ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ১০ দিনের সফরে
দুলাল আহমদ চৌধুরী: নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দার ১০ দিনের এক সফরে দেশে আসছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে আগামী ২ মার্চ তার ঢাকা আসার পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৭৪ সালে দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত দাউদ হায়দারের একটি কবিতায় ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের সমালোচনা করার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেসময় গড়ে ওঠা ব্যাপক আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ওই বছরের ২৩ মে তাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন।
বার্লিন থেকে মঈন হাসান জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের কী বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছেন জানতে চাইলে টেলিফোনে দাউদ হায়দার বলেছেন, এখনই তা বলা ঠিক হবে না। তবে বাংলাদেশ সরকারের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করছে তার বাংলাদেশে আসা। উল্লেখ্য, দাউদ হায়দার ইতোপূর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি হিসেবে বসনিয়া, যুগোশ্লাভিয়া ও পূর্ব আফ্রিকা গিয়েছিলেন। ঢাকা এলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্দিষ্ট কাজ ছাড়াও তিনি তার পরিবার ও আÍীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করবেন। টেলিফোনে দাউদ হায়দার আরো জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার ঢাকা আসার ব্যাপারে এখনও ক্লিয়ারেন্স আসেনি, অপেক্ষায় আছেন। তবে ক্লিয়ারেন্স পাওয়া গেলে সফরকালে বাংলাদেশ সরকারের কাছে পূর্ণ নিরাপত্তা আশা করছেন তিনি। নিরাপত্তা না পেলে শেষপর্যন্ত বাংলাদেশে আসা বাতিলও করতে পারেন। অবশ্য এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সফরের প্রোগ্রাম ঠিক আছে বলে জানান তিনি।
দাউদ হায়দারের ভাই বাংলা একাডেমীর সাবেক পরিচালক কবি রশীদ হায়দার গতকাল আমাদের সময়কে জানান, দাউদ হায়দারের দেশে আসা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, গত রাতেও তার (দাউদ হায়দার) সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। দেশে আসা সম্পর্কে কোনো কথা বলেনি। তিনি বলেন, দেশের জন্য সবসময় তার মন কাঁদে। বাংলাদেশের কাউকে পেলে দাউদ যে কী করে, তা ইতোমধ্যে যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে তারা এসে বলেছেন। দেশের একখণ্ড মাটি রয়েছে তার কাছে। যখনই দেশের কথা মনে পড়ে তখনই এই মাটি বের করে দেখে। রশীদ হায়দার বলেন, সরকার যদি নিরাপত্তা দিয়ে তাকে আনতে পারে তাহলে আমরা খুব খুশি হবো। দেশে এলে আব্বা-আম্মার কবর দেখে যেতে পারবে।
রশীদ হায়দার জানান, ’৭৪ সালে নির্বাসনের পর থেকে দাউদ কলকাতায় অবস্থান করছিলেন। ’৭৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৫ থেকে ৬ বার তিনি বাংলাদেশে এসেছেন। ’৭৮ সালের শেষ দিকে দাউদ হায়দার তার পাসপোর্ট নবায়ন করার জন্য কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশন অফিসে জমা দিলে সরকার তা নবায়ন না করে বাজেয়াপ্ত করে। এরপর আর বাংলাদেশে আসা হয়নি তার। ভারতে অবস্থানকালে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার লিটারেচার বিষয়ে পড়ালেখা করেন। ১৯৮৬ সালে নোবেল লরিয়েট গুন্টার গ্রাস তাকে জার্মানি নিয়ে যান। সেই থেকে তিনি বার্লিনে থাকছেন।
সর্বশেষ দাউদ হায়দারকে নিয়ে বাংলাদেশে আলোচনার ঝড় ওঠে গত বছরে। সাপ্তাহিক ২০০০ এর রোজার ঈদ সংখায় (২১ সেপ্টেম্বর ২০০৭ প্রকাশিত) ‘সুতানটি সমাচার’ শিরোনামে তার একটি লেখায় কাবা শরিফের সঙ্গে বাঈজি ঘরের তুলনা করার অভিযোগে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে সরকার ২০০০’র ঈদ সংখ্যাটি বাজেয়াপ্ত করে।
দাউদ হায়দারের আগমন সম্পর্কে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা এখনো কিছুই জানে না। সুত্রমতে, দাউদ হায়দার বাংলাদেশে আসতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে এর অনুমতি নাও পাওয়া যেতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঢাকার ডেলিগেশন অফিস সুত্র জানিয়েছে, দাউদ হায়দারের বাংলাদেশে আসা সম্পর্কে তারা এখনও নিশ্চিত নয়। এসব বিষয়ে ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান কার্যালয় সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সুত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


