somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অবশেষে তিনি গানটা গাহিয়াই ফেলিলেন

২২ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকের মনে এক সুন্দর শুভ্র বাসনা জাগ্রত হইল। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠেনে শিল্পীদের সুকন্ঠের গান তাহার মনকে উদাস করে ফেলিল। গান শিখিতে হইবে , আর এই ধরনের একটা স্টেইজে গান গাহিয়া,সবাইকে মোহীত করিয়া ফেলিবেন।

শহরের সবচেয়ে ভাল গায়ককে টাকার জোরে তাহাকে গান শিখাইতে রাজী করাইলেন। গায়ক/শিক্ষক (এখন হইতে তাহাকে শিক্ষক বলা হইবে) ছিল কিছুটা দুষ্ট। ভালো গায়েন হওয়ার সুবাদে, শহরের অনেক বাড়ীতে ছিল তাহার অবাধ যাতায়াত। বাড়ী সমুহের সবকিছুই ছিল তাহার নখদর্পনে । ইতিপুর্বে স্বর্নালংকার এমনকি মুরগী চুরিরও যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় তাহার হইয়াছিল।

এই প্রথম সে শিক্ষক হইল। নতুন দায়ীত্বের কথাও শহরের সবাই ধীরে ধীরে জানিতে পারিল। শিক্ষার্থীর গলার সা-রে-গা-মা শুনিয়া সে কিন্চিত ভয় পাইল। সে কি এই ফাটা বাশে সুর ধরাইতে সক্ষম হইবে ? অনেক চেষ্টার পর সে হাল ছারিয়ে দিল, কিন্তু মুখে বলিত: খুব খুব ভালো সুর বাহির হইতেছে। কিন্তু বিশিষ্ঠ ব্যাবসায়ীর স্ত্রী বাসায় অধিকাংশ সময় কানে তুলা দিয়া রাখিত। হঠাত তুলা আবিষ্কার করিয়া , গানের সাধকের মনে অনেক কষ্ট জমা হইল।
শিক্ষককে হতাশকন্ঠে বলিল " আমি কি আসলেই গান শিখিতে পারিবনা ?। শিক্ষক তাহার সর্বশেষ চেষ্টা অব্যাহত রাখার লক্ষে অভয় বানী দিলেন " কেন পারিবেন না ? আজ হইতে রেওয়াজ এর পুর্বে এক হালি কমলার ছোলা খাইতে হইবে। ইহাতে গলায় সুর আসিবে।" অত:পর শিক্ষার্থী কমলার ছোলা , আর শিক্ষক কমলা খাইতে শুরু করিল।


অনেক মাস এইভাবে চলিতে থাকিল। কমলার সিজন শেষ। আর অপেক্ষা করা যায় না। অবশেষে শিক্ষার্থীর আর্থীক সহায়তায়, এক সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন হইল। শহরের সবাই হুমরি খাইয়া পরিল, তাহার গান শোনার জন্য।
অবশেষে তিনি স্টেজে গাহিলেন তাহার গান। আবেগে তাহার চোখ বুজিয়া গেল।



শেষ পর্যন্ত কতজন তাহার গান শুনিয়াছিল,অথবা গান চলাকালীন তুলা কোথা হইতে আসিল ? এই সব অবান্তর প্রশ্ন করিয়া এই সংগীত সাধকের অবমাননা করিবেন না।

অ:ক: একটি সত্যি ঘটনার ছায়া অবলম্বনে।

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:০২
৯৩টি মন্তব্য ৯৫টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাখি মন

লিখেছেন সামিয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১০



রাত গভীর হলে পাখিটা বারান্দায় এসে বসে। দূরের আকাশে তখনও কিছু আলো জ্বলজ্বল করে, কিন্তু পৃথিবীর কোলাহল ধীরে ধীরে স্তব্ধ হয়ে আসে। সেই নীরবতার মধ্যে বসে পাখিটার মনে হয়, মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৃঙ্খল মুক্তি আমার

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১০ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৫

শৃঙ্খল মুক্তি আমার



ভেঙেছি সমাজের যত চেনা দায়,
চিন্তার প্রাচীর আজও ধুলোয় মেশায়।
ঈমানের নোঙর ছিঁড়েছি হেলায়,
ডুবেছি একাকী ; এক অচিন ভেলায়।
ভালোবাসা, মানবিকতার যত শত মায়াজাল,
ছিঁড়ে ফেলেছি আমি সব কটা পাল।
সহমর্মিতার পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র - ভ্রাম্যমান লাইব্রেরী ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৬


শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যাররে হাতে গড়া প্রতিষ্ঠান বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র তার জন্মলগ্ন ১৯৭৮ সাল থেকে অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছে। আমার মনে পড়ে, আমি স্কুলে পড়াকালীন সময়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে স্কুল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=একান্ত নিজস্ব জিনিসগুলো পর হয়ে যাচ্ছে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১০ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৫



যে চোখ দিয়ে দেখেছি ধরার আলো, সে চোখও দিচ্ছে ফাঁকি,
যে চোখের আলোয় দেখেছি পুকুর নদী, শুকনো উঠোন;
বৃষ্টি ভেজা দিন, দেখেছি ময়না শালিক, ঘুঘু ডাকা দুপুর
সে চোখ পর হয়ে যাচ্ছে অল্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×