শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবকের মনে এক সুন্দর শুভ্র বাসনা জাগ্রত হইল। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠেনে শিল্পীদের সুকন্ঠের গান তাহার মনকে উদাস করে ফেলিল। গান শিখিতে হইবে , আর এই ধরনের একটা স্টেইজে গান গাহিয়া,সবাইকে মোহীত করিয়া ফেলিবেন।
শহরের সবচেয়ে ভাল গায়ককে টাকার জোরে তাহাকে গান শিখাইতে রাজী করাইলেন। গায়ক/শিক্ষক (এখন হইতে তাহাকে শিক্ষক বলা হইবে) ছিল কিছুটা দুষ্ট। ভালো গায়েন হওয়ার সুবাদে, শহরের অনেক বাড়ীতে ছিল তাহার অবাধ যাতায়াত। বাড়ী সমুহের সবকিছুই ছিল তাহার নখদর্পনে । ইতিপুর্বে স্বর্নালংকার এমনকি মুরগী চুরিরও যথেষ্ঠ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় তাহার হইয়াছিল।
এই প্রথম সে শিক্ষক হইল। নতুন দায়ীত্বের কথাও শহরের সবাই ধীরে ধীরে জানিতে পারিল। শিক্ষার্থীর গলার সা-রে-গা-মা শুনিয়া সে কিন্চিত ভয় পাইল। সে কি এই ফাটা বাশে সুর ধরাইতে সক্ষম হইবে ? অনেক চেষ্টার পর সে হাল ছারিয়ে দিল, কিন্তু মুখে বলিত: খুব খুব ভালো সুর বাহির হইতেছে। কিন্তু বিশিষ্ঠ ব্যাবসায়ীর স্ত্রী বাসায় অধিকাংশ সময় কানে তুলা দিয়া রাখিত। হঠাত তুলা আবিষ্কার করিয়া , গানের সাধকের মনে অনেক কষ্ট জমা হইল।
শিক্ষককে হতাশকন্ঠে বলিল " আমি কি আসলেই গান শিখিতে পারিবনা ?। শিক্ষক তাহার সর্বশেষ চেষ্টা অব্যাহত রাখার লক্ষে অভয় বানী দিলেন " কেন পারিবেন না ? আজ হইতে রেওয়াজ এর পুর্বে এক হালি কমলার ছোলা খাইতে হইবে। ইহাতে গলায় সুর আসিবে।" অত:পর শিক্ষার্থী কমলার ছোলা , আর শিক্ষক কমলা খাইতে শুরু করিল।
অনেক মাস এইভাবে চলিতে থাকিল। কমলার সিজন শেষ। আর অপেক্ষা করা যায় না। অবশেষে শিক্ষার্থীর আর্থীক সহায়তায়, এক সংগীত সন্ধ্যার আয়োজন হইল। শহরের সবাই হুমরি খাইয়া পরিল, তাহার গান শোনার জন্য।
অবশেষে তিনি স্টেজে গাহিলেন তাহার গান। আবেগে তাহার চোখ বুজিয়া গেল।
শেষ পর্যন্ত কতজন তাহার গান শুনিয়াছিল,অথবা গান চলাকালীন তুলা কোথা হইতে আসিল ? এই সব অবান্তর প্রশ্ন করিয়া এই সংগীত সাধকের অবমাননা করিবেন না।
অ:ক: একটি সত্যি ঘটনার ছায়া অবলম্বনে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




