
মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক গুলো অদ্ভুত।
জীবনে হয়ত প্রথম দেখা, কাটিয়েছি একসাথে কিছুদিন।
এরপর আর ইচ্ছে করেও যায়না ভোলা এমন কিছু মানুষকে।
সম্পর্ক গুলো ধীরে ধীরে আন্তরিক হয়ে যায়।
খুব কাছের একজন মানুষ হয়ে যাই সবাই।
যেখানে দূরত্ব,ধর্ম,বর্ন কোন বাধাই নয়।
নেপাল
যাবার আগেই নেট ঘেটে বার করি ভীকেন্দ্র কে। মাস খানেক মেইল আদান প্রদান। কাঠমান্ডু ৪ দিন থাকার পর গেলাম পোখারা। বিমান বন্দরে গাড়ি নিয়ে হাজির। এতটা আমি নিজেও আশা করিনি। ইকরাম ডাকে আমকে। সারাদিন সঙ্গ দিয়ে দেখিয়েছে , আমার দেখা সবচেয়ে বাসযোগ্য পোখারা কে। মাত্র কয়েকদিন। কিন্ত বিদায়ের সময়, ওর চোখে পানি দেখেছি আমি।



মালয়েশিয়া
কুয়ালালামপরের সাজুকে ভুলবো কিভাবে ? ওর বাবার পরিচিত আমি। শুধু এই সুত্রে যে কদিন আমি ছিলাম ওখানে, নিজের বিশ্ববিদয়ালয়ের ক্লাসের পর পরই ছুটে আসতো আমার কাছে। ওর হাত ধরেই আমার কুয়ালালামপুরকে জানা। দেখেছি ওখানে আমার দেশের সোনার ছেলেদের দুরাবস্থা। প্রতারিত হবার বেদনাদায়ক অনেক কাহিনী।


থাইল্যান্ড
২০০৩ এ ব্যাংকক নিজের চিকিৎসার জন্য প্রথম যাওয়া। এর পর ওখানে আমার জন্য অপেক্ষা করে এমন একজন, যার জন্য প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে আমার স্ত্রী একটি ছাতা , একটি ঘড়ি , কিছু জামাকাপড় , হাতে বানানো পিঠা পাঠাতে বাধ্য। মায়ের দেয়া ছাতাতে নাকি শীতলতা বেশি, মায়ের পাঠানো ঘড়ি হাতে দিলে নাকি, সময়কে অতিক্রম করা যায়। হসপিটালের কেবিনে আমার অচেতন মুখের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকে একটি মুখের কথা আমি ও আমার পরিবারের কেউই ভুলতে পারব না।




কানাডা
টরেন্ট বিমান বন্দরের বাইরে আসতেই দেখি হাসি মাখা রাজা ভাই আমাকে নিতে এসেছেন। একা যাবার কথা থাকলেও আমার সাথে আরো ৪ জন। উঠেছিলাম ছোট ভাই সম নজরুলের বাসায়। থাকা খাওয়া দাওয়া সব নজরুলের বাসায়ই। নাগরিক ব্যাস্ততার ফাকে এবং ছুটির দিনে / অতিরিক্ত ছুটি নিয়ে দিনের পর দিন , এরা দুজন আমাকে চিনিয়েছেন, টরেন্ট ও নায়াগ্রাকে। ওখানেই দেখা রাজনৈতিক কারনে দেশত্যাগী মোহন ভাইএর সাথে।




মন্ট্রিলের সময় গুলো কেটেছে বজলু ভাই ও তার পরিবারের সাথে। প্রথম পরিচয়। কিন্ত একটি মুহুর্তেও মনে হয়নি তা।


উত্তর কোরিয়া
ছোট বেলায় রাশিয়াকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল আমার। নিজের নামে লাল পত্রিকা আসতো প্রতি মাসে। সুন্দর নিখুত দেশটায় যদি একবার যেতে পারতাম ! যাওয়া হয়নি। রাশিয়া ভেঙ্গে যাবার পর আগ্রহটা আর ছিল না। তবে একটি কম্যুনিস্ট দেশ দেখার আগ্রহটা ছিলই। সুযোগ আসা মাত্র লুফে নিলাম। ২০০৯ এ প্রথম গেলাম উত্তর কোরিয়া। পরিচয় হল ওখানকার পুক কুম ইল, লী জং হোয়া । রাশিয়ার ওলগা , পাকিস্তানের বরকত , জাভেদ , চেকস্লভাকিয়ার গ্যালিনা ধান্সিনার সাথে। ২০১১ তে গিয়ে আবার পেলাম এদেরকে। কত আবেগ দিয়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করেছি , বুঝানো যাবেনা। হারানো কোন আত্মীয়কে ফিরে পাবার অনুভুতি।





চীন
যেখানে গিয়েছি গ্রেট ওয়াল এর আকর্ষনে। ২০০৯ এ প্রথম , এ বছর আবার। ওখানকার মানুষ সম্পর্কে ধারনা নিয়ে ফিরেছি । ২০০৯ এর বেজিং মানুষ আর এখনকার বেজিং মানুষ এর মাঝে বেশকিছু পার্থক্য লক্ষ করেছি।





ইহা একটি সামান্য ভ্রমন কাহিনীর সূচীপত্র মাত্র

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

