মেঘপিয়নের ব্যাগের ভেতর
মন খারাপের দিস্তা..
মন খারাপ হলে কুয়াশা হয়.
ব্যাকুল হলে তিস্তা !.!
গানটা অনেক প্রিয় ....এটা মন খারাপের গান কিনা জানিনা,কিন্তু নিজের মন যে খারাপ এটা জানি শুধু।আগে কারণে-অকারণে কেন জানি অনেক মন খারাপ হত। এই বাজে স্বভাবটা হোষ্টেলে থাকতে শুরু হয়েছিলো। খালি মনে হত বাবা-মা আমাকে আর বড়ভাইকে বেশী আদর করেনা বলে হোষ্টেলে দিয়ে দিলো।সারাদিন হৈহুল্লোড় করার পর বিকেল থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত মন খারাপ হয়ে আছে। খুব বেশী মন খারাপ হলে আবার লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদছি কারণ হোষ্টেল ভর্তি মেয়েদের সামনে তো আর দেখিয়ে কান্না করতে পারিনা। এরপর মাঝে অনেকটা বছর এই অহেতুক মন খারাপ করাটা একদমই কমে গিয়েছিলো। কত যে খুশী হয়েছিলাম এই স্বভাবটা নিজের মধ্যে আর দেখতে না পেয়ে। আমার সেই খুশী বোধহয় ঈশ্বরের সহ্য হলো না। অনেকটা গ্যাপের পরে আবারো আগের মতন মন খারাপ হতে লাগলো। অনেক সময় ঠিক বুঝিও না কি কারণে মন খারাপ করে আছি। একবেলা বাইরে ঘুরান্টি না দিলে পেটের ভাত হজম হতনা ,মন হত ঘরে দমবন্ধ হয়ে আসছে। এখন বাইরে গেলে অস্হির হয়ে থাকি কখন বাসায় ফিরবো,বাসায় ঢুকেই কখন সেই আমার নিজের বাসার যে একটা সুন্দর ঘ্রাণ আছে সেটা পাবো।কোন কাজে বাইরে থেকে বাসায় ফিরেই মনে মনে বলতে থাকি"মাই হোম,সুইট হোম...এরচেয়ে শান্তির জায়গা মরে গিয়েও বোধহয় আর কোথাও পাবোনা"।
অহেতুক মন খারাপের সময় বেশীরভাগ সময় দুইরকমের মুডে থাকি।দেখা গেল মন ভালো নেই তখন খুব এগ্রেসিভ মুডে আছি। মনে হয় সামনে যা থাকে সব আছাড় মারি। সেটা করতে না পারলে কাউরে কথা শোনাই। বেশীরভাগ সময় আমার মা এই এগ্রেসিভ মুডের শিকার হয়। মুখের লাগাম বরাবরই একটু কম আর মন খারাপের সময়তো কথাই নাই। যা ভালো মুডে কখনোই বলিনা সেটা বলে ফেলি এরপর শয়তানের মতন চেয়ে চেয়ে দেখি কতটা কথা শুনিয়ে কতটা পেইন দিতে পারলাম। আর মা হাউমাউ করে কাঁদছে। সেইসময় আমার কাঁধে ১০১টা শয়তান ভালোই কুবুদ্ধি দেয়। তা-ও এই মুডে থাকাটা বেটার মনে হয়... অন্তত রাগ,ক্ষোভ,অভিমানতো প্রকাশ করতে পারছি। আবার কখনো একদমই ঠান্ডা হয়ে থাকি,মনে হয় যেন চাবি দেওয়া পুতুলের মতন হয়ে গেছি। কারো উপর তখন অভিমান,ক্ষোভ তো কাজ করেইনা তারউপর নিজেকেই দোষী ভাবি....সেখানে আমার দোষ না থাকলেও ভাবি সব সমস্যা আমার নিজের। এই মুডে থাকাটা অনেক পেইন লাগে...কারো সাথে রাগ হয়না....ক্ষোভও প্রকাশ করিনা...শুধু ভাবি দুনিয়ার সব খারাপ আমার ভিতরেই আছে। মন খারাপের এই ঠান্ডা মুডে এখন আছি। কাল রাত থেকে যে জ্বর সেটা ও বুঝলাম আজ বিকেলে। ভাবলাম আবহাওয়ার পরিবর্তনের জন্য হয়ত জ্বর জ্বর লাগছে। সকালে জ্বর নিয়েই ব্যাংকের কাজ সেরে আসার সময় রিক্সা না নিয়ে হাটতে লাগলাম...আজ রিক্সায় উঠতে মন চাইলো না। জ্বরের কারণে রাস্তায় যখন মাথা ঘুরছে আমি ভাবছি খালি পেটে বের হলাম বলে এমন হচ্ছে। বাসায় এসে প্রায় পাঁচ ঘন্টা মাথায় মেহেদী দিয়ে(যা সবচেয়ে অপছন্দের কাজ,কিন্তু আজ খুশী মনে করলাম) ঘরের কাজ সেরে বিকালে ফ্রেশ হয়ে দেখি ১০২ জ্বর।
এক সময়ের পরিচিত আর এখন খানিকটা অপরিচিত একজনরে দেখি তার মন ভালো না থাকলে সবার সাথে খুবই মিসবিহেভ করে...কি আজব। ভেবে পাইনা নিজের মন খারাপ নিয়ে আরেকজনকে কেন পেইন দিয়ে খুশী হয়...?দুনিয়াতে বেশীরভাগ মানুষই প্রচন্ড স্বার্থপর...শুধু নিজের সুবিধা...নিজের ভালোটা আর নিজের মন খারাপটাই বুঝে। আশেপাশের মানুষ পানিতে গিয়ে পড়লো নাকি আগুনে ঝাপ দিলো সেটা দেখেও দেখেনা....বুঝেও বুঝে না। এমন স্বার্থপর লোকদের উপর রাগ,অভিমান কোনটাই কাজ করেনা শুধু তাদের ব্যবহারে চিনচিনে একটা কষ্ট
অনুভব করি। আর ঈশ্বরের কাছে নিবেদন করি তারা যদি মানুষকে পেইন দিয়ে নিজেকে অনেক অনেক হ্যাপী রাখতে পারে তাহলে তারা হাজারবার আমাকে কষ্ট দিক....হাজারবার তারাও অন্যকে পেইন দিতে পারছে বলে হ্যাপীমুডে দিন শেষে রাতে শান্তির ঘুম ঘুমাতে পারে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


