somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মৌলভীবাজারে আরেক ‘বাংলাভাই’এর আবির্ভাব !

২৫ শে অক্টোবর, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগে বাস করছি আমরা! এ যেন মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়! ‘স্বামী চোর’ এই অপবাদে ৪ সন্তানের জননীকে বেদম পিটিয়েছেন তিনি। রিমান্ডও দিয়েছেন তিনি। পেটাতে পেটাতে বিবস্ত্র করে আবার পেটানো! প্রাণে বাঁচতে জননী মাদ্রাসায় আশ্রয় নিলেন। তারপরও নির্যাতন আর পেটানোর হাত থেকে নিস্তার পেলেন না হতভাগীনি রত্মা বেগম (৩৫)। মৌলভীবাজারে আরেক ‘বাংলাভাই’ সেজে নিজেই রিমান্ড দিয়ে একের পর এক এ কাণ্ড ঘটিয়ে চলেছেন মাসুদ আহমদ নামে এক পৌর কাউন্সিলর।
নির্যাতনের সময় কাউন্সিলর মাসুদ সরাসরি বলে ফেললেন এটা আমার নিজস্ব আইন। এদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হবে। শুধু তাই নয় চুরির অপবাদে এক যুবককে সপ্তাহ খানেক আগে ধরে নিয়ে যায় মাসুদ কাউন্সিলসহ তার লোকজন। সন্তানের খোঁজ না পেয়ে বৃদ্ধ মা এখন পাগলপ্রায়! কলোনির আতঙ্কিত মানুষজন গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আরেক ‘বাংলাভাই’ মাসুদ কাউন্সিলরের লোকজনের ভয়ে। মৌলভীবাজার শহরের ৩নং ওয়ার্ডের রঘুনন্দনপুর (রহমানবাগ) এলাকায় মাওলানা আবুল হোসেন খান (৬০) ওরফে উকিলের কলোনিতে একের পর এক এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
এদিকে, এই স্বঘোষিত রিমান্ডদাতা কাউন্সিলর মাসুদের নির্যাতনের শিকার রত্মা বেগম (৩৫) বলেন, বৃহস্পতিবার ১৩ অক্টোবর বিকেলে মাসুদ কাউন্সিলরের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে কলোনিতে হামলা চালায়। এ সময় তারা আমার স্বামী জয়নাল মিয়াকে খুঁজতে থাকে। আমার স্বামীকে না পেয়ে তারা আমাকেই পেটাতে শুরু করে। আমার পিঠে, বুকে, হাতে ও পায়ে পেটাতে থাকে। তিনি মুখে কাপড় চেপে কেঁদে বলেন, একপর্যায়ে কাউন্সিলর ও তার লোকজন আমার শরীরের কাপড় খুলে নির্যাতন চালাতে থাকে। ওই অবস্থায় আমি প্রাণে বাঁচার জন্য কলোনির মালিকের মাদ্রাসার ভেতর দৌঁড়ে গিয়ে আশ্রয় নিই। তখনও তারা আমার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। কলোনির মালিক মাওলানা আবুল হোসেন খান বাধা দিলে তাকেও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। তারপর আশেপাশের মানুষজন এগিয়ে এলে আমি প্রাণে রক্ষা পাই।
রত্মা আরো জানান, ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর কলোনির লোকজন আমাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। তারপর মঙ্গলবার আমি মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করি। তিনি জানালেন, গত এক সপ্তাহ চলে গেছে। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কারো কাছ থেকে কোনো বিচার পাইনি আমি। ঘটনার পর থেকে আমার স্বামী ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর কলোনির মানুষজন আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছেন না। ভয়ে থাকেন না জানি কখন আবার তাদের ওপর হামলা হয়! রত্মার শাশুড়ি নূরজাহান বেগম (৭০) বলেন, আমার চোখের সামনে মাসুদ কাউন্সিলরের লোকজন ছেলের বউকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। অপরদিকে, এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ মনি মিয়ার (৩০) মা পাগলপ্রায় রাজিয়া বেগম (৫০) জানালেন, বৃহস্পতিবার সকালে চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মাসুদ কাউন্সিলর ও তার লোকজন। তারপর আর কিছুই জানি না, আমার ছেলে কোথায়। তিনি ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে খাওয়া-দাওয়া ভুলে পাগলের মতো বিলাপ করছেন শুধু।
এ বিষয়ে কলোনির মালিক মাওলানা আবুল হোসেন খান (৬০) জানান, মাসুদ কাউন্সিলর ও তার লোকজন রত্মাকে কলোনির ভেতরে পেটাতে শুরু করে। বিবস্ত্র অবস্থায় রত্মা যখন আমার মাদ্রাসায় আশ্রয় নিতে আসেন তখনও তারা রত্মার ওপর নির্যাতন চালাতে থাকে। তিনি আরও জানান, নির্যাতনের সময় মাসুদ কাউন্সিলর বলে- ‘এটা আমার নিজস্ব আইন। এদেরকে রিমান্ডে নেওয়া হবে। এ সময় আবুল হোসেন খানকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি আরও জানান, গরিব-দিনমজুর শ্রেণীর লোকজন প্রায় ৩০ বছর ধরে এই কলোনিতে বসবাস করছেন। কাউকে কোনোদিন চুরি বা খারাপ কাজে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে কলোনির লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং অনেকেই ভয়ে কলোনি ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন মাসুদ কাউন্সিলরের ভয়ে। ৩নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর নাহিদ হোসেন বলেন, কেউ চুরি করলে তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা উচিত। কিন্তু এভাবে নির্যাতন করা যায় না। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কাউন্সিলর মাসুদ আহমদ রত্মাকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন। আর নিখোঁজ মনির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইলেকট্রিক তার চুরির অপরাধে মনিকে ধরে আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে মনি নিখোঁজ-এ কথার জবাবে তিনি বলেন, আমাকে বললে এখনই মনিকে বের করে দিতে পারি।
সূএঃ-বাংলাটাইমস টুয়ন্টিফোর ডটকম
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিলিয়নিয়ার রবিন খুদা ও আমাদের জাতীয় অগ্রাধিকার

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ০৯ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় কী?

কর্মসংস্থান? না।

বিনিয়োগ? না।

ডলার সংকট? না।

গার্মেন্টস খাতে ছাঁটাই? না।

ব্যাংকিং খাতের আস্থা সংকট? না।

সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো— কোনো অনুষ্ঠানে জুলাই চেতনা কত মিলিলিটার ঢুকেছে, কে কতবার উচ্চারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×