের দোকান হইতে দুইটি বই গোপনে সরাইলেন। ঈশ্বরদী যাইয়া তিনি ঈশ্বরের কাছে তাহার কাজের জন্য অনুতাপ করিলেও মীরসরাইয়ে গিয়া তিনি পুনরায় আরেকটি সরাইখানা হইতে দুইটি তোয়ালে গোপনে সরাইলেন। ইহার পর তিনি ঝালকাঠি যাইয়া কাঠি দিয়া কান খোঁচাইলেন এবং ঝাল তরকারী খাইলেন। তরকারী খাইয়া ঝাল লাগিলে তিনি মিঠাপুকুরে যাইয়া মিঠা পানি খাইলেন ও পুকুরের পানিতে গোসল করিলে তাহার ঠান্ডা লাগার ফলে তিনি কাঁপিতে কাঁপিতে কাপ্তাই পৌছাইলেন এবং সেইখান হইতে কাশিতে কাশিতে কাশীপুর পৌছাইলেন। তাই তিনি শরীর ঠিক করিবার জন্য শহরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়া হালিশহর পৌছাইলেন এবং সেইখানে তিনি একহালি ডিম কিনিলেন। ইহার পর তিনি ভেড়ামারা যাইয়া ভেড়া মারিলেন এবং সেই অর্থ দিয়া তিনি গাইবান্ধা যাইয়া বান্ধা রাখায় অবস্থায় গাই কিনিলেও ভোলা যাইয়া তিনি সবকিছু ভুলিয়া গেলেন। এর পরের দিনের পরের দিন অর্থাত পরশুদিন তিনি পরশুরাম পৌছাইলেন। কুঁড়িগ্রামে তাহার কুঁড়ি টাকা খরচ হইলেও আড়াইহাজার গেলে তিনি আড়াইহাজার টাকা উপার্জন করিতে সক্ষম হইলেন। লালমনিরহাটে যাইয়া তিনি হাট হইতে লাল রংয়ের জামা কিনিলেও লালমাটিয়া গেলে তাহার জামাতে লাল রঙয়ের মাটি লাগিয়া গেল। তাই তিনি টাঙ্গাইল গিয়া তাহার জামা দেওয়ালে টাঙ্গাইলেন ও নরসিংদী যাইয়া নর সুন্দর দ্বারা তাহার চুল কাটাইলেন। কক্সবাজারে যাইয়া বাজার সদাই করিয়া পাল বংশের সেই লোক পুনরায় নেপালের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হইলেন।
অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!
বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন
মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না
এক
বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন
রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???
আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন
সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।
হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।