somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আলো চাই

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



দৃশ্যপট : ১
ছোট বেলা থেকেই আমরা ঈদ , পুজা , নববর্ষ একসাথে পালন করে এসেছি। দুই ঈদের দিনে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি। আমার মুসলমান ও হিন্দু বন্ধুরা বা প্রতিবেশি হিন্দু মুসলমান সবাই একই আনন্দে অংশ গ্রহন করেছি। ঈদের দিন দলবেঁধে আমাদের বাসায় হিন্দু মুসলমান সবাই আসতো।
এখনো আমার হিন্দু বন্ধুরা ঈদের দিনে, আমাদের বাসায় আসে। বয়সের কারনে সেই উচ্ছ্বাসটা হয়ত আর নেই। আমার অনেক হিন্দু বন্ধু ঈদের বিশেষ রান্না বেশ ভালোই পছন্দ করে :)

তেমনি পূজোয় মাসিমার নারকেলের নাড়ু, সন্দেশ ও মোয়া ছিল অত্যন্ত আকর্ষনীয় আমাদের কাছে। ধুমধাম ঢোলের শব্দ এখনো বাজে কানে। স্কুলের স্বরস্বতী পুজা শুধু হিন্দুদের একার ছিল না। কোন্‌ স্কুলের স্বরস্বতীর মন্ডপটা সবচেয়ে আকর্ষনীয় হয় সেই চিন্তায় থাকতাম অস্থির। যেদিন স্বরস্বতী নিয়ে শহর প্রদক্ষিন হতো সে দিন স্কুলের সব মুসলিম/হিন্দু ছাত্র তাতে অংশগ্রহন করতাম। প্রসেশন কোন স্কুলেরটা বড় এটাও দেখার একটা বিষয় ছিল।

এখনো বিভিন্ন পুজোর সময়ে- বাসায় নাড়ু ও সন্দেশ আসে। ছোট বেলার সেই মাসিমা এখনো বেচে আছেন। মায়ের মমতা এখনো পাই তাঁর কাছে।
আমাদের ছোট শহরটার অনেক মুসলিম ব্যাবসায়ী বিভিন্ন পুজা মন্ডপে ভালো অংকের চাঁদা দেন। আমিও আমার বাসার সবচেয়ে নিকটতম পূজামণ্ডপে মোটা অংকের চাঁদা দেই। অন্য পুজা মন্ডপের কাছে হারা চলবে না :):)
আবার একই সাথে মুসলিম ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেমন ঈদ এ মিলাদুন্নবীতেও চাঁদা দেয়ার পরিমান কিন্তু কম নয়।

ব্যবসা জীবনের প্রথম দিকে পিরোজপুরে একটা ইউনিয়নে যেতে হয়েছিল। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বেশ সন্মানিত ও ধনবান একজন হাজী সাহেব। উনি ওনার ইউনিয়নের দুর্গা ও স্বরস্বতী পুজোর সব খরচ একা বহন করতেন।

এই যে সম্প্রীতি, এতে কি আমাদের মুসলমানিত্ব চলে গিয়েছে ? বা ঈদের দিনে যে আনন্দ করা হত তাতে কি হিন্দুদের ধর্ম চলে গিয়েছে ?
আসলে এটাই আবহমান বাংগালীর রুপ। যেখানে ধর্মীয় গোড়ামী এই সম্প্রীতিতে কোন বাধা হয়ে আসেনি।

দৃশ্যপট : ২
১৯৭৫ এর পরে বিভিন্ন ঘটনায় আমার কয়েকজন হিন্দু বন্ধু চলে যায় কলকাতা। খুব কষ্ট হয়েছে ওদের বিদায় দিতে। কেঁদেছি জড়াজড়ি করে। তারপরও দেশে থাকতে না পারার কষ্ট নিয়ে ওরা চলে যায়। ওদের প্রান থেকে যায় এখানেই।

৮৩ সনের দিকে কলকাতা গেলাম। প্রথম বিদেশ ভ্রমন। অনেক বছর পরে তপন ও দুলালকে দেখে কারো চোখেই আর পানি আটকিয়ে রাখতে পারিনি। কলকাতায় বসবাসকারী ওদের দু'একজন আত্নীয়ের কাছে নিজদের বড়ত্ব জাহির করার জন্য আমাদের কথা বলেছিল ওরা। তেমনি এক আত্নীয়ের বাসায় একরাতে দাওয়াত খেতে গেলাম। বাসায় প্রবেশের আগে বিশাল ধাক্কা খেলাম। আমি যে মুসলমান তা নাকি আমার বন্ধু তপন বলেনি ওর আত্মীয়দের কাছে। কি আর করা পরিচয় গোপন করে কোন রকম খেয়েই বিদায় নিলাম। মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। এমনি ভাবে আর এক বাসায়ও দাওয়াত খেলাম।
কি দাঁড়াল ফলাফল ? আমার বন্ধুদের দু'একজন আত্মীয় গোড়া হিন্দু। তাদের বাড়িতে মুসলমানদের যাওয়া নিষেধ। ঐ বাড়ির লোকজন আমাদের ভাষায় কথা বললেও তারা হিন্দু ধর্মীয় গোড়ামীতে আচ্ছন্ন । হিন্দুত্ববাদ তারা অতিক্রম করতে পারেনি।

দৃশ্যপট : ৩
মাস দুই আগে শেরপুর গেলাম। আমার এক বড় ভাইয়ের মেয়ের বৌভাতে । খুবই ভদ্র ও নমনীয় পরিবার। মিষ্টি ,পান সুপারি ও জর্দা ইত্যাদি নিয়েই গেলাম। মিষ্টির টিন গুলো গাড়ী থেকে নামানোর সময় বাড়ীর একজন মুরুব্বি বললো "বেয়াই সাহেব, মিষ্টি কোন হিন্দু দোকান থেকে কিনে আনেননি তো? " ভাগ্য ভালো যে মিষ্টি নিয়েছিলাম টিনের মধ্যে , তাই দোকানের নাম লেখা ছিল না। উত্তর দিলাম সাথে সাথে , "কি যে বলেন , হিন্দুদের দোকানের মিষ্টি আনবো কেন ? যে দোকান থেকে কিনেছি তার সব কর্মচারীও মুসলমান।" এরপর আর সমস্যা হয়নি।
ধর্ম এখানেও আটকে দিল। আমার এই আত্মীয়রা মুসলিম ধর্মীয় গোড়ামী মুক্ত হয়ে বিচার করতে পারেন নি। মানুষের পরিচয় তারা মুল্যায়ন করেন ধর্ম দিয়ে।
আমরা ধর্ম পালন করবো। কিন্তু কখনোই তা যেন আমাদের মাঝের সম্প্রিতিকে নষ্ট করতে না পারে ।

(২৯ নং মন্তব্য থেকে একটি গানের কিছু অংশ এখানে দিলাম।)
আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
আমরা আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম
গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম.......
==================================
সামুতে আছি ২ বছর হয়ে গেল। এটা আমার ১০০ তম পোষ্ট



সামুতে আমার ২ বছর হলো ৩ দিন আগে। ৩য় বছর শেষ হবে কিনা কে জানে ? অনেক কিছু শিখেছি এখান থেকে। দেইনি কিছুই । যে সব ব্লগারগন আমাকে উৎসাহ জুগিয়েছেন সব সময় ,তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ আমি। সামুর সমস্ত ব্লাগারগনকে শুভেচ্ছা।

সবার জন্য শুভকামনা :)

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৪:৪৬
১০১টি মন্তব্য ১০৩টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×