somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন দেখা ভালো না /:)

১৭ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সে এক ম্যারাথন স্বপ্ন দেখলাম.......কালরাতে সবকাজ শেষ করে টিভি দেখে ঘুমাতে গেলাম ২:৩০টার দিকে আর উঠলাম সকাল ১০টায়। স্বপ্নের বিষয় হলো আমার বিবাহিত এক বাচ্চাওয়ালা কাজিনের জন্য মেয়ে দেখা। যদিও উনি দেরীতে বিয়ে করেছেন বলে আমরা আড়ালে আবডালে বলে বেড়াই ভাইয়া ঠিকমতন বিয়ে করলে এতদিনে ঘরে ৩-৪টা জুনিয়র ঘরে দাপিয়ে বেড়াত। একটানা খালি স্বপ্ন যে দেখলাম তা-ও না মাঝে সাঝে বিজ্ঞাপন বিরতির মতন কয়েকবার স্বপ্নবিরতি ও নিলাম। ঢাকা থেকে মেয়ের বাড়ী যেতে প্রায় আড়াই-তিনঘন্টা লাগবে স্বপ্নেও মনে হয় সেই আড়াই-তিনঘন্টাব্যাপী জার্নি করতে দেখলাম। রাস্তার মাঝে একবার দেখলাম দুই দল কিসের জন্য জানি মারামারি করছে দেখে ক্যাবওয়ালা ব্যাটা ভয়ে ক্যাব চালানো বন্ধ করে বসে আছে। এরপর দেখলাম তুমুল বন্যা শুরু হয়েছে সামনের বাকিরাস্তা পানিতে ডুবে গেছে বলে রাস্তার পাশেই এক বাড়ীতে আশ্রয় নিলাম। সেখানে ঘুম ও দিলাম,হঠাৎ জেগে দেখি বন্যার পানি বাড়তে বাড়তে সেই বাড়ির উঠানে চলে আসছে। সাথে মা আর আন্টি(কাজিনের মা) ছিলো তারা সমানে কান্নাকাটি করছে। এরপর প্রথমবার স্বপ্নবিরতির সময় সেহরীর সময়ে উঠে পানি ধরলাম(আবার বাসায় পানির সমস্যা দেখা দিছে কিনা)। ঘুমুতে গিয়ে আবার বাকি স্বপ্ন দেখা শুরু করলাম। বন্যার পানিতে রাস্তা ডুবে গেছে বলে এখন মেয়ের বাড়ীতে যাবার জন্য নৌকা ঠিক করলাম তিনজনের জন্য। নৌকাওয়ালা মনে হয় ১৩-১৪ বছর বয়সী বলে আমার হালকা-পাতলাওয়ালী মা আর আন্টিকে নৌকায় করে নিয়ে গেল আর আমি ছোট-খাট সাইজের হাতি বলে আমারে নেবার সাহস করলো না। আমি যে মেয়ের বাড়ীতে ক্যামনে গেলাম সেটা আর দেখিনি। মেয়ে বাড়ীতে গিয়ে দেখি মেয়ের চেহারা-সুরত কেমন জানি থ্যাবড়ানোমার্কা। ভাইয়ের জন্য মেয়ে পছন্দ হলো না বলে মুখ ভোঁতা করে বসে ছিলাম। মা,আন্টিদের আবার মেয়ে খুব পছন্দ হয়েছে। ঐদিকে মেয়ে করছে আরেক নখরামি সে বিয়ে হবে না,আমাদের সামনে তার চেহারা-সুরত দেখাতে আসবেনা বলে সে কি কান্নাকাটি। আমি একসাইডে বসে চা খাই আর মনে মনে গজ গজ করছি যেই না চেহারা নাম তার পিয়ারা। মেয়ের দাদী,নানী,মা,বোন সবাই মিলে বুঝাতে লাগলো সেই ফাঁকে দ্বিতীয়বার স্বপ্নবিরতিতে পানি খেতে উঠলাম। যাইহোক মেয়ে সাজুগোজু করে আমাদের সামনে আসার পর দেখি মেয়ে আশ্চর্যজনকভাবে স্লিম আর অনেক সুন্দরী হয়ে গেছে(পার্লারে সাজুগোজু করা মনে হয়েছে)। আন্টি তার ছেলের বউ ঘোষণা দিয়ে আংটি পরানোর পর রাস্তায় আসার সময় মা আর আন্টি বলাবলি করছে কাজিনরে তো বলাই হয়নি তার জন্য মেয়ে দেখা হয়েছে। সাথে সাথে এটাও মনে হলো কাজিনের তো আগে বিয়েও হয়েছে এবং একটা ছেলে ও আছে.........তৃতীয়বার কয়টা বাজে সেটা দেখার জন্য উঠে আর ঘুমালাম না কারণ স্বপ্ন দেখার ধৈর্য্য নাই। কেউ বিশ্বাস করে না আমি লাগাতার স্বপ্ন দেখি পারি.....কিন্তু এটাই সত্যি।
...........................................................................!

