(অসুস্হ থাকাতে ৪ দিন নেটে বসতে পারিনি।বন্ধুদের কাছে প্রমিজ করেছিলাম বন্ধু-দিবসে ওদের নিয়ে কিছু লিখবো।দেরীতে হলে ও ওদের কথা রাখলাম)
বন্ধু-দিবস বছরের ১টা দিন হতে পারে কিন্তু বন্ধুদের সাথে যে আত্মীক সর্ম্পক বিরাজ করে তা বছরের ৩৬৫ দিনের প্রতিটি ক্ষণের জন্য।বন্ধুরা না থাকলে জীবনটা বোধ হয় মরুভূমি হয়ে যেতো।আমার বন্ধুর সংখ্যা হাতে গোনা কয়েক জন।বন্ধু ভালো হলে ১ জন বন্ধু নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়-এটা অবশ্য আমার নিজস্ব মতামত। যে সব বন্ধুদের অগাধ ভালোবাসায় আমি সিক্ত আজ তাদের জন্য এই লেখা।

ক্লাশ ফাইভে পড়ার সময় দেখি স্কুলে নতুন এক মেয়ে এসেছে,নাম জলি।ওর বাবা বয়েজ স্কুলের টিচার হওয়াতে হাব-ভাবই আলাদা।কথা বলে বেশী স্টাইল করে।দূরে বসে আরেক জনকে বলেছিলাম-"মেয়ের ঢং কতো"।সময়ের স্রোতে সেই মেয়েটিই আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।জলি এখন সি এ পড়ছে।দেখা ও কথা হয় খুব কম তারপর ও যখন ফোন করে অভিমানের সাথে বলে-"তুই আমাকে একেবারে ভুলে গেছিস"? তখন মনটা ভালো লাগায় ভরে যায়।

যখন হোষ্টেলে ছিলাম তখন ফাতেমার সাথে বন্ধুত্ব।হোষ্টেলের নিরানন্দ জীবনে ওর বন্ধুত্ব ভালো লাগতো।এস এস সির পর ও ইন্ডিয়াতে চলে গেলো।এরপর প্রায় ২ বছর চিঠিতে যোগাযোগ ছিলো।মাঝে আমিই গাফিলতি করে চিঠির উওর দিইনি।এখন আর যোগাযোগ নেই কারণ ওর ঠিকানা,ই-মেইল এ্যাড্রেস সব হারিয়ে ফেলেছি।ওকে ভীষণ ভাবে মিস করি।

এইচ এস সি দিয়েছি শহীদ আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে।সেখানে কণা,কেয়ার সাথে পরিচয় । ক্লাশ-মেট হিসেবে দেখা হলে হাই-হ্যালো বলতাম।ইডেনে অনার্সে পড়ার সময় ৩ জন একই সাবজেক্টে ভর্তি হলাম।সেই যে বন্ধুত্বের শুরু তা আজো অটুট রয়েছে।পড়াশুনা শেষ হয়ে গেলে ও আজো হৃদয়ের টানে মাঝে মাঝে কলেজ ক্যাম্পাসে যাই আড্ডা দেওয়ার জন্য।

শিয়া, বিয়ানা,শামা ওদের সাথে যোগাযোগ নেই সেটা আমার ব্যর্থতা।তাই ওদের কে বলছি-"তোমাদের সাথে যোগাযোগ না থাকলেও তোমরা আমার মনের মধ্যেই আছো।তোমাদের জন্য ভালোবাসা দিন দিন বেড়েই চলছে"।
পরিশেষে বলতে চাই--"ভালো থেকো,বন্ধুরা।
বড্ড ভালোবাসি,তোমাদের"।