খুব ভোরে বাসায় কান্নার শব্দে ঘুম ভেংগে গেল। তারাহুরো করে ড্রইংরুমে আসতেই শাহানা আর ওর মা দুজনে একসাথে আমার পায়ের উপর।
: স্যার বাচাঁন আমাদের,জ্বীনের ওঝা আমাদের জীবনটাকে শেষ করে দিল।
কান্নার মধ্যে যা বুঝলাম তা হলো : শাহানার স্বামী মহসিন আবুধাবী থেকে এসে ৭ দিনের মাথায় শাহানাকে তালাক দিতে চাচ্ছে।
জ্বীনের ওঝা জ্বীন হাজির করে মহসিনকে নাকি বলেছে : " শাহানা মহসিনের প্রবাস থাকাকালীন অন্য এক ছেলের সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত ছিল। কিছুদিন আগে এই অবৈধ সম্পর্কের ফসল এ্যবরশন করিয়েছে এবং অবৈধ সম্পর্কের চিন্হ শাহানাদের বাগানের মাটির নীচে চাপা দিয়ে রেখেছে।"
সবকিছু ধৈর্য্য সহকারে শুনে আমি শাহানার সাথে একা কথা বললাম। ওর চোখের দিকে গভীরভাবে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলাম, কতটুকু মিথ্যে ও বলতে পারে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ুয়া মেয়ে, মুখে রাজ্যের সরলতা নিয়ে শাহানা বললো : স্যার বিশ্বাষ করেন এটা ১০০% মিথ্যা।
ওদের বিদায় করে মহসিনকে ডাকালাম। কি হয়েছে বলো বলতেই, মহসিন কান্না কাটি করে বললো : " স্যার শাহানা আমার বিশ্বাসের ঘড়ে ডাকাতি করেছে। আমি প্রমান পেয়েছি, ওর পরকিয়া ছিল, আমি ওদের বাগানে গিয়ে মাটির নীচে রক্তের দলা পেয়েছি। এর চেয়ে আর বড় প্রমান কি দরকার আমার ? " ... এটা ওর অনেক কথার মুল কথা।
আমি বললাম : জ্বীনের ওঝা তোমার কাছ থেকে কত টাকা নিয়েছে? মহসিন বললো : দশ হাজার।
দু এক জায়গায় ফোন করে আমি বুঝে গিয়েছি, আসলে কি হয়েছে। মহসিনকে বললাম : জ্বীনের ওঝাকে, বলবে আমি আজ রাতে যাবো। উনি যেন আজ আবার জ্বীন হাজির করেন। আমি চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে যাবো, নইলে আমাকে চিনে ফেলবে। তুমি বলবে যে, আমি তোমার মামা হই, মামা নিজের কানে শুনবেন জ্বীনের কাছ থেকে।
রাত নয়টায় গেলাম। আমি আর মহসিন। শাহানা আর ওদের মা বাবাকে তৈরী থাকতে বলেছি , আমি ফোন দেবার সাথে সাথে ওরা যেন জ্বীনের ওঝার ওখানে চলে আসে।
শীতকাল। চাদরে ঢাকা মুখ আমার। বাইরে আমার কয়েকজন বিশ্বস্ত লোক।
জ্বীনের ওঝা তার খাস কামড়ায়। ধুপ, আগরবাতির ধোয়া, হালাকা লাইট, একটি ওয়ালে কালো একটি পর্দা ঝুলানো। পরিবেশটা বেশ ভৌতিকই। হালকা একটা মিউজিক বাজছে মনে হলো। দুর থেকে হায়েনা বা অন্য কোন কিছুর ভয়ের ডাক শুনতে পেলাম যেন।
হঠাৎ কালো পর্দার মধ্য থেকে জ্বীনের ওঝার আগমন। ঝলমলে ডিপ বেগুনী ভেলভেটের ড্রেস। ওনাকে দেখেই মহসিন গিয়ে আমার শিখানো বুলি ওনার কাছে বললো। কোন কথা নেই, হাত ইসারায় মহসিনকে বসতে বললো। মুখের কাছে আংগুল নিয়ে চুপ, কোন কথা যেন আমরা না বলি , সে ইশারা করলো।
লাইট সব নিভে গেল, কোন শব্দ নেই প্রায় দশ মিনিট। আমিও যেন কেমন আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছি। এরপর খুবই ছোট একটা স্পট লাইট, জ্বীনের ওঝার মাথার পিছনে ফোকাস হলো। এমন ভাবে সেটিং করা যে শুধু ওঝার ছুলগুলো চকচক করছে। পুরো রুমে ওনার চুল ছারা আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
বিকট চিৎকার ও হি হি হি হি কন্ঠে আমার গায়ের পশম একটু দাড়িয়ে গেল। জ্বীন এসে গিয়েছে, ওঝার মাঝে। কাপা কাপা নারী কন্ঠে আমিও কিছটা বিচলিত।
জ্বীন : কিরে মহসিন ? তুই আবার এসেছিস কেন ?