মানুষের যখন বয়স কম থাকে তখন মনে হয় ফ্যান্টাসীর জগতে বেশী ডুবে থাকতে ভালোবাসে আর স্বপ্নও দেখে প্রচুর। আমার কলেজলাইফে প্রচুর স্বপ্ন দেখতাম। এক ঘুমেই কয়েকটা টিভি সিরিয়ালের মত নানা রকমের মিনি স্বপ্ন দেখতাম। এমনিকি ৪০ মিনিটের ক্লাশ লেকচারের সময় ২০মিনিটই ক্লাশে ঘুম দিতাম আর মিনি স্বপ্নে দেখতাম। এখন কেন জানি স্বপ্ন দেখতে ভালো লাগেনা আবার ভয়ও লাগে। কারণ বেশীরভাগ সময়ই অচেনা মানুষ,অচেনা জায়গা আর অদ্ভূত সব ব্যাপারে স্বপ্নে চলে আসে। ভূতের ভয় লাগে বলে হরর মুভি,গল্প কিছুই দেখিনা, পড়িনা তাও ভূতের স্বপ্ন দেখি আজকাল। একবার স্বপ্নে দেখলাম মিচমিচে কালো একটা ভূত সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। তার ভয়ে আমি খাট থেকে নামছিনা বলে ঐ কালো ভূতটা আমার খাট ধরে প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিচ্ছে। জেগে লাইট অন করে দেখি সত্যিই খাট নড়ছে। পরেরদিন সকালে পত্রিকায় জানলাম গতরাতে ভূমিকম্প হয়েছে। আরেকদিন দেখলাম ছোটু যাকে আমি আমার ফ্যামিলির মধ্যে সবচেয়ে ভালোবাসি আর মায়া করি তাকে বড়ভাই আর আমি মিলে খুন করে ফেলেছি। স্বপ্নে তখন আমাদের বয়স ৮-১০ এর মত। ছোটবেলায় যেভাবে ঝগড়া করতাম সেভাবে তিন ভাই-বোনে ঝগড়াঝাটির ফলাফল ছোটুর খুন হওয়া। এখন খুন করার পর লাশ কোথায় ফেলবো সেটা নিয়ে ভয়ে বড়ভাই আর আমি গোপণে জায়গা খোঁজা শুরু করলাম। খুনের পর সে কি ভয়,আতঙ্কে আর শিহরণে ছিলাম সেটা জেগে উঠার পরও অনেকক্ষণ পর্যন্ত নিজের মধ্যে কাজ করছিলো। সবচেয়ে মজার হয়েছে আরেক স্বপ্ন দেখা নিয়ে । একজনকে কথা দিয়েছি আমরা দেখা করবো,দূরত্ব যত বেশী হোক না কেন ....তবুও দেখা হবে। সেটা সবসময় মাথায় ছিলো বলেই স্বপ্নে দেখলাম দেখা করার জন্য ঠিক করা নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বসে আছি....সকাল,দুপুর,বিকাল যায় সে তো আর আসে না আবার ফোন ও ধরেনা। ঐদিকে মা বাসা থেকে ফোন করে বকা দিচ্ছে বাসায় ফিরছিনা বলে। কথা দিয়ে আসলো না বলে সে কি আকাশ-পাতাল এককরে কান্না। ঘুম থেকে জেগেও দেখি স্বপ্ন দেখতে দেখতে বাস্তবের আমি ও কাঁদছি। তারপর বোকার মতন যে কাজটা করলাম সেটা হলো সকাল ৭টার সময় ফোন দিয়ে সরাসরি জানতে চাইলাম আমাদের দেখা হচ্ছেতো? দুইদিন পরে এই পাগলামির কথা মনে করে অনেক হাসছি।
.............................................................!

ইদানিং কেনজানি আর স্বপ্ন দেখতে চাইনা,ভালো ও লাগেনা। কারণ স্বপ্নরা শুধু নিজের অবচেতন মনেই থেকে যায়,বাস্তবে আর ধরা দেয়না। দিন,মাস,বছরের আর্বতনে এতদিনে যে বুঝি গেছি স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে যোজন যোজন দূরত্ব। যাকিছু দূরের সেটা নাহয় দূরত্ব রেখে দূরেই থাকুক। কাছে এসে কষ্ট বাড়িয়ে লাভটা কি........................................!

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১০ বিকাল ৪:০৯
৬৬টি মন্তব্য ৬৬টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পণ্ডশ্রম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ১২:৩৪



এই নিয়েছে ঐ নিল যাঃ! কান নিয়েছে চিলে,

চিলের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে।

কানের খোঁজে ছুটছি মাঠে, কাটছি সাঁতার বিলে,

আকাশ থেকে চিলটাকে আজ ফেলব পেড়ে ঢিলে।

দিন-দুপুরে জ্যান্ত আহা, কানটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×