ঝিনাইদাহ জেলার হরিনাকুন্ডু থানার শ্রীপুর গ্রাম । শান্তশিষ্ট পরিবেশে কুমার নদীর তীরের এই গ্রামটি ইংরেজ শাসনামলের কিছু আগে অনেক গোছালো ভাবে গড়ে ওঠে .।
দেশবিভাগের আগেই ভারত থেকে আসা জমিদার শ্রেনীর কিছু লোক যারা অনেক টাকা পয়সা নিয়ে এই গ্রামে নৌকা যোগে আসে.। এবং বসতি স্থাপন করে. ইমানদি ও স্বরুপদি নামে দুই জোয়ার্দার।
সে অনেক লম্বা কাহিনী .। অন্য একদিন বলবো..।
এই টাকা পয়সাওয়ালা মানুষ গুলো কিছু দিনেই এই গ্রামের এবং এর আশেপাশের গ্রামে জমি জায়গা কিনে বসতি পাকা পোক্ত করে নেয়.। জমিদারি শুরু করে,,,
নিচের এই বাড়ি সেই জমিদাররা তৈরি করেছিলো..
বাংলা ১২৫০ সালের পরে তারা এই বাড়ি বানানোর কাজ শুরু করে তারা .।
এই গ্রামে আসার পর তারা যখন আলাদা ভাবে থাকতে শুরু করে একটু বিভক্ত হয়ে.। তাদের জমিদারির বিস্তার ঘটাবার জন্য..।
১২৮০ সালের দিকে এই তিন পক্ষের তিন জন তিনটি বড় বাড়ি তৈরি করে .। তাদের ভেতর একটা প্রতিযোগিতাও ছিল.। যেমন ছিল সুন্দরী বউ বিয়ে করার বেলায়.। অনেক সুন্দর শিল্পকর্মের মাধ্যমে তৈরি এই বাড়ি গুলো.. কিন্তু যারা তৈরি করেছে তাদের ছিলনা কোন আধুনিক সরঞ্জাম বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা.।
শ্রী ভোলায় জোয়ার্দার , ডাঃ হারেস আলি জোয়ার্দার ও বসির আলি জোয়ার্দার এই তিন জন তিনটি বাড়ি বানানোর কাজ শেষ করেন.।
শ্রী ভাজন মিস্তিরি ও আরও কয়েজন মিস্তিরির দল এই বাড়ি বানাতে শুরু করে ..। ১৩১৩ সালের ভাদ্র মাসে এই বাড়ি গুলোর কাজ সম্পুর্ণ ভাবে শেষ হয়.. এই বাড়ি গুলো বানাতে যে উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা হল হাতে বানানো ইট , চুন সুরকি , শাল ও সেগুন কাঠ , বড় বড় ট্রেনের পাত , যার বেশির ভাগই আমদানি করা হয়েছিল ভারত থেকে..।
এই বাড়ি থেকে অনেক নাম করা অনেক শিক্ষিত লোক এর জীবনের শুরু. ডাঃ গনী জোয়ার্দারের নাম এখনও অনেক দূরদূরান্তের মানুষের মুখেও গল্প আকারে শোনা যায় .বৃদ্ধ মানুষের কাছে..।এ ছাড়া এই বাড়িতে বড় জন্মেছেন একজন ভাষা সৈনিক ,,, নাম হুমায়ন কবির . যিনি দীর্ঘ ৪০ দিন কারাবরণ করেছিলেন ভাষা আন্দালনের সময় .। এছাড়া কাপ্টেন আব্দার আলী জোয়ার্দার যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্থান সেনা বাহিনী থেকে পালিয়ে এসে যশোর সেক্টরের গোয়েন্দা ও যুদ্ধ পরিচালনার কমান্ডার নিযুক্ত হয়েছিলেন ,,,
এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল মতিউর রহমান পরবর্তিতে যিনি মেজর জিয়াউর রহমানকে খুন করে নিখোঁজ হয়ে যান.। যার খোজ এখনও পাওয়া যায়নি.।
মুক্তি যুদ্ধের সময় এই বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধারা গোপন বৈঠক করতো. এই বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করা হত.।
কালের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাড়ি গুলো প্রায় ধ্বংসের মুখে একটি বাড়ি ৩/৪ বছর আগেই ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে .। সংস্কার ও যত্নের অভাবে বাড়ি গুলো এখন ধ্বংসের অপেক্ষায় দাড়িয়ে আছে মাথা তুলে .. একসময় যে বাড়িগুলোর নাম ও খ্যাতি ছিল অত্র এলাকায়..।
পরবর্তিতে আরও ছবি এবং এই জোয়ার্দার বংশের ও আশপাশের আরও যে জমিদারেরা ছিলেন তাদের সম্পর্কে তথ্য ও ছবি নিয়ে বৃহত্তম একটা কাহিনী নির্ভর পোস্ট দেবার ইচ্ছা আছে,,,, দেখি কতদূর পারি..
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১০ দুপুর ১:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