মহসিন : আমার মামা আমার কথা বিশ্বাস করছেন না। উনি আপনার মুখ থেকে সব শুনবেন। তাই এসেছি।
জ্বীন : ( আমার দিকে তাকিয়ে ) কিরে অবিশ্বাসি মানুষ। তোর বুকের বামপাশে যে তিলা আছে, তা তো আমি এখান থেকেই দেখতে পাচ্ছি। তোর সামনে মহা বিপদ। হি হি হি হি হি। কেউ তোকে রক্ষা করতে পারবে না।
আমি এবার টাশকিত পুরাই। আমার বাম বুকে একটি বড় তিলা আছে। মহসিনকে বললাম : জ্বীন তো ঠিকই বলছে।
মহসীনের মুখে উল্লাস: দেখছেন জ্বীন সবকিছু বলে দিতে পারে।
এরপর জ্বীন মহসিনকে আগে যা যা বলেছিল তাই বললো। আমি শুনলাম।
নিজে কাছে গিয়ে বললাম: আপনি আমার খারাপ ভবিষ্যতের কথা বললেন। এই নিন নজরানা, আরো বিস্তারিত জানতে চাই। আমি শুনে মোটামুটি ভয় পেলাম। আমার ব্যবসা বানিজ্য আগামী ছয় মাসের মধ্যে ধংশ হবে, আমি আমার কোন এক শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হবো। তাতে আমার জীবন নাশেরও সম্ভাবনা আছে।
এবার আমার পালা। বললাম : আপনিতো সবার অতীত ও ভবিষ্যত বলতে পারেন, কিন্তু এই রুমে আগামী পাঁচ মিনিটের মধ্যে কি হতে যাচ্ছে , সেই ভবিষ্যত টা একটু বলবেন ? জ্বীন আমার কথা বুঝতে পারেনি বলে আমি আবার বললাম।
এবার তীব্র হুংকার দিয়ে জ্বীন:তুই অবিশ্বাসি।আল্লাহ তোর পতন আনবেই।
চাদরের নীচে জ্যকেট পরা আমার। আগ থেকেই সিলেক্ট করা একটি নাম্বারে কল দিলাম আমার ওয়ানওয়ে মোবাইল থেকে। এরপর কেটে দিলাম। বিকট শব্দে দরজা ভেংগে আমার ৫ জন ভুত ঢুকলো। বললাম ধর জ্বীন টাকে। মুখে মাফলারটা পেচিয়ে নাও। এরপর প্রায় ৫ মিনিট ধুম ধাম শব্দ। জীনের ওঝার মুখ মাফলারে বাধা থাকায় , মুখথেকে শুধু উমমমমমম উমমমমমমমম শব্দ। ওঝার তিনজন সাগরেদ আসলো দৌড়ে। আমার ভুতদের কাজ দেখে ঠায় দাড়িয়ে।
লাইট জ্বালাতে বললাম। জ্বীনের ওঝার কাছে গিয়ে বললাম : আমার ভুতগুলো কেমন ? আর একটু ট্রিটমেন্ট লাগবে ?
চোখদিয়ে পানি ঝড়ছে জ্বীনের ওঝার। কপালে টিউমারের মত ফুলে উঠেছে, ভুতদের আদরে। আমার গায়ের চাদর সড়ালাম , ওর মুখের মাফলারও।
জ্বীনের ওঝা আমার পায়ের উপর : স্যার আমারে আর মাইরেন না। আমারে পুলিসে দিয়েন না।
বললাম : মহসিনের কাহিনী বলো।
যা বললো তা হলো এই : শাহানার এক দুর সম্পর্কের ভাই,শাহানা বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হবার কারনে, সম্পত্তির লোভে, শাহানাকে বিয়ে করতে চায়। জ্বীনের ওঝার কাছে এটা বলায়, এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাজার থেকে গরু জবাই করা রক্তের দলা, শাহানার বাগানে পুতে রাখা হয়েছিল। মহসিন দেশে আসার একদিন পরেই, কায়দা করে কথাটা মহসিনকে বলা হয়েছিল। এরপর এই কাহিনী।
শাহানাকে শাহানার বাবা মা নিয়ে এসেছিল আমার ফোন পাবার পরই।
মহসিন কে বললাম : নিয়ে যাও তোমার বউকে। তবে আমার ধারনা তুমি একজন আহাম্মক ও অযোগ্য স্বামী। এ্যবরশন করে কেউ ক্লিনিক থেকে রক্ত বাড়ীতে নিয়ে আসে, গর্ধব ? আর আমার ভুত গুলো কেমন মহসিন ?
মহসিন কি বুঝলো কে যানে , শুধু বললো : স্যার আমকেও কি কোনদিন এই ভুত দেখতে হবে ?
আমি হেসে বললাম : বলা যায় না, দেখলেতো আমিও ভুত হাজির করতে পারি
অ:ট: আজ একটু আগে বাংলা লায়ন নিলাম। ১ এমবি। পোষ্ট দিয়ে টেষ্ট করলাম স্পীড
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


